নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোমার চোখের তারায় আমার হাজার মৃত্যু!

অতন্দ্র সাখাওয়াত

তন্দ্রাকুমারী একটি কাল্পনিক চরিত্র যার সন্ধানে আছি নিশিদিন!!

অতন্দ্র সাখাওয়াত › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি মৌমাছি ও একজন পুরুষ মানুষ (পর্ব-৭)

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:২০

আজ আমি অনেক খুশি। আজ ফব্লিও নক্ষত্রের দিকে আমার যাত্রা শুরু হবে। ঠিক কেমন অনুভূতি হচ্ছে তা বোঝাতে পারছি না। কারণ বর্তমানের অনুভবের নদীতে সাঁতার কাটার চেয়ে অতীতের নস্টালজিয়ায় হাবুডুবু খেতে অনেক বেশি ভাল লাগছে। আজ আমি অনন্ত স্মৃতির চৌহদ্দিতে প্রবেশ করছি। চারপাশের সবকিছুর প্রতি বড় বেশি মায়া কাজ করছে।

আজ রাতে আমাকে পাড়ি জমাতে হবে টোমেগা গ্রহে। আমি আমার শেষ লেখাগুলো লিখে যাচ্ছি আমার অনাগত সন্তানের প্রতি। যদিও আমাকে অতীতের দিকে চিন্তাকে প্রসারিত করতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে এবং বর্তমানকে মনে প্রাণে গ্রহণ করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমার জীবনের গল্পে যেসব ক্লাইমেক্স আছে সেগুলোকে সার্বজনীন জীবন বোধ দিয়ে বিশ্লেষণ করতে শেখানো হয়েছে।

আমি জানি চিন্তার পুণ্য এবং নৈতিকতার চূড়ায় আরোহণের স্পন্দন। ভিন গ্রহ থেকে আগত মৌমাছিটির প্রতিনিয়ত দংশনের কল্যাণে আমি মোহমুক্তির পথে এগুচ্ছিলাম ধীরে ধীরে। এই পথে কত শত বাঁধা আমাকে অতিক্রম করতে হয়েছে সেসব ভাবতেই রক্তের স্রোতের মধ্যে ১০০০ ভোল্টের কারেন্ট ছুটে যাচ্ছে।

আমি জানি, খুব শীঘ্রই এই প্রক্রিয়াটি শেষ হয়ে যাবে। আমার সারা শরীরে ঊনচল্লিশটি হুল ফোটিানো হয়েছে। আর মাত্র একটি হুল ফোটালেই আমি ইমোশনাল মানুষ থেকে পুরোপুরি লজিক্যাল মানুষ হয়ে যাব। লজিক বলে, পুরুষ তার পথ চলবে লজিক দিয়ে। আর নারী পথ চলবে তার ইমোশন দিয়ে। যদিও আমাকে হুল ফোটানো মৌমাছিটি এক নারী মৌমাছি- যে চাইছে আমার ইমোশনের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিতে। তাই লজিক্যাল মানুষের জন্য আমার এই ইমোশন হারানোর প্রক্রিয়াটিকে এন্টি ক্লাইমেক্স মনে হতে পারে।

মৌমাছিটিকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘকাল প্রতীক্ষা করতে হয়েছে। সে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর আমাকে কামড় দিতো। এভাবেই সে তার চক্র পূর্ণ করে আসছে। অপর দিকে পিঁপড়াটি ছিল মৌমাছিচটির চিরশত্রু। সে চায় নি আমার মধ্যে প্রকৃত মানবীয় চেতনার বিকাশ ঘটুক। টোমেগার নীতি নির্ধারকেরা কি উদ্দেশ্যে পিঁপড়াটিকে পাঠালো সেটা এখনো আমার জন্য বিস্ময় হয়ে আছে।

জীবনের এই কালবেলায় একটি বিষয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, আমার স্ত্রী আমার প্রতি খুবই সন্তুষ্ট- যদিও আমি তার অনেক ইচ্ছাই অপূর্ণ রেখেছি। আমি চলে যাবার পর সে আমাকে কত বেশি পরিমাণে স্মরণ করবে, তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। তবে লজিক বলে, আমার বিরহে সে বিলীন হয়ে রইবে না। আমি ছাড়াও কিছু কিছু দিন তার সুন্দর কাটবে। আমার আদর্শের বাইরে গিয়ে সে জীবন যাপন করবে না, তাও তার আচরণে সুস্পষ্ট । যেহেতু মৌমাছিটির প্রতিটি হুল ফোটানোর পর সে আমাকে পেত নতুন করে, তাই নতুনের প্রতি তার তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে। এটা তার জন্য কল্যাণকর হবে।

হ্যাঁ, আমার বাড়িওয়ালার মেয়ে নূপুরকেই আমি বিয়ে করেছিলাম। বিরাট বিধিই আমাকে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করিয়েছিল। ওর সাথে আমার বিয়ে হয় ১২/১২/২০১২ তারিখে।

নূপুর হলো বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার পরাজিত নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বংশধর। ওর মধ্যে আমি পেয়েছি প্রাচীনকালের রাজকুমারীদের সব বৈশিষ্ট্য। সে প্রকৃত প্রস্তাবেই আবহমান বাংলার অঘোষিত রাজকুমারী। যদিও তার বাবা হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিনির আড়তের মালিক, কিন্তু তার আচার আচরণ অত্যন্ত মার্জিত এবং দেহ সৌষ্ঠব একজন বিশ্বজয়ী রাজার মতোই।

দ্রষ্টব্যঃ সময় সংকুলান না হওয়ায় পর্বগুলো তুলনামূলক ছোট হয়ে যাচ্ছে। পাঠক, আমার এ অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!


মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:১৫

নেওয়াজ আলি বলেছেন: পর্ব ছোট হওয়ায় আমি মোবাইলে পড়তে আরাম পাচ্ছি।

১৮ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২১

অতন্দ্র সাখাওয়াত বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল লাগলো, গল্পের সাথে এখনো যুক্ত আছেন এই ভেবে।

২| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: কোনো ভনিতা না করেই বলি।
এই ধারাবাহিকটি আপনার ভালো হয়েছে। সহজ ভাষায় খুব সুন্দর লিখেছেন।

১৮ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২১

অতন্দ্র সাখাওয়াত বলেছেন: আরো লিখতে চাই। এতে মন ভাল থাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.