| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
মূগদা হাসপালে ডাক্তার দেখিয়েছি। সরকারি হাসপাতাল। ভিজিট মাত্র ১০ টাকা। শেখ হাসিনা দেশের মানুষদের জন্য এই হাসপাতাল করেছেন। যেহেতু সস্তা, তাই অনেক, অনেক রোগী হয়। ডাক্তাররা রোগী দেখতে দেখতে ক্লান্ত। বিধ্বস্ত। আমি দরিদ্র মানুষ। চালচুলা নেই। মেসে থাকি। বেকার। এজন্য সরকারি হাসপাতালে যাই। চিকিৎসা করাই এবং ফ্রি ওষুধও নিয়ে আসি। ফ্রি ওষুধ দিতে চায় না। তখন রিকোয়েস্ট করি। গরীব মানুষ স্যার। প্লীজ। এতে কাজ হয়। ওষুধ দেয়। সরকার নিয়ম করেছে, ফ্রি ওষুধ দিবে। অথচ আমাকে অনুনয় বিনয় করে চেয়ে নিতে হচ্ছে নাগরিক অধিকার। এই দেশে থকতে ইচ্ছে করে না।
সম্প্রতি আমার দুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ডায়বেটিস আর চোখের সমস্যা। ছোট লেখা একদম চোখে দেখি না। ঝাপসা লাগে সব কিছু। ডায়বেটিস হয়েছে। ডায়বেটিস খুব হারামী রোগ। তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। সামনে পছন্দের খাবার থাকলেও খেতে পারি না। প্রিয় বই হাতের কাছে পেলেও পড়তে পারি না। ঝাপসা লাগে। হ্যা চশমা পড়লে কিছুটা আরাম হয়। আমার চিরকালের অভ্যাস রোগ, শোক, অভাব, দু:খ-কষ্ট আমি সবার কাছ থেকে গোপন রাখি। কাউরে বলি না। নীলাকেও বলি না। আমার কোনো মন্দ কথা শুনলেই নীলার কষ্ট হয়। নীলা আমার প্রেমিকা ছিলো। বড় ভালো মেয়ে। শুধুমাত্র চোখে কাজল দিলেই নীলাকে দারুণ লাগতো! দেবী স্বরসতী আর নীলা দেখতে একই রকম। যেন তারা জমজ বোন।
হাসপাতালে যাই। লম্বা লাইন ধরে দশ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলাম।
ডাক্তারের রুমের কাছে গিয়ে দেখি, সেখানেও লম্বা লাইন। যাইহোক, লাইন ধরে এগিয়ে গেলাম ডাক্তারের কাছে। মহিলা ডাক্তার। বললেন, আপনার সমস্যা কি? আমি বললাম, চোখে সমস্যা। ছোট লেখা পড়তে পারি না। ডাক্তার মহিলা হাসলেন। সহজ সরল সুন্দর হাসি। বললেন, আমি চোখের ডাক্তার না। আমি ডায়বেটিস এর ডাক্তার। আমি স্যরি বলে, বললাম আমার ডায়বেটিস সমস্যা আছে। ওষুধ দেন। আমি অনুভব করি, আমার ডায়বেটিস সমস্যা বেড়ে গেলেই, চোখের সমস্যা বেড়ে যায়। ডাক্তার একটা টেস্ট দিলেন। আজকাল সব ডাক্তার টেস্ট দেয়। রিপোর্ট না দেখে কেউ কিছু বলতে পারে না। ডাক্তার, হাসপাতাল আর ওষুধ কোটি মানুষের ব্যবসা।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে হলাম। চারিদিকে কড়া রোদ।
মধ্যদুপুরে গরম একটু বেশিই থাকে। তাছাড়া সামনেই পহেলা বৈশাখ। এই কড়া রোদ! এই আকাশ কালো করে ঝুম বিষ্টি। সাথে ধমকা বাতাস। ব্যাপক বাতাসে আম গুলো ঝরে যায়। আমার গলা শুকিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এক বালটি পানি খেয়ে ফেলতে পারবো। দেখলাম, একলোক শরবত বিক্রি করছে। চিনি ছাড়া শরবত দিতে বললাম। শরবত মুখে দিয়ে দেখি, অতি ফালতু জিনিস। শুধু লেবু আর বিট লবন দিয়েছে। একটা সিগারেট খাওয়া দরকার। অনেকক্ষন ধরে সিগারেট খাই না। দরিদ্র হলেও আমি আবার কমদামী সিগারেট খেতে পারি না। বেনসন সিগারেট একটা বিশ টাকা। সারাদিনে দশ বারোটা লাগে। একটা সিগারেট ধরিয়ে ভাবছি কার কাছে যাবো এখন আমি! আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করে নেই! নীলা চলে যাবার পর, মুনা নামের একটা মেয়ের সাথে ভাব হতে শুরু করেছিল! পোড়া কপাল আমার! মুনা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলো!
একবার ছোট চাচাকে নিয়ে গেলাম, চেন্নাই। চাচার হার্টে সমস্যা।
হাসপাতালের নাম- ফরটিস মালার হাসপাতাল। সুন্দর হাসপাতাল। এখানে হার্টের ভালো চিকিৎসা হয়। মালোশিয়া, ইন্দোনেশিয়া আর চীন থেকেও এখানে লোকজন চিকিৎসা নিতে আসে। চেন্নাইয়ের ভাষা না বুঝলেও সমস্যা নাই। দোভাষী আছে। চাচা সারাদিন শুয়ে থাকে। আমি চেন্নাই শহর ঘুরে বেড়াই। বড় ভালো লাগে। সুন্দর শহর। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। কিন্তু ওদের খাবার খেয়ে আরাম পাই না। এক রেস্টুরেন্টে ভাত খেলাম। আমাকে ভাত দেওয়া হলো, কলা পাতায়! চেন্নাই শহর আর মানুষ গুলোকে কেমন যেন আপন আপন লাগে। এর কারণ হতে পারে সাউথ ইন্ডিয়ান অনেক মুভি দেখেছি। মালায়ালাম আর তেলেগু মুভি গুলো আমার ভালো লাগে। আসলেই এরা ভালো মুভি তৈরি করে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনা ফিরে আসলে শাহেদ জামালের একটা গতি হবে এবার । যে হারে মোসাহেবি করেই চলেছে ।