| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ও ঝরা পাতাগো তোমার সাথে আমার রাত পোহানো কথা গো তোমার সাথে আমার দিন কাটানো কথা
খইল্যা মাছ খেলাম আজ বহুদিন পর। শেষ কবে খেয়েছিলাম মনেও পড়ে না। বইয়ের ভাষায় কি বলে এই মাছকে? খলসে নাকি খলিসা? হবে কিছু একটা। বাড়ি থাকতে গরম ভাতে ফু দিতে দিতে কড়া ভাজা খইল্যা মাছ খেতাম। আরেকটা রান্নার কথা খুব মনে পড়ছে। খাইস্যা দিয়ে খইল্যার ঝোল...খাইস্যা মানে কাঁচা শিমের বিচি। ঢাকায় আসার আগে কখনোই খাওয়া নিয়ে এক্সাইটেড ছিলাম না। খেতে ভালো হলেই হলো...ঝাল-মসলা কম হলেই হলো। ঢাকায় এসেই দিনে দিনে স্মৃতিকাতর হতে শুরু করি।
৮ বছর। এতোগুলো বছর এই নগরীতে আছি কিন্তু মন পড়ে থাকে নিজের জন্ম শহরে। শীতের সকালে উঠোনের রোদে মোড়া পেতে বড়বোন ভাত খেতেন। ওটাকে বলা হতো 'কড়া ভাত'। রাতের ভাত সকালে কড়কড়া হয়ে থাকতো। এখন রোদে মোড়া পেতে সেই কড়া ভাতে ইচা শুঁটকির ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে কেমন লাগবে? এখন অবশ্য আমাদের বাড়ির উঠোনে রোদ পড়ে না, চারদিকে বড় বড় সব দালানে হলুদ দেয়ালের টিনশেডের সেই একতলা বাড়িটা বড়ই ম্লান দেখায়। প্রতি বছরই শুনি বাড়ি ভাঙা পড়বে। জায়গাটা ভাগ হয়ে যার যার অংশে দেয়াল তুলে দেয়া হবে। একসাথে বাড়ি করার ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারে না...। জন্ম জন্ম ধরে চেনা মুখগুলো অর্থাৎ একই মায়ের পেটে জন্ম নেয়া আমরা যারা ভাই-বোন হিসেবে বেড়ে উঠেছি, সম্পত্তির নামে কেমন করে যেন সবগুলো মুখ ভেঙেচুরে অন্যরকম হয়ে যায়।
রাতে স্বপ্নের মধ্যে হানা দেয় সুদূরের কৈশোর। সুন্দর সেই স্বপ্ন কিন্তু ঘুম ভাঙতেই কেন যে তা দুঃস্বপ্নের অনুভূতিতে রূপ নেয় কে জানে! একজন বলেছিলেন, ওই দিনগুলো যা বার বার আমার স্বপ্নে আসে, তা আর ফিরে আসবে না বলেই এমন হয়। তাই হবে বোধহয়। চাইলেই আমি সেই শহরে ফিরে যেতে পারি। কিন্তু এই নগরীতে এই কয় বছরে "প্রাইভেসি" নামক ব্যাধিতে ভীষণভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। তাই আমার আর ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না। আমাকে কেবল স্মৃতিতে আর দুঃস্বপ্নের ধড়মড়ানিতে ভেসে ভেসেই বেঁচে থাকতে হয়।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:৪৬
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: ধন্যবাদ। লিখে ফেলুন সেইসব কথা...পুরনো দিনের কথা পড়তে ভালোই লাগে।
২|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:৫৬
অতৃপ্তচোখ বলেছেন: একেবারে ছোট বেলায় নিয়ে গেলেন আপু। আপনার গল্প পড়তে পড়তে আমার ছোট বেলায় খাওয়া কড়কড়া ভাত রাতে পাক করা মোলা তরকারি রোদের জায়গা দখল রাখতে পিড়ি পেতে রাখা সব যেন নিমিষেই মনে হয়ে গেল।
আপনার লেখাকে তো কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়।
শুভকামনা রইল
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:৫৮
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। রোদের জায়গা দখল রাখতে পিঁড়ি পেতে রাখার ব্যাপারটা খুবই মজার মনে হচ্ছে। তোমরা বুঝি অনেকগুলো ভাইবোন ছিলে?
৩|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৮
অতৃপ্তচোখ বলেছেন: অনেক গুলো ভাই বোন না আপু। আমার বোন নেই, তিন ভাই। তবে অনেক বড় বাড়ি। চাচাত জেঠাত ভাই বোন মিলে প্রায় সমবয়সী ছিলাম পনেরো জনের মতো। তখন গ্রামের বাড়িতে থাকতাম তো।
২২ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:১৪
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: আমার একটাও সমবয়সী ভাই-বোন বা কাজিন ছিল না। শৈশবের বেশিরভাগ স্মৃতিতেই তাই আমার চরিত্র নির্বাক...।
৪|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৮
আহা রুবন বলেছেন: সেসব দিন আর ফিরে আসবে না।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৪২
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: ধন্যবাদ রুবন লেখাটা পড়ার জন্য। ...যা ফিরে আসে না, তার জন্যই মন কেন এতো কাঁদে কে জানে!
৫|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৪০
বিজন রয় বলেছেন: নতুন লেখা দিন।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৭
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: ধন্যবাদ। দেবো।
৬|
০৭ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:৪৬
মুশি-১৯৯৪ বলেছেন:
আপনার লেখা পড়ে, শৈশবের বিলে মাছ ধরার উৎসবের কথা মনে পড়ছে।
০৭ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:৫২
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: লিখুন সেই উৎসবের গল্প। পড়তে চাই।
৭|
২৭ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৫
আরাফআহনাফ বলেছেন: "জন্ম জন্ম ধরে চেনা মুখগুলো অর্থাৎ একই মায়ের পেটে জন্ম নেয়া আমরা যারা ভাই-বোন হিসেবে বেড়ে উঠেছি, সম্পত্তির নামে কেমন করে যেন সবগুলো মুখ ভেঙেচুরে অন্যরকম হয়ে যায়। " একদম মনের কথাটুকুই বললেন। কেন এমন হয়, কেন এমন হয়ে যায় কে জানে
ভালো থাকুন সবসময় - আপনার মঙ্গল কামনায়।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:৫১
আবিদা সিদ্দিকী বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ।
৮|
০২ রা এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:৩৬
খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটাতে একটা প্রচ্ছন্ন বেদনাবোধ মুখ লুকিয়ে আছে।
তবুও (অথবা তাই, হয়তো) ভাল লেগেছে। + +
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:০৭
সপ্তম৮৪ বলেছেন: দারুণ লিখেছেন। একদম পুরোনো দিনের কথা মনে পরে গেল।