| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মি. মিল্টন সম্প্রতি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মিরপুরের বিভিন্ন ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী হকারদের উচ্ছেদ করে এলাকা দখলমুক্ত করেছেন। এই অভিযান চালাতে গিয়ে তাঁকে চরম বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। হকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে, সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। কিন্তু মিল্টন সাহেব কোনো রক্তচক্ষু বা বাধার পরোয়া না করে সাহসের সাথে এগিয়ে গেছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জনকল্যাণকর কাজের জন্য প্রশংসা তো দূরের কথা, উল্টো জামায়াতের স্থানীয় এমপিরা এবং দায়িত্বশীল নেতারা মি. মিল্টনের তীব্র সমালোচনা করছেন, তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এমনকি জামায়াতের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, তাঁদের এলাকায় অভিযান চালাতে হলে আগে পারমিশন নিতে হবে! সরকারি ও প্রশাসনিক কাজের জন্য পারমিশন নিতে হবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে? বিষয়টাই কি অদ্ভুত আর নজিরবিহীন নয়?
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরপরই হঠাৎ করে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা স্ট্রাইক ডেকে বসলো, যার প্রভাবে সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেল। তাঁদের মূল দাবি—সব প্রধান রাস্তায় অটোরিকশা অবাধে চালাতে দিতে হবে। কিন্তু এই হঠাৎ স্ট্রাইকের পেছনে আসল ফ্যাক্টর কী? সম্প্রতি একটি খবরে প্রকাশ পায়, জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের একারই মালিকানায় নাকি প্রায় ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে! যদি কেবল একজন নেতারই এত বিপুলসংখ্যক রিকশা থাকে, তবে পুরো দল বা তাদের সহযোগী নেতাদের অধীনে ঢাকার রাস্তায় কত হাজার অটোরিকশা চলে—তা সত্যিই এক বড় চিন্তার বিষয়।
এখন প্রশ্ন ওঠে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের পেছনের মূল রাজনীতিটা কী?
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত নির্বাচনের আগে ঢাকা-১৫ আসন (যেখানে বর্তমানে জামায়াত আমির সংসদ সদস্য), সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ ভোটার স্থানান্তর করে এনে বসানো হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের ভোটব্যাংক ভারী করা। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশই মিরপুর ও তার আশপাশের এলাকায় বসবাস করে। এদের একটা অংশ রাস্তা দখল করে হকারি করে, আর অন্য অংশটি জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন এসব অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।
মূলত এই বিশাল ভাসমান জনগোষ্ঠীকে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রয়োজনমতো এদেরকে মাঠে নামিয়ে দ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, হুট করে মব (Mob) তৈরি করা এবং রাজপথে সহিংসতা ছড়ানো তাদের মূল কৌশল। আবার কোনো কারণে পরিস্থিতি খারাপ হলে এদেরকে অনায়াসে কোরবানিও করে দেওয়া যায়—যাতে মূল দল বা তাদের ছাত্র সংগঠনের গায়ে কোনো বদনাম না আসে।
তাই মি. মিল্টন যখন হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাত মুক্ত করছেন বা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছেন, তখন মূলত আঘাত লাগছে জামায়াতের সেই সুসংগঠিত ক্যাডার নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক উৎসের ওপর। ফুটপাত দখল ও অবৈধ রিকশা বাণিজ্যের এই বিশাল চাঁদাবাজি এবং তাদের রাজনৈতিক প্রক্সি-বাহিনীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই আজ এত হুলস্থুল ও ধর্মঘটের নাটক সাজানো হচ্ছে!
১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার সাথে সহমত। যেহেতু আমি একজন বাইকার তাই ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে রাস্তার প্রধান সমস্যা অটোরিক্সা। এটা দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন।
২|
১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: হকারের্ ঠ্যালায় ফূটপাত দিয়ে হাঁটা যায়না। অটোর ঠ্যালায় রাস্তা দিয়ে চলা যায়না। যেকোন মূল্যে এদর বন্ধ করা উচিৎ। নেপথ্যে রাজনীতি থাকতেই পারে।
১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার সাথে সহমত। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৩|
১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অটোরিকশা চালিয়ে যে ইনকাম হয় তার সমপরিমান আয় করা যায় এমন খাত তৈরি না হলে বন্ধ করতে পারবেন না । এই অটোরিকশার কারনে মধ্যরাতেও বিদ্যুতের চাহিদা কমছে না । শুধু মাত্র সঠিক কর্মসংস্থানের অভাবে আজকে সোনার দামে উৎপাদিত বিদ্যুত এসব আনপ্রোডাক্টিভ খাতে চলে যায় । পাশাপাশি হকারদের কে কারখানা তৈরি করে সেখানে কাজ দিতে হবে । না হলে এই সমস্যা সমাধান নেই । এসব উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা জন্মের পর থেকে দেখে আসছি। জামায়াতের গোলাম পরওয়ারের ৬০০ রিকশা । কি পরিমাণ ইনভেস্ট ভাবেন এবার । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬
দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: হকার উচ্ছেদ ও অটো বন্ধ করা অতিজরুরী কাজের মধ্যে ১ নম্বর হওয়া উচিৎ সাময়িক অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো হবে।