| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।

ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল, "জানিস সাঈদ, কিছু কেস সলভ হওয়ার পরেও মাথায় গেঁথে থাকে। জাহিদের এই কেসটা আমাকে মাসের পর মাস ঘুমাতে দেয়নি।"
আরিয়ান বলতে থাকল, "নরসিংদীর সেই বৃদ্ধ বাবার মুখটা যখনই দেখতাম, বুকটা ধক করে উঠত। তার মেয়ে নীলা নিখোঁজ। জাহিদ ইন্ডিয়াতে রোড এক্সিডেন্টের গল্প শুনিয়ে সবাইকে বোকা বানাচ্ছিল। কিন্তু আমার খটকা লাগল জাহিদের শীতল আচরণ দেখে। বউ মারা গেছে, অথচ তার চোখে এক ফোঁটা জল নেই, বরং একটা অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। অপরাধ করার সময় জাহিদ ছিল একদম নিখুঁত, যেন কোনো পেশাদার স্ক্রিপ্ট রাইটার তার প্রতিটি পদক্ষেপ লিখে দিয়েছে।"
"জাহিদ জানত, নীলার পরকীয়া আর একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ তার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে। তাই সে প্ল্যান করল 'পারফেক্ট ক্রাইম'। শরীয়তপুরের সেই হোটেলে সে নীলার ভরসা জিতল, যেন সে সত্যিই ইন্ডিয়া যাচ্ছে। কিন্তু তার আসল শিকারী রূপটা বেরিয়ে এল কুয়াকাটার ৩০৪ নম্বর রুমে। জাহিদ পরে স্বীকার করেছিল, সে কোনো তাড়াহুড়ো করেনি। মামুনকে পাশে নিয়ে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে নীলা ঘুমানোর জন্য। নীলার গভীর ঘুমের সুযোগে সে ওড়নাটা পেঁচিয়েছিল। জাহিদ যখন নীলার নিথর দেহটা বক্স খাটের ভেতরে ঢুকাচ্ছিল, তার হাত একবারও কাঁপেনি। তার বিশ্বাস ছিল—লাশ না থাকলে কোনো আইন তাকে ছুঁতে পারবে না।"
"সবচেয়ে শকিং পার্ট ছিল এরপর। দুই দিন পর হোটেলের ক্লিনার রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সেই বক্স খাটের ভেতর লাশটা পায়। হোটেলের মালিক আর ম্যানেজার ভয় পেয়ে গেল। তারা ভাবল পুলিশ জানলে হোটেলের বিজনেস লাটে উঠবে। তাই তারা আইনি পথে না গিয়ে নিজেরাই বড় অপরাধী হয়ে গেল। মাঝরাতে মোটরসাইকেলে করে নীলার দেহটা চাদরে মুড়িয়ে নিয়ে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ভাসিয়ে দিল। কোনো সুরতহাল নেই, ময়নাতদন্ত নেই। সমুদ্র সব গিলে ফেলল।"
"ইন্টারোগেশন রুমে জাহিদ শুরুতে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল। জাস্ট একটা স্মাইল। কিন্তু আমি যখন তার সামনে শরীয়তপুর আর কুয়াকাটার সেই একই টাইমের লোকেশন ম্যাপটা টেবিলের ওপর আছাড় দিয়ে ফেললাম, তার হাসিটা উধাও হয়ে গেল। রুমের এসিটা তখনো ১৬-তে, কিন্তু জাহিদের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করল। সে কয়েক মিনিট পাথরের মতো চুপ করে রইল। আমি শুধু ওর কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললাম, 'জাহিদ, সমুদ্র সব হজম করে না, কিছু জিনিস তীরে ফিরিয়ে দেয়।' হঠাৎ করেই সে চিৎকার করে উঠল, 'আমি করতে চাইনি স্যার, ও আমাকে বাধ্য করেছে!' ব্যস, তার ধুরন্ধর মুখোশটা এক নিমেষে খসে পড়ল।"
আরিয়ান জানালার বাইরে জমাট বাঁধা অন্ধকারের দিকে তাকাল। "জাহিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে, হোটেল মালিকদেরও জেল হয়েছে। কিন্তু আজও মাঝরাতে আমি হঠাৎ জেগে উঠি। মনে হয় নীলার সেই দীর্ঘশ্বাসটা কুয়াকাটার ঢেউ হয়ে কানে বাজছে। তবে একটা জিনিস আমি বিশ্বাস করি সাঈদ..."
আরিয়ান কফির শেষ চুমুক দিয়ে উঠে দাঁড়াল। ক্যাফে থেকে বেরোনোর আগে সে ঘুরে তাকিয়ে বলল, "মানুষ মিথ্যা বলতে পারে, অপরাধী চিহ্ন মুছে ফেলতে পারে... কিন্তু আমি জানি, সমুদ্র কখনো সবকিছু চিরতরে গোপন রাখে না। সে বিচার ফিরিয়ে দেয়।"
২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: “সমুদ্র অনেককিছু ফিরিয়েও দেয়।”
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ
২|
২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২০
রাজীব নুর বলেছেন: সমুদ্র আসলে মানুষের পাপ ধুয়ে মুছে দেয়।
২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১২
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: “সমুদ্র তার অতল গভীরতার মাঝে আমাদের অনেক কিছুই লুকিয়ে রাখে, আবার তার নিজের খেয়ালে একসময় লুকোনো জিনিষ প্রকাশ করে দেয়।”
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ
৩|
২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পরকীয়া প্রেম আমাদের ক্ষমা করেনা
আরও অপরাধ করে সমাজকে জানান দেয়
এসব থামাও, সৎ পথে আসো !!!
২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৬
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: “যেটা স্বাভাবিক, যা সমাজ এবং আইনস্বীকৃত, তার বাইরে গেলেই সমস্যা সৃষ্টি হয়, বিপদ ঘটে। ইদানিং এই পরকীয়া প্রেম বিষয়টি বেশি পরিমানে আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে।”
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭
অপলক বলেছেন: সমূদ্র পদচিহ্ন মুছে দেয়... সময় স্মৃতি মুছে দেয়...