| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক পথে যাবে। মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল। মনে হচ্ছিল অবশেষে একটা পরিবর্তন আসছে। কিন্তু পরের দিন থেকে যা ঘটতে শুরু করল, তা দেখে মনে হল এই স্বস্তিটা হয়তো অকালেই এসেছে।
প্রথম অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল বিজয় মিছিলের অনুপস্থিতি। কোনো রাজনৈতিক দল যখন নির্বাচনে জেতে, বিশেষত যখন দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পায়, তখন রাস্তায় কর্মীদের ঢল নামে। ব্যানার, ফেস্টুন, মিছিল, স্লোগান—এসব তো স্বাভাবিক। কিন্তু বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দিল সব ধরনের আনন্দ মিছিল থেকে বিরত থাকতে। বদলে বলা হল মসজিদে দোয়া মাহফিল করতে। এই সিদ্ধান্তটা প্রথম দেখায় হয়তো বিনয় বা সংযম মনে হতে পারে, কিন্তু একটু গভীরে গেলে প্রশ্ন জাগে—দুইশো নয়টা আসন পেয়ে কেন একটা দল তার কর্মীদের উদযাপন করতে নিষেধ করবে? এটা কি শুধুই সংযম, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে, দোয়া করবেন যাতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি। এই বক্তব্যের টোনটা একজন বিজয়ী দলের মহাসচিবের জন্য বেশ অস্বাভাবিক। সাধারণত বিজয়ের পর আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় বক্তব্য আসে। কিন্তু এখানে যেন একধরনের সতর্কতা, এমনকি অনিশ্চয়তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যেন তিনি জানেন সামনে যা আসছে তা মোকাবেলা করা সহজ হবে না।
তারপর এলো আরও বড় একটা খবর। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে যাবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। সময়সূচিও ঠিক করা—রোববার সন্ধ্যা সাতটায় শফিকুর রহমানের বসুন্ধরার বাসায়, আটটায় নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসায়। এই খবরটা পড়ে অনেকেই চমকে গেছে। কারণ রাজনীতির সাধারণ শিষ্টাচার অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজয়ী দলের কাছে অন্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসে, উল্টোটা নয়।
এই ঘটনাটা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, তারেক রহমান যাচ্ছেন এমন দুজনের কাছে যারা নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ছিল এবং যারা মাত্র সাতাত্তরটা আসন পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই সাক্ষাৎ হচ্ছে মন্ত্রিসভা গঠনের ঠিক আগে—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইতোমধ্যে জানিয়েছেন আঠারো ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ হবে। তৃতীয়ত, এটা প্রকাশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং ব্যক্তিগত বাসায় সন্ধ্যাবেলা সাক্ষাৎ। এসব মিলিয়ে যে চিত্রটা তৈরি হয়, তা হল—এটা কোনো সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা বা সমঝোতা।
এখানে একটা তুলনা করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ বিগত পনেরো বছর জোর করে দেশ শাসন করেছে ২০০৮ সালের দুইশো ঊনত্রিশটা আসনের গরমে —যা বিএনপির বর্তমান আসনের প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু সেই পনেরো বছরে আওয়ামী লীগ কখনো কোনো ছোট দলের কাছে মন্ত্রিসভা গঠনের আগে অনুমতি নিতে যায়নি। তারা একক ক্ষমতায় ছিল, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারত। অথচ বিএনপি, প্রায় সমান আসন পেয়েও, কেন এমন আচরণ করছে যা একটা দুর্বল অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়?
প্রধান উপদেষ্টার তিনজনকে—তারেক রহমান, শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলাম—ফোন করাটাও তাৎপর্যপূর্ণ। যদি তারেক রহমান দুইশো নয়টা আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে থাকেন, তাহলে প্রধান উপদেষ্টার স্বাভাবিকভাবে শুধু তাকেই ডাকার কথা ছিল সরকার গঠনের জন্য। অন্য দুজনকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ডাকার মানে হল—এই তিনজনের ভূমিকা প্রায় সমান হবে আগামী সরকার পরিচালনায়। এটা একটা সংকেত যে ক্ষমতা শুধু নির্বাচনী ফলাফলের উপর নির্ভর করছে না, অন্য কিছু ফ্যাক্টরও কাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এটা হয়তো একটা ঐক্যের নজির, সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ পরিচালনার উদ্যোগ। কিন্তু ঐক্য যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তার একটা স্বচ্ছ, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকা উচিত। সবাইকে নিয়ে একটা জাতীয় কনসেনসাস বৈঠক, যেখানে সংবাদমাধ্যম থাকবে, জনগণ জানতে পারবে কী আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু রাতের বেলা ব্যক্তিগত বাসায় গোপন সাক্ষাৎ—এটা ঐক্যের চেয়ে দরকষাকষির মতো দেখাচ্ছে বেশি।
যে তরুণ প্রজন্ম গত বছর রাস্তায় নেমেছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, যারা স্বপ্ন দেখেছিল একটা গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর। একদিকে মনে হচ্ছে জামায়াত নির্বাচনে পিছিয়ে গেছে, অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে তারেক রহমান নিজে তাদের নেতাদের কাছে যাচ্ছেন। তাহলে আসল ক্ষমতাটা কার হাতে? যে দল দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, নাকি যে দল সাতাত্তরটা পেয়েছে কিন্তু যাদের অনুমোদন ছাড়া মন্ত্রিসভা গঠন হচ্ছে না?
এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে যে বিএনপির কর্মীরাও নীরব। তারা বিজয় উদযাপন করছে না, মিছিল করছে না, স্লোগান দিচ্ছে না। যেন তারাও বুঝতে পারছে এটা একটা অসম্পূর্ণ বিজয়। অথবা হয়তো তাদের বলা হয়েছে চুপ থাকতে। কিন্তু কেন? একটা রাজনৈতিক দল যখন পনেরো বছর পর ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়, তখন তার কর্মীদের উৎসাহ ধরে রাখা অসম্ভব হওয়ার কথা। তবুও যদি তারা নীরব থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এর পেছনে কোনো বাধ্যবাধকতা আছে।
আরেকটা বিষয় লক্ষণীয়—শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে যে তাড়াহুড়ো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে। এত তাড়াতাড়ি কেন? সাধারণত নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনে একটু সময় নেওয়া হয়, যাতে সঠিক মন্ত্রী নির্বাচন করা যায়, দায়িত্ব ভাগ করা যায়। কিন্তু এখানে যেন একটা চাপ আছে দ্রুত শেষ করার। এবং ঠিক সেই চাপের মধ্যেই তারেক রহমান যাচ্ছেন শফিকুর রহমান আর নাহিদ ইসলামের কাছে। মনে হচ্ছে তাদের সম্মতি না পেলে শপথ এগোবে না।
এই পুরো পরিস্থিতি একটা প্রশ্ন তৈরি করছে—নির্বাচনে জেতার মানে কি শুধু সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, নাকি সত্যিকারের ক্ষমতা? তারেক রহমান হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পদ পাবেন, কিন্তু সেই পদে বসে তিনি কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন? মন্ত্রিসভায় কারা থাকবে, কোন নীতি প্রণয়ন হবে, কোন আইন পাস হবে—এসব কি তিনি একাই ঠিক করবেন, নাকি শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের সাথে পরামর্শ করে? যদি পরামর্শ করতে হয়, তাহলে সেটা কি পরামর্শ, নাকি অনুমতি?
অনেকে হয়তো বলবেন, এটা একটা জোট সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু জোট সরকার তখনই গঠিত হয় যখন কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না। বিএনপি তো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তাহলে জোট কেন? জোট হলে বিরোধি দল কে হবে ? আমরা আর কোনো আপা-জাপার নতুন ভারশন দেখতে চাই না ।
ধরা যাক, পরবর্তী কয়েক মাসে সরকার ভালোভাবেই চলছে। কিছু উন্নয়ন হচ্ছে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তাহলে কৃতিত্ব কার? তারেক রহমানের, নাকি সেই তিনজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার? আর যদি কিছু ভুল হয়, কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দায় কার? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়ী হবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত যদি নিয়ে থাকেন শফিকুর রহমান বা নাহিদ ইসলাম, তাহলে? এই অস্পষ্ট ক্ষমতা কাঠামো ভবিষ্যতে অনেক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
যে মানুষগুলো নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তারা ভেবেছিল তাদের ভোট একটা পরিষ্কার ম্যান্ডেট দেবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই ম্যান্ডেট অস্পষ্ট। তারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু পাচ্ছে একটা মিশ্র সরকার যেখানে বিএনপির নেতা আছেন ঠিকই, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অন্যরা। এটা কি গণতন্ত্র, নাকি গণতন্ত্রের একটা বিকৃত রূপ?
আরও চিন্তার বিষয় হল, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে কোথায় নিয়ে যাবে। যদি তারেক রহমান শুরু থেকেই দুর্বল অবস্থানে থাকেন, তাহলে পরবর্তীতে তিনি কি সেই অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবেন? নাকি এই দুর্বলতা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে, এবং একসময় তিনি শুধুই একটা প্রতীকী প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন, যার নামে সরকার চলবে কিন্তু আসল কাজ করবেন অন্যরা?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনই পাওয়া সম্ভব নয়। হয়তো আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। হয়তো তারেক রহমান প্রমাণ করবেন যে তিনি শক্তিশালী নেতা এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অথবা হয়তো দেখা যাবে যে এই আশঙ্কাগুলো সত্যি, এবং একটা নিয়ন্ত্রিত সরকার গঠিত হচ্ছে যেখানে প্রকাশ্য নেতা এক কিন্তু আসল ক্ষমতা অন্যদের হাতে।
যেটা নিশ্চিত, তা হল এই পরিস্থিতি সাধারণ নয়। এবং যারা মনে করছেন বিএনপির জয় মানেই সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাদের হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত। কারণ রাজনীতিতে প্রথম দৃষ্টিতে যা দেখা যায়, তা সবসময় সত্যি নয়। এবং এই ক্ষেত্রে, প্রথম দৃষ্টিতে যেটা বিজয় মনে হচ্ছে, সেটা হয়তো আসলে একটা জটিল সমঝোতা, যার শর্তগুলো এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমান কে উইক লাগছে । যেখানে কারচুপি নিয়ে জামায়াত-এনসিপির খালি কলসি বাজে বেশি সেখানে বিএনপির যে সব পপুলার পারসন হেরে গেচে তারেক রহমান কি তাদের সাথে কথা বলেছেন কিংবা তাদের হয়ে কিছু বলেছেন ? সেরকম কিছু দেখলাম না ।
২|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২২
আমি নই বলেছেন: বিষয়টাকে পজিটিভলি নিলেই হয়। বিজয়ী নেতা পরাজিতদের কাছে গিয়ে সান্তনা দেয়া বা পরাজিতরা বিজয়ীকে শুভেচ্ছা জানানোর কালচার গড়ে তোলা উচিৎ। নাকি চাচ্ছেন ওরা কামরা-কামরি করুক?
আর বিজয় মিছিল হলে সহিংসতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাই বিজয় মিছিল না হওয়াটাও ভালো হয়েছে। অন্য এলাকার কথা জানিনা বাট আমার এলাকায় বিজয় মিছিল হলে বড় ধরনের সহিংসতা হত। চেষ্টা করতে হবে এমন একটা পরিবেশ করতে যাতে কোনো রকম সহিংসতা না হয়, হয়ত রাজনৈতিক দলগুলো সে চেষ্টাই করছে, এবং বড় দল হিসেবে তারেকের দায়িত্বটা সবচাইতে বেশি।
আর মিশ্র ম্যান্ডেট মনে হওয়ার লজিক্যাল কারন কি? ২০৯ আসনে জিতেছে, বিষয়টা এমন নয় যে ৪-৫ টি বড় দলের জোট ছিল সেই কারনে ২০৯টা আসন পেয়েছে। তারেকের সামনে এখন বড় বড় চ্যালেন্জ, বিরোধীদলের সাথে কামরা-কামরি না সেগুলো মোকাবেলা করাই তার জন্য ভাল সিদ্ধান্ত হবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার পজিটিভ ব্যাখ্যাটা শুনতে সুন্দর লাগছে, কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা সবসময় এভাবে কাজ করে না। পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী পরাজিত নেতাদের বাসায় সান্ত্বনা দিতে যান? আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত, কানাডা—কোথাও না। সবসময় পরাজিত পক্ষ বিজয়ীর কাছে আসে, উল্টো নয়। এবং তারেক রহমান যাচ্ছেন শপথের ঠিক আগে, ব্যক্তিগত বাসায়: এটা সান্ত্বনা নয়, এটা কোনো বিষয় নিয়ে দরকষাকষি। সহিংসতার ভয় এর যুক্তি ধোপে টেকে না। বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে মিছিল করতে পারছে না কারণ আপনার এলাকায় সহিংসতা হতো ? প্রশ্ন হলো: কার সাথে কার সহিংসতা ? হেরে যাওয়া দলের? চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে শক্তি দরকার, আত্মবিশ্বাস দরকার। কিন্তু শুরুতেই যদি সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন, নিজের কর্মীদের মিছিল নিষিদ্ধ করেন, প্রতিপক্ষের বাসায় গিয়ে অনুমতি নেন: তাহলে এটা দায়িত্ব নয়, দুর্বলতা।
আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী ছিল কিন্তু দুর্বল ছিল না । তারা যা বলতো তাই হতো। এখন যা হচ্ছে তা আরও ভয়ংকর: একটা নির্বাচিত সরকার যেটা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নামে আছেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অন্যরা। এটাকে পজিটিভলি নেওয়া মানে বাস্তবতা অস্বীকার করা। দুইশো নয় আসন পেয়েও যদি বিজয় উদযাপন করতে না পারেন, শপথের আগে অন্যদের অনুমতি নিতে যান, তাহলে এটা শক্তিশালী সরকারের লক্ষণ নয় ; এটা এমন একটা সরকার যেটা জানে তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কম। আমরা সাধারণ মানুষ আশা করি তারেক রহমান ২০০১-২০০৬ সালের ভুল থেকে বের হয়ে আসবেন । জামায়াত-এনসিপি গত দেড় বছরে যে পরিমাণ বিষাদগার করেছে বিএনপিকে নিয়ে একই আচরণ যদি তাদের সাথে করা হতো তবে তারেক রহমানের মুখ দেখতে চাইতো না
৩|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখাটি সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাগুলোকে প্রশ্নমুখী দৃষ্টিতে বিশ্লেষণের একটি সুন্দর প্রচেষ্টা, যেখানে
নির্বাচনের পর বিভিন্ন আচরণ ও সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য অর্থ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। অপনার পর্যবেক্ষণগুলো
চিন্তার খোরাক জোগালেও অনেক ক্ষেত্রে অনুমান ও বিশ্লেষণের সীমারেখা স্পষ্ট নয়, কারণ উত্থাপিত
আশঙ্কাগুলোর পক্ষে এখনো কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। তবে বিকল্প ব্যাখ্যার সম্ভাবনাও
বিবেচনার দাবী রাখে।
সামগ্রিকভাবে, এটি একটি মতামতনির্ভর বিশ্লেষণ, যা রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে সহায়ক,
তবে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে নয়, বরং চলমান পরিস্থিতির একটি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচনা
করা অধিক যুক্তিযুক্ত। এখন কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপাই নাই ।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি খোলা মনে আলোচনায় বিশ্বাসী; এতে ব্লগ প্রানবন্ত হয়। আমি একটা "কিন্তু" দিয়ে রাখলাম ভবিষ্যতের জন্য। আমি দৃঢভাবে আ্শা করতে চাই তারেক রহমান অবশ্যই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। বিএনপি আপাতত সাদারণ আম-জনতার শেষ ভরসা।
৪|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:২২
আমি নই বলেছেন: জী ভাই আমি বিষয়টা পজিটিভলিই নিতে চাই, অন্তত যতক্ষন নিখাদ কোনো প্রমান না আসে যে সরকারকে বিরোধীদল নিয়ন্ত্রন করছে। অবস্য সেটা কিছুদিনের মাঝেই বোঝা যাবে। আর ভাই বাংলাদেশে অনেক কিছুই ঘটে যা আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত, কানাডা বা দুনিয়ার কোথাও ঘটেনা।
আমার এলাকার জাষ্ট উদাহরন হিসেবে বলেছি, কিন্তু প্রায় সব যায়গার অবস্থাই এক। নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতার বেশিরভাগের শুরু আনন্দ মিছিল থেকেই হয়। এবার আনন্দ মিছিল হয়নাই এবং গতানুগতিক ভাবে যা হয়, সেই রকম বড় সহিংসতাও হয় নাই।
আপনি যেহেতু দাবী করেছেন বিএনপি/তারেক দুর্বল, নিশ্চই এর কারন আছে। কারনটা কি? আপনি কি মনে করেন জামায়াত-এনসিপির অনুমতি না নিলে জামায়াত-এনসিপি বিএনপির কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেবে? আমি জাষ্ট বুঝতে চাচ্ছি আপনি যা বলতেছেন এর পিছনের লজিকটা কি।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমাকে দুর্বল দেখাচ্ছে উনার অঙ্গভঙ্গি ও কথায়। তিনি দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পাইসেন সেটা কেবল মানুষ মন থেকে ভোট দিয়েছে বলে না হলে কারচুপি করে আরো আসন নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। তার পরাজিত দলের সদস্যরা অভিযোগ করছে কারচুপির কিন্তু সেদিকে তারেক রহমানের কর্ণপাত নেই।
৫|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৯
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
খালি মাঠে প্রতিপক্ষহীন নির্বাচনের পর এমনই তো হবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনা নিজের কৃতকর্মের জন্য পালিয়েছেন। এতে কারোই কিছু করা ছিলো না।
৬|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৬
নিমো বলেছেন: আমি নই বলেছেন: বিজয়ী নেতা পরাজিতদের কাছে গিয়ে সান্তনা দেয়া বা পরাজিতরা বিজয়ীকে শুভেচ্ছা জানানোর কালচার গড়ে তোলা উচিৎ
খুব ভালো কথা। এর জন্য বাসায় যেতে হবে কেন? অন্য আরও অনেক উপায় ছিল। সৌজন্য হিসাবে একসাথে কোথাও কাওয়ার আয়োজন হতো সবচেয়ে সঠিক। তার উপর জামায়াত ইতিহাসের সবআেয়ে সেরা ফলাফল করেছে, ৪িপিি গুন বেশি আসন পেয়েছে। এনসিপিও কোটায় ভালোই আসন বাগিয়েছে। তাদের ঠিক কোন ধরণের সান্তনা দরকার একটু বুঝিয়ে বলুন। আর তারাই বা কেন বিজয়ীর বাড়িতো গেলেন না,যেটা আপনারও প্রস্তাবনা, যা অনেক বেশি যৌক্তিক, যদি একটু বলতেন।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিএনপির অনেকে নেতাকে কারচুপিবক করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। পালটাপালটি অভিযোগ চলার সময় বাসায় গিয়ে দেখা করা অনুচিত। স্থানীয় মানুষ যারা তাদের প্রতিনিধি কে ভোট দিয়ে জেতাতে পারলো না এদের মন খারাপ।
৭|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২০
নিমো বলেছেন: এসব কথা জা-শি,এনসিপির মেধাবীরা বুঝবে না। কতিপয় মন্তব্য পড়ে হাসি থামাতো পারছি না। জনৈক গবেষক সাহেবপ দেখি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মন্তব্য করেন। ![]()
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঢাকার আসন গুলো বিএনপি থেকে কেড়ে নিয়ে হাত পা বেধে ফেলা হয়েছে।
৮|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৯
কাঁউটাল বলেছেন: বাংলাদেশের মূল সমস্যা হল পভুপাদ মুদির দেশ ভঁড়ৎ এবং উহাদের গৃহপালিত রাজনৈতিক দল "হাউয়ামী লীগ"। বাকিরা নির্বাচন উপলক্ষে কিছুটা হিচিং হলেও, দেশ চালানোর স্বার্থে তারেক রহমান সবাইকে নিয়ে চলতে চান - এটা বুঝা যাচ্ছে। ভেরি গুড মুভ বাই তারেক রহমান।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কোনটা ভালো আর কোনটা কালো সেটা সময়েই বুঝা যাবে ; ভারতের মুদি ও আওয়ামি লিগ এখানে কি কারণে টেনে আনলেন ? ২০৯ সিট যে দল পায় সে দলের কাছে সবাই যাবে । তারেক রহমানকে পাবলিক কিং বানাইসে বাকিদের হুজুর হুজুর করতে নয় । তাছাড়া আমির সাব এবং নাহিদেরা তারেক রহমান দেশে আসার পর দেখা করেছেন যখন তিনি কিং ছিলেন না । এখনও সেরকমই হওয়ার কথা ।
আপনি মনে হয় সারাদিন হাওয়ামি আর লিগ কে নিয়ে আতংকে থাকেন । উহারা আর ফিরবে বলে মনে হয় না । সজিব পাডা আমেরিকায় ভালো আছে ।
৯|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০
কাঁউটাল বলেছেন: বিএনপি এবং অন্যান্য অ-হাউয়ামী দল যত কাছাকাছি আসবে হাউয়ামী এবং ছুপা হাউয়ামীরা তত হুক্কাহুয়া করবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এটা ফরমালি সবার সামনেই করা যায় ; বাসায় বাসায় গিয়ে বলতে হয় না ।
১০|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৬
আমি নই বলেছেন: লেখক বলেছেন: তারেক রহমাকে দুর্বল দেখাচ্ছে উনার অঙ্গভঙ্গি ও কথায়। তিনি দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পাইসেন সেটা কেবল মানুষ মন থেকে ভোট দিয়েছে বলে না হলে কারচুপি করে আরো আসন নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। তার পরাজিত দলের সদস্যরা অভিযোগ করছে কারচুপির কিন্তু সেদিকে তারেক রহমানের কর্ণপাত নেই।
ওকে বুঝলাম। এটা আসলে দৃষ্টিভংগির ব্যাপার, উনি যে ভাবে সংবাদ সম্মেলনটা করলেন তাতে উনাকে বেশ কন্ফিডেন্ট মনে হয়েছে। আর নির্বাচনে হারার পর কারচুপির অভিযোগ স্বাভাবিক। আর কারচুপি উভয় পক্ষেই হইছে। মেজরিটি পাইসে দেখে কি করা উচিৎ ছিল আপনি মনে করেন? সম্রাটের মত ক্ষমতা ধারন করা, বিশাল বিজয় মিছিল করা, বিরোধীদের শায়েস্তা করা, দলের পরাজিত সদস্যদের অভিযোগ শুনে ইসির গুষ্টি উদ্ধার করা, এগুলো করলেই কি ওনাকে অনেক শক্তিশালী মনে হত। আমার মনে হয় এগুলো করলে ওনাকে হাসিনার প্রতিরুপ মনে হত।
@নিমো আমি ৯৯% সিউর তারেক জিয়ার নেয়া কোনো ডিসিশন আপনার পছন্দ হবে না। আর কে, কোথায়, কেন গেলনা সেটা বলার সঠিক ব্যাক্তিও আমি না। এটা তারাই বলতে পারবে। তারেক জিয়ার দেখা করতে যাচ্ছেন এটা পজিটিভ বলেই আমার মনে হয়েছে, এটা কন্টিনিউ করা উচিৎ। আশা করি এনসিপি জনগনের কাছে দেয়া তাদের কমিটমেন্ট রাখবে এবং পরের নির্বাচনে আরো ভাল করবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমরা তো বিরোধীদের শায়েস্তা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম জাতীয় ঐক্য—কিন্তু শক্তির জায়গা থেকে, দুর্বলতার জায়গা থেকে নয়। আমরা চেয়েছিলাম তারেক রহমান প্রথমে শক্তিশালী সরকার গঠন করুক, তারপর সবাইকে ডেকে বলুক "এই আমাদের পরিকল্পনা, আপনারা মতামত দিন।" কিন্তু এখানে কী হচ্ছে? শপথের আগেই তিনি প্রতিপক্ষের বাসায় যাবেন এটা কোনো ঐক্য বলে মনে হয় না ।
সবচেয়ে বড় কথা: যখন তারেক রহমান দেশে ফিরলেন, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না । তখন শফিকুর রহমান আর নাহিদ ইসলাম তাঁর কাছে গিয়ে দেখা করেছিল। সেটা স্বাভাবিক ছিল, কারণ তিনি ছিলেন বড় দলের নেতা। কিন্তু এখন তিনি ২০৯ আসন জিতে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—তাহলে কেন এখন তিনি তাদের কাছে যাচ্ছেন? ক্ষমতা বাড়লে তো শক্তি বাড়ার কথা, কমার কথা নয়!
এটা দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার নয়। এটা objective reality। যদি সত্যিই জাতীয় ঐক্য চান, তাহলে সবাইকে বঙ্গভবনে ডেকে প্রকাশ্য বৈঠক করুন—রাতে ব্যক্তিগত বাসায় গিয়ে কথা বলা লাগে না ।
১১|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৯
কিরকুট বলেছেন: আপনার বাড়িতে যায় নাই এর জন্য তেব্র পেরতিবাদ জানাচ্ছি ।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তিনি আমাদের বাড়িতে আসবেন না ; তিনি যাবেন ইয়াহিয়া আর ভুটটো সাহেবের বাসায় । ![]()
১২|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩
কাঁউটাল বলেছেন: তারেক রহমান যাতে ভুল সিদ্ধান্ত না নিতে পারে এইজন্য সৈয়দ কুতুবকে উনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হউক।
![]()
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তিনি আমাকে ডাকবেন না। ডাকবেন —যারা চায় তিনি নাহিদ-শফিক গঙ এর সাথে দেখা করুক, যারা চায় তিনি বিজয় মিছিল না করুক, যারা চায় তিনি দুর্বল থাকুক।
১৩|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫
নিমো বলেছেন: @নিমো আমি ৯৯% সিউর তারেক জিয়ার নেয়া কোনো ডিসিশন আপনার পছন্দ হবে না।
আপনি ১০০ শতাংশ সিউর না হওয়ার কষ্টে আমি কষ্টিত। ![]()
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন ।
১৪|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬
রাসেল বলেছেন: ঠিক হোক বা ভুল—সবকিছুই দুর্নীতির অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী বৃত্তে আবদ্ধ।
এই সর্বগ্রাসী দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে দূর করতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, নৈতিক সাহস এবং আত্মসংযম।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আরেহ করাপশন থেকে বিএনপি দুরে সরে থাকুক সেটা কে না চায় ? কিনতু একজন নেতা যদি বড়ো জয়ের পরও নিজেকে সুপরিম মনে না করেন উহা হামাক লাহান ভোটারের লাগিয়া মন খারাপের বিষয় ।
১৫|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫১
আদিত্য ০১ বলেছেন: সজীব উয়াজেদ জয় কে নিয়ে কুরুচি মন্তব্য করে কাউটালের কমেন্টের রিপ্লাই দিলেন,তাতেও তার মন পাইলেন না। সে আপনাকে তারেকের উপদেষ্টা বানাতে চাচ্ছে। কিএকটাঅবস্থা? কিংকে নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করেও বলা যাবে না।
প্রথম কথা হইলো বিএনপির এই জয়ের পিছনে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের হাতে পায়ে ভিক্ষা চাওয়া ও মামলার ভয় দেখিয়ে অনেক বড় একটা অংশ ভোট পাইছে। সেটা আমার এলাকায় দেকছি। আর নির্বাচনের আগে ফকরুল সাহেবদের অনুনয় বিনয় তো ছিলো। আমি মনে করি বিএনপি বেশি ভোট পাওয়ার পিছনে আওয়ামীলীগের সমর্থকদের ২০/৩০ শতাংশ ভোট কাজ করেছে। কেন করেছে তার কারনগুলো বলছি
১) আওয়ামীলিগের সমর্থকদের হাতে পায়ে ধরে অনুনয় বিনয় ও মামলার ভয় দেখানো। যেসব খেটে খাওয়া আওয়ামী ভোটার আছেন তাদেরকে ভয় দেখানো হইছে যে ভিজিএফ কার্ড বা বয়স্ক ভাতা কার্ড বা আরও সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেওয়া হবে যদি বিএনপিকে ভোট না দেওয়া হয় বা ভোট থেকে বিরত থাকে
২)সাধারন আওয়ামীলীগের সমর্থকরা জামাতের মব সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থামানোর জন্য বিএনপিকে ভোট দিয়েছে , তুলনামূলক মন্দের ভালো কাউকে ক্ষমতায় দেখার জন্য
৩) জামাত নামক স্বাধিনতা বিরোধীশক্তির কাছ থেকে দেশকে মুক্ত করে তুলনামূলক কম উগ্রবাদী ও স্বাধীনতার ছিটেফোটা থাকা বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে
৪) যাহা বিএনপি তাহাই জামাত - তা ১৯৯১ বা ২০০১-২০০৬ বেগম জিয়া দেখিয়েছেন। জামাতের তখনকার নেতাদের কথা না শুনে উনি কিছুই করতেন না। তখন আপনারা বাচ্চা ছিলেন তাই নিজের চোখে দেখেন নি।
৫ আগস্টের পর বিএনপির ভোট কমেছে, জামাতে বেড়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের আগে আওয়ামীলীগের ভোট কমেছিলো, কিন্তু সেটা এখন বেড়ে গেছে।
আওয়ামীলীগের অংশগ্রহনে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। বিএনপি জামাত এনছিপি জোট করবে আর আওয়ামীলীগ একা করবে। আওয়ামীলীগ ১৬০-১৭০ আসন পাবে
২০০৮-এ ভোট পড়েছিলো ৮২% বেশি আর আওয়ামীলীগ একাই পেয়েছিলো ২২০ এর বেশি। হিসাব করেন কত ভোট পাইছে। আর এইবার তর্কের খাতিরে ধরে নেই ভোট পরেছে ৫০% তাও এখানেও আওয়ামীলীগের সমর্থক আছে ১০% বেশি। তাইলে ৪০% ভোটার ভোট দিছে জামাত আর বিএনপি, এনছিপিকে। মানে বিএনপি আর তারেকের ভয় এই যায়গায় যে তারা ভাসমান ভোটে জয়ী। মানে আওয়ামীলীগের ভোটে জয়ী। এইটা আপনি আমি সবাই জানি। আপনি আমার সাথে একমত নাই হতে পারেন। কিন্তু যা সত্য তাই
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কাউটাল কি মেয়ে মানুষ ? উহার মন পাইয়া আমার কোনো লাভ নেই । আপনার কথার সাথে একমত না । শুধু শুধু ইয়া বড়ো কমেনটস করলেন । ভোট কে দিয়েছে আর কে দেয় নাই সব আমার জানা আছে ।
১৬|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৮
আদিত্য ০১ বলেছেন: তবে আওয়ামীলীগের শান্তিপূর্ন ক্যাম্পেইন No Vote- No Boat খুবই ভালো লেগেছে। ২০১৪ তে বিএনপি-জামাতের পেট্রোল বোমা মেরে জ্যান্ত মানুস মারার মত কর্মসূচি আওয়ামীলিগ দেয় নি. দিবেও না।
এইবার সত্যিকারে ভোট পড়েছে ৪০%-৪৫%। কিন্তু সেটা সরকার বাড়িয়ে দেখাবেই,কারন আওয়ামীলীগকে আসতে দেয় নি। বাইরের দেশের পর্যবেক্ষক ও অন্যান্য দেশকে দেখাতে হবে।
এই ৪০%-৪৫% এর মধ্যে আওয়ামীলীগের সমর্থকদের ভোট আছে ১০-১৫%।
তবে আওয়ামীলীগের শান্তিপূর্ন ক্যাম্পেইন No Vote- No Boat এই কর্মসূচী সফল, সাধারন মানুস ভোট দেয় নি ৩৫%-৪০%
যারা আওয়ামীলীগের সমর্থক।
আমার নিজের এলাকার কেন্দ্রের কথা বলি, সেখানে সবসময় আওয়ামীলীগ জয়ী, যেইবার বিএনপি সরকার গঠন করেছে সেইবারও। আমার কেন্দ্রে বৈধ ভোটার ৩০০০
বিএনপি পেয়েছে ৮৭৪ আর জামাত পেয়েছে ৬৭৪
অন্যান্য প্রার্থী পেয়েছে ৩০-৪০। সর্বমোট ১৫৮৮,
ভোট পড়েছে ৫২% এর মধ্যে কিছু জাল ভোট আছে আর আওয়ামীলীগের আছে ১৫% তার মানে, বিএনপির প্রকৃত ভোট কমে গেছে। কিন্তু জামাতে বেড়েছে।
আওয়ামীলীগের ভোট এই ১৭ মাসে বাড়ছে। কমেছিলো ৫ আগস্টের আগে।
২০১৮ তে আওয়ামীলীগ হারতো ১০০ আসন পাইতো। কারন ভোট কমেছিলো।
কিন্তু এইভার আওয়ামীলীগ নির্বচানে আসলে আর সুষ্ঠু ভোট হইলে আওয়ামীলীগ ১৬০-১৭০ আসন পাইতো
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার পিও দল বেশি হলে ২৯ সিট পাইতো ; জামায়াতের সিট ১০ এর নিচে নামতো । বিএনপি ২৫০ এর বেশি পাইতো তখন ।
১৭|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৩
আদিত্য ০১ বলেছেন: আপনার বা আপনার সরকারের কথায় ধরি ভোট পড়েছে ৬০%
এইখানে আওয়ামীলীগের সমর্থক আছে ১০-১৫% চাপে পড়ে আর ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়া হইছে। যা ভাসমান ভোট।
আওয়ামী সমর্থক বাদ দিলে সরাকারের হিসাব মতে ভোট পড়েছে ৫০-৪৫%। তারমানে বিএনপি প্রকৃত ভোটার কম। সেই তুলনায় জামাতের ভোট বেড়েছে।
আপনি আমার সাথে একমত হবেন না। কিন্তু আমি আমার কেন্দ্রে বা এলাকায় আছি অনেক দিন, জানি হিসাব।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি বলি নাই ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে । আপনার বেশিরভাগ কথা ভুল এখানে যেসব কমেনটস করেছেন।
১৮|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৭
আদিত্য ০১ বলেছেন: লেখক বলেছেন: কাউটাল কি মেয়ে মানুষ ? উহার মন পাইয়া আমার কোনো লাভ নেই ।
আপনি একমত হবেন না জানি। তাও কইলাম বড় কমেন্টে। তারেকের দুর্বলতা কই।
দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমান উইক হলে লাভ আপা আর জামার ।
১৯|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৩
আদিত্য ০১ বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনার পিও দল বেশি হলে ২৯ সিট পাইতো ; জামায়াতের সিট ১০ এর নিচে নামতো । বিএনপি ২৫০ এর বেশি পাইতো তখন ।
হা হা। আপনার এনালাইসিস খুব দুর্বল, তর্ক করে লাভ নাই। আওয়ামীলীগ ০ আসন পাইতো, এইটা শুনে তৃপ্তি ঢেকুর তুলেন। আর এইবার ভোট পড়েছে ৬০%। এইবার খুশি হন।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঢেকুর তুললাম।
২০|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
আদিত্য ০১ বলেছেন: আর আপনার পিও দলের লোকেরা নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগের হাতে পায়ে ধরলো সেইট নিশ্চয় জীন ভুতে কইছে। যাক এ-আই এর যুগে আপনিও কইবেন, তাদের সব এ আই দিয়ে বানানো
এইবার ভোট পড়েছে ৭০% আর বিএনপির ভোট ৬০%।
আর যদি আওয়ামীলীগ আসতো তাইলে পাইতো জিরো আসন পাইতো।
খুশি হইছেন। যাক এই খুশিতে এইবার কাউটালের সাথে সুর মিলিয়ে বলে হাওয়ামী
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইলেকশনের আগে সবাই এমন বিরোধি দলের ভোট চায়। আওয়ামি লিগের ভোট ছাড়াও বিএনপি জিতে গেল।
২১|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯
আদিত্য ০১ বলেছেন: @সৈয়দ কুতুব আপনি বেশ ধূর্ত টাইপ বিএনপি ঘরনার লোক। বিএনপির সমালোচনা এমনভাবে করেন যাতে বিএনপি লোকেরা ভাবে এতো ভালো কথাই বলছে,আবার অন্য ভাবে এই তো নিরপেক্ষ লোক।
যাইহোক আমার উপরের কমেন্টগুলা অহেতুক করেছি। বিএনপি ঘরনার সাথে অহেতুক যুক্তি করে লাভ নাই। সব দোষ আওয়ামীলীগের। সৈয়দ মশিঊরের মত আপনিও লিখবে আওয়ামীলীগের সবাই খারাপ সব কিছুই খারাপ, তাইলে আর তর্ক করবে না কেউ
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি খোলামেলা আলোচনা করতে বেশি মজা পাই । আমি সবার কমেনটস এর জবাব সিরিয়াসলি দেই না । কে কেমন ধরনের সেটা বুঝে দেই। আপনি কেমন সেটা আমার জানা আছে । তাই মাঝেসাঝে মজা করি
।
পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয় ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৮
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: অথচ উচিৎ ছিলো তাদেরই তারেক রহমানের বাসভনে যাওয়ার। আসন ভাগাভাগির চড়ুইভাতির নির্বাচন হলে যা হয় আর কি।