নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“Those who have the privilege to know have the duty to act.”― Albert Einstein

মোস্তফা কামাল পলাশ

"সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে"

মোস্তফা কামাল পলাশ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছায়া মন্ত্রী (Shadow Minister) কি ও কেন প্রয়োজন সংসদীয় গনতন্তান্ত্রিক দেশে?

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৩৯



আপনারা যারা “ছায়া মন্ত্রী” (Shadow Minister) ধারণার সঙ্গে পরিচিত নন, তাদের জন্য সংক্ষেপে বলি—উন্নত বিশ্বের বহু দেশে, বিশেষ করে যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র (Parliamentary Democracy) বিদ্যমান, সেখানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে “ছায়া মন্ত্রী” থাকেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের একজন অর্থমন্ত্রী থাকবেন—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একই সঙ্গে সংসদের বিরোধী দল (ধরা যাক জামাত-এনসিপি জোট) তাদের পক্ষ থেকেও একজন “ছায়া অর্থমন্ত্রী” মনোনীত করতে পারে। যদি ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আগামী সংসদে এই ব্যবস্থাটি কার্যকর হতে পারে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে—ছায়া মন্ত্রীর কাজ কী?

সরকার যখন কোনো অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে, তখন বিরোধী দলের ছায়া অর্থমন্ত্রী সেই নীতির ভালো-মন্দ দিক বিশ্লেষণ করবেন, সম্ভাব্য ত্রুটি বা ঝুঁকি চিহ্নিত করবেন এবং বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। এর ফলে সংসদীয় বিতর্ক আরও তথ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী হয়। জনগণও জানতে পারে—সরকারি নীতির কোন দিকগুলো কার্যকর, আর কোন জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে।
অনেক সময় দেখা যায়, বিরোধী দলের গঠনমূলক পরামর্শ সরকার গ্রহণ করে সংশোধিত প্রস্তাব আনে। পরে উভয় পক্ষের সমর্থনে তা আইন হিসেবে পাস হয়। এই প্রক্রিয়াটি গণতন্ত্রকে আরও পরিণত ও জবাবদিহিমূলক করে তোলে।

সংক্ষেপে, “ছায়া মন্ত্রী” ব্যবস্থা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়—বরং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি।

আপনারা যারা “ছায়া মন্ত্রী” (Shadow Minister) ধারণার সঙ্গে পরিচিত নন, তাদের জন্য একটু বিস্তারিতভাবে বলি। সংসদীয় গণতন্ত্রে (Parliamentary Democracy) যেখানে সরকার সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ, সেখানে বিরোধী দলকে শুধু সমালোচক হিসেবে নয়, বরং বিকল্প সরকার হিসেবে প্রস্তুত রাখার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে। এই কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো “ছায়া মন্ত্রিসভা” (Shadow Cabinet)।

যুক্তরাজ্যের উদাহরণ
=================
যুক্তরাজ্যে এই ব্যবস্থাটি সবচেয়ে সুসংগঠিত। সেখানে বিরোধী দল “Her Majesty’s Loyal Opposition” নামে পরিচিত। সরকারে যেমন অর্থমন্ত্রী (Chancellor of the Exchequer), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন—তেমনি বিরোধী দলেরও একজন করে ছায়া অর্থমন্ত্রী, ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন।
সরকার কোনো বাজেট বা অর্থনৈতিক নীতি উপস্থাপন করলে ছায়া অর্থমন্ত্রী তা বিশ্লেষণ করে সংসদে বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। অনেক সময় সরকারকে সংশোধনী আনতে হয় বিরোধী দলের যুক্তির ভিত্তিতে। ফলে নীতিনির্ধারণ হয় আরও পরিশীলিত ও জবাবদিহিমূলক।

কানাডার উদাহরণ
=================
কানাডাতেও একই ব্যবস্থা রয়েছে। ফেডারেল সংসদে বিরোধী দল তাদের নিজস্ব ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। ধরুন, সরকার কোনো পরিবেশনীতি বা বাজেট উপস্থাপন করল—বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট খাত নিয়ে গবেষণা করে বিস্তারিত সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব দেন। এতে সংসদীয় বিতর্কের মান বাড়ে এবং জনগণ বুঝতে পারে সরকারের নীতির শক্তি ও দুর্বলতা কোথায়।

ছায়া মন্ত্রীর প্রকৃত কাজ কী?
=================
----< ছায়া মন্ত্রী মানে শুধু বিরোধিতা করা নয়। বরং:
----< সরকারের নীতির বিশ্লেষণ করা
-----< ত্রুটি বা ঝুঁকি চিহ্নিত করা
-----< বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দেওয়া
-----< সংসদে তথ্যভিত্তিক বিতর্ক নিশ্চিত করা
-----< ভবিষ্যতে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া
-----< এটি গণতন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ “চেক অ্যান্ড ব্যালান্স” ব্যবস্থা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
===============
যদি আগামী সংসদে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রী ব্যবস্থা কার্যকর করে, তাহলে তা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও পরিণত করবে। উদাহরণস্বরূপ, সরকার কোনো অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করলে বিরোধী দলের ছায়া অর্থমন্ত্রী সেই নীতির শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করবেন। তার প্রস্তাবিত সংশোধনী যুক্তিযুক্ত হলে সরকার তা গ্রহণ করতে পারে। এতে নীতি হবে আরও কার্যকর এবং জনগণ উপকৃত হবে।
সংক্ষেপে, ছায়া মন্ত্রিসভা মানে “বিরোধিতার রাজনীতি” নয়—বরং “বিকল্প নীতির রাজনীতি”। এটি পরিণত গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য অংশ, যা যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য সংসদীয় রাষ্ট্রে সফলভাবে চর্চিত।

================================
জামাত ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট যদি প্রস্তাবিত ছায়া মন্ত্রীসভার এই কাজটি করতে পারে তবে তা হবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনিতীতে জবাবদিহীতা আনার পথে অন্যতম ভালো একটি উদ্দোগ।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২৪

নিমো বলেছেন: জনাব শিশির মনির যদি উচ্চ কক্ষে আসীন হন, তবে উনার ছায়া মন্ত্রী হবার সুযোগ থাকবে কী?

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩০

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন:
না, সেই ক্ষেত্রে উনি ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারবেন না। ছায়া মন্ত্রীসভার সদস্য হতে পারবে শুধু নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

২| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ধন্যবাদ, পলাশ ভাই।

আসিফ মাহমুদ ইতিমধ্যে আমাদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়েছেন আধা ঘণ্টা আগে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.