| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন। স্কুলে ৮ ক্লাশ পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার পর তার নতুন নাম হলো- আনন্দস্বরূপ ব্রহ্মচারী। এরপর আরেকবার তার নাম বদল হয়- 'স্বামী আনন্দাশ্রম'। প্রেমানন্দ লেখাপড়ায় মন না দিয়ে কেন সন্ন্যাসী হতে চাইলেন সেটা বুঝতে পারলাম না। দারিদ্রতার কারণে? অবশ্য তার দাদা সন্ন্যাসী ছিলেন। এজন্য হয়তো প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হতে চেয়েছেন। যাইহোক, সন্ন্যাসী হলে ধ্যান করতে হয়। প্রেমানন্দ বারাণসীতে গঙ্গার তীরে পিপল গাছের নিচে নিয়মিত ধ্যান করতেন। ধ্যান কি মেডিটেশন? না মেডিটেশনের চেয়ে অন্য রকম কিছু? সন্ন্যাসী হতে হলে গুরু ধরতে হয়। গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিতে হয়। হিন্দুরা গঙ্গা তীরে যায় সন্ন্যাসী হতে। মুসলমানরা যায় মাজারে। হিন্দুরা রাম নাম জপে। মুসলমানরা আল্লাহর নাম জপে।
এখন সারা বিশ্ব থেকে মানুষ প্রেমানন্দের বৃন্দাবনের আশ্রমে আসে।
প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের নাম- 'শ্রী রাধাকেলী কুঞ্জ আশ্রমে'। প্রেমানন্দ ভগবান কৃষ্ণ এবং রাধা রানীর ভক্ত। প্রেমানন্দের ভক্ত সংখ্যা লাখ লাখ। একজন সন্ন্যাসী কি করে এতটা জনপ্রিয় পায়? বর্তমানে প্রেমানন্দের জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। সিনেমার নায়ক নায়িকা, ক্রিকেট খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী অর্থ্যাত সমাজের এলিট শ্রেনীর লোকজন প্রেমানন্দ বাবার কাছে ছুটে আসেন। প্রেমানন্দের তো অলৌকিক ক্ষমতা কিছু নেই। সে অন্ধকে চোখ ফিরিয়ে দিতে পারে না। কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করে দিতে পারেন না। তবু কেন লোকজন তার কাছে যায়? প্রেমানন্দ হাসিখুশি মানুষ। খুব হাসেন। কেউ তাকে কিছু বললে- মন দিয়ে শুনেন। কেউ সমস্যা নিয়ে এলে, বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন। প্রেমানন্দকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো- বর্তমান যুগ কিভাবে চলছে? বলেন, তিনি বলেন- একজন যত মিথ্যা বলবেন কিংবা অসৎ আচরণ করবেন, যত নোংরা ব্যবহার করবেন, তিনিই তত বেশি আচরণে পারদর্শী বলে বিবেচিত হবেন।
প্রেমানন্দ দীর্ঘদিন ধরে কিডনী সমস্যায় ভূগছেন।
নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে। অনেক ভক্ত তাকে কিডনী দিতে চেয়েছেন, কিন্তু প্রেমানন্দ তাতে রাজী নন। তবু প্রতিদিন ভোরবেলা ভক্তদের সাক্ষাত দেন। তিন মাইল হাঁটেন। ভক্তদের কথা শুনেন। ভক্তদের সাথে দেখা সাক্ষাত ও সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য প্রেমানন্দ কোনো হাদিয়া নেন না। অনেকে প্রেমানন্দকে ঈশ্বরের অবতারও মনে করেন। প্রেমানন্দ বিয়ে করেননি। কোনো নারীর সাথে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াননি। তিনি রাধা বল্লভ ঘরানার অনুসারী। তার মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু গুন আছে, নইলে এত লোক তার ভক্ত হয় কি করে! ঘর থেকে পালিয়ে যেতে একসময় আমারও মন চেয়েছিলো। পীর বাবা হতে চেয়েছিলাম। সাহসে কুলায়নি। জাহাজের খালাসিও হতে চেয়েছিলাম। পারিনি। সব কিছুতেই আমার ব্যর্থতা।
ভারতে ১৬ বছরের এক ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
বাবা মায়ের জন্য একটা চিঠি লিখে গেছে। চিঠিটা এই রকমঃ ''জীবনের আসল অর্থ বুঝতে পেরেছি আমি। আমি প্রেমানন্দ মহারাজের সেবা করতে এবং তাঁর শিষ্য হতে বৃন্দাবনে যাচ্ছি। সঙ্গে করে তোমার ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে যাচ্ছি।'' সহজ সরল সুন্দর চিঠি লিখেছে ছেলেটা। যাইহোক, প্রথম জীবনে প্রেমানন্দ বারাণসীর গঙ্গাতীরে ধ্যান করতেন। সন্ন্যাসী ও সাধুদের সংস্পর্শে থেকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ হন। পরে বৃন্দাবনে এসে স্থায়ী আশ্রম গড়ে তোলেন। তাঁর মূলমন্ত্র হল- ভালোবাসা, সাধারণ জীবনযাপন আর ভগবানের প্রতি নিজেকে সম্পূর্ণ সমপর্ণ। প্রেমানন্দ সুস্থ হয়ে যাক। মানুষের সেবা করুক।
আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দের তিনটা বানীঃ
১। কেউ তোমায় দুঃখ দিতে পারে না। এটি শুধু মাত্র তোমার কর্মের ফল, যা সেই ব্যক্তির দ্বারা পাচ্ছ। তাই সবসময় ভালো কর্ম করা উচিত।
২। বাবা-মার উচিত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করা। এতে শিশু বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে। শিশুকে বলুন কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল। তার সঙ্গে সময় কাটান।
৩। আজ তুমি সফল, কারণ অতীতে তুমি ভাল কাজ করেছিলে। তাই এখন ঈশ্বরের নাম জপ করা শুরু করো।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬
আবু সিদ বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন, অভিনন্দন !