নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বপ্ন দেখিয়ে রাজপথে, প্রতিশ্রুতি শেষে কোথায় সেই বাংলাদেশ?

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

স্বপ্ন দেখিয়ে রাজপথে, প্রতিশ্রুতি শেষে কোথায় সেই বাংলাদেশ?
----------------------------------------------------------------
গতকাল আমেরিকার নিউ ইয়র্ক এর ওজন পার্কে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাকিব নামের এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় ও প্রায় দুই ঘণ্টা কথা হলো। তাঁর কথাগুলো কেবল একজন তরুণের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; বরং জুলাই আন্দোলন, তার পেছনের প্রেরণা, অর্থ, প্রতিশ্রুতি এবং আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে কিছু কঠিন প্রশ্ন সামনে আনে।

রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তাঁর নিজের দাবি, কয়েক দফায় তিনি মোট প্রায় ৮৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। আরও বড় বিষয় ছিল ভবিষ্যৎ সুবিধার প্রতিশ্রুতি কাউকে চাকরি, কাউকে ব্যবসার সুযোগ, কাউকে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর?
রাকিবের দাবি, যারা তাদের এসব স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর উপলব্ধি “আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। আসলে সারা দেশের মানুষই প্রতারণার শিকার হয়েছে।”

আমি তাঁকে আরও একটি প্রশ্ন করেছিলাম।
“আন্দোলনে এতগুলো নিরপরাধ ছাত্র ও পুলিশ সদস্য মারা গেলেন। এত প্রাণহানির বিনিময়ে দেশের কী উপকার হলো?”
তাঁর উত্তর ছিল মাত্র কয়েকটি শব্দ,
“আমাদের ভুল হয়েছে।”
এই স্বীকারোক্তি হয়তো একজন তরুণের ব্যক্তিগত উপলব্ধি। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আরও বড় একটি জাতীয় প্রশ্ন।

২০২৪ সালের আন্দোলনে বিপুল প্রাণহানি ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়েছে; জাতিসংঘের অনুসন্ধানও স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
তাহলে প্রশ্ন উঠবেই যে পরিবর্তনের জন্য এত প্রাণ গেল, সেই পরিবর্তনের সুফল কোথায়?

সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র কি বদলেছে?
ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কতটা পরিবর্তন হয়েছে?
রাজপথের উত্তাপ শেষ হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক অস্থিরতা কি শেষ হয়েছে?
অবশ্যই, একজন তরুণের বক্তব্য দিয়ে পুরো আন্দোলনের চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। অনেক মানুষ নিজেদের বিশ্বাস, অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ দেওয়া, ব্যক্তিগত সুবিধার প্রতিশ্রুতি কিংবা আন্দোলনকে সংগঠিত করার পেছনে অর্থের উৎস নিয়ে যদি অভিযোগ থাকে, তারও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।কারণ রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তন কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার বিতরণের প্রকল্প হতে পারে না।
আজ সবচেয়ে প্রয়োজন প্রতিশোধ নয় সত্যের অনুসন্ধান। কারা অর্থ দিয়েছে, কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কারা সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আন্দোলনের নামে সংঘটিত সহিংসতার দায় কার এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার আছে।
একটি আন্দোলনের সাফল্য শুধু একটি সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন মানুষের জীবন নিরাপদ হয়, অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্র নাগরিকের আস্থা ফিরে পায়।
জুলাইয়ের রাজপথে যারা স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের কাছে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ কোথায়?
আর যারা সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের কাছে প্রশ্ন।
প্রতিশ্রুতির হিসাব কোথায়?
ইতিহাসকে কোনো পক্ষের প্রচারণার হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কী হয়েছিল, কেন হয়েছিল এবং এত ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেল এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একদিন জাতিকে দিতেই হবে।

কারণ ক্ষমতার পালাবদল ইতিহাসের একটি ঘটনা; কিন্তু জনগণের স্বপ্নের হিসাব ইতিহাসের কাছে অনিবার্য।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: দেশের মানুষ অনুভব করতে শুরু করেছে, জুলাই আন্দোলনটা ভুল ছিলো। প্রতারনা ছিলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.