নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহসী সত্য।এই নষ্ট দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী একজন যোদ্ধা।বাংলাদেশে পর্বত আরোহণের পথিকৃত।

অনল চৌধুরী

লেখক,সাংবাদিক,গবেষক,অনুবাদক,দার্শনিক,তাত্ত্বিক,সমাজ সংস্কারক,শিক্ষক ও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী যোদ্ধা

অনল চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

হলিউডের বিদ্রুপাত্মক,বর্ণবাদ ও আগ্রাসনবিরোধী চলচ্চিত্র-২

০৫ ই মে, ২০২০ রাত ৮:০৩



বিখ্যাত লেখক হাওয়ার্ড ফাষ্ট এ্যামেরিকার সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য ছিলেন্ ১৯৫০ সালে তাকে এ্যামেরিকায় ফ্যাসিষ্ট ও সমাজতান্ত্রিকদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে তদন্তের জন্য গঠিত House Committee on Un-American Activities এর সামনে ডাকা হয়। তিনি স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ চলাকালে বাবা-মা হারানো সন্তানদের জন্য খোলা তহবিলের জন্য অর্থদানকারীদের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান,যাদের মধ্যে একজন ছিলেন সাবেক রাষ্টপতি রুজভেল্টের স্ত্রী এলিনর রুজভেল্ট। ফলে তাকে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। হাওয়ার্ড ফাষ্ট



Mill Point Federal Prison,কারাগারে বসেই তিনি তার বিখ্যাত উপন্যাস স্পার্টাকাস লেখেন।এই ঘটনার সাথে ভাষা আন্দোলনের অংশ নেয়ার অপরাধে ১৯৫৩ সালে আটক শহীদ মুনির চৌধুরীর কারাগারে বসে কবর নাটক রচনার মিল পাওয়া যায়।এদের দুজনেই ছিলেন সমাজতন্ত্রী এবং এজন্যই তাদের সেখানে যেতে হয়েছিলো।

রোম সাম্রাজ্যে দাসদের মুক্তির দাবী জন্য ঐতিহাসিক বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে লেখা এই উপন্যাসেও তার শোষণ মুক্তি ও বিপ্লবী মানসিকতার প্রকাশ ঘটে।বেশীরভাগ প্রকাশনা সংস্থা নিষিদ্ধ করায় তিনি কারামুক্তির পর নিজের উদ্যোগেই উপন্যাসটা প্রকাশ করেন্। এটা ব্যাপকভাবে ব্যাবসাসফল হয়।

এই উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৬০ সালে অভিনেতা কার্ক ডগলাসে প্রযোজিত ও ষ্ট্যানলি কুবরিক পরিচালিত স্পার্টাকাস ছবিটা নির্মিত হয়,যা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হলিউডের সবাক যুগের অন্যতম প্রতীকধর্মী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চলচ্চিত্র।


এ ছবিতে দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা ও মুক্তিলাভের জন্য রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে স্পার্টাকাস ও তার দলের বিদ্রোহের আড়ালে মূলত পৃথিবীর দেশে দেশে এ্যামেরিকার যুদ্ধবাদী নীতি,দেশ দখল,গণহত্যা এবং নিজ দেশে কালোদের উপর জঘণ্য বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পৃথিবীর বড় দুই সাম্রাজ্যবাদী-সন্ত্রাসী দেশ বৃটেন ও ফ্রান্সের জায়গা দখল করে এ্যামেরিকা। ১৯৫০ সালে কোরিয়া তাদের প্রথম আগ্রাসনের স্বীকার হয় । এরপর তারা বৃটিশ মালিকানাধীন তেল সম্পদ জাতীয়করণ করায় ১৯৫৩ সালে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ইরানে ড: মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করে। সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করায় ১৯৫৪ সালে বৃটেন, ফ্রান্স ও ইসরাইলের যৌথ সন্ত্রাসী বাহিনী মিসর আক্রমণ কররে দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করে।
এমনকি ১৯৫৫ সালে সন্ত্রাসী এ্যামেরিকা সম্পূর্ণ অকারণে নিজ দেশ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভিয়েতনাম হাসলা চালিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে শুরু করে।

এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে হলিউডের সচেতন ব্যাক্তিদের প্রথম প্রতিবাদ ছিলো স্পার্টাকাস ছবিটা।

ডালটন ট্রাম্বো

এই ছবির লেখক হাওয়ার্ড ফাষ্ট,চিত্রনাট্যকার ডালটন ট্রাম্বো-দুইজনই ছিলেন এ্যামেরিকার সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য।এজন্য ফাষ্ট কারাগারে এবং ট্রাম্বোকে হলিউডে কালো তালিকা ভূক্ত করে দীর্ঘদিন হলিউডে কাজ করা থেকে বিরত রাখা হয়।ফাষ্টের আগেই কংগ্রেসের মর্যাদাহানির অভিযোগে তাকে ১১ মাস কারাগারে কাটাতে হয়।

কার্ক ডগলাস নিজেও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রতি সহানূভূতিশীল ছিলেন বলেই এই দুই সমাজতন্ত্রীকে নিয়ে কাজ করেছেন।
এখানে বলা প্রয়োজন যে তিনি ছিলেন হলিউডের সবচেয়ে দীর্ঘজীবি অভিনেতা। হলিউডের চিত্রতারকাদের বেশীরভাগই ৮০-৯০ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত থাকলেও তিনি বেচে ছিলেন ১০৪ বছর এবং ২০২০ সালেরই ৫ মে তিনি ১০৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।

আদিবাসী হত্যা করে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ভিয়েতনাম যুদ্ধ।কারণ এই যুদ্ধে এক পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়া তার সবরকম প্রচলিত ও নিষিদ্ধ অস্ত্রও ব্যাবহার করেছিলো। তারপরও ২০ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এ্যামেরিকা ৫৮ হাজারের বেশী সৈন্য নিহত হয়। আজ পর্যন্ত হলিউডে ভিয়েতনামে যুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাসকে বিকৃত করে অসংখ্য ছবি নির্মিত হয়েছে।এসব ছবিতে স্বাধীনতাকামী বীর ভিয়েতনামী জনগণ এবং ভিয়েতকং গেরিলাদের খূনী,কাপুরুষ এবং সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার গণহত্যাকারী,খুনী-ধর্ষক-নরপিশাচ সৈন্যদের মানবতাবাদী মহাবীর হিসেবে দেখানো হয়েছে।


শুধূ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ঘটনা নিয়েই না, ১৯৭৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও সেখানে আটকে পরা এ্যামেরিকার যুদ্ধ বন্দী এবং ভিয়েতনামী নারীদের গর্ভে সৈন্যদের জন্ম দেয়া সন্তানদের উদ্ধারের নাম করে পুনরায় যুদ্ধের উস্কানি দিয়ে অনেক ছবি বানিয়েছে হলিউডের সন্ত্রাসী নির্মাতা গোষ্ঠী।
এদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে হলিউডের ইহুদীবাদী গোলান-গ্লোবাস- এর মালিকানাধীন ক্যানন ফিল্মস। এদের এরকম কয়েকটা ছবি হচ্ছে সিলভেষ্টার ষ্ট্যালোন অভিনীত ১৯৮২ সালে নির্মিত র‌্যাম্বো-২ এবং ৮০-র দশকে নির্মিত চাক নরিস অভিনীত মিসিং ইন এ্যাকশন ছবির পর্বগুলি। এছাড়া হলিউডে ক্যানন-চাক নরিস চক্রই ১৯৮৫ সালে ডেল্টা ফোর্স নামে ছবি বানিয়ে সর্বপ্রথম মুসলমানদের বিমান ছিনতাইকারী সন্ত্রাসী হিসেবে দেখিয়েছে।

এসব ছবিতে পর্দায় ভিয়েতনামী গেরিলাদের হত্যার দৃশ্য দেখে এ্যামেরিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সন্ত্রাসী মানসিকতার জনগণ বাস্তবে সেখানে লজ্জাজনক পরাজয়ের কথা ভুলতে চায়। কিন্ত এই ভিয়েতনাম যুদ্ধের চূড়ান্ত বর্বরতা চালানোর সময়েই ১৯৭০ সালে হলিউডে সোলজার ব্ল নামে একটা ছবি মুক্তি পায়। র‌্যালফ নেলসন পরিচালিত ও ক্যান্ডিন্স বার্জিন অভিনীত এই ছবিতে ১৮৭৭ সালে কর্ণেল চিভিংটনের চেরোকি ক্রিক হত্যাকান্ড- Sand Creek massacre- পরবর্তীকালে সৈন্যদের আদীবাসীদের উপর নৃশংশ গণত্যার রূপকের অন্তরালে মূলত একইসময়ে ভিয়েতনাম,কম্বোডিয়া ও লাওসে বর্বর এ্যামেরিকান সৈন্যদের মাই লাই সহ প্রতিদিন সংঘটিত অসংখ্য গণহত্যা-ধর্ষণের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে।কারণ সেইসময়ে ভিয়েতমান যুদ্ধের সরাসরি সমালোচনা করে কোন ছবি হলিউডে নির্মাণ করা সম্ভব ছিলো না। ছবির পরিচালকও তার রূপক ব্যাবহারের কথা স্বীকার করেছেন।

তবে যথারীতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সন্ত্রাসী মানসিকতার এ্যামেরিকার দর্শকদের কাছে ছবিটা ব্যবসায়িকভবে ব্যার্থ হয়।তবে বৃটেনে ছবিটা ব্যবসাসফল এবং ১৯৭১-এ তৃতীয় দর্শকপ্রিয় ছবি হয়।এর মাধ্যমে হয়তো বৃটিশরা তাদের এ্যামেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে বর্বরতার একটা পাল্টা জবাব খূজে পেয়েছিলো, যে তাদের মতো এ্যামেরিকানরাও একইরকম খুনী-গণহত্যাকারী।

তবে ভিয়েতনাম যুদ্ধ ফেরত অভিনেতা অলিভার ষ্টোন পরিচালিত ১৯৮৬ সালের অস্কার পুরস্কার প্রাপ্ত প্লাটুন ছবিটা এই যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত সব ছবির মধ্যে একমাত্র ব্যাতিক্রম।এখানে ১৯৬৭ সালে ভিয়েতনামে সংঘটিত এ্যামেরিকার সৈন্যদের ঘটানো চরম নৃংশস মাই-লাই গলহত্যার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। অনেক সমালোচক বলেন,জন ওয়েন পরিচালিত গ্রিন ব্যারেট( ১৯৬৭) ছবিটার ইতিহাস বিকৃতির উত্তরে ছবিটা বানানো হয়েছে।

তবে আমার মনে হয়,১৯৮২ সালের ষ্ট্যালোন অভিনীত র‌্যাম্বো ২ এ ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হওয়ার ৭ বছর পরও ভিয়েতনামীদের রাশিয়ানদের ক্রীড়ণক এবং অত্যাচারী কাপুরুষ দিসেবে দেখানো ফলেই তিনি সত্য ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এই ছবিটিা বানিয়েছেন।


১৯৮৯ সালে তার পরিচালিত আরেকটা অস্কার প্রাপ্ত বর্ণ অন দ্য ফোর্থ অফ জুলাই ছবিটাতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বক্তব্য আরো শক্তিশালীভাবে এসেছে,যেখানে দেখানো হয়েছে একজন এ্যামেরিকান সৈন্য ভিয়েতনাম যুদ্ধেক্ষেত্রে আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে দেশে ফিরে এসে যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।টম ক্রুজের এই ছবিতে অভিনয় করা থেকে ধারণা করা যায়,মনে মনে তিনিও হয়তো সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী।
(অসমাপ্ত)

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মে, ২০২০ রাত ৯:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: সেই রকম কিছু মুভির নাম জানলাম।

০৫ ই মে, ২০২০ রাত ৯:২৫

অনল চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ।
এখন তো সব বন্ধ, সবাই বাসায়।
ছবি দেখেন,দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়া যাবে।

২| ০৬ ই মে, ২০২০ রাত ২:১০

নেওয়াজ আলি বলেছেন: এখন ছবি দেখা আর বই পড় বড় কাজ। উপরের দুইটা অনেক আগে দেখেছি। বাংলাদেশের ভালো ছবির নাম দিবেন

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ২:২৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: জীবন থেকে নেয়া( ১৯৭০) ওরা এগার জন-১৯৭২,সংগ্রাম-১৯৭৩,, আলোর মিছিলে-১৯৭৪,লাঠিয়াল-১৯৭৫,এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী,ডানপিটে ছেলে-১৯৮০,লড়াকু-১৯৮৬।
এগুলি দেখেন,তারপর অন্যগুলি দেবো।

৩| ০৬ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:৪৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: " সিনেমা ও খবর দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি তৈরি হয় আজকের যুগে—যেমন ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি অনেকটা নিজ নিজ দেশের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অবদান। এদিকে বাংলাদেশ 'তলাহীন ঝুড়ির দেশ', 'ঝড়-বন্যার দেশ', 'কৃষিপ্রধান দেশের' পরে 'দ্য ইকোনমিস্ট' পত্রিকার চোখে হয়েছিল 'দ্য নেক্স্ট আফগানিস্তান'—জঙ্গি উপদ্রুত দেশ। এক যুগ আগের সেই লেবেল 'হোলি আর্টিজানের' ঘটনার পর আরও জোরদার হয়। আমরা যতই উন্নয়নের বিলবোর্ডে দেশ ছেয়ে ফেলি, সমস্যাজনক দেশ হিসেবে আমাদের দেখিয়ে আসছে হলিউড-বলিউড।

পশ্চিমা শ্বেতাঙ্গ যোদ্ধাদের এই অসম্ভব বীরত্বই দেখানো হতো আশির দশকের র‌্যাম্বো মুভিতে। আফগানিস্তান, কম্বোডিয়ার মতো দেশে র‌্যাম্বো যেভাবে সুপারম্যানের মতো মিশন চালাত, তা ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজিত যুক্তরাষ্ট্রের অপরাজেয় 'ভাব' ধরে রাখায় কাজে লাগত। তেমনি সম্প্রতি এক্সট্রাকশন মুভিতে বাংলাদেশের সেইরকম নেগেটিভ ব্রান্ডিং হলো!
এক্সট্রাকশনের বাংলা হলো নিষ্কাশন, উদ্ধার অর্থেও ব্যবহৃত হয় শব্দটি। এই সিনেমায় রাষ্ট্র বাংলাদেশ নিষ্কাশিত এবং উদ্ধারকৃত হলো শিশু অভির 'ইনোসেন্স'। অভিজ্ঞ টাইলার শিশুকে উদ্ধার করলেও নিষ্কাশিত করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ইমেজ। সব অর্থেই।
সব নষ্টের গোড়া কেবল হিন্দি সিরিয়ালের কায়দায় চলাফেরা করা বাংলাদেশি ভিলেন, তার অনুগত বিভিন্ন ইউনিফর্ম পরা বাহিনী এবং কিশোর সন্ত্রাসীদের দঙ্গল। বলা বাহুল্য, টাইলার ভাড়াটে খুনি হয়েও অনেক মানবিক। অথচ বাংলাদেশিদের সবই খারাপ। তারা বস্তিতে থাকে, নোংরা ঘিঞ্জি রাস্তায় ঘোরে, ঘরে ঘরে হিন্দি গান বাজে, তারা অপহরণ-গুম এসব করে, তাদের বাহিনীগুলো ড্রাগসম্রাটের হুকুম তামিলে একপায়ে খাড়া।

মুভির অবচেতনে যে মেসেজ দেয়া হলো- মুসলমানেরা রাষ্ট্র চালাতে পারে না, তারা অনেক সন্তান পয়দা করে, তাদের অর্থনীতি ক্রিমিনাল অর্থনীতি, তাদের দেশ বসবাসের অনুপযোগী, তাদের নেতারা বালখিল্য মাফিয়া, মানুষের বিন্দুমাত্র মর্যাদা সেখানে নেই—বর্ণবাদী ইসলামোফোবিক নকশার সব উপাদানই এক্সট্র্যাকশনে আছে। এই বাংলাদেশের রং মরুভূমির মতো হলুদ, বিপরীতে মুম্বাইয়ের দৃশ্যগুলো হালকা ফিরোজা রঙের আলোয় ভরা, পরিপাটি, সুন্দর এবং বিলাসবহুল। মুম্বাইয়ের মাফিয়া সন্তান স্নেহে কাতর, টাইলারও অকালপ্রয়াত সন্তানের মৃত্যুর শোক বুকে বহন করে চলে। আনায়ক আর আধাখলনায়ক সাজুরও সুন্দর স্ত্রী-সন্তান থাকে। এসব মসলা সিনেমায় আপাত নিষ্ঠুর মানুষের প্রতি মানবিক টান তৈরির কৌশল। কিন্তু বাংলাদেশি ভিলেইন শতভাগ ভিলেইন, সে শিশুঘাতক ও নরপশু। তার তৈরি করা নারকীয় বাংলাদেশে ভারতীয় কিশোর বন্দী। তাকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালায় অস্ট্রেলীয়-আমেরিকান-ভারতীয় বেসরকারি বাহিনী। বীরত্ব তাদের, মানবিকতা তাদের, রংঢংও তাদের। মাফিয়াপুত্র হলেও অভি এক সুশ্রী, বুদ্ধিমান, মানবিক, স্বাভাবিক ও সাহসী কিশোর। আর বাংলাদেশের কিশোরেরা ড্রাগ বেচে, অস্ত্র ধরে, মাফিয়ার হয়ে বন্দুকবাজি করে।
গত এক যুগে বাংলাদেশে গুম, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, কিশোর অপরাধ, বিচারহীনতা, নিষ্ঠুরতার যেসব খবর আমরা গণমাধ্যমে পাই, অ্যাট্রাকশন কি তার সিনেমাটিক উপস্থাপন নাকি পুরোটাই কল্পনা। শুধু সমালোচনা করে লাভ কী, যদি-না আমরা নিজেদের বাস্তবতা ও সিনেমাটিক উপস্থাপনাকে আমাদের মতো করে করতে না পারি?
এক্সট্র্যাকশনে বাস্তবতা বিকৃত করে দেখানো হলেও তার ভেতরের সত্যটা কি অস্বীকার করা যায়? এই সিনেমায় দেখানো বাস্তবতা কি আমাদের ভবিষ্যৎ, নাকি বর্তমান? "

রিভিউ টুকু লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ সাহেব এর লেখা থেকে আংশিক উদ্ধৃত।

এই মহাযজ্ঞে একমূখি খেলা চলছে শুরু থেকেই। কারণ অপর পক্ষ যে অধীকাংশ ক্ষেত্রেই অজ্ঞ!
আর মুসলিমরাতো আরো সরেস! তারা রীতিমতো হারাম ঘোষনা করে চোখ বন্ধ করে বসে আছে!
এদিকে চলচ্চিত্র গুলো মুসলিম ব্রান্ডিং করছে এর পরিত্যক্ত মুনাফিক নেগেটিভ চরিত্রগুলোকেই।
হলিউডের বিদ্রুেপর সাথে এখন বলিউডও বিদ্রুপ করতে ছাড়ছে না। বাংলাদেশকে নিয়ে প্রচুর বিদ্রুপ আছে
যাকে অবহেলা করার সুযোগ ছিল না! কিন্তু কার গোয়াল কে দেয় ধোঁয়া!!!


০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:৩৫

অনল চৌধুরী বলেছেন: স্বাধীনতার পর দেশে হিন্দি ছবির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে সরকার বাংলা ছবিকে সুরক্ষা দিয়ে যে সুযোগ দিয়েছিলো,সেই সুযোগ ব্যবহার করে এফডিসি'র চলচ্চিত্রেরও তামিল-তেলেগু চলচ্চিত্রের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতি,ও অর্থ অর্জনের সুযোগ ছিলো।কিন্ত বাংলাদেশের টাকা লোভী মাসুদ রানা-ঝন্টু-মন্টু-কাজী-চক্রের নকলবাজী আর নোংরা অশ্লীলতার কারণে দেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন দূরে থাক,উল্টা দেশের প্রায় সব প্রেক্ষাগৃহই বন্ধ ।

হলিউড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছবি বানিয়ে যদি বাংলাদেশেকে হেয় করে ,তাহলে এদেশেরও উচিত ১৯৭৪-এ নগদ টাকায় কেনা খাদ্যবাহী জাহাজ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা সহ পৃথিবীতে এ্যামেরিকার সব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তুলে ধরে একটা ছবি বানানো।

একই সাথে ভারতের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের কাহিনী নিয়েও ছবি বাননো উচিত কারণ তারা গুন্ডেসহ বহু ছবিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.