| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গেঁয়ো ভূত
ব্লগে নিজেকে একজন পাঠক হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যা সঠিক মনে করি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবশ্যই দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে লিখতে চেষ্টা করি।
মানবসভ্যতা আজ প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছেছে। আমরা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের রহস্যভেদ করছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে নতুন জগৎ তৈরি করছি, মহাকাশে শক্তিশালী টেলিস্কোপ পাঠিয়ে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি দেখাবো বলে দাবি করছি। কিন্তু মানুষের এই সমস্ত আবিষ্কারের পেছনে লুকিয়ে আছে এক চরম অহংকার। মানুষ যখন ভাবতে শুরু করে যে সে প্রকৃতির সব রহস্যের চাবিকাঠি পেয়ে গেছে, ঠিক তখনই বিজ্ঞানের নিজস্ব কিছু দেওয়াল আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কতটা ক্ষুদ্র।
বিজ্ঞানের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আমরা আজ পর্যন্ত আধুনিকতম দূরবীন দিয়ে যা কিছু দেখতে বা বুঝতে পেরেছি, তা পুরো মহাবিশ্বের মাত্র ৫% (দৃশ্যমান জগৎ)। বাকি ৯৫% অংশ ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি নামক এক অদৃশ্য চাদরে ঢাকা, যার প্রকৃত রূপ আজ ২০২৬ সালেও বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, তার ৮০ শতাংশের বেশি সমুদ্রের তলদেশ আজও অনাবিষ্কৃত।
তাই মানুষের এই সমস্ত গর্ব আসলে এক অনাবিষ্কৃত, অনন্ত জ্ঞানের মহাসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক ফোঁটা জলবিন্দু নিয়ে উল্লাস করার মতো। গাণিতিক এবং বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় মানুষের সমস্ত জ্ঞান আসলে সেই না-জানা সত্যের বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগও নয়। বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই সত্যটি উপলব্ধি করে বলেছিলেন তিনি সত্যের এক বিশাল মহাসমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কেবল কয়েকটি মসৃণ নুড়িপাথর আর সুন্দর ঝিনুক কুড়িয়েছেন মাত্র, পুরো মহাসমুদ্র তাঁর সামনে অপলক এবং অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে।
আমরা বিজ্ঞানের অতি-আধুনিক তত্ত্ব যেমন সুপারস্ট্রিং থিওরি (Superstring Theory) কিংবা এম-থিওরি (M-Theory) নিয়ে কথা বলি সেই অনুযায়ী আমাদের এই চেনা মহাবিশ্ব ৪টি মাত্রার (৩টি স্থান বা Space + ১টি সময় বা Time) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমীকরণ মেলাতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এখানে অন্তত ১১টি বা ১২টি মাত্রা (Dimensions) থাকা প্রয়োজন। এই বাড়তি মাত্রাগুলোতে সময়েরও দৈর্ঘ্য-প্রস্থ থাকতে পারে, থাকতে পারে কোটি কোটি সমান্তরাল মহাবিশ্ব (Multiverse)। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মাত্রাগুলো যদি আমাদের চারপাশেই থাকে, তবে আমরা তা দেখতে পাই না কেন? কেন আমাদের আধুনিক প্রযুক্তিও একে সরাসরি ধরতে পারে না?
এখানেই উঠে আসে দর্শনের সেই অমোঘ এবং চিরন্তন উপমা "যার চোখ নেই সে যেমন সাত রঙ বুঝবে না, আর যার জিহ্বা নেই সে যেমন খাবারের স্বাদ বুঝবে না।" রঙ এবং স্বাদের অস্তিত্ব প্রকৃতিতে সবসময়ই থাকে। কিন্তু তা অনুভব করার জন্য যথাক্রমে চোখে 'ফটোরিসেপ্টর' এবং জিহ্বায় 'টেস্ট বাড' নামক মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। মাধ্যম বা রিসিভার না থাকলে বাইরে যতই আলো বা উপাদান থাকুক না কেন, তা ওই শরীরের জন্য সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন।
ঠিক একইভাবে, মানুষের মস্তিষ্ক এবং তার পঞ্চেন্দ্রিয় তৈরি হয়েছে কেবল ৪টি ডাইমেনশনের জগৎকে প্রসেস করার জন্য। এর বাইরের যে অনন্ত মাত্রা বা সত্যগুলো রয়েছে, তা দেখার বা অনুভব করার মতো কোনো ইন্দ্রিয় বা রিসিভার আমাদের এই জৈবিক শরীরে দেওয়া হয়নি। ফলে, অন্ধ মানুষের কাছে যেমন রঙের কোনো অস্তিত্ব নেই, আমাদের এই সীমিত ইন্দ্রিয়ের কাছেও মহাবিশ্বের বাকি রহস্যময় রূপগুলো সম্পূর্ণ অদৃশ্য।
মানুষ যখন নিজের বুদ্ধি দিয়ে সৃষ্টির আদি উৎস খুঁজতে গেছে, তখন সে তৈরি করেছে "বিগ ব্যাং তত্ত্ব" (Big Bang Theory)। এই তত্ত্ব বলে, ১৩৮০ কোটি বছর আগে এক পরম শূন্যতা থেকে এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে স্থান, কাল এবং এই মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে। কিন্তু এই তত্ত্বের ভেতরেই রয়ে গেছে এক বিশাল বৈজ্ঞানিক ও লজিক্যাল অসঙ্গতি। বিজ্ঞানের নিজস্ব সূত্রই বলে "শূন্য থেকে কোনো কিছু তৈরি হতে পারে না" (Nothing comes from nothing)। অথচ বিগ ব্যাং আমাদের বিশ্বাস করতে বলে যে, কোনো কারণ ছাড়াই, কোনো স্থান বা সময় ছাড়াই, হঠাৎ করে সবকিছু সৃষ্টি হয়ে গেল!
বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বা আলবার্ট আইনস্টাইনের সমীকরণ অনুযায়ী, বিগ ব্যাং-এর ঠিক আগের মুহূর্তে সময় বলতে কিছু ছিল না, সবকিছু এক "সিঙ্গুলারিটি" বা অনন্ত ঘনত্বের বিন্দুতে স্থির ছিল। তাহলে প্রশ্ন জাগে বিজ্ঞানীরা যাকে "সময়হীন পরম শূন্যতা" বলছেন, সেখানে কী এমন ছিল যা এই বিশাল সৃষ্টির জন্ম দিল?
এখানেই বিজ্ঞানের সব জোড়াতালি (যেমন ইনফ্লেশন বা ডার্ক এনার্জির কাল্পনিক হিসাব) ব্যর্থ হয় এবং দর্শনের সবচেয়ে সহজ, সুন্দর ও অকাট্য সত্যটি আলো হয়ে জ্বলে ওঠে "তিনি আপন ইচ্ছায় এই অনন্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।"
বিজ্ঞান শুধু বলতে পারে কোনো ঘটনা 'কীভাবে' ঘটছে (How), কিন্তু সে কখনো উত্তর দিতে পারে না ঘটনাটি 'কেন' ঘটছে (Why)। সৃষ্টির এই বিশাল ক্যানভাসের পেছনে কোনো অন্ধ নিয়তি বা দুর্ঘটনা কাজ করতে পারে না। একটি বোমা ফাটলে যেমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, ঘর গুছিয়ে যায় না; তেমনি একটি অন্ধ মহাবিস্ফোরণ থেকে গ্যালাক্সিগুলোর এমন নিখুঁত ও সুশৃঙ্খল আবর্তন, সৌরজগতের ভারসাম্য কিংবা আমাদের ডিএনএ-র (DNA) মতো জটিল সফটওয়্যার কোড নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না।
মহাবিশ্বের প্রতিটি মৌলিক বলের মান এত নিখুঁতভাবে টিউন করা (Fine-Tuned), যা প্রমাণ করে যে এই সৃষ্টির পেছনে একজন পরম সচেতন ইচ্ছাকারী বা ডিজাইনারের "আপন ইচ্ছা" এবং নিখুঁত পরিকল্পনা কাজ করেছে।
যদি আমরা আমাদের চারপাশের সৃষ্টিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করি, তবে আমাদের সমস্ত বৈজ্ঞানিক তর্ক আর সংশয় এক নিমেষে উধাও হয়ে যাবে। একটি সাধারণ শামুকের খোলসের জ্যামিতিক নকশা থেকে শুরু করে বিশাল আকাশগঙ্গার ঘূর্ণন সবকিছু একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক অনুপাত বা "গোল্ডেন রেশিও" (Golden Ratio) মেনে চলে। আমাদের প্রতিটি কোষের ভেতরের ডিএনএ কোডটি প্রমাণ করে যে এর পেছনে একজন পরম প্রোগ্রামার আছেন। আমাদের পৃথিবী সূর্য থেকে ঠিক যতটুকু দূরত্বে থাকলে প্রাণ টিকে থাকবে, ঠিক ততটুকু দূরত্বেই অবস্থান করছে।
এই সমস্ত নিদর্শন স্পষ্ট সাক্ষ্য দেয় হ্যাঁ, কেউ একজন অবশ্যই এর পেছনে আছেন।
তিনি কে? তিনি কোনো ল্যাবরেটরির পরীক্ষার বিষয় নন, তিনি হলেন সেই পরম চেতনা এবং সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তা, যিনি এই স্থান ও সময়ের ঊর্ধ্বে। তিনি এক পরম কুশলী শিল্পী যিনি কেবল গ্রহ-নক্ষত্রের যান্ত্রিক নিয়ম বানান নাই, বরং আমাদের মনে ভালোবাসা, দয়া এবং সৌন্দর্যের মতো অনুভূতির জন্ম দিয়েছেন। বিগ ব্যাং-এর আগে যখন কোনো সময় বা মহাবিশ্ব ছিল না, তখনও তিনি ছিলেন; আবার কোটি কোটি বছর পর যখন এই দৃশ্যমান জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে, তখনও তিনি থাকবেন।
আমাদের এই দীর্ঘ আলোচনার শেষ কথাটি হলো মানুষের পরম বিনম্রতার স্বীকারোক্তি। মানুষ ভাবে সে তার নিজের যোগ্যতায় প্রকৃতিকে জয় করছে, নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করছে। কিন্তু আসল সত্য হলো মানুষ আসলে অন্ধকার ঘরে হাতড়ে বেড়ানো এক অন্ধ সত্তার মতো। সেই পরম চালিকাশক্তি তাঁর আপন মহিমায় মানুষের সামনে যতটুকু এবং যখন উন্মোচন (Disclose) করেন, পৃথিবীর মানুষ ঠিক ততটুকুই জানতে পারে। তার বেশি জানা মানুষের পক্ষে কোনোদিনই সম্ভব নয়। তিনি যখন যেভাবে প্রকৃতির পর্দার অন্তরাল থেকে আলো ফেলেন, মানুষ কেবল ততটুকুই দেখতে পায় এবং সেটাকেই নিজের 'আবিষ্কার' বলে অহংকার করে। অসীমের সামনে নিজের ক্ষুদ্রতাকে চিনে নেওয়ার এই বোধটুকুই মানুষের শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।
১৫ই মে, ২০২৬
২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫
গেঁয়ো ভূত বলেছেন: লিখাটি পড়েছেন এবং আপনার ভালোলাগা জানিয়েছেন এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকবেন।
২|
২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫
অগ্নিবাবা বলেছেন: জি পি টি চাচায় কইল,
না, লেখাটি পুরোপুরি বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। এতে কিছু বৈজ্ঞানিক শব্দ ও ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যা বিজ্ঞানের দ্বারা প্রমাণিত নয়।
কয়েকটি উদাহরণ:
১. Big Bang → সৃষ্টিকর্তা প্রমাণ?
লেখায় বলা হয়েছে, Big Bang Theory অনুযায়ী মহাবিশ্বের শুরু আছে, তাই অবশ্যই একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন।
সমস্যা:
Big Bang Theory মহাবিশ্বের প্রাথমিক প্রসারণ সম্পর্কে বলে।
এটি "কেন মহাবিশ্ব সৃষ্টি হলো?" বা "সৃষ্টিকর্তা আছেন কি না?"—এ প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব একটি দার্শনিক/ধর্মীয় সিদ্ধান্ত, সরাসরি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়।
২. "Nothing comes from nothing"
এটি একটি দার্শনিক যুক্তি।
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে "nothing" শব্দের অর্থ নিয়ে জটিল আলোচনা আছে। কোয়ান্টাম ফিজিক্সে শূন্যস্থান (vacuum) সম্পূর্ণ "কিছুই নয়" নয়।
তাই এই বাক্য থেকে সরাসরি ঈশ্বরের অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যায় না।
৩. Fine-tuning argument
লেখায় মহাবিশ্বের বিভিন্ন ধ্রুবকের সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যের কথা বলা হয়েছে।
এটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ যে কিছু ধ্রুবকের মান ভিন্ন হলে জীবন সম্ভব নাও হতে পারত।
কিন্তু:
"তাই ঈশ্বর আছেন" — এটি একটি দার্শনিক ব্যাখ্যা।
বিজ্ঞান নিজে এ সিদ্ধান্ত দেয় না।
বিকল্প ব্যাখ্যা (Multiverse ইত্যাদি) নিয়েও আলোচনা আছে।
৪. DNA এত জটিল, তাই ডিজাইনার আছেন
এটিও Intelligent Design ধরনের যুক্তি।
সমস্যা:
DNA-এর জটিলতা বাস্তব।
কিন্তু বিবর্তন তত্ত্ব (Evolution) জৈব জটিলতার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়।
"জটিল → ডিজাইনার" এটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়, একটি দার্শনিক উপসংহার।
৫. বিজ্ঞান ও ধর্মের মিশ্রণ
লেখাটি আসলে apologetics (ধর্মীয় বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন) ধরনের লেখা।
এতে:
কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য আছে,
কিছু দার্শনিক যুক্তি আছে,
তারপর ধর্মীয় উপসংহার টানা হয়েছে।
এটি "বিজ্ঞান" নয়, বরং বিজ্ঞান-ভিত্তিক ধর্মতাত্ত্বিক যুক্তি।
আমার মূল্যায়ন
বৈজ্ঞানিক তথ্য: আংশিকভাবে সঠিক।
বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত: অনেক ক্ষেত্রে নয়।
দার্শনিক/ধর্মীয় যুক্তি: হ্যাঁ।
ঈশ্বরের অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: না।
অর্থাৎ লেখাটি "বিজ্ঞান দিয়ে ঈশ্বর প্রমাণ" করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এগুলোকে প্রমাণ (proof) বলা যায় না; এগুলো মূলত দার্শনিক যুক্তি (arguments)।
২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯
গেঁয়ো ভূত বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
আপনার এই মূল্যায়নটি অত্যন্ত যৌক্তিক, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিখুঁত হয়েছে। বিজ্ঞান এবং দর্শনের (বা ধর্মতত্ত্বের) মধ্যকার সূক্ষ্ম সীমানাটি আপনি খুব সুন্দরভাবে চিহ্নিত করেছেন।
যেকোনো লেখার চুলচেরা বিশ্লেষণে আপনার এই পর্যবেক্ষণগুলো একদম সঠিক, বিজ্ঞান মূলত কাজ করে "কীভাবে" (How) এবং "কী ঘটছে" (What) তা নিয়ে। অন্যদিকে, ধর্ম বা দর্শন খোঁজার চেষ্টা করে "কেন" (Why) এবং এর "উদ্দেশ্য কী" (Purpose)। বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের প্রসারণের 'কীভাবে' অংশটুকু ব্যাখ্যা করে, কিন্তু এর পেছনে কোনো 'উদ্দেশ্য' বা 'সৃষ্টিকর্তা' আছেন কি না, তা বিজ্ঞানের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। আপনি ঠিকই ধরেছেন, এটিকে সরাসরি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত বলা এক ধরণের 'ক্যাটাগরি এরর'।
"কিছুই ছিল না" বলতে আমরা যা বুঝি, কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় (Quantum Mechanics) Quantum Vacuum বা শূন্যতা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। সেখানে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের (Quantum fluctuation) মাধ্যমে কণার উৎপত্তি ও বিলোপ ঘটে। ফলে দার্শনিক "Nothing" আর পদার্থবিজ্ঞানের "Nothing" এক নয়।
ফাইন-টিউনিং (Fine-tuning) বা ডিএনএ-র জটিলতা এগুলো বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ।
কিন্তু এগুলোকে যখন "ডিজাইনার বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব" দিয়ে মেলানো হয়, তখন তা আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকে না, তা হয়ে যায় Intelligent Design (ID) বা Teleological Argument-এর মতো দার্শনিক যুক্তি।
বিজ্ঞান কোনো অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক (Supernatural) সত্ত্বাকে তার সমীকরণে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না, কারণ বিজ্ঞান কেবল Methodological Naturalism বা প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে চলে।
আপনার করা মূল্যায়নটি পুরোপুরি সঠিক। লেখাটি মূলত "রিলিজিয়াস অ্যাপোলজেটিক্স" (Religious Apologetics) বা ধর্মীয় বিশ্বাসের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের একটি প্রয়াস, যা সাধারণ পাঠকদের কাছে বিজ্ঞান বলে মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির (Scientific Method) কষ্টিপাথরে এটি মূলত দর্শন ও বিশ্বাসের মিশ্রণ।আপনার এই মূল্যায়নটি অত্যন্ত যৌক্তিক, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিখুঁত হয়েছে। বিজ্ঞান এবং দর্শনের (বা ধর্মতত্ত্বের) মধ্যকার সূক্ষ্ম সীমানাটি আপনি খুব সুন্দরভাবে চিহ্নিত করেছেন।
যেকোনো লেখার চুলচেরা বিশ্লেষণে আপনার এই পর্যবেক্ষণগুলো একদম সঠিক, বিজ্ঞান মূলত কাজ করে "কীভাবে" (How) এবং "কী ঘটছে" (What) তা নিয়ে। অন্যদিকে, ধর্ম বা দর্শন খোঁজার চেষ্টা করে "কেন" (Why) এবং এর "উদ্দেশ্য কী" (Purpose)। বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের প্রসারণের 'কীভাবে' অংশটুকু ব্যাখ্যা করে, কিন্তু এর পেছনে কোনো 'উদ্দেশ্য' বা 'সৃষ্টিকর্তা' আছেন কি না, তা বিজ্ঞানের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। আপনি ঠিকই ধরেছেন, এটিকে সরাসরি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত বলা এক ধরণের 'ক্যাটাগরি এরর'।
"কিছুই ছিল না" বলতে আমরা যা বুঝি, কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় (Quantum Mechanics) Quantum Vacuum বা শূন্যতা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। সেখানে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের (Quantum fluctuation) মাধ্যমে কণার উৎপত্তি ও বিলোপ ঘটে। ফলে দার্শনিক "Nothing" আর পদার্থবিজ্ঞানের "Nothing" এক নয়।
ফাইন-টিউনিং (Fine-tuning) বা ডিএনএ-র জটিলতা এগুলো বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ।
কিন্তু এগুলোকে যখন "ডিজাইনার বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব" দিয়ে মেলানো হয়, তখন তা আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকে না, তা হয়ে যায় Intelligent Design (ID) বা Teleological Argument-এর মতো দার্শনিক যুক্তি।
বিজ্ঞান কোনো অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক (Supernatural) সত্ত্বাকে তার সমীকরণে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না, কারণ বিজ্ঞান কেবল Methodological Naturalism বা প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে চলে।
আপনার করা মূল্যায়নটি পুরোপুরি সঠিক। লেখাটি মূলত "রিলিজিয়াস অ্যাপোলজেটিক্স" (Religious Apologetics) বা ধর্মীয় বিশ্বাসের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের একটি প্রয়াস, যা সাধারণ পাঠকদের কাছে বিজ্ঞান বলে মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির (Scientific Method) কষ্টিপাথরে এটি মূলত দর্শন ও বিশ্বাসের মিশ্রণ।
দেখুন, আমি কিন্তু একথা কোথাও বলি নাই যে বিজ্ঞান স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমান করে বা করেছে, এটা বিজ্ঞানের কাজও না। আবার আজ থেকে মাত্র ১০০ বা ২০০ বছর আগে অনেক কিছুই বিজ্ঞান জানতো না তার মানে তো এটা নয় যে সে বিষয়গুলো আগে ছিল না। বিজ্ঞানের বিভিন্ন থিওরির দুর্বলতা নিয়ে আমার মনে যে সকল প্রশ্নের উদয় হয়েছে মূলত সে সব বিষয় নিয়েই লিখাটিতে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ভাল থাকবেন।
৩|
২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯
নতুন বলেছেন: আমাদের এই দীর্ঘ আলোচনার শেষ কথাটি হলো মানুষের পরম বিনম্রতার স্বীকারোক্তি। মানুষ ভাবে সে তার নিজের যোগ্যতায় প্রকৃতিকে জয় করছে, নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করছে। কিন্তু আসল সত্য হলো মানুষ আসলে অন্ধকার ঘরে হাতড়ে বেড়ানো এক অন্ধ সত্তার মতো। সেই পরম চালিকাশক্তি তাঁর আপন মহিমায় মানুষের সামনে যতটুকু এবং যখন উন্মোচন (Disclose) করেন, পৃথিবীর মানুষ ঠিক ততটুকুই জানতে পারে। তার বেশি জানা মানুষের পক্ষে কোনোদিনই সম্ভব নয়। তিনি যখন যেভাবে প্রকৃতির পর্দার অন্তরাল থেকে আলো ফেলেন, মানুষ কেবল ততটুকুই দেখতে পায় এবং সেটাকেই নিজের 'আবিষ্কার' বলে অহংকার করে। অসীমের সামনে নিজের ক্ষুদ্রতাকে চিনে নেওয়ার এই বোধটুকুই মানুষের শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।
মানুষ যখন স্বীকার করে নেয় যে তার পক্ষে সম্ভবনা। তখন হাল ছেড়ে দেয় এবং কখনোই আর পথ এগুনো সম্ভব হবেনা।
এডমন্ড হেলারীর আগেও অনেকেই এভারেস্ট দেখেছে। তারা চুড়ায় উঠতে সাহস করেই, ফিরে গেছে, যখন তিনি জয়ী হলেন এখন হাজা্র মানুষ চুড়ায় উঠেছে।
বিশ্বের প্রায় ৪০০০ ধর্মই তাদের একজন সৃস্টির্কতা আছে বলে দাবি করে। যাকে কেউ দেখেনি, শোনেনি, দেখবেও না, শুনতেও পাবেনা, কখনো সৃস্টিকর্ত মানুষের সামনে আসবেনা। যেই সৃস্টিকর্তা মানুষের মুখাপেক্ষী না, তার এবাদত না করলে অনন্তকাল আগুনে পোড়াবে। যারা তার কথা শুনবে তারা অনন্তকাল বেহেস্তে থাকবে।
আর যদি আমি আমাদের পৃথিবি, সৌরজগত, গেলাক্সি, মহাবিশ্বের কথা চিন্তা করি, তখন আমার মনে হয় না এই মহাবিশ্বের সৃসটির পেছনে শুধুই মানুষ কি এবাদত করে কিনা, আর পরে কিছু মানুষকে বেহস্তে রাখা বাকিদের আগুনে পোড়ানো এই উদ্দেশ্য হতে পারেনা।
২২ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫১
গেঁয়ো ভূত বলেছেন: আমার আলোচনার বিষয় আপাতত এসব কিছু না।
বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন:"বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ, আর ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান খোঁড়া।"বিজ্ঞান আমাদের বলতে পারে বিগ ব্যাং-এর পর কী কী ঘটেছে এবং শক্তি কীভাবে কাজ করছে । কিন্তু বিগ ব্যাং-এর সেই আদি বিন্দুটি কেন তৈরি হলো বা তার পেছনে মূল চালিকাশক্তি কে বা কী ছিল তার উত্তর বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি।তাই বিজ্ঞানের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে কোটি কোটি মানুষ এবং বহু বিজ্ঞানীও বিশ্বাস করেন, বিগ ব্যাং এর সেই পরম আদি শক্তির উৎসই হলেন স্রষ্টা। অন্য একদল বিজ্ঞানী মনে করেন, এটি প্রকৃতিরই কোনো অজানা এবং পরম নিয়ম, যা আমরা হয়তো ভবিষ্যতে কখনো জানতে পারব।
৪|
২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট এবং মন্তব্য গুলো পড়লাম।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৩৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে অনেক কিছু জানলাম ।