| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের দেশের বাবা মা বয়স হয়ে গেলে অসহায় হয়ে পড়েন। কারন ছেলেমেয়েরা বিয়ে করার পর বদলে যায়। তখন তারা বাবা মা নিয়ে ভাবেন না, ভাবেন নিজের সংসার নিয়ে। বাবা মা অবহেলা পেতে শুরু করেন। সব ছেলেমেয়ে অবহেলা করেন না, তবে অনেকেই করেন। এই যেমন আমাদের বাসায় দুজন এসেছেন। অথচ তাদের ছেলেমেয়ে এই শহরেই থাকে। তারা দরিদ্র নয়। অথচ বুড়ো বাবা মা ছেলে-মেয়ের বাসায় উঠেন না। ইহা দুঃখজনক। যদি আমার বাবা মা গ্রামে থাকতেন, এবং আমার স্ত্রী বলতো- তারা বাসায় আসতে পারবে না। আমি নিশ্চিত সুরভিকে বাসা থেকে বের করে দিতাম। এমন স্ত্রী আমার দরকার নাই।
ছেলে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন-
আমার বাসায় এসো না। আমার বউ তোমাদের পছন্দ করে না। তোমরা এলে আমার সংসারে অশান্তি হবে। পারলে আমি তোমাদের কিছু টাকা পয়সা পাঠিয়ে দিবো। মেয়ে বলেছে, আমি থাকি শ্বশুর বাড়ি। এখানে তোমরা এসে থাকলে ভালো দেখায় না। আমি ফোনে তোমাদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিবো। বুড়ো বাবা মা এখন গ্রামে থাকেন। তাদের একটা খরচ আছে। সারা জীবন তারা চাকরি করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছেন। খাইয়ে পড়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ছেলেমেয়েদের শখ আহ্লাদ পূরন করেছেন। অথচ আজ বাবা-মা অসহায়। ছেলেমেয়ে সাথে নেই। খোঁজ খবর নেয় না। খোঁজ নিতে গেলেই টাকা দিতে হবে। এই টাইপ ছেলেমেয়েদের আমি কুৎসিত গালি দিতে চাই। এমনকি থাপ্পড়ও দিতে চাই। নাটক সিনেমাতে এরকম হয় জানি। বাস্তব জীবনে এরকম দেখতে হবে, সেটা আমার কল্পনার বাইরে।
আমরা চার ভাই বাবা-মাকে কোনোদিন অবহেলা করিনি।
আমার মা উন্নত জীবন যাপন করছে। সে সময় মতো ডাক্তার দেখাচ্ছে। এক মাসের ওষুধ এক সাথে পাচ্ছে। হাতে দামী মোবাইল। ঘরে বিশাল সাইজের এক টিভি। মাকে ঘরের কোনো কাজ করতে হয় না। সময় মতো তার ঘরে খাবার চলে আসে। মা সারাদিন শুয়ে বসে আরাম করে। আমি প্রতিদিন মা'র ঘরে যাই। তার সাথে গল্পগুজব করি। উনি মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। অথবা টিভিতে পুরোনো দিনের গান শুনছে। আমি মাকে বলি- তেহারি খেতে ইচ্ছা করছে। মা টাকা দেয়। আরেকদিন বলি- কাবাব আর নান রুটি খেতে ইচ্ছা করছে। মা টাকা দেয়। আমার অন্য ভাইরা এমনটা বলে না। কিন্তু আমি বলি। কারন এরকম বললে মা খুশি হয়। গতকাল খেয়েছি চাপ আর পোলাও। আমাদের এখানে একটা দোকান আছে। নাম বোবা বিরানী।
যাইহোক, আংকেল আন্টি আমাদের বাসায় আসেন।
উনারা বাসায় এলে আমার ভালো লাগে। উনাদের সাথে আমি গল্প করি। উনারা যখন চলে যান, আমি উনাদের বাসে উঠিয়ে দেই। পদ্মাসেতু হয়েছে। যাতায়াতের অনেক সুবিধা হয়েছে। এবার আংকেল আন্টি গ্রামে গিয়ে দেখেন- কে বা কারা যেন তাদের ৫০টা দেশি মূরগী বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে। একজন লোক ছিলো। সে দিনের বেলা কোনো কাজে বাইরে গেছে। এই সুযোগে কেউ খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে। সেই বিষ মিশানো খাবার মূরগী খেয়েছে এবং মরে গেছে। ভাবা যায় ৫০ টা দেশি মূরগী! একটা মূরগী ৫০০শ' টাকা করে হলে ২৫ হাজার টাকা। তারা দুজন হাঁস মূরগী পেলে জীবনযাপন করেন। মানুষের মানসিকতা এমন কেন? মূরগীকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে হবে! পত্রিকাতে এরকম নিউজ প্রায় আসে। বিষ প্রয়োগ করে পুকুরের সব মাছ মারা গেছে। ধানক্ষেত নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কলাগাছ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫
রাজীব নুর বলেছেন: চাচাজ্বী আসসালামু আলাইকুম।
২|
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম ।
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬
রাজীব নুর বলেছেন: শুকরিয়া ছোট ভাই।
৩|
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫০
নাহল তরকারি বলেছেন: বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা আর ৫০টি মুরগি বিষ দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা সত্যিই কষ্টের। বাবা-মায়ের শেষ বয়সে শুধু টাকা নয়, তাঁদের ভালোবাসা, সময় ও পাশে থাকা দরকার। আর অন্যের পরিশ্রম ও জীবিকার প্রতিও আমাদের মায়া থাকা উচিত। আসলে দুটো ঘটনাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা।
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯
রাজীব নুর বলেছেন: হুম।
৪|
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৫
নাহল তরকারি বলেছেন: আমার প্রিয় পেপার ওয়ালা ওসমান ভাই এর সাথে অনেকদিন দেখা হয় না। আপনি ভালো কথা জিগাইছিলেন। ২০২০ সালের সরে উনাকে আর পেপার নিয়ে ঘুরতে দেখি নাই। তবে ২০২২ সালে মনে হয় উপজেলা পরিষদ এ পেপার বিলি করতে দেখছিলাম। ছয়টা বছর হয়ে গেলো, বেডার লগে দেখা নাই। আজই ওসমান ভাই কে একটি চিঠি লিখবো।
৫|
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪
আহমেদ রুহুল আমিন বলেছেন: আগে ( আশি-নব্বই দশকেও) আমরা শুনতাম কলকাতা বা পশ্চিমবাংলায় শহরে বসবাসকারী মানুষদের অত্যন্ত ফাস্ট লাইফ । কলকাতা শহরে আপন বড়ভাইয়ের বাসায় বাবা-মা কিংবা ছোটভাইকে টাকা দিয়ে পেইংগেষ্টের মতো থাকতে হতো । মাসের ৩০ তারিখে বাবা-মা কিংবা ছোটভাইকে নোটিশের মতো বলতো-“তুমি মাসের খাবারের যে টাকাটা দিছ তা আরো হয়তো দু’দিন চলবে, কথাটা মনে রেখো” । এখন সেই ফাস্ট লাইফ আমাদের দেশেও আমদানী হয়েছে ।গ্রামীণ সমাজের মানুষের মধ্যে পুকুরে বিষ দেয়া কিংবা অন্য ক্ষতি সাধন করা আমাদের দেশে আগেও ছিল এখনও আছে । কিছু কিছু মানুষ নামের পশু অন্যের ক্ষতি করে আনন্দ পায় কিংবা হিংসা বিদ্বেষ নিয়ে মানুষের ক্ষতি করে । তবে, তা সংখ্যায় অতি নগন্য, বেশীরভাগই ভালো মানুষ শহরের তুলনায় গ্রামেই বসবাস করে । আপনার প্রতিদিনের ডায়েরী পড়তে ভালই লাগে ।
৬|
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:৪৪
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আজকালকার পোলাপান বাবা মাকে ভালোবাসে না।
৭|
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮
কামাল১৮ বলেছেন: আমি দেশে গেলে আপনার সাথে দেখা করার চেষ্টা করবো।আমার দৃষ্টিতে আপনি একজন ভালো মানুষ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
রাজীব, আপনার “জীবনের গল্প-১০৩” পড়ে মনে হলো, এটি শুধু জীবনের একটি গল্প নয়—আমাদের সমাজের একটি নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বৃদ্ধ বাবা-মা সারা জীবন সন্তানদের জন্য ত্যাগ করেন, অথচ বয়সের ভারে যখন নিজেরাই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই সন্তানদের কাছে তাঁরা বোঝা হয়ে যান—এটাই লেখাটির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক।
আপনার লেখায় যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, তা হলো—বাবা-মাকে ভালো রাখা শুধু অর্থ দিয়ে দায়িত্ব পালন করা নয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা, কথা বলা, সময় দেওয়া, তাঁদের প্রয়োজন ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া—এসবও ভালোবাসার অপরিহার্য অংশ। তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে গল্প করো, তাঁর কাছ থেকে আবদার করো, তাঁকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করো—এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই আসলে পারিবারিক ভালোবাসার বড় প্রকাশ।
আর একটি বিষয়ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা যখন সন্তানকে বড় করেন, তখন তাঁরা হিসাব করে ভালোবাসেন না। কিন্তু সন্তান বড় হয়ে অনেক সময় বাবা-মায়ের যত্নকে দায়িত্ব বা আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখতে শুরু করে। এখানেই সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য হারিয়ে যায়। বাবা-মায়ের শেষ বয়সটুকু যেন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে একাকী সময় না হয়—এটা সন্তানদের মনে রাখা উচিত।
আপনার লেখার শেষের ৫০টি দেশি মুরগি বিষ দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনাটিও মানুষের আরেক ধরনের নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়। একটি প্রাণী, একটি গাছ, একটি পুকুরের মাছ কিংবা অন্যের সামান্য সম্পদ—এসবের প্রতি অকারণ ক্ষতি করার মানসিকতা শেষ পর্যন্ত মানুষের নিজের মানবিকতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সব মিলিয়ে আপনার লেখাটি আমাকে একটি কথাই মনে করিয়ে দিল—মানুষের বড় পরিচয় তার সম্পদ, শিক্ষা বা সামাজিক অবস্থানে নয়; তার বড় পরিচয় হলো সে দুর্বল, অসহায় ও নির্ভরশীল মানুষের প্রতি কেমন আচরণ করে। বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব এবং অন্যের সম্পদের প্রতি সম্মান—এই দুটি জায়গায় মানবিকতা ধরে রাখতে পারলেই সমাজটা অনেক সুন্দর হতে পারে।
লেখাটি ভালো লাগল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামাজিক বাস্তবতাকে মিলিয়ে লেখার কারণে এর আবেদন আরও বেড়েছে।