নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহসী সত্য।এই নষ্ট দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী একজন নিস:ঙ্গ যোদ্ধা।বাংলাদেশে পর্বত অরোহণের পথিকৃত।

অনল চৌধুরী

লেখক,সাংবাদিক,গবেষক,অনুবাদক,দার্শনিক,তাত্ত্বিক,সমাজ সংস্কারক,শিক্ষক ও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী যোদ্ধা

অনল চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

গ্রাম থেকে মেধাবীরা আসুক, অপরাধীরা না

১৩ ই জুন, ২০১৯ রাত ৩:০২


কয়েক প্রজন্ম ধরে ঢাকায় বসবাসকারীদের সাথে গ্রাম থেকে উন্নত চিন্তাভাবনার লোকজন এসে ঢাকা শহরকে সমৃদ্ধ করেছেন।

দেশের প্রতিটা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তারা। ঢাকা শহরে ব্যাবসা-বাণিজ্য,শিল্প-সাহিত্যক্রীড়া,সাংবাদিকতা-সবকিছুই গড়ে উঠেছে এই -দুইয়ের যৌথ প্রচেষ্টায়। কিন্ত এরশাদের পতনের পর থেকে দেখা যাচ্ছে গ্রাম থেকে ভালো লোকের চেয়ে খারাপ লোকরাই সংখ্যায় বেশী আসছে। বর্তমানে চোর,টাকা আত্মসাৎকারী, টাউট,বাটপার,প্রতারক,স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের আত্মীয়,খুনী,ধর্ষকরাই বাচার জন্যই গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। পরশ্রীকারতরতা,পরনিন্দা,পরচর্চাসহ সবরকম নিকৃষ্ট আচরণে এরা সর্বত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রাম থেকে এসেও যারা কয়েক প্রজন্ম ধরে শহরে বাস করছেন,তাদের প্রত্যেকেই এদের নোংরা আচরণের নিন্দা করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে শহরে বসবাস করলেই সবাই ফেরেশতা হয়ে যায় না।কিন্ত এইসব ক্ষেতদের চেয়ে তাদের আচরণ অনেকটাই ভালো।

এদের মধ্যে ভদ্রতা,সভ্যতা,নৈতিকতা কোন কিছুরই লেশমাত্র নাই। বরং এরা বহু আগে থেকে ঢাকায় বসবাসকারীদের সাথে যোগ্যতায় পেরে না উঠে নোংরা গ্রাম্য রাজনীতি-কূটনীতি-দলাদলি দিয়ে নিকৃষ্ট ধরণের শত্রুতা করছে।

আমার জীবনে আমি এরকম অনেক নোংরা –নষ্ট জীব পেয়েছি।এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পেয়েছিলাম ষ্ট্যামফোর্ড-এ চলচ্চিত্র নিয়ে পড়ার সময়।

এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিত্র জায়গায় জ্ঞানচর্চা না করে হিংসার বশবর্তী হয়ে সবচেয়ে নিকৃষ্টভাবে মেধাবী ও জ্ঞানী শিক্ষার্থীদের সাথে জঘণ্য আচরণ করতো।

যোগ্যতায় কোনদিক দিয়েই সমকক্ষ হতে না পেরে দলবেধে সব সময় আপত্তিকর ও অপমাণজনক কথা বলা,যোগ্যতার বিষয়গুলি এড়িয়ে ছোট করার অপচেষ্টা,কুৎসা রটনা-এগুলি ছিলো এদের নোংরা গ্রাম্য আচরণের বৈশিষ্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশাল গ্রন্থাগার ছিলো। ২০০৫ সালেই আমি আমার লেখা ১২ টা বই সেখানে দিয়েছিলাম।কিন্ত এই নোংরা জীবদের বই পড়ার প্রতি কোন আগ্রহ ছিলো না,যতোটা আগ্রহ ছিলো এইসব অসভ্যতার দিকে।

এরা প্রত্যেকেই ছিলো প্রচন্ড পরশ্রীকাতর। অন্যের সফলতা দেখলে যেকোন উপায়ে তাকে ছোট করা চেষ্টা করতো।

এর অনিবার্য শাস্তি হিসেবে এরা কেউই জীবনে কিছু করতে পারেনিা। এমনকি সেরা নকলবাজ হওয়ার পরও অনেকে এমএ সনদ পর্যন্ত নিতে ব্যার্থ হয়েছে।

গ্রামের সমাজব্যাবস্থা অনেক রক্ষণশীল হওয়ার পরও সেখানে বসবাসকারীদের বেশীরভাগের মধ্যে নীতি-নৈতিকতার লেশমাত্র নাই। সকালে '' ধর্মচর্চার '' মাধ্যমে এদের দিন শুরু হলেও এরা প্রায় কেইউ ধর্মের মূলনীতি মানে না।এজন্যই গ্রামে নারী ধর্ষণসহ বিভৎস যে অপরাধগুলি ঘটে,শহরে এগুলি চিন্তাও করা যায় না।

একটা সময় গ্রাম থেকে দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার জন্য ছাত্ররা আসতো।

এদের অনেকেই ১৯৪৮ সালে ‘‘ উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’’- জিন্নাহ’র মুখের উপর না বলে তার এই ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশে ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার সৃষ্টি করেছিলেন।১৯৫২ সালে রক্ত দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করেছিলেন।‘৬৯ এ আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন করেছিলেন,১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। তারপর ১৯৮২ থে্কে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তার পতন ঘটিয়েছিলেন।

কিন্ত এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কি? এই ২০১৯ সালের মে তে একটা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব লাভের জন্য যে নিকৃষ্ট গ্রাম্য রাজনীতি-দলাদলি আর মারামারি দেখা গেলো,সেটা সচেতন যে কাউকেই চিন্তিত করবে।ছাত্রীরাও ছাত্রদের সাথে মারামারিতে অংশ নিয়েছে এবং তাদেরও ছাত্রদের মতেই পিটানো হয়েছে।

যারা সামান্য দলীয় পদ লাভের জন্য এরকম নিকৃষ্ট আচরণ করেন,তারা যদি কোনদিন দেশ শাসন করতে পারে,তাহলে তো দেশকে ধ্বংসের শেষ সীমায় নিয়ে যাবে। এদের পক্ষে বাংলাদেশকে দুর্নীতি-মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা বা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।এদের রাজনীতির একমাত্র উদ্দেশ্য লুটপাট করে ধনী হওয়া।পদ নিয়ে মারামারি সেটাই প্রমাণ করে।অথচ ৫০-৭০ এর দশকে নেতৃত্ব হতো মেধার ভিত্তিতে। ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে সন্ত্রাসের কোন অস্তিত্ব সেই সময় ছিলো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকার অনেক মেধাবী ছাত্র থাকার পরও গ্রাম্য অধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য ...পুরের মতো অখ্যাত একটা জেলা থেকেই ২২ জনকে নেতা বানানো হয়েছে।

এইসব ‘‘ মহান নেতা ’’দের প্রায় সবাই গ্রাম থেকে আগত।

এই অবস্থা থেকে শহরকে রক্ষা করার জন্য কিছু নীতি প্রণয়ন করা জরুরী।অপ্রয়োজনে যেনো কেউ শহরে এসে বসবাস করতে না পারে,সে ব্যাপারে আইন করতে হবে। গ্রামগুলিকে সবদিক দিয়ে উন্নত করতে হবে,যেনো সেখানকার লোকদের কাছে ঢাকা শহরকে এ্যামেরিকা-ক্যানাডা মনে না হয় এবং তারা ঢাকার পরিবর্তে নিজেদের গ্রামে বসবাস করতে আগ্রহী হয়।

ভারতের সব লোক রাজধানী দিল্লীতে থাকতে চায় না বা এ্যামেরিকার সব লোক রাজধানী ওয়াশিংটনে থাকতে চায় না। কারণ এসব দেশের অন্যান্য শহর রাজধানীর চেয়ে আরো বেশী উন্নত । বাংলাদেশেও দ্রুত এই পদক্ষেপ নিতে হবে।

গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে হঠাৎ বাড়ি-গাড়ির মালিকদের সম্পত্তির অনুসন্ধান করা জরুরী। কুষ্টিয়ার একটা জেলা থেকে ডেষ্টিনির মতো হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে,২৫ জনের হ্রদরোগে মৃত্যুর কারণ হয়ে একটা পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে এখন সেখান থেকে পালিয়ে এসে ঢাকা শহরে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে দেখছি। এদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ ও তাদের দ্রুত কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ৭৫% ভাগের বেশী মানুষ এখনো গ্রামে বাস করে। দেশের উন্নয়নের জন্য এদের মধ্যে মেধাবী অংশটাকে অবশ্যই শহরে আসতে দিতে হবে কারণ ঢাকার বাইরে পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চার অবস্থা এখনো ১০০ বছর আগের মতোই শোচনীয়।কিন্ত এই সুযোগে গ্রাম থেকে অপরাধী ও আবর্জনা এসে শহরকে যেনো দূষিত করতে না পারে,সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৪:০০

রাকু হাসান বলেছেন:

বাস্তবতা , টপিকটা কিছুটা ভাল্লাগছে ।
তবে একটা বিষয়ে হতাশ ,আপনার প্রায় সকল পোস্ট ক্ষোভ,হতাশা,বিদ্বেষ মূলক লাগে । মাঝে মাঝে আপনাকে হতাশাবাদীও ভাবি আমি ।তবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আপনার কলম চলে ,প্রতিবাদ করেন । িএটা ভালো লাগে । যা ক সেটা একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার আপনার । ভিন্নতা আনলে পাঠক হিসাবে ভালো লাগতো ।শুভকামনা ও শুভরাত্রি ।

২| ১৩ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৫:৪২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
প্রতিটি মানুষ ব্যক্তিগতভাবে সততার পরিচয় না দিলে দেশের অবস্থা বদলাবে না।

৩| ১৩ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:৫৬

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: গ্রাম ও আমাদের শহরও আমাদের। মানুষ তার প্রয়োজনে গ্রাম থেকে শহরে আসবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার কথার সাথে আমি একমত গ্রামগুলোকে উন্নত করে কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা করলে শহরমুখী জনস্রোত কমে আসবে। আর অপরাধীরা যেমন গ্রাম থেকে শহরে আসে আবার শহর থেকে গ্রামেও যায়।

৪| ১৩ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: ছাত্র অবস্থায় কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। শুধু তারা লেখা পড়া করবে।

এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য।

৫| ১৩ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৮

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার পর্যবেক্ষণ যথাযথ। তবে এ কথাও মানতে হবে - শহরের এলিটরাও দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, দুর্নীতি, লোভ দিয়ে পরিবেশকে দূষিত করে রেখেছে। আজকের খবর - চবি তে উপাচার্য্য হওয়ার জন্য শিক্ষকরা রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ওয়াসা, তিতাস, কাস্টমস, পুলিশ সব জায়গায় শহুরে ও গ্রাম থেকে আসা মিলে মিশেই খাচ্ছে...

৬| ১৩ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:০৮

ঢাবিয়ান বলেছেন: একমত না হয়ে উপায় নাই।দেশব্যাপী সুশাষন না থাকাটাই প্রকৃত কারন। তারপরেও শহড়ে শিক্ষিত , সচেতন মানুষেরা মূল্যবোধের চর্চা করে থাকে এবং চেষ্টা করে সন্তানদের মাঝে সেটা ছড়িয়ে দিতে কিন্ত গ্রামে সেটা একেবারেই নাই বললেই চলে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.