| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৮ই ফাল্গুন
আমি মানুষ না। কিন্তু কি তাও জানি নাহ ...।
গত শনিবার ১২ই জানুয়ারী(২৮শে পৌষ) সামু ব্লগারদের মানব বন্ধন কর্মসূচী ছিল ধর্ষণের প্রতিবাদ স্বরূপ। ব্যক্তিগত কাজের জন্য আমি ওই কর্মসূচীতে অংশ নিতে পারিনি। ওই দিন রাজশাহীতে থাকায় আমি নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদরত ব্লগারদের দেখতে পাই।
সামুকে এবং উপস্থিত ব্লগারদের আমি ধন্যবাদ জানাই। একই সাথে আমি এটাও বলতে চাই যে, ধর্ষণ বিষয়টা আমাদের সমাজের রন্ধ্রে প্রবেশ করে ফেলেছে। এর জন্য দায়ী কে, তা বের করার জন্য অনেক ব্লগারই অনেক রকম যুক্তি দেবার চেস্তা করেছেন। তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আমি বলতে চাই যে, আমরাই কি আমাদের এই সমাজ বাবস্থার জন্য দায়ী নই? প্রতিদিন খবরের কাগজ খুলেই তো আমরা দেখি কোনও এক হতভাগিনী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দিনের পর দিন আমরা মুখ বন্ধ করে থেকেছি। ততদিন পর্যন্ত আমরা মুখ খুলিনি যতক্ষণ না দিল্লিতে পারামেডিক্যালের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয় আর ভারতের গণমাধ্যম ও জনতা সোচ্চার হয়। আমাদের টনক নড়ে যখন টাঙ্গাইলে আরেকটি ধর্ষণ সংঘটিত হয়। অথচ এক ডাক্তার কর্মরত অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হলেও আমরা চুপ থেকেছি। আর গত কয়েক সপ্তাহে ধর্ষণের খবর যতগুলি বেরিয়েছে তার অধিকাংশই পুরনো যা এতদিন লোকলজ্জার ভয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। সবাই কি একবার ভাবে দেখেছি যে আমরা- “হুজুগে বাঙালী” কথাটাকে আবারো উস্কে দিচ্ছি। আমরা যদি আগে থেকেই সোচ্চার হতাম তবে কি রসু মিয়ারা এই বাংলায় জন্ম নিতে পারত? দোষটা কী আমাদের কিছুই নেই?
ধর্ষণের কারন হিসাবে কেউ দায়ী করে আসছেন মেয়েদের শালীনতাহীন পোশাককে, কেউবা দোষ দিচ্ছেন পুরুষকে তার অবাধ্যতার জন্য। আমি দুই পক্ষেই সমান বিশ্বাসী, কারন আমার মতে এক হাতে কখনো তালি বাজে না। তবে আমি একই সাথে এটাও বলতে চাই যে, সামগ্রিকভাবে আমরা কি ব্যর্থ নই? আমরা কি আমাদের মূল্যবোধের পরিমাপকে পিছিয়ে যাইনি?
আজ আমাদের ফ্যাশান দুনিয়ার দিকে তাকালে আমরা কী পাশ্চাত্যের প্রভাব লক্ষ্য করিনা? টিভি চ্যানেলের দৌরাত্যের কথাতো বলাই হচ্ছে। কিন্তু তবু কি আমরা বিদেশি চ্যানেলের বস্তা পচা সিরিয়াল দেখা বন্ধ করতে পেরেছি? উল্টো নতুন চ্যানেলতো সংযুক্ত হচ্ছেই, উপরন্তু আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়িকে বিকৃত করে ফেলছি। এইখানে একটা ছবি দিলে হয়ত ভালো হত, কিন্তু সেটা কি পাঠক কল্পনা করতে পারছেন না?
বিষয়টা এমন আকার ধারণ করেছে যে, “সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষধ দেবো কোথা?”
কিন্তু আমি বলতে চাই যে, দেহের রোগ ঔষধে নিরাময় যোগ্য, কিন্তু মনের রোগের ঔষধ পাব কোথায়? আমরা যদি নিজেরাই সতর্ক না হই তবে এমনটা চলতেই থাকবে। যেন কোনও পর্বের হিসাব বিহীন কোনও ধারাবাহিক। আজ যদি আমরা আবারো এই প্রতিবাদের পর থেমে যাই তবে যা ছিল তাই থাকবে। আবার একটা ধর্ষণ ঘটনার পর আবার আমরা লিখব। কিন্তু তাতে কী কোনও ফল হবে?
আমাদের কোথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতে হবে। তবেই সমাজ থেকে ধর্ষণের মূলোৎপাটন সম্ভব।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:১৮
৮ই ফাল্গুন বলেছেন: সকালের টাটকা ধইন্ন্যাটা আপনাকেই দিলাম। ![]()
২|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:১২
আরজু পনি বলেছেন:
আপনার কি মনে হয় যখন আকাশ সংস্কৃতির কালো প্রভাব ছিল না, তখন ধর্ষনের মতো ঘটনা ঘটতো না!?
অবশ্যই ঘটতো। সেগুলো আমাদের নজরে আসতো না।
সচেতনার বিকল্প নেই।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:২৯
৮ই ফাল্গুন বলেছেন: কিন্তু তাই বলে কি আমরা আকাশ সংস্কৃতির কালো প্রভাব মেনে নিব? সমস্যা হল আমরা ছুরির মন্দ ব্যাবহারটাই করি, ভালর দিকে আমাদের নজর কম।
আমাদের গাফিলতির ফলই পাচ্ছি আমরা।
সচেতনতার বিকল্প নাই।
ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:১৪
আমিনুর রহমান বলেছেন: আজ যদি আমরা আবারো এই প্রতিবাদের পর থেমে যাই তবে যা ছিল তাই থাকবে। আবার একটা ধর্ষণ ঘটনার পর আবার আমরা লিখব। কিন্তু তাতে কী কোনও ফল হবে?
আমাদের কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতে হবে। তবেই সমাজ থেকে ধর্ষণের মূলোৎপাটন সম্ভব।
পোষ্টে +++