| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বে দেশটায় একটা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে অন্তবর্তী সরকার। বেশ কিছু ক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকার সফলতা লাভ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন। সবার আশা ছিল অন্তত একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন হয়ত করতে সক্ষম হবেন ডক্টর ইউনুস। কিন্তু নির্বাচনের আগেই অন্তবর্তী সরকারের দূ্র্বলতা প্রকট হয়ে ধরা পড়ে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোণ ঋনখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারে না। কিন্তু তারপরেও মোট ৪৫ জন ঋণখেলাপি ও ২১ জন দ্বৈত নাগরিক এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে !! এর দায় অবস্যই অন্তবর্তী সরকারকে নিতে হবে। ইসি সরকারের কথা শুনে না জাতীয় প্রলাপ উপদেষ্টাদের কাছ থেকে একেবারেই প্রত্যাশিত নয়। কথা না শুনলে আপনারা দ্বায়িত্ব ছেড়ে দেন না কেন? একটা উপদেষ্টাকেও দায় নিয়ে এ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে আমরা দেখিনি।
নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী খুবই ভাল ভুমিকা রেখেছে। কোন প্রকার সহিংষতা ছাড়াই এবার নির্বাচন সপন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল আসা শুরু হতেই বেশ কিছু অনিয়ম সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে । ভোট কেন্দ্রে মির্জা আব্বাসের স্ত্রীকে ভোট গননার রুমে দেখা গেছে এক ভিডিওতে । সেই সাথে কিছু কেন্দ্রের গননার শীটে ব্যপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। এগুলোর দায় সম্পুর্নভাবে সরকারের। ভোট গননার ভার এই দেশের গলে পচে যাওয়া নষ্ট প্রসাষনের হাতে ছেড়ে না দিয়ে সেনাবাহিনীর উপড় ন্যস্ত করা উচিত ছিল।
নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম দল বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যটাস দিচ্ছে যে , স্বাধীনতাবিরোধিদের পরাজয় ঘটেছে। বাস্তবতা হচ্ছে ১৯৭১এ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া তৎকালীন জামাত ইসলামির নেতা মীর কাশেম, দেলোয়ার হোসেন সাইদি , সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি, নিজামির সন্তানেরা সবাই এবারের নির্বাচনে পাশ করেছে। পাশ করেনি ১৯৭১ এর সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা না থাকা জামাতের হাইলি কোয়ালিফায়েড যোগ্য প্রার্থীরা। ইতিহাসের দায়ভার থাকা স্বাধীনতাবিরোধিদের সন্তানেরা জয়লাভ না করতে দেখলেই খুশী হতাম। সেই সাথে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা আমির হামজা টাইপ ভন্ড হুজুরদের নির্বাচিত হওয়াটাও সুখকর বিষয় নয় একেবারেই।
বিএনপি থেকে মনোয়ন পাওয়া ঋনখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত , দ্বৈত নাগরিকদের বেশিরভাগই নির্বাচিত হয়েছে। তবে গুম হওয়া ইলিয়াস আলীর স্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় খুব ভাল লেগেছে।বিএনপি থেকে মনোয়ন পাওয়া মায়ের ডাক সংগঠনের তুলি নির্বাচিত হোক খুব করে চেয়েছিলাম। সংসদে তুলির যাওয়াটা খুবই প্রয়োজন ছিল। বিএনপি জোট থেকে নুর , জোনায়েদ সাকি নির্বাচিত হয়েছে। । নুর যদিও পল্টিবাজ, তারপরেও ফ্যসিস্ট আমলে সেই প্রথম কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেছিল।আর গনতন্ত্র মঞ্চের জোনায়েদ সাকির ফ্যসিস্টবিরোধি লড়াইয়ের ইতিহাসতো অনেক দীর্ঘ।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে চমক সৃষ্টি করেছে নতুন দল এনসিপি। জুলাই গনঅভ্যূথানে নেতৃত্ব দান করা সম্মুখ সারীর নাহিদ , হাসনাত, হান্নান নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিত হয়েছে দীর্ঘদিন ক্যম্পাসভিত্তিক আন্দোলন করা বিপ্লবী আখতার, আতিক মুজাহিদ ও আল আমিন। ঢাকা ৮ আসনে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে কারচুপির মাধ্যমে জোড়পুর্বক হারানোর বিষয়টা খুবই পরিষ্কার। নির্বাচনের দিন সকালেই নাসির ফেসবুকে জানায় যে অনেক কেন্দ্রেই তার পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না । কয়েকটা কেন্দ্রে তার সমর্থকেরা হামলার শিকার হয়। আর মির্জা আব্ববাসের স্ত্রীর ভোট গননার রুমে খবরদারির দৃষ্য ছড়িয়ে পড়ার পরেতো আর কিছুই বলার অপেক্ষা রাখে না। সারজিস আলমও পুনরায় ভোট গননার দাবী তুলেছে কারন এনসিপির সব প্রার্থীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েও সারজিসের হেরে যাবার বিষয়টা প্রশ্ন তৈরী করেছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ লাগেছে তাসনিম জারার হেরে যাওয়া দেখে। এই মেয়েটা সংসদে যাবার জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী ছিল। দায় কিছুটা এনসিপিকে নিতে হবে। তাসনিম জারার আসনে তাদের প্রার্থী দেয়া উচিত হয়নি। তাসনিম ও শাপলা কলির জাভেদ রাসিনের মাঝে ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় দুইজনেই হেরেছে।
নির্বাচনে এবার সবচেয়ে ভাল খবর হচ্ছে , গনভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে হ্যা জয়ী হয়েছে। যদিও মির্জা ফখরুল গতকাল বলেছেন যে, তারা যে সব প্রস্তাবে রাজী হয়েছিল শুধু সেসবই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে!!! মির্যা সাহেব বিএনপির মনের কথা প্রকাশ করে ফেললেও এই ইস্যূ্তে তাদের সংসদে লড়তে হবে শক্তিশালী বিরোধি দলের সাথে। এছাড়া সংসদের বাইরে দাড়িয়ে আছে আবু সাইদ, মুগ্ধ , ইয়ামিন, হাদির বিপ্লবী সহযোদ্ধারা। জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে জিতে আসা হ্যা ভো্ট প্রত্যাখান করলে বিএনপিকে পুর্বের ফ্যসিস্টের পরিনাম ভোগ করতে হবে।
অটঃ ব্লগার মনিরা শারমিন আপুর স্বামী কি নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন? উনার বিজয় প্রত্যাশা করি।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬
ঢাবিয়ান বলেছেন: একমত । ভোট গননার দ্বায়িত্বও সেনাবাহিনীর উপড় দেয়া উচিত ছিল।
২|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫
ভুয়া মফিজ বলেছেন: নির্বাচনে বিজয় অর্জনের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দন। আশাকরি তাদের চোর আর ধান্দাবাজ এমপিরা স্বভাব পরিবর্তন করে দেশ গড়ার কাজে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, নয়তো সামনে তাদের জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে ভালো ফলাফলের জন্য জামায়াতকেও অভিনন্দন। একটা সুষ্ঠ আর সুন্দর গনতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী আর রক্ষা করার জন্য একটা শক্তিশালী বিরোধীদল খুবই দরকার। আশাকরি জামায়াত সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
জুলাই বিপ্লবের তরুণ বিপ্লবীদের নিয়ে গড়া একটা নতুন দলের জন্য আজকের অর্জন অভূতপূর্ব। ৩০টা আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ৬টাতে জয়লাভ করা আর কয়েকটাতে জয়লাভের কাছাকাছি যাওয়া প্রমাণ করে যে দেশের নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতিতে তাদের বিরাট গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। এটাকে সমুন্নত রাখার চ্যালেন্জটাতে তাদের অবশ্যই উৎরাতে হবে, নয়তো তাদের হারিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাদের জন্য রইলো প্রাণঢালা অভিনন্দন আর শুভকামনা।
নির্বাচিত সবার উপরই এখন জনগনের প্রখর দৃষ্টি থাকবে। প্রতিনিয়ত তাদের কাজের মুল্যায়ন হবে। ইতরামী করে পার পাওয়া এখনকার বাংলাদেশে খুবই দুঃসাধ্য একটা ব্যাপার। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে আহত-নিহত বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরিবর্তনের যে সূচনা হয়েছে, তাকে দমিয়ে রাখা এখন কোন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য সুখকর বিষয় হবে না।
জয় বাংলা!!!! ![]()
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭
ঢাবিয়ান বলেছেন: এখন পর্যন্ত বিএনপিকে প্রসংসা করা যায় এমন কিছু করতে দেখা যায়নি। বেগম জিয়া বেঁচে থাকলে কিছু প্রত্যশা করা যেত। কিন্তু হাওয়া ভবনের কারিগরের কাছ থেকে ভাল কিছু প্রত্যাশা একেবারেই করা যায় না। প্রত্যাশা কেবল সংসদে উচ্চকক্ষ ও নিম্ন কক্ষে যাওয়া জুলাই বিপ্লবীদের কঠোর অবস্থান , জুলাই সনদ এবং তরুনপ্রজন্মের হাজার হাজার বিপ্লবীদের অবদমিত দেশপ্রেম ।
৩|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৭
বাকপ্রবাস বলেছেন: এমন নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেয়ে লীগ দানবে পরিণত হয়েছিল, এবার বিএনপি পেল, তবে হাসিনার মতো দানব হওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯
ঢাবিয়ান বলেছেন: গনভোটে জুলাই সনদ জিতে যাবার অর্থই হচ্ছে কারো দানব হবার প্রক্রিয়াকে ঠেকিয়ে দেয়া।
৪|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫১
রাসেল বলেছেন: চোর বাটপারেরা তাদের স্বভাব পরিবর্তন করবে, তার কোনো কারণ বাংলাদেশে ঘটে নাই
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩
ঢাবিয়ান বলেছেন: আপনার সাথে দ্বিমত করার উপায় নাই। ডক্টর ইউনুস চোর ডাকাতদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাবেন বলে ভেবেছিলাম , কিন্তু সেই আশা পুরন হয় নাই।
৫|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০
আমি নই বলেছেন: লেখক বলেছেন: গনভোটে জুলাই সনদ জিতে যাবার অর্থই হচ্ছে কারো দানব হবার প্রক্রিয়াকে ঠেকিয়ে দেয়া।
সত্যিই কি সম্ভব? কোথায় যেন দেখলাম বিএনপি যেগুলোর সাথে একমত শুধু সেগুলোই বাস্তবায়ন করবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮
ঢাবিয়ান বলেছেন: বিএনপি যদি গনভোটকে প্রত্যাখ্যান করে তবে তার ফলাফল ভাল হবে না। এবারের সংসদ আওয়ামিলীগ ও তাদের গৃহপালিত জাতীয় পার্টির সংসদ নয় যে যা ইচ্ছা তাই করা যাবে।
৬|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৪
কালো যাদুকর বলেছেন: নির্বাচন নিয়ে সুন্দরএবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়লাম।
শেষ কথা হচ্ছে, হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন না হলে আবার মানুষ পথে নামবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৯
ঢাবিয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য। একমত আপনার সাথে
৭|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৬
কাঁউটাল বলেছেন: পশ্চিমা এলজিবিটিদের "প্রজেক্ট মালালা ইউসুফজাই" অথবা "প্রজেক্ট বেগুন রোকেয়া" সমমানের নতুন প্রকল্প "প্রজেক্ট তাসনিম জারা" বাংলাদেশে ওপেন সোসাইটির লং টার্ম ইমপ্লান্ট, জাতি তার হাতে ফুটবল ধরায় দেওয়ায় আপাতত বাঁচা গেছে। তবে এই "প্রজেক্ট তাসনিম জারা" যাতে আধিপত্য বিস্তার না করতে পারে, সেজন্য দেশপ্রেমিক জনতাকে সতর্ক থাকতে হবে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫২
ঢাবিয়ান বলেছেন: এই কথাগুলো আমার প্রপাগান্ডা বলে মনে হয়। জারার এনসিপি ছাড়া উচিত হয় নাই। আসলে সেই সময়ে দলের মাঝে প্রচন্ড ভুল বোঝাবোঝি এবং বাইরে থেকে ষঢ়যন্ত্রকারীদের দলের মাঝে ফাটল ধরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছিল। জারা এনসিপি থেকে দাড়ালে জিতে আসত , এতে কোন সন্দেহ নাই।
৮|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫
কিরকুট বলেছেন: আশা করবো বিজিত দল গনধিকৃত বিদায়ী সরকারের সকল ভুল ও বিজয়ী দলের পূর্বের ভুল গুল বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।
রাষ্ট্র জগনের বিষয়টা মাথায় থাকবে ।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬
ঢাবিয়ান বলেছেন: একটা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক স্থিতিশীল রাস্ট্র জনগনের মৌ্লিক অধিকার। এই অধিকার অর্জিত না হওয়া অবধি লড়াই চলতেই থাকবে , এতে কোন সন্দেহ নাই।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
সেনাবাহিনীর সদস্যরা খুবই ভালো ভূমিকা রেখেছেন। এজন্যে, তাঁদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।