নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনামহীন ব্লগের শিরোনাম হয় না।

একাকী চলছি জীবনের বন্ধুর পথে, সঙ্গীহীন।

৮ই ফাল্গুন

আমি মানুষ না। কিন্তু কি তাও জানি নাহ ...।

৮ই ফাল্গুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

রোরুদ্যমান ভালবাসা।

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৭

বাস ছাড়তে আর মাত্র এক ঘণ্টা বাকি। এখন রাত ৮ টা। এস. আর. ট্রাভেলসের টিকিট কাউন্টার, রংপুর।



কাউনটারের সামনে দাঁড়িয়ে উজ্জ্বল আর সোহানা । ঠাণ্ডায় সোহানা এখনও কাঁপছে । হাতে ধরা চায়ের কাপ থেকে ক্রমাগত ধোঁয়া উঠছে । সেই ধোঁয়া যেন উজ্জলের ছলছল করে ভিজে ওঠা দুই চোখকে আড়াল করার বৃথা চেষ্টায় বাস্ত। কখনোবা নিজেই মাথা নিচু করে নিজের চোখকে আড়াল করতে চাইছে উজ্জ্বল। সোহানা নির্বিকার।



সকল স্তব্ধতা ভেঙ্গে দিয়ে উজ্জ্বলই কথা বলতে শুরু করল : "এই সামান্য কথা বলার জন্যই কি তুমি এত দুর কষ্ট করে এসেছিলে ?"

সোহানা : "আমার কাছে এটাই ভালো মনে হয়েছে।"

-আর কিছুদিন পর বললে কি খুব সমস্যা হত?

-দেখ উজ্জ্বল, আর সপ্তাহ দুয়েকের ভিতর আমার পরীক্ষা শুরু। আমি চাই যা হবার এখনি হোক। পরে আমি কোনও ঝামেলা চাই না।

-ও। কতক্ষন লাগবে তোমার ঢাকা পৌঁছাতে?

-ভোর হতেই তো পৌঁছে যাবার কথা।

-পৌঁছে ফোন দিও।

-অত ভোরে তুমি জেগে থাকবে কি? আর আমি চাই না, তুমি আমার আর কোনও খবর রাখ।

-ফোন নম্বরটা কি আগেরটাই থাকবে না বদলাবে?

-যদি তুমি ডিস্টার্ব না কর তবে এটাই থাকবে।

উজ্জলের চোখ বেয়ে যেন ঝরনার ধারা বেরুল। প্রচণ্ড শীতের রাত বলেই হয়ত লোকজন কম, আর তাই উজ্জলের এই চোখের ঝর্ণা থেকে বঞ্চিত হল দর্শন পিপাশুরা।

কি যেন বলতে গিয়েও বলতে পারলনা সোহানা।

উজ্জ্বল যেন আজ ছোট এক শিশু। কে বলবে ও আর ছ'মাসের মধ্যে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করবে?



এবার সোহানাই প্রথম বলল, "বাসের সময় হয়ে গেল। এভাবে কাঁদলে লোকে কি বলবে? আর এভাবে কাঁদার কি আছে, আমি কি মরে যাচ্ছি?"



উজ্জ্বল: "কিন্তু তুমিত বল্লেনা, আমার দোষটা কোথায়?"

- আমি তোমাকে কোনও দোষ দিতে পারিনা, কিন্তু আমি আর এসব চাই না।

তুমি একটু আমার দিকটা বুঝার চেষ্টা কর।



এরই মধ্যে বাস চলে এসেছে। উজ্জ্বল নিজের পরে থাকা জ্যাকেটটা খুলে সোহানাকে পরালো- "শীতের ভিতর বাসে ঠাণ্ডা লাগবে, জ্যাকেটের উপর তোমার শালটা জড়িয়ে নাও।"

এতক্ষণ না না করলেও এবার সোহানা কোনও প্রতিবাদ করল না।

সোহানা বলল, "আমাকে বিদায় দাও, আমি তোমার জীবন থেকে চলে যাচ্ছি।"

উজ্জ্বল সোহানার ডান হাতের উল্টো পাশে চুমু খেল। সোহানা বলল- "ভালো থেক, নিজের যত্ন নিও, আর আমাকে ভুলে যেও। আমাকে ভুলে গিয়ে যদি ভালো থাক তবে সেটাই প্রকৃত ভাল থাকা।"



এবার যেন সোহানার চোখও যেন চিকচিক করে উঠল, যা উজ্জ্বলের দৃষ্টি এড়ায় না।

উজ্জ্বল যেন বোবা হয়ে গেছে, চোখের সামনে গত ৮ টি মাস যেন ভেসে উঠছে।



জানালার কাঁচ সরিয়ে সোহানা হাত নাড়ল, ভেজা চোখেও উজ্জলের বুঝতে অসুবিধা হয়না। উজ্জ্বলও হাত নাড়ে। একসময় বাস ছেড়ে দেয়।



ভেজা চোখ নিয়া যতদুর বাস দেখা যায় তাকিয়ে থাকে উজ্জ্বল। সোহানা হয়ত জানেও না যে, চোখের পানিতে উজ্জলের শার্ট ভিজে গেছে, অথবা কাল সকালে উজ্জ্বলের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৫

শায়মা বলেছেন: :(

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৫

৮ই ফাল্গুন বলেছেন: কোন মন্তব্য করলেন না যে? :| B:-) /:) :(

২| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:১৩

মাক্স বলেছেন: মন খারাপ করা :(

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৫

৮ই ফাল্গুন বলেছেন: ভালোবাসা সৃষ্টি আর ধ্বংস দুটোই করতে পারে, এখানে ধ্বংসটাই তুলে ধরলাম।

৩| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:২৬

রাফেল বলেছেন: পৃথিবীতে মানুষকে বেশী কষ্ট দেয় ভালবাসা...................

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৬

৮ই ফাল্গুন বলেছেন: সবচেয়ে বেশী ভাললাগায়ও কিন্তু ভালোবাসা।

৪| ২৬ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৩৪

সপ্নাতুর আহসান বলেছেন: জানালার কাঁচ সরিয়ে সোহানা হাত নাড়ল, ভেজা চোখেও উজ্জলের বুঝতে অসুবিধা হয়না। উজ্জ্বলও হাত নাড়ে। একসময় বাস ছেড়ে দেয়।
ভাল পোস্ট।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.