| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."
জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের মেয়ে মঞ্জুশ্রী দাশ লিখেছেন "...আমাদের বাড়িতে ছিল অনেক গাছগাছালি, একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ, অনেক পাখি। কৃষ্ণচূড়া গাছের কাছে নির্জন খড়ের ঘরে বসে বাবা লিখতেন, পড়তেন। চারদিকে কাঁঠাল হিজল অশ্বত্থ গরমে চুপ করে থাকত। কাছেই ছিল কলমীর গন্ধে ভরা জল। দোয়েল পাখি। সজনে ফুল। ...এইসব বাবার খুব প্রিয় ছিল।"
দেশভাগের পরে কলকাতায় ল্যান্সডাউন রোডের বাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে কবি লেখেন, "একটি মোটরকার গাড়লের মতো গেল কেশে/ অস্থির পেট্রল ঝেড়ে; সতত সতর্ক থেকে তবু/ কেউ যেন ভয়াবহভাবে প’ড়ে গেছে জলে।"
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এখন যখন ধর্মীয় মেরুকরণ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ভয়কে উসকে দিয়ে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ উগ্র ডানপন্থি শক্তি বিজেপি জিতে গেল, তখন মনে হচ্ছে "কেউ যেন ভয়াবহভাবে প’ড়ে গেছে জলে।" যে বাঙালী মনীষা বাঙলা ভাষাভাষি গোষ্ঠির জীবনচর্চা, সংস্কৃতি ও সামষ্ঠিক স্মৃতিতে এতদিন প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল এবং অন্ধকারে পথ দেখিয়েছিল, সেটি নিবে গেল। "আলোকের এই ধর্নাধারা" বহুদিন আলো ও জল সিঞ্চন করে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল। রামমোহন, বিদ্যাসাগর এবং রবীন্দ্রনাথের যে আদর্শ তারই পরাজয় হল পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে।
গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকে প্রগতিশীল রাজনীতিতে যুক্ত থাকা পশ্চিমবঙ্গের একজন লেখক লিখেছিলেন, তাঁর সময়ের বাঙলার শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা ছাড়াও সমসাময়িক বহু ছাত্র-শিক্ষক জীবনভর অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতি বেছে নিয়েছিলেন।
সেই লেখকদের বই পড়েই বাংলাদেশে আমাদের বেড়ে ওঠা। সেই লেখক শিল্পীদের অনেকেই ছিলেন পূর্ববঙ্গের মানুষ। দেশভাগের পরে পশ্চিমবঙ্গে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই তালিকায় আছেন জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, প্রতিভা বসু, ঋত্বিক ঘটক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মত আরও অনেকে।
বুদ্ধদেব বসুর "পুরনো পল্টন" প্রবন্ধটি স্কুলে নবম দশম শ্রেণিতে আমাদের পাঠ্য ছিল। বুদ্ধদেবের জন্ম কুমিল্লায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কৃতি ছাত্র হিসেবে তিনি যে রেকর্ড নম্বর পেয়েছিলেন, তা বহুকাল অটুট ছিল। বুদ্ধদেব বসুর গল্প উপন্যাসগুলো ছাড়াও তার অনুবাদে পড়েছিলাম ফরাসী কবি বোদলেয়ার আর জার্মান কবি রিলকের কবিতা। তার অনূদিত বোদলেয়ারের কবিতা "অচেনা মানুষ" খুব জনপ্রিয় ছিল: "বলো আমাকে রহস্যময় মানুষ, কাকে তুমি সবচেয়ে ভালবাসো?"
বুদ্ধদেব বসুর পুরনো পল্টনে থাকার সময়ই লাবণ্যবালা গুপ্ত নামে একজন তরুনী ঢাকার ইডেন কলেজে আই.এ. ক্লাসে পড়তেন। লাবণ্যবালা ছোট বয়সে বাবা-মা হারান, তারপর ঢাকায় জ্যাঠামশাইয়ের বাড়িতে মানুষ হন। বাড়ি থেকে কলেজে যাবার পথ দীর্ঘ, তাই অধিকাংশ সময় তিনি ছাত্রীনিবাসে থাকতেন। জরুরি কাজে সেদিন বড়িতে তাঁর ডাক পড়ে। পরবর্তী জীবনে তিনি লিখেছিলেন "হোস্টেল থেকে বাড়িতে আসতে এক মাঠ কাদা ভাঙতে হয়। পরনে নকশাপাড় তাঁতের সাধারণ শাড়ি। আসতেই জ্যাঠামশাই বললেন, বাড়িতে অতিথি এসেছেন চা জলখাবার এনে দাও।"
কাদামাখা শাড়ি পরেই তিনি লুচি-মিষ্টি-চা নিয়ে বাইরের ঘরে এলেন। সেখানে অতিসাধারণ ধুতিপাঞ্জাবি পরা নতমুখী একটা আটাশ-উনত্রিশ বছরের যুবকের সাথে তাঁর পরিচয় হল। সেদিনই দুপুরে লাবণ্যকে জ্যাঠামশাই বললেন, যে ছেলেটি এসেছিলেন যাবার সময় তিনি তাকে মনোনীত করে গেছেন। আটাশ-উনত্রিশ বছরের সেই যুবকটি জীবনানন্দ দাশ, তখন তিনি দিল্লির একটি কলেজের অধ্যাপক। কবি দম্পতি বরিশালে সংসার জীবন শুরু করেন। বিয়ের পরে জীবনানন্দ আর দিল্লি ফিরে যাননি। জীবনানন্দের বরযাত্রী হিসবে বুদ্ধদেব বসু তাদের বিয়েতে গিয়েছিলেন।
বুদ্ধদেব বসুর স্ত্রী প্রতিভা বসুও এখন যেটা পুরান ঢাকা সেখানেই বড় হয়েছেন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী। তাঁকে গান শিখিয়েছেন স্বয়ং কাজী নজরুল ইসলাম। প্রতিভা বসুর বাড়ির একজন বয়স্কা মাসি প্রথম দিন নজরুলকে দেখে বলেছিলেন, ওমা, এ তো একেবারে কৃষ্ণের মতো চেহারা! এই ঘটনার পরেই নাকি নজরুল কীর্তন ও ভজন গান লেখার বিষয়ে আগ্রহী হন।
প্রতিভা বসুর বাড়িতে যাওয়ার সময় একবার নজরুল "মব" দ্বারা আক্রান্ত হন। তার অপরাধ, মুসলিম হয়ে তিনি হিন্দুর বাড়ি যাতায়াত করেন এবং হিন্দু মেয়েকে গান শেখান। সেদিন নাকি নজরুল মবকে ভালোই পিটিয়েছিলেন!
প্রতিভা বসু থেকে শংকর, সুনীল, শীর্ষেন্দু, সমরেশ মজুমদার, বুদ্ধদেব গুহ - আমাদের ছাত্রজীবনে সকলে প্রবলভাবে উপস্থিত ছিলেন। সুনীলের জন্ম ফরিদপুরে, তার পিতা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাসে বহুবার এসেছে বাংলাদেশের কথা। পূর্ব-পশ্চিম উপন্যাসে দেশভাগের সময় থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা তিনি বিষদভাবে লিখেছেন।
শীর্ষেন্দুর জন্ম ময়মনসিংহে। তাঁর লেখা "দূরবীন" উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কৃষ্ণকান্ত ছিলেন পূর্ববঙ্গের মানুষ। পুত্রবধূ রেমি যখন প্রসবকালীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবং তাঁর রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন কৃষ্ণকান্ত নিয়ম করে দেন যে, কেবল পূর্ববঙ্গের মানুষই রেমিকে রক্ত দিতে পারবে। কৃষ্ণকান্তের ধারণা ছিল, পূর্ববঙ্গের মানুষ খোলা আলো-বাতাসে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিশুদ্ধ খাবার খেয়ে শারীরিকভাবে বেশি শক্তপোক্ত, অতএব তারাই কেবল রক্ত দেওয়ার জন্য উপযুক্ত। রেমি নিজেও যদিও পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে, এই নিয়মের কারণে তাঁর ছোট ভাই তাঁকে রক্ত দিতে পারেন নি।
সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রগুলো, "পথের পাঁচালী" থেকে "আগন্তুক" - আমাদের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে। "আগন্তুক" সিনেমায় উৎপল দত্তের যে চরিত্রটি, মনমোহন মিত্র, তিনি পঁয়ত্রিশ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন। তারপর বহু দেশ ঘুরে কলকাতায় ভাগনির বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তিনি যখন নীলিমা ও তাঁর স্বামী সুধীনের বাড়িতে অতিথি, তখন সুধীনের বন্ধু রঞ্জন ও তাঁর স্ত্রী মনমোহনকে দেখতে আসেন।
রঞ্জন পরিচয় দেওয়ার সময় বলেন, তাঁর পরিচয়ের বাঙালির মধ্যে শেষের "ই" নেই। মনমোহন জানান, তাঁরও নেই। পাঁচজনের এই দলে কারও পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর, কারও নেত্রকোনা, কারও যশোর। শুধু সুধীনের বাড়ি ছিল বর্ধমান। রঞ্জন তাঁকে টিপ্পনি কেটে বলেন "ঘটি"। বাস্তবের উৎপল দত্তের পৈতৃক নিবাসও বরিশাল।
সত্যজিৎ রায়ের "অপুর সংসারে" একেবারে অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া বিয়েতে ফুলসজ্জার রাতে অপু নবপরিনীতা বধূকে তার পরিচয় জানিয়ে বলেন, সে পিতৃমাতৃহীন একাকী এবং ভীষণ দরিদ্র বেকার ছেলে। তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে ভাটিয়ালি একটা গান বাজে। গানের কথাগুলো অনেকটা এমন: নদীর কূল নাই...ও বন্ধুরে / আগে যদি জানতাম রে বন্ধু/ যাবে রে ছাড়িয়া/ আমি রাখিতাম বান্ধিয়া রে বন্ধু/ ....তোমারও কারনে আমি ছাড়লাম দেশের মায়া রে...। বিভূতিভুষণের "অপরাজিত" এর কাহিনী থেকে আমরা জানি অপুর শ্বশুরবাড়ি খুলনা জেলার স্বরূপকাটি গ্রাম। সেই গ্রামের পাশেই নদী; নদীর ঘাটেই অপর্নাদের বাড়ি।
দেশভাগের যে বেদনা সেটা বোধহয় ঋত্বিক ঘটকের মত আর কারো লেখায় বা চলচ্চিত্রে এত প্রবল ভাবে ফুটে ওঠেনি। তার "মেঘে ঢাকা তারা", "কোমল গান্ধার", "সুবর্ণরেখা" থেকে একেবারে শেষের দিকে "যুক্তি তক্কো আর গপ্পো" সিনেমায় দেশভাগের যে বিচ্ছেদ ও বেদনা, রাজনীতির তীব্র সংঘাতে মিশে গেছে সেটা এক গভীর আত্নঅনুসন্ধানের বিষয়।
রাজনীতির আলোচনা করতে গিয়ে দেশভাগ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির দিকে বিষয়টি চলে যাওয়ার কারণটি স্পষ্ট করা জরুরি। দেশভাগ হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখন ধর্মীয় পরিচয়কে সংস্কৃতির বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার রাজনীতি ভারত ও বাংলাদেশ - দুই দেশেই চলছে। বাঙালি মুসলিম সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে মুসলিম জাতীয়তাবাদ দিয়ে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু সমাজের সেক্ষেত্রে কী হবে?
বাংলাদেশের যে বৃহৎ হিন্দু সমাজ, তাদের জন্য এই অংশীদারিত্ব শুধু সাংস্কৃতিক নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উভয়েই। আমার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মূলত পশ্চিমবঙ্গকেন্দ্রিক বাংলা সংস্কৃতির মাধ্যমে; কিন্তু আমাদের কোনো হিন্দু বন্ধু, সে শুধু ধর্মীয় কারণেই পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো ভারতের সাথেই সম্পর্কিত। এটাই বাস্তব।
বাংলাদেশে যখন মুসলিম জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের রাজনীতি প্রবল হয়, তখন একই সাথে হিন্দুত্ববাদী পরিচয়ের রাজনীতিও শক্তিশালী হয়। বাংলাদেশে যদি সরাসরি হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উপস্থিত নাও থাকে, তখন এই রাজনৈতিক মতাদর্শ বাইরে থেকে গ্রহণ করা হতে পারে। বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতি বাড়লে, তা কোনো না কোনোভাবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকেও সক্রিয় করে।
এবার বিজেপির প্রচারণায় পুরোনো কুটকৌশলগুলোরই পুনরাবৃত্তি দেখেছি। বাংলাদেশ নাকি পশ্চিমবঙ্গ জয় করে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। একদিন হিন্দু গৃহস্থ তার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলে দেখবেন একজন মুসলিম লোক বলছে, বাড়ি ছাড়ুন, এটা আমাদের বাড়ি। বিজেপির প্রচারণায় এই গল্পটি ইসরায়েলের পশ্চিমতীরের কোনো বাড়ি ও জমি দখলের কাহিনি থেকে ধার করা বলে মনে হয়।
শীতল যুদ্ধের পর উদারপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে এক ধরনের জোট গড়ে উঠেছিল, যারা সোভিয়েত প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিল। উদারপন্থীরা চেয়েছিল উন্মুক্ত সীমান্ত, নাগরিক অধিকার ও বহুত্ববাদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদীরা চেয়েছিল রক্ষণশীল, ধর্মভিত্তিক, পরিবারকেন্দ্রিক এবং কমিউনিজমবিরোধী রাষ্ট্র।
এই দুই প্রবণতার টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত আধুনিক অনুদার রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই বিভাজন স্পষ্ট। নেহেরু ও ইন্দিরা গান্ধীর বা কংগ্রেসের রাজনীতিতে যে উদারপন্থী-ধর্মনিরপেক্ষতা দেখা যায়, তার বিপরীতে বিজেপির রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ও পরিচয়ভিত্তিক ধারা প্রবল।
অন্য ডানপন্থী শক্তিগুলোর মতোই বিজেপির রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হল, তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তাদের রাজনৈতিক বয়ানে যুক্ত করতে পেরেছে। উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শহরের আধুনিকীকরণ - এসব তারা রাজনৈতিক বৈধতার অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে অনেকের কাছে এই রাজনীতি কেবল হিন্দু পরিচয়ের রাজনীতি নয়, বরং উন্নত জীবনযাপন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম আধুনিক হিন্দু পরিচয়ের রাজনীতি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও দেশটি এখন উদার গণতন্ত্র থেকে ক্রমশ অনুদার গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রেখেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ও অর্থনীতিতে বিজেপির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হল, যার ভিত্তি উগ্রতা, যার আরেক নাম ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ।
(বিঃদ্রঃ - "সব কিছু ভেঙে পড়ে" হুমায়ুন আজাদের একটি উপন্যাসের নাম, যেটা আবার চিনুয়া আচেবের উপন্যাস "থিংস ফল অ্যাপার্ট" এর নাম থেকে নেওয়া।)
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা জানা নেই। যতদূর মনে পড়ে বিগত কংগ্রেস সরকার বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দিতে রাজি ছিলেন, কিন্তু তখন মমতা তাদের দেশের কৃষকের স্বার্থরক্ষার কারনে বা অজুহাতে সেটা দেননি।
২|
০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাংলাদেশে যখন মুসলিম জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের রাজনীতি প্রবল হয়,
তখন একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী পরিচয়ের রাজনীতিও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
......................................................................................................
রাজনীতিতে ভাঙ্গা গড়া থাকবেই
তবে মমতার লোকজনের অত্যাচার, প্রার্থীর টিকেট প্রাপ্তির জন্য
৫ কোটি টাকা ডিমান্ড , এসব ছিল চরম বাড়াবাড়ি
যার ফলাফল দেখতেই পাচ্ছেন ।
........................................................................................................
তবে থেমে থাকা কিছু চুক্তি বাস্তবায়ন হতে পারে ।
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪০
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ ধন্যবাদ। মমতার হেরে যাবার জন্য নিশ্চয়ই এসব খুব গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট।
তবে, যৌক্তিক সমস্যাগুলো কিন্তু সমাধান করা যায়। যেহেতু অযৌক্তিক এবং কাল্পনিক সমস্যার আশু সমাধান নেই, ভোটের প্রচারনা সেসবের উপরে ভর করে চালানো হয়।
৩|
০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪
রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর একটা লেখা লিখেছেন।
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪১
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪|
০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:১৬
ঢাকার লোক বলেছেন: দিদির দলের হারার পিছনে শুধু বিজেপির ধর্মভিত্তিক রাজনীতিই একমাত্র কারণ মনে করা ভুল।
১) হিন্দু ভোটের একত্রীকরণ বনাম বিরোধী বিভাজন: পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটাররা আর এবার একদিকে ভোট দেননি , ভোট ভাগ হয়েছে:তৃণমূল, কংগ্রেস, ছোট আঞ্চলিক বা সংখ্যালঘু দল, ফলে মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপি জিততে পেরেছে, এটা বড় পরিবর্তন। আগে সংখ্যালঘু ভোট একজোট থাকত।
২. স্থানীয় অসন্তোষও বড় কারণ :
দীর্ঘদিনের শাসনের ক্লান্তি, দুর্নীতির অভিযোগ, তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা কর্মীর আচরণে অসুন্তুষ্টি, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কমে যাওয়া,
এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৫১
শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ঢাকার লোক। আপনার পয়েন্টগুলো খুবই যৌক্তিক এবং সেগুলো মমতা ব্যানার্জির হারার কারন ব্যাখ্যা করে। এর অনেকগুলো পয়েন্ট একই বিষয়ের উপর আমার লেখা আগের পোস্টে যেটা ২৩ এ এপ্রিলে লিখেছিলাম, সেখানে উল্লেখ করেছিলাম। বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা
এই পোস্টের উদ্দেশ্য মমতার নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে একজন বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে আমার কী সম্পর্ক, তা ব্যাখ্যা করা। সেই সঙ্গে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়, দেশভাগ এবং ভারতের সাম্প্রতিক ডানপন্থী রাজনীতির কিছু ছোঁয়া রয়েছে মাত্র।
৫|
০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৯
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
সমগ্র পৃথিবী ধীরে ধীরে উগ্রপন্থীদের কবলে চলে যাবে বলে মনে হচ্ছে। যে উন্নত দেশগুলোর রাজনীতিতে ধর্মের উপস্থিতি কম তারা ইমিগ্রেশন, অধিবাসীদের নিয়ে ইস্যু তৈরি করে সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে। পোল্যান্ড-ইতালিতে সম্ভবত এখনো উগ্রপন্থীরা ক্ষমতায়। সুইডেনে উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে.....
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:০৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, আসলে তাই হচ্ছে। এর সাথে উগ্র-ধনবাদী বা নব্য উদারনীতিবাদী অর্থনীতি, সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স যেটার মধ্যে এখন পালান্টিয়ার এবং অ্যানথ্রোপিকের মত কোম্পানীগুলো ছাড়াও মাইক্রোসফট, গুগল,ওরাকল এস্পেসএক্সের মত কোম্পনী ঢুকে গেছে।
কানাডায় একজন খুব ভালো লেখিকা আছেন, তার নাম নাওমি ক্লেইন (Naomi Klein), তিনি বছর দেড়েক আগে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানে রাইজ অব এণ্ড টাইম ফ্যাসিজম নামে একটা নিবন্ধ লেখেন, যেটার মধ্যে আপনার প্রশ্নের অনেকগুলো উত্তর আছে। তবে এই নিবন্ধ বেশ বড় এবং জটিল। লেখিকা এই নামে এবছর একটা বইও লিখেছেন। যেটা হয় ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, অথবা হবে।
৬|
০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার শেয়ার করা লেখায় একজন সাহিত্যিকের রাজনৈতিক দর্শন ও দুই বাংলার সৌহার্দ্য নিয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে, তা তাত্ত্বিকভাবে ঠিক আছে। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে পশ্চিমবঙ্গের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ এখন শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিয়ে পেট ভরাতে পারছে না; তারা অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান এবং আধুনিক কলকারখানায় নিশ্চিত কর্মসংস্থান চায়। তৃণমূল কংগ্রেস সিঙ্গুরের মতো বড় শিল্প প্রকল্পকে তাড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, যার খেসারত আজ রাজ্যের শিক্ষিত যুবসমাজকে দিতে হচ্ছে। মমতাদির সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই 'চপ শিল্প' বা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কথা বলে কর্মসংস্থানের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাস্তব হলো : একটি রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্ত করতে আদানি বা টাটাদের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ প্রয়োজন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপি শাসিত সরকারগুলো যেখানে আদানি-আম্বানির মতো শিল্পপতিদের টেনে এনে বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি করছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ কেবল সস্তা লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতিতে আটকে আছে। শিক্ষিত ভদ্রলোকের সেই পুরোনো সংস্কৃতি এখন আর আগের মতো আলোড়ন তোলে না। মানুষ এখন সৃজনশীলতার পাশাপাশি প্রকৃত ইন্ডাস্ট্রি চায়। চপ ভাজা কখনোই বড় কারখানার বিকল্প হতে পারে না।
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য সৈয়দ কুতুব। শুধু সংক্ষেপে বলি আপনার বক্তব্য খুব সঠিক এবং আমি এ বিষয়ে অনেকটাই অবগত আছি। ভারতের নিওলিবারেল অর্থনীতি কিভাবে কতদূর অগ্রসর হয়েছে, এটা আমার ভালো জানা নেই। কিন্তু নিওলিবারেল অর্থনীতির যে সূতিকাগার আমি সেই শহরের কিছুটা কাছাকাছি থাকি।
আমার এই লেখাটা কিছু গল্প-উপন্যাস-কবিতা-সিনেমা বিষয়ক তাত্ত্বিক এবং লেখাপড়া জানা বাবু টাইপ বটে, কিন্তু এর বাস্তব একটা দিক আছে। ধরুন রবীন্দ্রনাথ খুবই শক্তিশালী চিন্তক, যার কারনেই অনেকটা নেহেরু, প্রধানমন্ত্রী নেহেরু হয়েছেন, বা ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী গান্ধী হয়েছেন। সেটার একটা মৃত্যু আমরা দেখলাম।
৭|
০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:০৫
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
@কুতুব সাহেব: মূসা (আঃ
উম্মতের নাকি বেহেশতি মান্না-সালওয়া খাইতে খাইতে ও বিরক্তি লাগতো।
দুই বাংলার দুই দিদি কি জিনিস ছিলো এবার বুঝবেন। ![]()
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: ২৪ আগস্টের পরে আমাদের দেশের যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা তো আর পশ্চিমবঙ্গে হবে না। বরং স্বল্পমেয়াদে হয়তো ভালো কিছুই ঘটবে।
এর জন্য হয়তো মুর্শিদাবাদ বা অন্য কোনো এলাকার রহিম, আমিনা, আব্দুল কাদেরদের বড় মূল্য পরিশোধ করতে হবে, কিন্তু সেই খবর আমরা পাব না। আমরা শুধু উপরে যে উন্নতির কথা কুতুব সাহেব বলেছেন, সেসব খবর দেখে ভাবব, আমরা কেন পারলাম না!
৮|
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:১২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দফাদার @মমতাদির আর সামনে আশা নেই । শেখ হাসিনার ও নেই ।
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমারও তাই ধারনা।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৯
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: শুভেন্দু কি আমাদেরকে জল দেবে?