নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহসী সত্য।এই নষ্ট দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী একজন যোদ্ধা।বাংলাদেশে পর্বত আরোহণের পথিকৃত।

অনল চৌধুরী

লেখক,সাংবাদিক,গবেষক,অনুবাদক,দার্শনিক,তাত্ত্বিক,সমাজ সংস্কারক,শিক্ষক ও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী যোদ্ধা

অনল চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

হলিউডের বিদ্রুপাত্মক,বর্ণবাদ ও আগ্রাসনবিরোধী চলচ্চিত্র-৩

১৭ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৪১


১৯৯০ এর দশক ছিলো হলিউডে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছবি নির্মাণের সবচেয়ে উল্লেযোগ্য সময়।১৯৯০ সালের আগষ্টে ইরাক,কুয়েত দখল করার পর এ্যামেরিকা কুয়েতমুক্ত করার নামে বহুজাতিক বাহিনী গঠন করে ইরাকে হামলা চালায়।মাত্র ১০০ ঘন্টার যুদ্ধের পর ইরাক পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করার পরও ইরাকে প্রতিদিন চলতে থাকে সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার বিমান হামলা।এই ধারা চলে বুশের পর ক্লিনটন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও।

একইসাথে এ্যামেরিকার মদদে অবরোধ অরোপ করার কারণে ইরাকে শিশুসহ লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।ধনী ইরাক পরিণত হয় দুর্ভিক্ষের দেশে।

কিন্ত একই সময়ে দখলকৃত ফিলিস্তিনে প্রতিদিন ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী এ্যামেরিকা,বৃটেন ও ফ্রান্স কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আত্মরক্ষার অধিকার আছে বলে তাদের অপকর্মে নির্লজ্জের মতো সমর্থন দেয়।অথচ জাতিসংঘেরই একটা প্রস্তাবে দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলকে বিতাড়িত করার জন্য শক্তিপ্রয়োগের কথা বলা হয়েছিলো,যেটা করা হয়েছে ইরাককে কুয়েত থেকে বিতাড়িত করা ক্ষেত্রে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই দ্বিমূখী নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রতিটা দেশের সচেতন ব্যাক্তিদের মতো এ্যামেরিকার যুদ্ধবিরোধী শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং হলিউডের চলচ্চিত্র জগতের মানবতাবাদী ব্যাক্তিরাও ক্ষুদ্ধ ও প্রতিবাদী হন।
১৯৯৩ সালে পরিচালক জন আব্রাহাম হট শট পার্ট ডুয়ক্স ছবিটা পরিচালনা করেন।এই ছবিটা গোলান-গ্লোবাস-এর র‌্যাম্বো ২ ও ৩ ছবিকে ব্যাঙ্গ করে বানানো হয়। ছবিতে অভিনয় করেন ১৯৭৯ সালের অস্কার বিজয়ী ভিয়েনাম যুদ্ধবিরোধী ছবি এপোকলাপসি নাউ ছবির অভিনেতা মার্টিন শিন ও তার ছেলে আরেক অস্কার বিজয়ী চার্লি শিন।তারা দুইজনই দেশে দেশে এ্যামেরিকার সন্ত্রাসী যুদ্ধবাজ নীতির ঘোর প্রতিবাদী।

এই ছবিতে চার্লি র‌্যাম্বোরূপি ষ্ট্যালোনকে ব্যাঙ্গকারী কমান্ডো টপার হার্লে এবং তার বাবা মার্টিন বড় বুশকে ব্যাঙ্গকারী কল্পিত রাষ্ট্রপতি বেনসন-এর চরিত্রে অভিনয় করেন।

ছবির প্রথমদিকে দেখানো হয় ,এ্যামেরিকার বিশেষ বাহিনী ইরাকে পরিচালিত অপারেশন ডেসার্ট ষ্টর্ম –আটক সৈন্যদের উদ্ধার এবং এ সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করতে তার প্রাসাদ আক্রমণ করতে গিয়ে নিজেরাই সাদ্দামের দেহরক্ষীদের হাতে আটক হয় (এঘটনার মাধ্যমে ১৯৬২ সালে কিউবার বে অফ পিগস-এ ফিডেল ক্যাষ্ট্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সিআইএ পরিচালিত অভিযানের ব্যর্থতাকে বিদ্রূপ করা হয়েছে)।তাকে উদ্ধারে জন্য কয়েকটা চেষ্টা ব্যার্থ হলে বেনসন নিজেদের ভিতর থেকেই কেউ ষড়যন্ত্র করছে সন্দেহ করে । টপারের বস কর্ণেল ডেনটন ( র‌্যাম্বোর পর্বগুলির মতো মতো এই ব্যাঙ্গ ছবিতেও একই চরিত্রে রিচার্ড ক্রেনা অভিনয় করে নিজেকে চতুর ব্যাক্তি হিসেবে প্রমাণ করেন।কারণ তিনি আগ্রাসনবিরোধী ব্যাক্তি হলে র‌্যাম্বোর মতো নিৃকষ্ট সন্ত্রাসী ভাবধারার ছবিতে অভিনয় করতে না। আবার নীতিবান হলে দ্বিতীয়বার একই চরিত্রের ব্যাঙ্গ ভূমিকায় অভিনয় করেও টাকা নিতেন না।)এ কাজের জন্য বীর যোদ্ধা টপার হার্লের সাহায্য নেয়ার পরামর্শ দেন।

র‌্যাম্বো-৩ এর অনুকরণে ছবিতে টপারের প্রথম দৃশ্যে দেখানো হয়,টপার হার্লে র‌্যাম্বোর মতোই থাইল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় এর থাই বক্সিং যোদ্ধার সাথে লড়াই করছে। কর্ণেল ওয়াল্টার ( ক্রেনা) সহ সিআইএ কর্মকর্তারা সেখানে তাকে তাকে ইরাকে বন্দী এ্যামেরিকার সৈন্যদের উদ্ধার অভিযানে যোগ দিতে বলে। কিন্ত এ্যামেরিকার নৌবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে অহিংসবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করা টপার তার অনুরোধ প্রত্যাখান করে। কিন্ত পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে তার বস জেমস ওয়াল্টার (ক্রেনা) ইরাকে আটক হলে সে একদল সৈন্য নিয়ে ইরাকের অনুপ্রবেশে রাজী হয়।



তবে আরেকটা উদ্ধার অভিযানের ব্যর্থতার কথা শুনে রাষ্ট্রপতি বুশরুপি বেনসন (মার্টিন শিন) নিজেই ইরাকে হামলা চালাতে যায়।ছবির শেষ পর্যায়ে ষ্টার ওয়ারস ছবির আলোকিত তলোয়ার (Lightsaber,লাইট সেবার) হাতে সাদ্দামের সাথে বেনসনের তলোয়ার যুদ্ধ দেখানো হয়।এক পর্যায়ে বেনসন অগ্নি নির্বপণ যন্ত্রে থেকে নিক্ষিপ্ত বস্ত দিয়ে সাদ্দাম ও তার ককুরকে মূর্তিতে পরিণত করে।তারপর ধাক্কা দিলে দুইজনই ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে যায়।তবে টুকরাগুলি একত্রিত হয়ে পুনরায় যুক্ত হয়ে টার্মিনেটনর-২ ছবির খল চরিত্রের মতো সাদ্দামেরও পুণরায় জন্ম হয়। এর মাধ্যমে হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে ,এ্যামেরিকা এক সাদ্দামকে ধ্বংস করলেও ইরান আক্রমণ করানোর মতো নিজেদের স্বার্থে আরো অনেক সাদ্দাম সৃষ্টি করবে।

পৃথিবীর দেশে দেশে সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার আগ্রাসন নীতিকে আঘাত করে এরকম আর কোনো ছবি হলিউডে বানানো হয়নি,যেখানে সরাসরি রাষ্ট্রপতির চরিত্রকে ব্যাঙ্গ করা হয়েছে,যে নিজেই একজন সশরীরে আগ্রাসনকারী।
ছবিতে মি: বিন চরিত্রে অভিনয়কারী রোয়ান এ্যাটকিনসনও অভিনয় করেন। এ্যামেরিকার সব সন্ত্রাসের প্রধান সহায়ক হিসেবে বৃটেনের ভূমিকাকে ব্যাঙ্গ করেই একজন বৃটিশ অভিনেতাকে ইরাকে এ্যামেরিকার সেনাবাহিনীর একজন যুদ্ধবন্দী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে,চার্লি শিন ২০০৯ সালের টুইন টাওয়ারে হামলাকে বুশের সাজানো নাটক বলে উল্লেখ করেছিলেন।তিনি এবং তার বাবা মার্টিন শিনসহ হুলিউডের মানবতাবাদী ও সচেতন ব্যাক্তিরা সবসময়ই এ্যামেরিকার সন্ত্রাসবাদী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে আন্দোলন করেন।


হলিউডের অন্যতম সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরোধী ছবি মেল গিবসন অভিনীত ও পরিচালিত ১৯৯৫ সালে নির্মিত এবং সে বছরের শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্রেভহার্ট। বর্বর ইংরজেদের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামী উইলিয়াম ওয়ালাসের স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে ছবিটা নির্মিত। ছবিতে দেখানো হয়,ইংরেজরা স্কটল্যান্ড দখল করার পর সেখানকার নারীদের বিয়ের প্রথম রাত ইংরেজ সৈন্যদের সাথে কাটানোর মাধ্যমে স্কট নারীদের জন্ম দেয়া সন্তানদের জাতিগত পরিচয় পাল্টে ইংরেজ বানানোর জন্য নামে জাস প্রি-ম্যানেকটিস একটা জঘণ্য প্রথা চালু করে ‌ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় এডোয়ার্ড।

এ থেকে নিজের প্রেমিকা মারণকে রক্ষার জন্য ছবির প্রধান চরিত্র উইলিয়াম ওয়ালাস তাকে গোপনে বিয়ে করে। মারনকে নিজেদের প্রবৃত্তির শিকারে পরিণত করতে না পেরে ইংরেজ সেনা প্রধান তাকে হত্যা করে।

নিজের স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিতে ওয়ালাস সেই সেনা প্রধান ও তার দলবলকে হত্যা করে এবং পরিণত হন স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামীতে।তিনি কয়েকটা যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজিত করেন।কিন্ত শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাকতার কাণে তিনি ধরা পরেন এবং তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার মৃতদেহ চার টুকরা করে বৃটেনের চার অংশে পাঠানো হয়।তিনি স্কটল্যান্ডের জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত।

ইংরেজদের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী এতো সাহসী কোনো ছবি এখনো নির্মিত হয়নি।ছবির গল্পের ঐতিহাসিক নির্ভূলতা সম্পর্কে বিরোধ থাকলেও এই ছবিটা স্কটল্যান্ডের মৃতপ্রায় জাতীয়তাবোধের পুণ:জাগরণ ঘটায়। এর ফলে ১৯৯৯ সালে স্কটল্যান্ডের নিজস্ব সংসদ লাভ করে,গ্যালিক ভাষার টিভি চ্যানেল সম্প্রচার শুরু হয়। এমনকি স্বাধীনতার দাবীতে ২০১৪ সালে স্কটিশরা প্রথমবারের মতো স্বাদীনতার জন্য গণভোটেরও আয়োজন করতেও সক্ষম হয়।

একটা ছবির বক্তব্য কতোটা শক্তিশালী হলে একটা জাতির মৃতপ্রায় স্বাধীনতার চেতনাকে পুণ:জাগড়িত করতে পারে,ব্রেভহার্ট ছবিটাই তার প্রমাণ।

মূলত মেল গিবসন এ ছবির মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের জনগণ উপর ইংরেজদের অত্যাচারের আড়ালে পৃথিবীর দেশে দেশে শত শত বছরে ধরে ইংরেজ,ফরাসী,ও এ্যামেরিকা,ইসরাইলসহ সব সন্ত্রাসী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির আগ্রাসন,গণহত্যা ও লুটপাটের কথা বর্ণনা করেছেন।


২০০৪ সালে মেল গিবসন এ্যারামাইক ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষায় নির্মাণ করেন দ্য প্যাশন অফ দ্য ক্রাইষ্ট ছবিটা।এই ছবিতে ইহুদীদের হাতে যিশু খ্রিষ্টকে নির্মমভাবে অত্যাচারিত ও নিহত হতে দেখানো হয়।ছবিটা সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও এ্যামেরিকার ইহুদীবাদী গোষ্ঠীগুলি প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হয়ে কঠোর সমালোচনা করতে থাকে।

মূলত ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলীদের অত্যাচার এবং এ্যামেরিকার রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে শক্তিশালী ইহুদীবাদী গোষ্টীর দেশে দেশে তেল সম্পদ লুট ও অস্ত্র ব্যবসার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যুদ্ধবাদী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদেই ছবিটা নির্মিত হয়।

মেল গিবসন যে ইহুদীদের সন্ত্রাসবাদী নীতির বিরোধী,তার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৬ সালে মাতাল অবস্থায় পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর ইহুদীরাই পৃথিবীর সব যুদ্ধের জন্য দায়ী বলে তার মন্তব্য থেকে।


তার পরিচালিত আরেকটা ছবি এ্যাপিক্যালিপটো (২০০৬)।দক্ষিণ এ্যামেরিকার অরণ্যচারী আদিবাসী গোত্রদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নিয়ে ছবিটা নির্মিত।এই ছবির শেষ দৃশ্যে দেখানো হয়েছে,সংঘর্ষের মধ্যেই তাদের দেশে অনুপ্রবেশ করে ইউরোপীয় দুই সৈন্যের। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন,এশিয়া,আফ্রিকার নির্বোধ জনগণ একত্রিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে নিজেরা মারামারি করে মরার ফলেই তারা তাদের শাসন-শোষণ আর সম্পদ লুটের সযেোগ পাচ্ছে।


২০০০ সালে রিডলি স্কট পরিচালিত অস্কার প্রাপ্ত গ্ল্যাডিয়েটর ছবিটাও স্পার্টাকাসের মতোই রোমান সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার আড়ালে পৃথিবীর দেশে দেশে –এ্যামেরিকা-বৃটেন-ফ্রান্সের দেশদখল ও মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে বিশ্বের মানুষকে লড়াইয়ে উৎসাহিত করার জন্য নির্মিত।


একই বছর মেল গিবসন অভিনীত দ্য প্যাট্রিয়ট বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এ্যামেরিকানদের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত ছবি,যেটারও মূল বক্তব্যও দেশখলকারীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য লড়াই।। এই ছবির মূল চরিত্র বেঞ্জামিন মার্টিন রুপি মেল গিবসন প্রথমে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধেোংশ নিতে আপত্তি করলেও পরে তার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তার ছেলে ইংরেজ সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হলে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

বৃটিশ গণমাধ্যম ছবিটার তীব্র সমালোচনা করে এবং ছবির প্রধান চরিত্র বেঞ্জামিন মার্টিন এবং ফ্রান্সিস ম্যারিয়নকে আদিবাসী ইন্ডিয়ান হত্যাকারী এবং দাস মালিক বলে সমালোচনা করে। ছবিটার পরিচালক রেনল্ড এমরিখ একজন জার্মান হওয়ায় হয়তো তাদের ক্ষোভ আরো বেশী ছিলো।

এ্যামেরিকার পরিচালক মাইকেল মূর ২০০৪ সালে ফারেনহাইট ৯/১১ নামে প্রামাণচিত্র বানিয়ে সারা পৃথিবীর কাছে প্রমাণ করেছেন যে ২০০১ সালে এ্যামেরিকার টুইন টাওয়ার হামলার পুরো পরিকল্পনাই করেছিলো এ্যামেরিকার সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা।তার এই ভয়ংকর দাবীর বিরুদ্ধে এ্যামেরিকার তৎকালীণ বুশ সরকার কোনো প্রতিবাদ বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে বা তাকে গ্রেফতার না করে তার দাবী যে সত্য,সেটাই প্রমাণ করেছে।

হলিউডের আরেক প্রতিভাবান ও ব্যবসাসফল চিত্রপরিচাল জেমস ক্যামেরন। দ্য এ্যাবিস-১৯৯৮,এ্যালিয়েন(১৯৯০).টার্মিনেটর-২ (১৯৯১) ও টাইটানিক(১৯৯৭) সহ তার পরিচালিত তার পরিচালিত প্রতিটা ছবিই বিপুল ব্যাবসা সফল ও জনপ্রিয় হয়েছে। ২০০৯ সালে তিনি এ্যাভেটর ছবিটা পরিচালনা করেন। শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ তিনটা অস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তএ ছবিতে দেখানো হয়.২১৫৪ সালে এ্যামেরিকার একটা খনিজ অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান প্যান্ডোরা নামে বহু দূরের একটা গ্রহে মূল্যবান খণিজ সম্পদের সন্ধান পায়।এই গ্রহে নাভি নামে একটা দীর্ঘকায় জাতি বসবাস করে,যাদের শরীরের রং নীল এবং যারা প্রকৃতির সাথে সমন্বয় করে শান্তিতে বসবাস করছে।

তাদের খণিজ সম্পদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য জ্যাক সুলি নামে এক পঙ্গু সৈন্যকে একটা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নাভিদের আকৃতি দিয়ে তাকে প্যান্ডোরা গ্রহে পাঠানো হয়।সুলি নাভিদের দলে ঢুকে যায় এবং তাদের জীবনচারণ পদ্ধতি রপ্ত করে।তবে এক পর্যায়ে তাকে প্যান্ডোরায় পাঠানো খনিজ অনুসন্ধানী দলের সেনাবাহিনী নাভিদের ধ্বংস করার চেষ্টা করলে সে তাকে প্যান্ডোরায় পাঠানো দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নাভিদের ন্যায়সঙ্গত স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে লড়াই করে এবং তাদের পরাজিত করে।


ছবিটার বক্তব্য থেকে যে কেউই বুঝতে পারবেন যে,গণতন্ত্র,মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে পৃথিবীর দেশে দেশে সম্পদ লুটের জন্য সন্ত্রাসী এ্যামেরিকা,বৃটেন,ফ্রান্স ও এদের তাবেদার দেশগুলির ভন্ড নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদেই ক্যামেরন এই ছবিটা বানিয়েছেন।ছবিতে প্যান্ডোরার নাভি জনগণের পোষাক ও সাজসজ্জা রেড ইন্ডিয়ান বলে পরিচিত এ্যামেরিকার আদিবাসীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ,যাদের গায়ের রং লালের পরিবর্তে নীল দেখানো হয়েছে। এই প্রতীকের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে,আদিবাসীদের মতো নাভিদেরও নির্মূল করে সাদারা তাদের সম্পদ লুট করতে চায়।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এই ছবির মূল এ্যাভেটর পরিচালক জেমস ক্যামেরন নিজেই। কারণ অতীতে তিনিও বিশ্বের দেশে দেশে যে,সমাজতন্ত্র ও তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাসী নির্মূল করে পৃথিবীতে গণতন্ত্র,মানবাধিকার,শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে এ্যামেরিকার যুদ্ধবাদী-সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর সমর্থক ছিলেন। একারণেই তিনি সমাজতান্ত্রিক স্বাধীনতাকামী ভিয়েতনামীদের চরমভাবে হেয় করে বানানো র‌্যাম্বো-২ (১৯৮২) ছবির চিত্রনাট্যকারদের একজন ছিলেন।

১৯৯৪ সালে মুসলমানদের ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে দেখিয়ে আর্নল্ডকে নায়ক করে বানিয়েছেন ট্রু-লাইস ছবিটা। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধের নামে ২০০১ সালে নিজেরাই টুইন টাওয়ারে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে এজন্য মুসলমানদের দায়ী করে মূলত তেল সম্পদ লুট ও সরবরাহ পথ তৈরীর জন্য প্রথমে আফগানিস্তান এবং পরে ইরাক ধ্বংস এবং সেখানে পুতুল সরকার বসিয়ে ইরাকের তেল লুট দেখে এ্যামেরিকার জঘণ্য আগ্রাসন ও লুটপাট নীতি দেখে তিনি নিজেই এ্যাভেটর ছবির নায়ক জ্যাক সুলি'র মতো ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সারাবিশ্বের স্বাধীনতা এবং মুক্তিকামী মানুষের সমর্থক হন।
(অসমাপ্ত)

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৪৬

কল্পদ্রুম বলেছেন: প্রথমটি ছাড়া বাকিগুলো দেখা হয়েছে।খুবই ভালো চলচ্চিত্র সবগুলি।কিন্তু কথা হচ্ছে আমেরিকান ন্যারেটিভ সারা পৃথিবীতে বিশেষত নিজেদের নাগরিকদের ভিতর ছড়াতে হলিউড সবসময় কাজ করেছে।এখন বছরে দুই একটা ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র বানানো গরু মেরে জুতা দানের মত ব্যাপার।

১৮ ই মে, ২০২০ রাত ২:০৯

অনল চৌধুরী বলেছেন: বারবার বলেছি, এ্যামেরিকার ৯০% লোক তাদের সরকারের সন্ত্রাসী কাজের অন্ধ সমর্থক।
এর মধ্যে যে এইসব ব্যাক্তিরা সাহস করে আগ্রাসনবিবোধী ছবি বানিয়েছেন এটাই তো অনেক।
ভারতে তো মত প্রকাশের এই সুযোগও নাই।

২| ১৮ ই মে, ২০২০ রাত ১২:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: করোনা বন্দির কারনে মানুষ খুব মুভি দেখছে। আমিও দেখছি।

১৮ ই মে, ২০২০ রাত ২:০৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: আমি দেখছি না,আগে যা দেখেছি,সেসব নিয়ে গবেষণা করে বই আর ব্লগে লিখছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.