নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি দেশপ্রেমিক

আসুন সবাই দেশকে ভালবাসি। দেশের শত্রুদেরকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করি।

সত্য দর্শন

সত্যকে জানতে চাই

সত্য দর্শন › বিস্তারিত পোস্টঃ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে উত্তাল দেশ

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:২৯

সাভারের রানা প্লাজা ধসে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা।



বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা তাদের সহকর্মীদের করুণ পরিণতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করে রাজপথে নেমে আসে। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস পল্লীতে হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।



দীর্ঘ সময় তারা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর করে।



দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শ্রমিক। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছে।



বড় অঘটনের আশঙ্কায় সকাল ১০টায় রাজধানীর রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, রেলক্রসিং ও আশপাশের এলাকার প্রায় সব পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করো দেয় মালিকরা। কারখানা বন্ধের আগে ওই এলাকায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও ভবনে ভাঙচুর চালায়।



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে এসব এলাকার বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস খোলা থাকে। কিন্তু শ্রমিকরা শোক উপলক্ষে কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে।



এ সময় তারা এ এলাকার বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা, সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন ও যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। শ্রমিকদের দাবির মুখে কারখানা মালিকরা রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ রেলক্রসিং ও আশপাশের এলাকার সব পোশাক কারখানা তড়িঘড়ি করে বন্ধ ঘোষণা করেন।



মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার মেলোডি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক এসএম আবু বকর সিদ্দিকী জানান, সকালে কাজে যোগ দিয়েই শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের দাবিতে ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে তাদের সঙ্গে কথা বলে কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়।



পরে অন্য মালিকরাও এ সময় তাদের কারখানা বন্ধ করেন বলে তিনি জানান।



তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আগেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল।



এছাড়া সকাল থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁসহ সব এলাকায়ই একই চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার শ্রমিকরাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায়।



এদিকে সাভারে বুধবার বিকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এ এলাকার সব কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপরও শ্রমিকরা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসব সড়কে শুধু এম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহন ছাড়া কিছুই চলতে দিচ্ছে না বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।



এর বাইরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিধ্বস্ত রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ করে স্থানীয় সাধারণ জনগণ। তারা রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে প্লাকার্ড ধারণ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কয়েক হাজার স্থানীয় সাধারণ মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেন। সাভারে এখন শোকের মাতম ও স্বজনদের আহাজারির সঙ্গে শ্রমিক-জনতার বিক্ষোভ উত্তাল চলছে।





গাজীপুরেও একই অবস্থা। সেখানে বেশ কয়েকটি কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে। এ জন্য সকাল থেকেই গাজীপুরের সব পোশাক কারখানায় বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।



এলাকার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা অর্ধ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে।



পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দেয় পোশাক শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার নাওজোর এলাকার দিগন্ত সোয়েটার, ভোগড়া এলাকার স্টার লাইট সোয়েটার, নেকসাস সোয়েটার, গরিব অ্যান্ড গরিব সোয়েটার ও মাইশা-মনিশা পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে এবং বিক্ষোভ শুরু করে।



এ সময় তারা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানায়। তাদের ডাকে সাড়া না দেয়ায় আন্দোলনরত শ্রমিকরা নেকসাস ও পেগাসাস জুতা কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় ইট-পাটকেল ছোড়ে।



পরে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিক্ষুব্ধদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করে। ফলে সকাল থেকে এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।



এদিকে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এক পোশাক শ্রমিককে ধরে নিয়ে গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি পরিবহন অফিস ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি বিলবোর্ড ও পোস্টারে আগুন ধরিয়ে দেয়।



অপরদিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-গাজীপুর সড়কের পাশে অবস্থিত আড়ং দুধ কারখানার গুদামে আগুন ধরিয়ে দেয়। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।



জাস্ট নিউজকে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান।



এদিকে সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ফুঁসে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ও কাঁচপুরের শ্রমিকরা। সকাল থেকে তারাও এসব এলাকায় বেশ কিছু কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর পরপরই নারায়ণগঞ্জের সব পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।



সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শিল্পপুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।



পরে শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এবং নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশি একশনে তারা রাস্তা ছেড়ে দেয়।



প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭৩ গার্মেন্ট শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আটকে পড়ে আছে কয়েক হাজার শ্রমিক।



Click This Link

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.