| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সালমান মাহফুজ
সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সেই কৈশোর থেকেই । মাঝে মাঝে লিখতেও চেষ্টা করি । যেই সাহিত্য আমাকে ধরেছে, সেই সিলেবাস আমাকে দূরে সরিয়ে দিছে । সুতরাং একাডেমিক কন্ডিশন চরম বাজে । প্রচণ্ড অলস এবং অসামাজিক । নিজের কাজের প্রতি চরম বিশ্বাসহীনতা । মাঝে মাঝে সবকিছুকেই অনর্থক ফাও ফাও মনে হয় । এমনকি বেঁচে থাকাটাও । তবুও বেঁচে আছি । কেন ? জানি না । শুধু জানি, কিছু একটা করতে হবে । কী সেটা ? তাও জানি না । মানবজন্মটাকে এভাবে বৃথা চলতে দেয়া যায় না, এই ভেবেই বোধোহয় আরেকটু বাঁচবার লোভ হয় ।
না সুকান্ত, আমরা পারি নি
এই পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য আবাসভূমি হিসেবে
আমরা গড়ে তুলতে পারি নি
আপনিও যেমন পারেন নি
শুধু অঙ্গীকার করে গেছেন
আজকাল রাষ্ট্রচালকদের প্রিয় বচন
নানাবিধ অঙ্গীকার
অঙ্গীকারের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকে
শিশুদের ধর্ষিত অর্ধগলিত মৃত লাশ
চব্বিশে শিশুরা মুক্ত আকাশ দেখতে চাইছিল বলে
নেমে এসেছিল বুলেটবৃষ্টি, ছাব্বিশে এসেও
আমরা ওদের দৃষ্টিতে আকাশকে উন্মুক্ত করতে
ব্যর্থ হয়েছি, তাই পাহাড়ের পাদদেশে পাওয়া যায়
শিশুর লাশ, অভিশপ্ত বাতাস
ঘূর্ণি খেলে খুনিদের স্নায়ুতে, কোমল শিশুদের
হাসিকে স্তব্ধ করে ধর্মালয়ে ধর্ষকামী হায়েনাদের নৃশংসতা;
আর মুক্ত আকাশকে আড়াল করে ছদ্মবেশী শকুনদের নষ্ট উল্লাস
সুকান্ত, আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই
আপনিও আমাদের কাছে ক্ষমা চান
আপনি ধ্বংসস্তূপ পিঠে চলে গেছেন
আমরা ধ্বংসস্তূপ বুকে চেপে বেঁচে আছি
আশি বছরে পরিবর্তন এইটুকু!
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কবি সুকান্ত এবং পাহাড়ের পাদদেশে শিশুর লাশ কবিতাটি পড়লাম । এক গভীর মানবিক বেদনা, সামাজিক ব্যর্থতা
ও বিবেকের সংকটের প্রতিচ্ছবি। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্বপ্ন ছিল এমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা, যেখানে শিশুরা
নিরাপদে, মুক্ত আকাশের নিচে সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেড়ে উঠবে। কিন্তু কবিতায় সেই স্বপ্নের বিপরীতে উঠে এসেছে
বাস্তবতার নির্মম ছবি অর্ধভুক্ত, নির্যাতিত ও মৃত শিশুর লাশ পড়ে আছে পাহাড়ের পাদদেশে।
কবিতার শিশুর বাসযোগ্য আবাসভূমি নির্মাণে আমাদের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গীকার শব্দের পুনরাবৃত্তি
বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা প্রতিশ্রুতির বিপরীতে শিশুর এই করুণ পরিণতি কবির মনে
তীব্র ক্ষোভ ও আত্মজিজ্ঞাসা সৃষ্টি করেছে। মুক্ত আকাশের স্বপ্ন, ঝরাপাতার শব্দ, পাহাড়ের পাদদেশ এবং শিশুর
নিথর দেহ এসব চিত্রকল্প আপনার কবিতাটিকে একই সঙ্গে বিষণ্ন, প্রতীকী ও প্রতিবাদী করে তুলেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনার কবিতাটি কেবল একটি মৃত শিশুর জন্য শোক প্রকাশ করে না; বরং সেই শিশুর
মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমগ্র মানবসমাজের নৈতিক পরাজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সুকান্তের মানবিক ও শিশুকেন্দ্রিক স্বপ্নের
সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার এই বৈপরীত্য কবিতাটির শক্তি। তাই এটি নিছক শোকের কবিতা নয় এটি বিবেক
জাগানোর, দায় স্বীকারের এবং একটি সত্যিকারের শিশুবান্ধব পৃথিবী নির্মাণের আহ্বান।
শুভেচ্ছা রইল