নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ

১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,০

পেঠ এর ভিতর মাথা ঘুরায়

জিবন মানেই কিছু না!!!

পেঠ এর ভিতর মাথা ঘুরায় › বিস্তারিত পোস্টঃ

গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া স্মারকলিপির

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১:৫৩

গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া স্মারকলিপির কপি---------



মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,



গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে বসন্তের অনাবিল শুভেচ্ছা জানবেন।



যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দেশবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলাম এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র শিবির নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মাসে যে তীব্র স্ফ‚লিঙ্গের সূত্রপাত হয়, মহান স্বাধীনতার মাস উত্তাল মার্চ পেরিয়ে আজ তা ঐশ্বর্যমণ্ডিত চেতনায় ঋদ্ধ এক সর্বব্যাপী গণ আন্দোলন। এ গণ আন্দোলনের হৃদয় উৎসরিত সংগ্রামী শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য। আপনি নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন, সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করা, স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ করা ও যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সকল আর্থিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিসহ ৬ দফা দাবিতে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে এ আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। গণজাগরণ মঞ্চের এ আন্দোলনের উদ্বেল অনুপ্রেরণা একাত্তরের মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধ। তারুণ্যের এ জাগরণ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে আজ ঐক্যবদ্ধ করেছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববাসীর সামনে বাংলার মানুষের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিলো, সেই পরিচয় আজ আবার এক নতুন মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে। দেশের সকল জেলায় গণজাগরণ মঞ্চের অহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যে জনমত সংগঠিত হয়েছে, তার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে গত ৩১ মার্চে মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের কাছে জমা দেয়া এক কোটি সাত হাজার সাতশত একষট্টিটি স্বাক্ষরে। এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশ ও দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে কোটি কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একদিকে যেমন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছে, অন্যদিকে এ দাবি পূরণে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের আকাক্সক্ষার মূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। এ আকাক্সক্ষা যৌক্তিক; কেননা, ইতিহাস পাঠে জানা যায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটি প্রথম শুরু করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু পঁচাত্তরের কালো অধ্যায়ের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। জাতির পিতাকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর অভিভাবকহীন বাংলাদেশ চলে যায় ভয়াল মেঘমালার নিচে। হিং¯্র হায়েনাদের নখরে বিদ্ধ হয় বাহাত্তরের পবিত্র সংবিধান, শ্বাপদেরা বন্ধ করে দেয় বঙ্গবন্ধুর শুরু করে যাওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াটি। কেবল তাই নয়, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার লাভ করে যুদ্ধাপরাধীরা; ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল পরিণত হয় শকুনের অভয়ারণ্যে। এরপর দীর্ঘ একটি সময় জলপাই রঙের দুঃস্বপ্নে কেটে যায়; বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি আর সংগ্রামের দীর্ঘ ব্যাপ্ত সূর্যমুখী ক্যানভাস ঢেকে যায় কালো পর্দায়।



নব্বই দশকের প্রথম গোলার্ধে শহিদ জননী জাহানারা ইমাম পুনরায় শুরু করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণআদালত। কিন্তু তৎকালীন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো করেই নি, উল্টো নাগরিকত্ব প্রদান করে পিশাচ গোলাম আযমকে, অপমান করে বাঙালির আকাক্সক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সুস্পষ্ট ঘোষণা উচ্চারিত হয়। আমরা তরুণ প্রজন্ম ব্লগ ও ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে সোচ্চার কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছিলাম, তারই সুতীব্র প্রতিফলন নির্বাচনের মাধ্যমে মহাজোটের সরকার গঠন। ইশতেহারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মহাজোট সরকার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালের পঁচিশে মার্চ প্রথম ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বাংলার মানুষের জন্য এ ছিলো এক অনন্য আশার আলো। কিন্তু পাঁচ ফেব্রæয়ারি যখন রাজাকার কাদের মোল্লার রায় ঘোষিত হয়, মুষড়ে পরে তরুণ সমাজ। সেই আশাহত, বেদনাদগ্ধ অনুভূতির প্রকাশই ঘটে গণজাগরণ মঞ্চের এই সূর্যমুখী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।



আপনি জেনে থাকবেন, এ আন্দোলনের শুরুতেই মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার বরাবর ছয়দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। এ প্রেক্ষিতেই আপনার নেতৃত্বে সকল সংসদ সদস্যগণ একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন, অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তারুণ্যের এ আন্দোলনকে। গণজাগরণ মঞ্চের দাবির প্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিশেবে জামায়াতকে অভিযুক্ত করার বিধান যুক্ত করে স্বল্পসময়ে আইনের সংশোধন করে সরকার যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রবাদপ্রতিম। গণজাগরণ মঞ্চ সরকারের কাছে এ বিষয়ে কৃতজ্ঞ।



আমাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি। জামায়াতের সকল আর্থিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপের আওতায় আনার দাবি আমাদের ছয় দফায় অত্যন্ত জোরালো। যে রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবিনাশী সারথি, যে রাজনৈতিক দল ঐতিহাসিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সাহসী নেতৃত্ব প্রদানকারী, যে রাজনৈতিক দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু ও তা সফলভাবে সমাপ্তের উদ্যোগে কর্মতৎপর; সঙ্গত কারণেই এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সকল মানুষের নিবিড় প্রত্যাশা ছিলো ইতোমধ্যেই এ রাজনৈতিক দল কর্তৃক গঠিত সরকার জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া আরম্ভ করবে। আমরা জানি, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষ। এ বিবেচনা থেকেই গত একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মহাসমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়েছিলো, সরকার যেনো মহান ম্বাধীনতা দিবসের আগেই এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া আরম্ভ করে।



কিন্তু আমরা গভীর বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি। আমাদের চিন্তার প্রবাহে যেনো নেমে আসে গভীর রাত্রির নিস্তব্ধতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জানেন, তারুণ্যের আবেগ অনুভূতির তীব্র জোয়ার যেমন নজরুল-সুকান্তের কবিতার উদ্দাম ¯্রােত, তেমনি তাতে নিবিড় মিশে থাকে রবীন্দ্রকাব্যের সৌম্য চেতনাও। তারুণ্যের প্রকাশভঙ্গী তাই হয়তো কোনো ব্যাকরণ মানে না। প্রজন্মের এ আন্দোলনের যোদ্ধারা তাই আপনাকে কেবল রাষ্ট্রের নির্বাহি বিভাগের প্রধান হিশেবেই দেখেন নি, দেখেছেন একজন সংগ্রামী নারী মূর্তি হিশেবে, অনুভব করেছেন একজন মায়ের সহশীলতার মতোই। তাই তারুণ্যের আবেগ-আশা-আকাক্সক্ষা যেমন আপনার কাছে তুলে ধরেছেন নির্দ্বিধায়, তেমনি হয়তো দ্রোহ ও শ্রদ্ধার দাবি থেকেই তারুণ্য তার অভিমানকেও প্রকাশ করেছেন অকপটে। সন্তানের সমস্ত অনুভূতি তো কেবল মায়ের কাছেই হৃদয় খুলে প্রকাশ করা যায়। দেশের কোটি তরুণের আবেগে উচ্চারিত, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দৃপ্ত তারুণ্যের এ দাবিটি যখন মহান স্বাধীনতা দিবসের আগেও বাস্তবায়ন করা হলো না, তখন স্বভাবতই অভিমানের একটি ¯্রােত লক্ষ্যণীয় ছিলো। আজ কোটি তরুণ প্রায় দুই মাস ধরে সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছেন। দাবিটি আপনার কাছেই, কারণ তারুণ্যের হৃদয়প্রসূত দাবির প্রতি আপনার সমর্থন আমরা আগেও দেখেছি। দেখেছি, কীভাবে যুদ্ধাপরাধীদের আপনি কঠোর হস্তে, অবিচল দৃঢ়তায় আইনের মুখোমুখি করেছেন। সকল অন্যায় আর বাংলাদেশ বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে আপনার পর্বতসম অবস্থান কেবল রাজনৈতিকভাবেই নয়, পারিবারিকভাবেও তুলনারহিত। তারুণ্য মনে করে, সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি বাস্তবায়নে আপনি ছাড়া আর কোনো যোগ্য অবস্থান আমাদের নেই। তাই আপনার কাছেই গণজাগরণ মঞ্চ স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, জামাত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারুণ্য তার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। গণজাগরণ মঞ্চের যোদ্ধারা কোনোভাবেই দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না।



এ আন্দোলন শুরু হবার পুর্বে ঘাতক জামায়াত-শিবির চক্র খোদ রাষ্ট্রকে ও তার আইন-প্রশাসনকে অগ্রাহ্য করে আক্রমনে উদ্ধত হয়েছিলো। কী নৃশংস তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিলো এই হায়েনা গোষ্ঠী, তার প্রমাণ গণমাধ্যমে এখনও রয়েছে। আজও যখন পুলিশ প্রশাসন আক্রান্ত হয় এই যুদ্ধাপরাধী ও দেশবিরোধী জামাত-শিবির চক্রের হাতে, তখন দেশপ্রেমিক মানুষ উদ্বিগ্ন হয়। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে যখন যুদ্ধাপরাধীদের দল ‘গৃহযুদ্ধের’ হুমকি দেয়, তখন তারুণ্য মনে করে, আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের সময় এসেছে। গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা সে মুক্তিযুদ্ধটি শুরু করেছি। আপনি জানেন, এ যুদ্ধে আমরা রাজীব হায়দার, জাফর মুন্সী, বাহাদুর মিয়া, রাসেল মাহমুদ, জগৎজ্যোতি, তক্বী, মামুন ও মিরাজের মতো সহযোদ্ধাদের হারিয়েছি। সহযোদ্ধার লাশ কাঁধে নিয়েও আমরা অহিংস ছিলাম, অহিংসতার মধ্য দিয়েই আন্দোলন চালিয়ে নিয়েছি। এ অহিংস আন্দোলন দিয়েই আমরা ঘাতকচক্র প্রতিরোধের ডাক দেই। দেশের অধিকাংশ স্থানে সচেতন মানুষ এই জামাত-শিবিরচক্রকে বিতারিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। তারুণ্য এখনও রাজপথে দাবি আদায়ে সোচ্চার। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। জামাত-শিবিরের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো।



বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে কীভাবে লড়াই করে বাঁচতে হয়। একাত্তরের পহেলা মার্চ থেকে চব্বিশে মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যে অসহযোগ অহিংস আন্দোলন করেছেন, তার উজ্জ্বল আলো আমাদের এ অহিংস আন্দোলনের উৎস দ্যুতি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির জাতীয়তাবাদ উন্মেষের প্রতিটি আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কতো দৃঢ় আর অবিচল হয়ে লড়াই করতে হয়।



আমরা আপনার কাছ থেকে দেশবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী সংগঠন জামাত-শিবিরকে আইন করে নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট ঘোষণা আশা করছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সংগঠন পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলো, গণহত্যা-নারী নির্যাতনে অংশ নিয়েছিলো, হত্যা করেছিলো এ দেশের বুদ্ধিজীবী সূর্য সন্তানদের, সেই দলটিই মুক্তিযুদ্ধের পর এ দেশে অপরাজনীতি ও সন্ত্রাস-নৈরাজ্য চালিয়েছে; এখনও চালাচ্ছে। আপনি অবিলম্বে এদের আইন করে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিন। আপনি তারুণ্যের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রস্থলে আছেন, তাই একমাত্র আপনার কাছেই এভাবে আমরা দাবি জানাতে পারি। আপনি জানেন, জামাত-শিবির নামের এই জঞ্জাল সংগঠনটি নানা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপপ্রয়াস অতীতেও করেছে, এখনও করছে। এ হায়েনা গোষ্ঠী কীভাবে ২০০১ এর নির্বাচনের পর পুরো বাংলাদেশকে পরিণত করেছিলো মৃত্যুপুরীতে, সভ্যতার দীপ্র দুপুরে নামিয়ে এনেছিলো মধ্যযুগীয় অন্ধকার- তার কোনো কিছুই আপনার অজানা নেই। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে আমরা চাই, এ মানবতাবিরোধী সংগঠনটি নিষিদ্ধ হোক; মুক্তিযুদ্ধের শাশ্বত চেতনায় শাণিত যে বাংলাদেশ, তাতে কোনো রাজাকার সংগঠনের ঠাঁই নেই। কারণ এরা সকল অপকর্মের, সকল নৈরাজ্যের মূল কারণ। আপনার কাছে আবারও জোর দাবি জানাচ্ছি, আপনি এই জামাত-শিবিরকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধের জন্য অবিলম্বে ঘোষণা প্রদান করুন।



মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের পেছনে বাঙালির ঐশ্বর্যমণ্ডিত ইতিহাসের খেরোখাতা, আমাদের কাঁধে আমাদের সহযোদ্ধাদের লাশ, আমাদের হৃদয়ে সাতই মার্চের সেই অখণ্ড অনুপ্রেরণা। আর আমাদের সামনে আপনি, রাষ্ট্রের নির্বাহি বিভাগের প্রধান। আমরা আপনার কাছেই বিনয়ের সঙ্গে জোর দাবি জানাচ্ছি- জামাত-শিবিরের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধের জন্য আপনি ঘোষণা প্রদান করুন, তাদের নিষিদ্ধ করুন।



আমরা কথা দিচ্ছি, যুদ্ধাপরাধীমুক্ত, জামাত-শিবিরমুক্ত যে অনন্য বাংলাদেশ হবে, আমরা আমাদের সমস্ত মেধা-শ্রম ও শক্তি দিয়ে সেই বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিশেবে গড়ে তোলার জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করবো।



আপনি নিশ্চিত জানবেন, যে তারুণ্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে লালন করে, যে তারুণ্য আকাশ বিদীর্ণ করে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেয়; সে তারুণ্য কখনও মিথ্যে বলে না। জামাত-শিবিরমুক্ত সেই শাশ্বত বাংলাদেশে আমরা শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজয় মিছিলটি করবো। তারুণ্যের সেই মিছিলে আপনিও থাকবেন শিখা অনির্বাণের মতো ধ্রব আর অবিনাশী হয়ে।



জয় বাংলা।



ডা. ইমরান এইচ সরকার

মুখপাত্র, গণজাগরণ মঞ্চ

২১ চৈত্র, ১৪১৯

৪ এপ্রিল, ২০১৩

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১:৫৮

এসএমফারুক৮৮ বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৃথা যেতে পারে না।

২| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৩:০২

নন্দনপুরী বলেছেন: হে আল্লাহ..........ধর্ম ব্যাবসায়ী শিবির ও নাস্তিক ব্লাগারদের হাত থেকে তুমি দেশ ও ইসলামকে রক্ষা কর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.