নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুপারনোভা

আহেমদ ইউসুফ

I am a introverts person would like to hide myself.

আহেমদ ইউসুফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনুগল্পঃ কষ্টের শীতল স্রোত

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৫



মেয়েটির নাম জয়িতা। উজ্জ্বল গৌর বর্ন তার গায়ের রং, মেদহীন একহারা গড়ন। কোমর পর্যন্ত লম্বা চুলের মেয়েটির মন ভাল নেই। কারন সে আয়না দেখতে ভয় পায়। এমনকি চৌবাচ্চার পানিতেও দেখে ভূত। মেয়েটি আর দেখতে চায় না তার বিভৎস মুখাবয়াব। দুবৃত্তরা এসিডে ঝলসে দিয়েছে মেয়েটির সুন্দর মুখ, হাত ও বুক। কারন টা সেই চিরাচরিত। প্রেম প্রত্যাখ্যান। প্রেমিকের আস্ফালন। অবশেষে কাপুরুষের শেষ অস্ত্র। এসিড সন্ত্রাস। মেয়েটির ভাললাগার মানুষটিও আজ কাছে নেই। কি এক অদৃশ্য অজুহাতে বারবার ”দুঃখিত এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হ্েছ না, একটু পরে আবার চেষ্টা করুন” বলে তার গ্রামীন ফোনের সংযোগ। কি ঘটেছে? অনুমানসিদ্ধ নিশ্চিত এক ব্যাপার। এতদিনের উদাত্ত বানী ”চেহারা কোন বিষয় নয়, মানুয়ের মনটাই হলো আসল” হয়ে গেছে নিস্ফল এক উপহাস।



বরাবরই ভালো ছাত্রী হিসাবে সুনাম ছিল মেয়েটির। সাময়িক বিরতি। আবারো মেধার স্বার রাখে সে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে। মেয়েটির আনন্দ দেখে কে। কিন্তু বাবা মার চোখে হতাশা। কেননা বিয়ের বাজার বলে ভিন্ন কথা। এতো ভালো রেজাল্ট তো বিয়ের বাজারে নিস্প্রয়োজন। সুন্দর মুখের তো রমরমা বাজার। নিমিষেই বিকোয় সুন্দরী মুখ আর চাকরীজীবি পুরুষ। মেয়েটির স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। তার মতো অসহায় গরীব মেয়েদের কল্যানে আতেœাৎসর্গ করা। আতœবিশ্বাসে বলীয়ান মেয়েটি স্বপ্ন দেখে এক সবুজ পৃথিবীর।



প্রায়ই স্টাডিরুমে দেখা হয় ছেলেটির সঙ্গে। দুর থেকে চোখাচোখি হয়। এখন পর্যন্ত এই সার। বেশি আগ্রহ দেখায়নি মেয়েটি। ছেলেটিও এতটা সাহসী হতে পারেনি মেয়েটি বোরখা পড়ে বলে। ছেলেটির এমবিবিএস কোর্সের থার্ড ইয়ার পরীা খুব নিকটে। তাই স্টাডি রুমে বেশি বেশি সময় কাটানোটা জরুরি। তার থেকেও জরুরি সেকেন্ড ইয়ারের এই মিষ্টি মেয়েটির চোখে চোখ রাখা। রনশীল মনোভাবের ছেলেটি স্বপ্ন বুনতে খুব ভালাবাসে। আর কল্পনায়ও বাসর সাজায় মেয়েটিকে নিয়ে। মেয়েটিও ভাবে, আনমনে, আসুক না কেউ নতুন করে। কিইবা তি যদি ভালবেসে দুহাত ধরে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন্। একটু বোঝার চেষ্টা করে মেয়েটি। আর একটু সাবধান হয় সে।



ছেলেটি বেপরোয়া। মেয়েটির কোন অজুহাতই শুনতে চায় না সে। অবশেষে কফির নিমন্ত্রনে রাজি হয় মেয়েটি। মেয়েটি জানে কি ঘটবে অবশেষে। মনে মনে প্রমাদ গোনে সে। আর নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্য নিজেকেই অভিসম্পাত করতে থাকে। তবুও মেয়েটি অপো করে কফি হাউসের গেটে, বকুল তলায় কিংবা দোয়েল চত্বরে। আর উৎকন্ঠায় নাকের ঘাম মোছে বারবার। ছেলেটিও মহাফাপরে। কি যে এক বোকামী ঘটতে যাচ্ছে ভেবে। সুন্দরী নীল নয়নার কাহিনী শুনেছে সে এক বন্ধুর কাছে। হতবাক হয়েছে সে, স্বপ্ন ও ভেঙ্গেছে তার। আজম্ন সংস্কার মাথাচাড়া দিয়েছে তার মনে। এতদিনের শিা ও সভ্যতাও মেয়েটির কুৎসিত চেহারাকে আড়াল করতে পারল না। আশু কর্তব্য পালনের জন্য কিংবা নিতান্তই সৌজন্যেও খাতিরে মুখোমুখী হল তারা দুজন।



মেয়েটি ল্য করে ছেলেটিকে। আগের সেই উচ্ছ্বাস যেন আর নেই। কেমন নিস্প্রভ, নির্জিব ছেলেটা। অথচ মেয়েটি জানে ছেলেটি আদৌ এরকম নয়। পরিস্থিাতিটা বোঝার চেষ্টা করে সে। পিনপতন নিরবতা ভেঙ্গে অবশেষে ছেলেটিই শুরু করে। ” আসলে আমি একটু কনজারভেটিভ মাইন্ডের। আমার ফ্যামিলিও যথেষ্ট করজারভেটিভ । সে হিসাবে আমি বন্ধু নির্বাাচনের েেত্র এ ব্যাপারটাকে প্রায়োরিটি দেই। ঠিক যেমন তুমি। আমি তোমার বন্ধু হতে চাই। ছেলেটি একটু থামে। তার চোখে মুখে স্পষ্ট জিজ্ঞাসা। মেয়েটি নির্বাক বসে থাকে। কফির কাপ উপভোগ করে মেয়েটির অলস, নিস্প্রান চুমু। ছেলেটা এখনও উৎসুক। প্রানপন চেষ্টা তার। মেয়েটি এতনে সামলে নেয় নিজেকে। ছেলেটির আচারনের পার্থক্য আড়াল হয় না তার কাছে। কষ্টের এক শীতল স্রোত বয়ে যায় তার সারা শরীরে। তবুও সৌজন্যের খাতিরে কিংবা নাটকের এ অংকের পরিসমাপ্তি ঘটাতে মেয়েটিও বন্ধুত্বের জয়গান করে।



মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৩

শুঁটকি মাছ বলেছেন: মন খারাপের গল্প!!!!!!!!

২| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আহেমদ ইউসুফ বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনাকে আমার গল্প পড়ার জন্য।

৩| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:০৭

আহেমদ ইউসুফ বলেছেন: এসিড সন্ত্রাস ও এর পরবর্তী সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা কষ্টের শীতল স্রোত অনুগল্পটি। আমরা যতই বন্ধুত্বের জয়গান করিনা কেন বন্ধুত্ব শব্দটি সম্পর্কের একটা পোষাকী ও বানিজ্যিক নাম এ সত্য কথাটাই আমি বলতে চেয়েছি। বন্ধুত্বের আড়ালে রয়েছে অন্যকিছু। আশা করি বিজ্ঞ পাঠক মাত্রই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। ধন্যবাদ সবাইকে

৪| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৩:৩৮

অপ্রচলিত বলেছেন: হুম ভালোই লিখেছেন। বেশ ব্যতিক্রমী। +++

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১০:৪৯

আহেমদ ইউসুফ বলেছেন: ধন্যবাদ আমার লেখা পড়ার জন্য। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.