নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।

এম টি উল্লাহ

উপন্যাস ‘‘অসমাপ্ত জবানবন্দী’’ ও ‘‘নিরু”, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ‘‘মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধ’’ ও ‘‘একাত্তরের অবুঝ বালক’’ এর লেখক। পেশায়-আইনজীবী। কর্মস্থল- হাইকোর্ট।www.facebook.com/mohammad.toriqueullah

এম টি উল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাহবুব তালুকদার স্মরণে

২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:৫৭


"একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া ছিল আমার জীবনের এক স্বপ্ন। সম্ভবত এই স্বপ্নই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে আমলাতন্ত্রের পথে নিয়ে এসেছিল। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন একটি ফিয়াট ৬০০ গাড়ী কিনেছিলাম। বেশ কিছুকাল ওটা চালিয়েছি এবং কোন দুর্ঘটনা ব্যতিরেকেই। তবু অনেক সাধ্যসাধনা করে তখন একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স যোগাড় করতে পারিনি। চট্টগ্রাম কোর্ট হাউসে গিয়ে কয়েকবার ধরনা দেয়ার পরেও কোন লাভ হয়নি। শেষবার যখন গেলাম, ট্রাফিকের ডিএসপি সাহেব বললেন,পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে আমি কি করব? আমাকে বসতে বলার সৌজন্যটুকু পর্যন্ত তিনি প্রকাশ করেননি। আমি যখন তাঁর অফিসে কথা বলছিলাম, তখন একজন কম বয়সী তরুণ এলেন। ডিএসপি সাহেব তাঁকে দেখে শশব্যস্ত হয়ে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠে বললেন, আপনি এখানে কেন স্যার?
আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স দরকার।
আমাকে স্যার আপনি ডেকে পাঠালেই পারতেন। ঠিক আছে, আমি আজই আপনাকে লাইসেন্স পৌঁছে দিয়ে আসব।
শুনে ভদ্রলোক খুশি হয়ে চলে গেলেন। উনি চলে যাওয়ার পর আমি ডিএসপি অফিসার কে বললাম, উনাকে পরীক্ষা দিতে হবে না?
আরে সাহেব! প্রায় ধমকে উঠলেন ডিএসপি, উনি হলেন অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার। উনার আবার পরীক্ষা কি?
সেদিন মনে হয়েছিল, এদেশে আসলে মানুষের দুটো জাত। একটি সরকারি মানুষ, অন্যটি বেসরকারি মানুষ। ঐ সহকারী কমিশনার হয়ত আমার ছাত্রও হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তিনিই, এবং আমি আমিই। সেদিনই মনে হয়েছিল, যদি কোনদিন সরকারী চাকরিতে ঢোকার সুযোগ পাই,তাহলে একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে ফেলব। তা না হলে লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ী চালাব। কপালে যা ঘটে ঘটুক।
বঙ্গভবনে এসে প্রথমেই ঠিক করলাম, একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স করা প্রয়োজন। গ্যারেজ সুপারভাইজার খুরশীদুল ইসলামকে জানাতেই তিনি বললেন, স্যার! বঙ্গভবনে এতজন ড্রাইভার থাকতে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন কি? ড্রাইভাররা কাজ না পেলে বরং ছাঁটাই হয়ে যেতে পারে।
বললাম, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সঙ্গে বঙ্গভবনের ড্রাইভারদের কোন সম্পর্ক নেই। চিরকাল এখানে থাকব না, সুতরাং ওটা করে নেয়াই ভাল।
খুরশীদ আর দ্বিরুক্তি করেন নি। আমার পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
দিন কয়েক পরে ট্রাফিকের ডিএসপি এলেন অফিসে। ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দিলেন আমার হাতে। বললেন, যে কোন প্রয়োজনে আমাকে বলবেন স্যার। আপনাদের খেদমত করার জন্য আছি।
তাঁকে বসিয়ে আপ্যায়ন করলাম। লাইসেন্সখানা পেয়ে মনে মনে আবেগে আপ্লুত হলাম। এটা পাওয়ার জন্য আমি কম চেষ্টা করিনি। আজ কত সহজে এটা হাতে এসে গেল! কোন পরীক্ষা দিতে হল না, টাকা পয়সাও না। তাঁক বিদায় দিয়ে আমার ব্যক্তিগত সহকারি আবদুল গণি হাওলাদারকে ডাকলাম। বললাম, একজন মানুষের কি কি লাইসেন্স সার্টিফিকেটের দরকার হয়?
গণি কথাটা প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে বললাম, পাসপোর্ট, বন্দুক-রিভলবারের লাইসেন্স, বার্থ সাটিফিকেট, ডেথ সার্টিফিকেট...
ডেথ সার্টিফিকেট স্যার? গণি প্রশ্ন করলেন।... আমি বললাম, যদিও ওটা জোগাড় করে রাখতে পারলেই ভাল হত।"- মাহবুব তালুকদার, 'বঙ্গভবনে পাঁচ বছর' নামক আত্মজৈবনিক গ্রন্থটিতে এমন অসংখ্য স্মৃতি অবলীলাক্রমে বর্ণনা করেছেন। পেশার পাশাপাশি লেখালেখিতে অবদান রেখে গিয়েছেন। আজীবন আপোষহীনভাবে আমলাতন্ত্রের সহিত সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৭-২০২১ হুদা মার্কাদের বিপরীতে একমাত্র আপনিই জনগণের সেবক ছিলেন। বড় কঠিন সময়ে চলে গেলেন।
সৎ সাহস, সততা ও দেশপ্রেমের মাঝে আপনি ভালোবাসায় থাকবেন স্যার।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:১২

সাসুম বলেছেন: আমার কাছে এই প্রতিশোধ কেবলই ব্যক্তিগত মনে হলো। ব্যক্তিগত প্রতিশোধে সমস্যা নেই, কিন্তু বেটার প্রতিশোধ হতো যদি মাহবুব সাহেব এইসব লাইসেন্সজনিত কারণে সরকারী লোক আর বেসরকারি মানুষের ভেদরেখা দূর করতে কাজ করতেন। তার কাছে তো সেই ক্ষমতা তখন ছিল, অন্তত চেষ্টা করে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল।

এটা ভালো শুনাইত, যদি এরকম হতো, যখন আমি রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারীর চাকরিতে গেলাম, এরপর থেকে আমি চেষ্টা করে গেছি যেন লাইসেন্সজনিত কারণে সাধারণ মানুষের অহেতুক কোন ভোগান্তি না থাকে।


মাহবুব সাহেব রা ভাল মানুষের ভান ধরে কাটিয়ে গেছেন জীবন, কিন্তু ভাল মানুষের উর্ধে উঠতে পারেন নাই! সমাজ জীবন সভ্যতাকে পরিবর্তনের জন্য, উন্নতির জন্য কিছু করার চেয়ে উনাদের চিন্তা ছিল মধুর প্রতিশোধ কিংবা সহজে কাজ হাসিলের চিন্তা।
উনাদের এই ইন্ডিভিজুয়ালিজম এর কারনেই আজ বাংলাদেশের এই দশা। সব যায়গায় সবখানেই খালি নিজে বাচলে বাপের নাম, বাট কেউ নিজের সাথে অন্যকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসেনা- এটাই আফসোস

রেস্ট ইন পীস মিস্টার মাহবুব তালুকদার

২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:৪২

এম টি উল্লাহ বলেছেন: ভালো বলেছেন।

২| ২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:২৯

খাঁজা বাবা বলেছেন: ওনার পরিচয় কি?

২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:৪১

এম টি উল্লাহ বলেছেন: মাহবুব তালুকদার (১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২ - ২৪ আগস্ট ২০২২) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কবি ও শিশু সাহিত্যিক। তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন
মাহবুব তালুকদার ১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।তিনি নবাবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন
মাহবুব তালুকদার কর্মজীবনের প্রারম্ভে দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিভাগে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মুজিবনগর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে চাকুরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকুরির ধারাবাহিকতায় বঙ্গবভনে ৫ বছর অবস্থানকালে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহর জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের সময় তিনি তার সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।

২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে মাহবুব তালুকদার, কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কর্তৃক নিয়োগ পান

৩| ২৫ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: তার মৃত্যু সংবাদ গতকাল জেনেছি। আমার ভীষন খারাপ লেগেছে।

৪| ২৫ শে আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২১

ককচক বলেছেন: ১ নং, ব্লগার সাসুমের বক্তব্যের সাথে সহমত।
উনি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সিস্টেম বদলানোর চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয়না। সবসময় স্রোতের সাথে চলার চেষ্টা করেছেন। স্রোতের বিপরীতে চললে এতদূর আসার কথা নয়।
এনিওয়ে,

উনি ওপারে ভালো থাকুক, এই কামনা

২৯ শে অক্টোবর, ২০২২ রাত ২:০৬

এম টি উল্লাহ বলেছেন: ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.