নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জানবো,জানাবো।

আরিফ১৯৭৮০০৭

আরিফুল ইসলাম ৬৭১৬৮ |

আরিফ১৯৭৮০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

জার্মানিতে ইসলাম

২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৫

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পর এখন জার্মানি হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে উর্বর ভূমি। দেশটিতে ইসলামের দ্রুত প্রসার ঘটছে। মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জার্মান টেলিভিশনের হিসাব অনুযায়ী ২০০৬ সাল থেকে দেশটিতে প্রতিবছর ৪ হাজার জার্মান নাগরিক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে জার্মানিতে মুসলমানের সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ লাখ। এ সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ। সংখ্যালঘু ধর্মের তালিকায় ইসলামের অবস্থান প্রথম। দেশটিতে সুদৃশ্য মসজিদ আছে ৭৭টি। এছাড়া নামাজ পড়ার মতো আরও আড়াই হাজার জায়গা আছে, যেগুলোকে ছোট-খাটো মসজিদ হিসেবে গণ্য করা যায়। জার্মান মুসলমানদের দুই-তৃতীয়াংশই তুর্কি বংশোদ্‌ভূত। এদের সিংহভাগ আবার সুন্নি। তুরস্ক ছাড়াও পাকিস্তান, যুগোস্লাভিয়া, বিভিন্ন আরব দেশ, ইরান ও আফগানিস্তানের অনেক মুসলিম অভিবাসী আছেন যারা এখন জার্মান নাগরিক। অধিকাংশ মুসলমান বসবাস করেন বার্লিনে। ১৮ শতকে অটোম্যান সাম্রাজ্যের সময় ইসলামের সঙ্গে জার্মানির প্রথম পরিচয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক কারণে এ সময় জার্মানিতে মুসলমানদের আগমন ঘটে। তৎকালীন জার্মানির একটি এলাকার নাম ছিল প্রুসিয়া। এই প্রুসিয়ার সম্রাট ছিলেন প্রথম ফেডরিক উইলিয়াম। তার অধীনে ২০ জন মুসলিম সৈনিক কাজ করতেন। এদের কাছ থেকে মুসলমানদের চিঠিপত্র, শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্রাট ধারণা নিতেন।



তারপরও আলবেনিয়াদের মাধ্যমে জার্মানিরা ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। ১৭৯৮ সালে বার্লিনে মুসলমানদের কবর দেয়ার জন্য একটি কবরস্থান তৈরি করা হয়। এই কবরস্থানটি এখনও বহাল আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিদের হাতে অনেক যুদ্ধবন্দি ছিল। এর মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার। এদের সান্নিধ্যে এসেও জার্মানিরা মুসলমানদের জীবন ও সংস্কৃতি জানার সুযোগ পায়। জার্মানিতে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯১৫ সালে। এটি ১৫ বছর টিকে ছিল। ১৯৩০ সালের দিকে ওই মসজিদটি বন্ধ করে দেয়া হয়।



১৯২০ সালে জার্মানিতে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিছুসংখ্যক মুসলিম ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী ছাড়া বার্লিনে কোন মুসলমান ছিল না। এ সময় জার্মানিতে বড় আকারে একটি মসজিদ তৈরি করা হয়। বার্লিনে অবস্থিত ওই মসজিদটির নাম দেয়া হয় আহমদিয়া মসজিদ। মসজিদটি তৈরিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন ভারতের মাওলানা সদর উদ্দিন। মসজিদের ইমাম খতিব দুটোর দায়িত্ব তিনি পালন করতেন। ১৯২৭ সালে ওই মসজিদকে কেন্দ্র করে তিনি একটি ইসলামী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট ইসলাম আর্কাইভ। জার্মানিতে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয় ১৯৩২ সালে।



এ সময় জার্মানিতে মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র তিন হাজার। এর মধ্যে জার্মানির নাগরিক ছিল তিনশ’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে মুসলমান সংখ্যা খুব কমে যায়। যুদ্ধের কয়েক বছর পর নানা কাজের জন্য জার্মানিতে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন তুরস্ক থেকে দলে দলে লোক সেখানে গিয়ে বসবাস শুরু করে। বাড়তে থাকে মুসলমানদের সংখ্যা। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখে গিয়ে পৌঁছেছে। অভিবাসী ছাড়া জার্মানির স্থানীয় লোকজনও ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকা আল কায়েদার সন্ত্রাসী হামলার পর ইসলাম সম্পর্কে জার্মানিদের কৌতূহল বেড়ে যায়। এ কৌতূহল মেটাতে গিয়ে তারা কোরআন, হাদিসসহ ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন বই-পুস্তক পড়ার দিকে ঝুঁড়ে পড়ে। এতে অনেকের ভ্রান্ত ধারণা দৃঢ় হয়। ইসলামের খুঁত ধরতে গিয়ে তারা ইসলামের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। গ্রহণ করেন ইসলাম ধর্ম। জার্মান টেলিভিশনের প্রচারিত তথ্যানুসারে, ২০০৬ সালে জার্মানিতে ৪ হাজার লোক ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হন। মুসলমানের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়লেও এরা এখন জার্মানিতে অনগ্রসর শ্রেণী হিসেবে রয়ে গেছে। বেকারের সংখ্যা মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত।

সাধারণজার্মানিদের তুলনায় মুসলমানদের মধ্যে বেকারত্বের হার দ্বিগুণ। ৪৭ শতাংশ মুসলিম ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পর্যায়ের লেখাপড়া শেষ করতে পারে। মাত্র ৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় পর্য- যাওয়ার সুযোগ পায়। অর্থনেতিক দৈন্যদশার কারণেই মূলত এরা শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে পারছে না।











উৎস : দৈনিক যুগান্ত।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩০

আমানত হোসেন বলেছেন: ++++্

২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩১

আরিফ১৯৭৮০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ + এর জন্য।

২| ২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৩

মেলবোর্ন বলেছেন: নামাজ কি কেন কিভাবে আসুন জানি সাথে মেরাজের কিছু প্রশ্ন?
Click This Link

৩| ২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৩

জহির উদদীন বলেছেন: সুবহানাল্লাহ্

২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫০

আরিফ১৯৭৮০০৭ বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ

৪| ২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১১

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন: দেশটিতে প্রতিবছর ৪ হাজার জার্মান নাগরিক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে।
এটা হলে এতদিনে জামানি ইসলামি রাষ্ট্র হয়ে যেত।

এটি আপনার (অনিচ্ছাকৃত) তথ্য বিভ্রাট হতে পারে।

এ সংখা টি আসলে এটি মুসলিম ঘরে জন্ম নেয়া নতুন মুখ এবং নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া তুর্কি-কুর্দি। যারা মুসলিম নাগরিক দের ...

২৯ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০০

আরিফ১৯৭৮০০৭ বলেছেন: নানা ঝামেলায় ও লোডশেডিং জনিত কারণে ব্লগে ঠিক মতো আসতে পারিনা,তাই আপনাদের সবার মন্তব্যের জবাব দেওয়া হয়ে উঠেনি।
যাই হোক এটি দৈনিক যুগান্তর এ প্রকাশিত একটি লেখা ; সেখানে যেভাবে দেওয়া হয়েছে ঠিক সেভাবেই এই লেখাটি ব্লগে দেওয়া হয়েছে।

৫| ২২ শে জুলাই, ২০১১ রাত ৯:২১

রিফাত হোসেন বলেছেন: আরিফ১৯৭৮০০৭ বলেছেন: @সকাল ও সারিকা চাঁদ তারা ইসলামের প্রতীক হয়েছে অটোম্যান সাম্রাজ্যের সময়।

অটোম্যান সাম্রাজ্য সম্পর্কে যদি জানেন তবে ব্লগে প্রকাশ করুন, জানতে ইচ্ছা করছে



-----------

চাঁদ-তারা কি ইসলামের প্রতীক? Click This Link

রেডক্রস Vs রেডক্রিসেন্ট ঃ ধর্মান্ধতার আড়ালে এক প্রতীকের বিবর্তণের ইতিকাথা। Click This Link

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.