নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের কিছু করার প্রয়োজন নেই। কিছু না করাটাই এখানে কাজ। তবে দলের নেতা-কর্মীদের নিষ্কর্ম রাখাটাই বারবার উপরের আদেশ বা "টোন এট দ্যা টপ" হওয়া চাই। দখলদারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

দয়া করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কাজে ব্যবহার করবেন না। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিন। তাদের কাজে যেসব বাধা আছে, সেগুলো অপসারণ করুন। তাদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা খুব ভালো হওয়া চাই। কর্মক্ষেত্রে তারা যেন এমন এক সংস্কৃতি তৈরি করে, যেখানে অবৈধ উপার্জন অতিঘৃণ্য - এমন নৈতিক মানদণ্ড তৈরি হয়। এটা করতে পারলে তারা জনগণের বন্ধু হবে এবং মানুষ তার জীবন ও সহায়-সম্পদের নিরাপত্তা পাবে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আপনারা ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এই সমস্যার একটা অংশ শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যা। তার উপর, ইকোনমিক হিটম্যানরা কৌশলে আপনাদের ঘাড়ে কতগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বোঝা চাপিয়ে সম্ভবত এখন কেটে পড়ার তাল করছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর দিকে কড়া নজর রাখুন। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করুন। রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং প্রবাসী আয়ের ব্যবস্থাপনা এ কাজে জরুরি। তেল-গ্যাস-এলএনজি এবং বড় বড় চুক্তির পেমেন্ট ঠিকমতো করতে না পারলে বড় বিপদ হতে পারে। এ ধরনের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হলে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে করুন। ইকোনমিক হিটম্যানদের কাজই হলো দেশের জনগণ দিনরাত পরিশ্রম করে যে ডলারগুলো উপার্জন করেছে, সেগুলো বড় দান মেরে নিয়ে যাওয়া। অতএব বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তির চেয়ে স্থানীয় কোম্পানির চুক্তি এবং দেশের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রায় ক্ষেত্রে হাজারগুণে ভালো।

অর্থনীতির সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই সমাধান করতে হবে। এর সহজ রাস্তা নেই। গার্মেন্টসসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তা করুন। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে যাতে বিনিয়োগ হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করুন। কৃষক কার্ডের ধারণাটা খুব ভালো। সুবিধাগুলো যাতে প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছায়, দলীয় ক্যাডার বাহিনীর হাতে নয়, এটা নিশ্চিত করুন।

আমাদের মতো জনবহুল দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের বড় উপায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। এটা খুব গভীর নিষ্ঠা আর বড় পরিকল্পনার কাজ। প্রযুক্তি, যোগাযোগ আর মানবসম্পদ উন্নয়নে বাইরের বিশ্বে কী ঘটছে, তার ওপর নজর দিন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার বড় কাজে হাত দিন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নতির পূর্বশর্ত। আবার অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া আমাদের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কোনো কিছুরই উন্নতি হবে না।

আপনাদের রাজনৈতিক কুশলী বা অ্যাক্টরদের মধ্যে তেমন কিছুই পাল্টায়নি। বিগত আওয়ামী সরকারের মতোই আপনাদের রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় জালিয়াত থেকে শুরু করে লুটেরা, ভূমিদস্যু ও গ্যাংস্টাররা রয়ে গেছে। জনগণের কড়া নজর সেদিকে আছে, এটা ভুলবেন না। এসব কুশলীদের নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে অচিরেই ভরাডুবির সম্ভাবনা থাকবে। সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে, সব সুবিধা এলিটেরাই পাবে। তখন সাধারণ মানুষের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এখানে এখন রাত গভীর
ঘুমে চোখের পাতা ঢুলো ঢুলু
বলতে পারছিনা ঠিক কথা গুলু
পাঠান্তে লইক দিয়ে গেলাম
পরে এসে কথা হবে .....।

শুভেচ্ছা রইল

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ আলী ভাই। আপনার কবিতা এবং কবিতার ভাষায় মন্তব্যগুলো খুব উপভোগ্য।

২| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৩৪

নিমো বলেছেন: জা-শির ক্ষমতায় আাসার একটা স্টপগ্যাপ হয়েছে মাত্র, এবারের নির্বাচন নামক আসন ভাগাভাগির ভোট ভোট খেলায়। সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলন হয়ে ২৪ সফল হয়েছে। আগামী ৫ বছর পর না হলেও ১০ বছর পর জা-শি ক্ষমতায় আসবে। সামু টিকে থাকলে কথা হবে।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, সে ধরনের একটি সম্ভাবনা আছে বলেই মনে করি। এখন নির্বাচনের প্রধান প্রভাবক হলো মোটাদাগে টাকা, পেশিশক্তি ও পরিবারতন্ত্র। এর সঙ্গে ধর্মান্ধতা মেশালে এক ধরনের নতুন খাবার তৈরি হয়। এই খাবার "নয়া বন্দোবস্ত", "গোলামি না আজাদি" এই ধরনের সালাদের সাথে পরিবেশন করলে আরো অনেকদিন ভালো চলবে।

৩| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন:
আপনার পর্যবেক্ষণ মিলে গেছে। ৩ নং কমেন্টস কেটে দিন।

জামায়াত ৭৭ সিট পাইসে এটা নিয়ে জামায়াত খুশি কিংবা আমরা টেনশন করলেও আশার দিক ও আছে। বিএনপি বড়ো দল হওয়ার পরও ২০০৮ সালে তাদের সিট ২৯ এ নেমে এসেছিলো। তাই ভবিষ্যতে আশা করতে করতে পারি জামায়েতের সিট আবার ৩ টায় নেমে আসবে। :)

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা অসম্ভব নয়। তবে আওয়ামী লীগের লোকজনের কথা শুনলে আমি তেমন আশা দেখি না। এরা সব বলদে পরিণত হয়েছে। মাথা ভর্তি গু আর মন ভর্তি বিষ! পুরাই হোপলেস।

৪| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমান যদি গত দেড় বছরের আকাম-কুকাম করা কুশীলব এবং মব বাজদের বিচার করবেন এই কথা বলেন ভাষণে তাহলে মানুষের চোখে তারেক রহমান আলাদা সমমান পাবেন । :)

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা করলে আমি খুশি হতাম। তবে এটা হয়ত বাস্তবতার কারণে সম্ভব হবে না। এটাকে না হয় বাদই দেন, তারপরও সামনের দিকে আপনি কি কোন প্রকার আশা দেখতে পান?

৫| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: প্রথমেই উচিৎ সমস্ত নেতা কর্মী একসাথে শপথ করিবে, আমরা দূর্নীতি করিব না। আল্লাহর কসম।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: দূর্নীতি না করার শপথ তো সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক মাত্রই করেন, এতে কিছু আসে যায়?

৬| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




ফাইন্যান্স মিনিস্টার কে হবেন, সেটা নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

তবে, এইবারে, খুব ভালো কয়েকজন এম,পি উঠে এসেছেন।

সিলেট-১ আসনের খন্দকার মুক্তাদির সাহেব খুবই বিচক্ষণ মানুষ।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১০

শ্রাবণধারা বলেছেন: সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ফাইন্যান্স মিনিস্টার কে হবেন, সেটা নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

হ্যাঁ, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন পদ।

৭| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪১

অল্প বিদ্যা ভয়ংকর বলেছেন: নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ বা কতটা নিয়ন্ত্রিত ছিল - যতই সময় যাবে ততই পরিষ্কার হবে। আমি মনে করি এই নির্বাচন এক ধরনের আদর্শিক লড়াই ছিল—বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানি চিন্তাধারা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম রাজাকার মানসিকতা, সত্য বনাম অপপ্রচার, এবং সহনশীল রাষ্ট্রচিন্তা বনাম উগ্র জঙ্গিবাদী রাজনীতি।
ভোটের ফলাফলকে সাজানো ধরলেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক বয়ান, স্বাধীনতাবিরোধী মনোভাব, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, পিনাকী-ইলিয়াসের মিথ্যাচারনির্ভর প্রচার এবং ধর্মের নামে উগ্রতা—এসবের প্রতি জনসমর্থন সীমিত ছিল। ভাষা আন্দোলন দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস পালনে বাধা সৃষ্টি করার মতো রাজনীতি জনগণ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নারী-অধিকার প্রশ্নেও দেশের সিংসভাগ মানুষ একটি বার্তা দিয়েছেন। কর্মজীবী নারীদের বেশ্যা বলে আক্রমণ, কর্মঘণ্টা কমিয়ে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব, কিংবা বহুবিবাহকে দেশের মানুষ গ্রহণযোগ্য মনে করে না।
গত ২ বছর ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ, এবং ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালে পরাজিত আদর্শের ধারাবাহিকতা ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। সেই বাস্তবতায় আগামী পাঁচ বা দশ বছরে তাদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও সীমিত বলেই প্রতীয়মান হয়।
অবশ্য রাজনীতি গতিশীল—চূড়ান্ত নির্ধারক সবসময়ই জনগণ। কিন্তু এই নির্বাচনের বার্তা হলো: বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি এখনো মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ধারার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

আমি মনে করি,
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে,রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সহনশীলতা রক্ষা করা। কোনো উগ্রপন্থী, সহিংস বা অসাংবিধানিক শক্তিকে প্রশ্রয় না দিয়ে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার সুলিখিত মন্তব্যের জন্য। আপনার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত নেই। সামগ্রিক ফলাফলে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানি, মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার এবং সহনশীলতাই নিঃসন্দেহে জিতেছে। কিন্তু কুখ্যাত যুদ্ধপরাধী অজহার সহ সাকার ছেলে হুকা এবং আরও একপাল রাজাকার-সন্তান সংসদে যাচ্ছে।

আবার যতদিন পর্যন্ত আমরা এই সাংস্কৃতিক বয়ানের যুদ্ধের মধ্যে আটকে থাকব, ততদিন সুশাসন, অর্থনীতি ও শিক্ষার প্রশ্নগুলো চাপা পড়ে থাকবে। এখানেই মুশকিলটা।

৮| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৪

রাসেল বলেছেন: চোর বাটপারেরা তাদের স্বভাব পরিবর্তন করবে, তার কোনো কারণ বাংলাদেশে ঘটে নাই

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: একটা কারণ অবশ্য ঘটেছে সেটা জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান। এটা খুব বড় একটা ঘটনা।

৯| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৯

নিমো বলেছেন: বিএনপি কিছুই করতে পারবে না,। এখনও স্থাবীয় সরকার নির্বাচন বাকি। জামায়ত যদি যথেষ্ঠ পরিমাণ উপজেলা চেয়ারপারসন, কাউন্সিলর, মেয়র পদ পায় তাহলেই দেশ চালাবে দেইখেন। তারউপর একসময় রাজনৈতিক দলগিলো নিজেরাই আন্দোন করতো। ুখনতো মব সন্ত্রাসী, তৌহিদী জনতা, ছাত্র-জনতা, অমুক মঞ্চ, তমুক সমুক নাৃমক প্রক্সি বের হয়েছে, যারা শাউয়া, মাউয়া ছিঁড়ে ফেলে দেশ অচল করার ক্ষমতা রাখে।সামনে বাংলাদেশের কপালে অশেষ দুঃখ আছে।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলের সামনের দিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব থাকবে।

জামাত খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে, এতে সন্দেহ নেই। বিএনপি খুব বেশি কিছু করতে পারবে কি না, তা এখনই অনুমান না করে আমি তাদের কাজগুলো পর্যবেক্ষণের পক্ষপাতী।

১০| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০

আমি নই বলেছেন: আমি চাই লীগের আমলে প্রকাশিত রাজাকারের লিস্ট ধরে সবাইকে শাস্তীর আওতায় আনুক। ধর্মভিত্তিক, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সহ যেকোনো আবেগকে ব্যাবহার করে রাজনীতির উপর ব্যান হোক। যাতে কেউ কখনই মুক্তিযুদ্ধের, ধর্মের দোহাই দিয়ে বা অন্যকোন ধরনের আবেগকে ব্যাবহার করে ক্ষমতায় আসতে না পারে। রাজনীতি বা রাষ্ট্রক্ষমতা হোক যোগ্যতার ভিত্তিতে কোনো আবেগে ভিত্তিতে নয়, এটাই আমার চাওয়া, কিন্তু আমি ভালো ভাবেই জানি এগুলোর কোনোটাই হবেনা।

অফটপিকঃ বিএনপির যা করা প্রয়োজন মনে হয়েছে তা তারা ৬ আগস্ট থেকেই শুরু করেছে।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার চাওয়াটা খুবই চমৎকার। সব আবেগগুলোকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার অর্থ খুবই যুক্তিশীল এবং মানবধর্মী রাজনীতি করা, যেটা সাধারনত বাম বা ডেমোক্রাট সোসালিস্টরা করে। বাংলাদেশে এটা ঘটার বাস্তবতা নেই বললেই চলে, তবে নিশ্চয়ই এটা আমরা চাইতে পারি।

বিএনপি ৬ আগস্ট থেকেই যা শুরু করেছে, সরকারে গেলে তাদের সেগুলো পাল্টাতে হবে আমার বক্তব্য মোটের উপর সেটাই। সাথে শুধুমাত্র অর্থনীতি এবং প্রশাসনে তাদের ভূমিকার বিষয়টা যুক্ত করেছি।

১১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আজ সময় নিয়ে আপনার লেখাটি মনযোগ দিয়ে পাঠ করলাম । আপনি বেশ গুছিয়ে কথা বলেছেন।
বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠনের যে সুযোগ পেয়েছে, তা শুধু নির্বাচনী
সাফল্য নয় বরং একটি বড় দায়িত্বের সূচনা। “প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি” শীর্ষক
আপনার লেখাটিতে আপনি সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও প্রত্যাশা
তুলে ধরেছেন দেখে ভাল লাগল ।

লেখাটির গুরুত্বপুর্ণ দিক হলো ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে একটি মৌলিক বার্তা দেয়া ।জনগণ এখন এমন একটি
সরকার দেখতে চায়, যারা শক্তিশালী হলেও সংযত, ক্ষমতাবান হলেও দায়িত্বশীল। ক্ষমতায় এসে প্রতিহিংসা
বা দখলদারির সংস্কৃতি পরিহার করা এবং দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা , এগুলো গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার
গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে যথার্থভাবেই উল্লেখ করেছেন। “কিছু না করাটাই কাজ” এই বক্তব্য আসলে
প্রশাসনিক সংযম ও আইনের শাসনের গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বানটিও বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী। রাষ্ট্রীয়
প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ও স্বাধীন হলে সরকারও দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হয়।এই উপলব্ধি লেখাটিতে স্পষ্টভাবে
ফুটে উঠেছে। একইভাবে দুর্নীতিবিরোধী নৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া একটি ইতিবাচক
রাষ্ট্রদর্শনের ইঙ্গিত বহন করে।

অর্থনৈতিক অংশে আপনার লেখাটি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি
আন্তর্জাতিক চুক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তা এসব বিষয় উল্লেখ করে
আপনি মূলত সতর্ক করেছেন যে রাজনৈতিক বিজয় অর্থনৈতিক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নয়।স্থানীয়
শিল্প ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন।

শক্তিশালী আইনের শাসন যে বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি সে প্রসংগে এখন আমি আমার ভাবনায়
আসা কিছু কথা এই মন্তব্যের ঘরে প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় যুক্ত করে গেলাম ।

আমরা সকলেই মানি বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার দেশ। জনসংখ্যার শক্তি, উদ্যোক্তা মনোভাব, কৃষি ও শিল্পের
বিস্তার, বৈদেশিক শ্রমবাজার এবং দ্রুত নগরায়ন সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি দৃঢ় হওয়ার কথা।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল আইনশৃঙ্খলা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং দলীয়করণের কারণে এই
সম্ভাবনা পূর্ণ বিকাশ লাভ করতে পারেনি।

মনে পরে প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তৎকালীন সভাপতি সরকারকে
একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন “দেশে শুধু আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটান, ব্যবসায়ী সমাজই দেশকে উন্নতির
উচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে।” এই বক্তব্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক। কারণ উন্নয়নের মূল ভিত্তি অবকাঠামো নয়, বরং
আইনের শাসনের প্রতি আস্থা।

শক্তভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে:-

১. অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে ।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনীতির সবচেয়ে বড়
পরিবর্তন ঘটে বিশ্বাসযোগ্যতা বা economic confidence-এ। বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত হন যে তাদের সম্পদ
দখল হবে না।চুক্তি ভঙ্গ হলে দ্রুত বিচার পাওয়া যাবে।ঘুষ বা রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব
হবে।ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে,মূলধন পাচার কমবে, দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগ সম্ভব হবে,
আইনের শাসন মূলত অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তা থেকে পূর্বানুমেয় ব্যবস্থায় নিয়ে আসে।

২. ব্যাংকিং খাতের শুদ্ধতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে । বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে
রয়েছে ঋণখেলাপি, প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা এবং অর্থপাচার।শক্ত আইন প্রয়োগ হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কমবে,
রাজনৈতিক পরিচয়ে ঋণ নেওয়া কঠিন হবে,ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা বাড়বে, আমানতকারীর আস্থা ফিরে
আসবে,এর ফলে ব্যাংকগুলো প্রকৃত উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করবে, যা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে।

৩. ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প বিকাশ হবে । যেখানে আইন কার্যকর, সেখানে ব্যবসা সহজ হয়। কারণ চাঁদাবাজি
ও দখলদারিত্ব কমে,পরিবহন নিরাপদ হয়, সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাহীন থাকে, উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে সাহস পায়
আইনের শাসন থাকলে ছোট উদ্যোক্তা থেকে বড় শিল্পপতি সবাই একই আইনের অধীন হয়। এতে প্রতিযোগিতা
ন্যায্য হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

এখানে উল্লেখ্য বিগত বছর কয়েক ধরে দেখা যায় বাংলাদেশে ৬ লক্ষাধিক টাকার বাজেট ঘোষনা করা হয়। এর
মাঝে থাকে ৪ লক্ষ কোটি টাকার মত রাজস্ব বাজেট ( যা সরকারী , বেসরকারী ও আধাসরকারী ও রাস্ট্র নিয়ন্ত্রিত
সেকটর কর্পোরেশন ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি পরিশোধে, আর ২ লক্ষ কোটি টাকা
থাকে উন্নয়ন বাজেট খাতে , সেখানেও প্রায় অর্ধেক যায় প্রকল্প লোকবলের বেতন ভাতাদি খাতে , বাকি টাকা
যায় কেনা কাটা ও ভৌত নির্মান কাজে,আর যেখানেই চলে দুর্ণীতির মহোৎসব যথা রূপপুর প্রকল্পে বালিশ কান্ড।

তাই দেশে গুটি কয় প্রয়োজনীয় মন্ত্রনালয় যথা অর্থ ,পররাস্ট্র, স্বরাস্ট্র ,সংস্থাপন, প্রতিরক্ষা ,শিক্ষা ও স্বাস্থ মন্ত্রনালয়
এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি রেখে বাকি সব বেসরকারী পর্যায়ে ছেড়ে দিয়ে দেশের জন্য(গত কয়েক বছরের
প্রবনতা ধরে ৬ লক্ষ কোটি বাৎসরিক বাজেট হতে ১ লক্ষ কোটি টাকার মত রেখে বাকী ৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যংকিং
সেকটরে বরাদ্ধ দিলে সেখান হতে প্রয়োজনে দেশের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য সরকারী বেসরকারী ও স্বায়ত্ব
শাসিত প্রতিষ্ঠান গুলি অর্থ ঋণ নিয়ে তা দিয়ে তাদের ইচ্ছামত প্রকল্প গুলি বাস্তবায়ন করে নিতে পারে । উল্লেখ্য
দেশের উন্নয়ন বাজেট থেকে অর্থ পেতে হলে সকল উন্নয়ন প্রকল্প দলিলেই Financial and economic viaবility
প্রদর্শণ করে তারপরে তারা তাদের প্রকল্প সংস্লিস্ট মন্ত্রনালয় , পরিকল্পনা কমিশন বা একনেক থেকে পাশ করিয়ে
নিতে পারে । তার পরের ইতিহাস লিখতে গেলে পাতার পর পাতা ভরে যাবে এই মন্তব্যের ঘরে ।

তাই কথা হলো Financial and economic viability দেখিয়েই যদি তারা প্রকল্প পাশ করিয়ে্‌ই নেয় তাহলে
সেটা তারা ব্যাংকে দেখিয়েই ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে করুক না কেন। উদাহরন তো চোখের সামনেই , প্রকল্পের
Financial and economic viability সরকার IMF , World Bank , Asian Development Bank ,
ও অন্যান্য দাতা সংস্থা থেকেই প্রকল্প আবস্তবায়নের জন্য অর্থ নেয়। তাই সরকারী প্রকল্প বাসতবায়নের জন্য
দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে অসুবিধাটা কোথায় । তাই আইন শৃংখলার উন্নতি ঘটাতে পারলে ও দেশীয় ব্যাংক
কঠোরভাবে ঋণ অনুমোদন ও আদায় করলে সমস্যা কোথায়। আর প্রদত্ত ঋণ আদায় করতে না পারলে ঋণ
গ্রহিতা ও দাতা উভয়কেই কঠোরভাবে আইনের মুখামুখী করা হলে উন্নয়নের চাকা এমনিতেই সচল হবে ।
সরকার চাইলে ব্যবস্থাটি কিভাবে টেকসই ও কার্যপযোগী করা যায় সে বিষয়ে আমি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন
তৈরী করে দিতে পারব ইনসাল্লাহ । এখানে উল্লেখ্য প্রায় বছর ত্রিশেক আগে এশিয় প্রডাকটিভিটি অর্গানাইজেসনের
আওতায় এশিয় দেশুলির জন্য Strategies for Enhancing Public Sector Productivity জন্য পরিচালিত
একটি গবেষনা টিমে National Expert হিসাবে অংশ নিয়ে এমত বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরীর অভিজ্ঞতা
আমার আছে । যাহোক ফিরে যাই মুল আলোচনায় ।

৪. প্রশাসনিক দক্ষতা ও সুশাসন বৃদ্ধি পাবে , দুর্বল আইন মানে ব্যক্তি নির্ভর প্রশাসন; শক্ত আইন মানে প্রতিষ্ঠান
নির্ভর রাষ্ট্র।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশাসন রাজনৈতিক নয়, নীতিনির্ভর হবে, সরকারি সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা
আসবে দুর্নীতি কমে,কর্মকর্তারা আইনের বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাবে,ফলে রাষ্ট্রের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি
পাবে।

৫. দলীয়করণ হ্রাস ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা রক্ষা পাবে। আইনের শাসন শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়
প্রভাবমুক্ত হতে শুরু করে।নিয়োগে মেধা প্রাধান্য পাবে,আইন প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ড কমবে, বিরোধী মত প্রকাশ
নিরাপদ হবে। এর ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

৬. সামাজিক অনাচার ও অপরাধ দমন হবে ।বিচারহীনতা অপরাধকে উৎসাহ দেয়; নিশ্চিত ন্যয় বিচার অপরাধকে
নিরুৎসাহিত করে।আইনের শাসন থাকলে নারী ও শিশু নির্যাতন কমবে,ভূমিদখল ও সন্ত্রাস হ্রাস পাবে, সামাজিক
সহিংসতা কমবে, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা অনুভব করবে।নিরাপত্তা বোধই নাগরিক উৎপাদনশীলতার ভিত্তি।

৭. উন্নয়নের টেকসই পথ নির্মাণ করে।অবকাঠামো নির্মাণ উন্নয়ন নয়; টেকসই প্রতিষ্ঠান গঠনই প্রকৃত উন্নয়ন।
কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগকারী রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নীতি ধরে রাখতে পারে। রাজনৈতিক পরিবর্তনেও অর্থনীতি
স্থিতিশীল থাকে, আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে।ফলে দেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি
করতে পারে।

তাই আপনার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলি বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য নতুন কোনো জাদুকরী অর্থনৈতিক মডেলের
প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে।
যেদিন আইন ব্যক্তি বা দলের নয়, রাষ্ট্রের শক্তিতে পরিণত হবে সেদিন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক এবং
সাধারণ নাগরিক মিলেই উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়ে দিবে। বহু আগে ব্যবসায়ী সমাজ যে বিশ্বাস ব্যক্ত করেছিল, তা
আজও সত্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করলেই দেশের সৃজনশীল শক্তি নিজেই উন্নয়নের পথ নির্মাণ করবে।তবে
আশংকা করি তারেকীয় বাহিনী একাজটি দক্ষতা বা নিষ্ঠার সাথে করতে পারবে কিনা।

হাতে সময় থাকায় আবেগ তারিত হয়ে অনেক কথা এই মন্তব্যের ঘরে লিখে হয়ত বা আপনার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়েছি ।
আশা করি বিষয়টা নমনীয় চোখে দেখবেন, ওমর খৈয়াম তথা চাঁদ গাজী এ মন্তব্যখানি দেখলে হয়ত পৃথক পোস্ট
দিয়ে উনার চিরাচরিত বচন ঝেড়ে দিতে পারেন ।

শুভেচ্ছা রইল

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, আপনার মন্তব্য পড়ে আমি অভিভূত হয়েছি। বিশেষ করে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরা বিশ্লেষণগুলো খুব মূল্যবান। বক্তব্যের মাঝে আপনার মনের যে আলোকিত দিকটি ফুটে উঠেছে, তার বর্ণচ্ছটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

একথা একেবারে সঠিক যে, একটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। উদোক্তারা নিজেরাই বাজার সৃষ্টি করবে। সরকার যদি কেবল সুশাসন ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, সেটা হবে বিশাল বড় অর্জন।

রাজস্ব বাজেট ও উন্নয়ন বাজেট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন অত্যন্ত গভীর। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা এডিবি থেকে ঋণ না নিয়ে সরকার চাইলে দেশীয় ব্যাংক থেকেই অর্থায়ন করতে পারে, এ বিষয়ে আমি একমত। আমি যে ইকোনমিক হিটম্যান কথা পোস্টে উল্লেখ করেছি সেটা John Perkins এর বই Confessions of an Economic Hit Man থেকে নেওয়া ধারণা। সেখানে অর্থনৈতিক হিটম্যান বলতে বোঝানো হয়েছে এমন পেশাজীবীদের, যারা বিভিন্ন দেশকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে রাজি করায়, আর এসব ঋণ এমনভাবে বানানো হয় যাতে প্রকল্পের কাজ ইউএসের বা উন্নত দেশের কোম্পানি পায়। এর মাধ্যমে টাকা টা সেই বিদেশেই চলে যায়, কিন্তু ইউএস এর মত দেশের প্রভাব বাড়ে এবং তাদের কোম্পানিগুলো আমাদের মত গরীব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রনের সুযোগ পায়। এই ঋণের সুবিধা পায় প্রভাবশালী এলিট শ্রেণি, বড় কর্পোরেশন আর কিছু আমলা, সাধারণ মানুষ তেমন কিছু পায় না।

জাতীয় বিশেষজ্ঞ হিসবে Public Sector Productivity এর মত বিষয় নিয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই ব্লগে আরও বিস্তারিত লিখবেন, আশা করি।

সুলিখিত মন্তব্যের জন্য আবারো ধন্যবাদ। ভালো থাকুন এই দোয়া রইলো।

১২| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

রাসেল বলেছেন: আমি নই এর প্রস্তাবনার সাথে সহমত।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। হ্যাঁ, উনি খুব গুরুত্বপূর্ন কথা বলেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.