নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহসী সত্য।এই নষ্ট দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী একজন যোদ্ধা।বাংলাদেশে পর্বত আরোহণের পথিকৃত।

অনল চৌধুরী

লেখক,সাংবাদিক,গবেষক,অনুবাদক,দার্শনিক,তাত্ত্বিক,সমাজ সংস্কারক,শিক্ষক ও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী যোদ্ধা

অনল চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

পলাশীর আসল বিশ্বাসঘাতক ছিলো পরশ্রীকাতর বাঙ্গালীরা

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ২:৪৩



আজ থেকে ২৬৩ বছর আগে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় শুরু হয় ইংরেজদের চরম অত্যাচারী শাসন।

বাংলার সম্পদ ব্যবহার করে ইংরেজরা দখল করে নেয় পুরো এলাকা । তারপর বাংলায় ঘাটি গড়ে,বাংলার সম্পদ ব্যবহার করে এদেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের নিয়ে সৈন্যদল বানিয়ে এক এক করে দখল করে বার্মা,শ্রীলংকা,মালয়শিয়া এবং পরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।

সিরাজ-উদ-দৌলা বাঙ্গালী ছিলেন না।তিনি বাংলা জানতেনও না। কিন্ত তার জন্ম হয়েছিলো বাংলায়। বাংলার জনগণকে রক্ষার জন্য তিনি তার নানা আলীবর্দী খানের সাথে মারাঠা বর্গীদের সাথে দিন-রাত যুদ্ধ করেছিলেন। আর ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে বিশ্বাসঘাতকদের কারণে নির্মভাবে নিহত হয়েছিলেন।

তিনি ভীতু বা কাপুরুষ ছিলেন না। তিনি শুধু ১৩-১৪ বছর বয়সে ভয়ংকর মারাঠীদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেননি,আলীবর্দী খানের মতো সাহসী ব্যাক্তির মুত্যুর পরও একাই লড়াই করে ইংরেজদের ষড়য়ন্ত্রের ঘাটি কাশিমবাজার কুঠি থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন। পলাশীর যুদ্ধের মাত্র ১ বছর আগে তিনি ইংরেজেদের পরাজিত করে কলকাতার দখল করেন।

তার সাহস,বীরত্ব,যুদ্ধকৌশল ও উন্নত অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইংরেজরা পারবে না জেনেই মীরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকদের সহায়তায় পলাশীর যুদ্ধে তাকে জয়ী হতে দেয়নি।

তার একমাত্র অপরাধ ছিলো তিনি চেঙ্গিস,হালাকু ও তৈমুরের মতো নৃশংসভাবে সব বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজদের হত্যা করে তাদের নির্বংশ করার মতো নৃশংসতা দেখাতে পারেন নি। তাহলে তাকে নির্মভাবে মরতে হতো না।

আজ পর্যন্ত কোন ইংরেজ বা ইউরোপীয় ঐতিহাসিক প্রমাণ করতে পারেনি যে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা ছাড়া তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোন অন্যায় আচরণ বা ষড়যন্ত্র করেছিলেন।বরং তার কলকাতা দখলের পর তার বিরুদ্ধে আনা অন্ধকূপ হত্যার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে বহু আগেই বৃটিশ সংসদ ঘোষণা দিয়েছে।

তার কোন বিশ্বাসঘাতকেরই স্বাভাবিক মৃত্য হয়নি। প্রত্যেককেই এই পৃথিবীতেই চরম শাস্তি পেয়ে মরতে হয়েছে।যুগে যুগে সব দেশের সব বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতি এরকমই হয়।

তবে মীরজাফর-ঘষেটি আর জগশেঠ চক্রে উপর সিরাজের পরাজয়ের দোষ চাপানো হলেও পলাশীর আসল মীরজাফর ছিলো পুরো বাঙ্গালী জাতি।

পরশ্রীকাতরতা,হীনমন্যতা,ও দলাদলির কারণে নষ্ট ও নিকৃষ্ট এই জাতি পাল বংশের পতনের পর থেকে আর নিজেদের দেশ শাসন করতে পারেনি।তাদের ব্যার্থতার কারলেই সেন,তুর্কি,পাঠান,মোগলরা বাংলা শাসন করেছে।

এই ধারাতেই এসেছিলেন আলীবর্দী ও সিরাজ।তারা দেশের শাসক হিসেবে প্রজাদের উপর অত্যাচার চালাননি।বরং মারাঠীদের নৃশংস অত্যাচার থেকে যুদ্ধ করেই বাঙ্গালীদের রক্ষা করেছিলেন।

কিন্ত পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর যখন সিরাজকে বন্দী করে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো,তখন কেউ এর কোন প্রতিবাদ করেনি।

ক্লাইভ লিখেছিলো,বন্দী সিরাজকে দেখতে রাস্তার দুইপাশে যতো লোক জড়ো হয়েছিলো,তারা একটা করে ঢিল ছুড়ে মারলেও ক্লাইভের মাত্র ১২০০ ইংরেজ সৈন্যর কাউকেই খুজে পাওয়া যেতো না।কিন্ত হীনমণ্য বাঙ্গালীরা সেটা করেনি।বরং তাদের অনেকে নবাবকে উদ্দেশ্য করে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করছিলো বলেও শোনা যায় !!!

পলাশী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রাজধানী ফিরে তিনি রাজকোষ উন্মুক্ত করে সৈন্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন।সৈন্যরা ধনরত্ন নিয়ে পালিয়েছিলো। যুদ্ধ শেষ হওয়া কয়েকদিন পর সিরাজকে ধরিয়ে দেয়া হয়।
কোনো বাঙ্গালী তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

সেখানে মুর্শিাদাবাদের ছাড়া ঢাকার লোকজনও অনেক ছিলো, কারণ দুই এলাকার মধ্যে যাতায়াত ছিলো নিয়মিত।ইংল্যান্ডে এরকম ঘটনা চিন্তার বাইরে যে ফরাসী বা অন্য কোনো বিদেশী তাদের রাজাকে বন্দী করে নিয়ে যাবে আর ইংরেজরা সেটা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখবে !!!

অথচ আলীবর্দী এবং সিরাজ সাহসিকতার সাথে ১০ বছর ধরে লড়াই করে মারাঠী ডাকাতদের বিশাল বাহিনীকে প্রতিহত না করলে তারা বাংলায় লুটপাট-নারী নির্যাতন অব্যাহত রাখতো। বাংলায় মারাঠীদের আক্রমণ কতোটা ভয়াবহ ছিলো,তার প্রমাণ এখনো দুই বাংলায়

খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
বর্গী এলো দেশে......


বলে শিশুদের ভয় দেখিয়ে গান শোনানো থেকে বাংলায় মারাঠা আক্রমণ (১৭৪৫–১৭৪৯)

কিন্ত আলীবর্দী এবং সিরাজের এতোবড় উপকারের প্রতিদান দেয়ার মতে মানসিকতাও বাঙ্গালীদের ছিলো না।


ক্লাইভ আগে থেকেই জানতো,বাঙ্গালীরা লোভী-পরশ্রীকাতর আর বিশ্বাসঘাতকের জাতি। নিজেদের মধ্যে দলাদলির কারণেই তারা তাদের এতো সম্পদে পূর্ণ দেশটা নিজেরা শাসন করতে পারছে না,করছে বিদেশী নবাবরা। তাই সে বহু আগে থেকেই বাংলা দখলের পরিকল্পনা করেছিলো।

সিরাজকে বন্দী করে রাখা বা হত্যার পরও মুর্শিদাবাদ বা ঢাকা-কোথাও কোনো প্রতিবাদ হয়নি। এমনই গাধার বংশজাত ছিলো সেইসময়ের বাঙ্গালীরা।তাদের সব মনোযোগ আর উৎসাহ ছিলো পরশ্রীকাতরতা,ক্ষুদ্র ব্যাক্তিস্বার্থে,দলাদলিতে।

সেইসময় পর্যন্ত তারা নিজেদের একটা জাতি বা দেশের নাগরিক ভাবতে পারেনি,যে চেতনা হাজার হাজার বছর আগেই ইরান,মিসর,গ্রীস,ট্রয়,রোমের নাগরিকদের ছিলো।সুতরাং ইংরেজদের গোলামী তাদের জন্য অবধারিত ছিলো।

অথচ বাংলা দখল করার শত শত বছর আগে থেকেই আয়তন ও জনসংখ্যায় অনেক ছোটো হওয়ার পরও বাংলারই পাশের রাজ্য আসাম,ত্রিপুরা ও আরাকান শাসন করছিলো স্থানীয়রাই। আর হিন্দু জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ মারাঠারা তো মোগল সাম্রাজ্যের দোর্দন্ড প্রতাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখেছিলো। এরা ইংরেজরা বাংলা দখল করার পরও বহু বছর স্বাধীনই ছিলো।


মাদ্রাজ এবং মারাঠীদের বোম্বেতে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাখা থাকলেও সেসব এলাকা বৃটিশরা দখলে নিতে পারেনি। যদিও বোম্বে ছিলো এই কোম্পানীর সবচেয়ে বড় কেন্দ্র এবং প্রধান আখড়া।কারণ সেসব এলাকায় তারা মীর জাফর বা বাঙ্গালীদের মতো নোংরা জীব পায়নি।

সেইসময় মুর্শিদাবাদ এবং ঢাকা ছিলো বর্তমানের নিউইয়র্ক,লন্ডন,টোকিওর মতোই পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ দুই শহর।যেখানে ভাগ্যের সন্ধানে সারা পৃথিবী থেকে মানুষ আসতো।

প্রচুর ফসল উৎপাদন,কুটির শিল্প,মসলিন,জাহাজ নির্মাণ এবং কামানের মতো ভারী অস্ত্র নির্মাণের জন্য বাংলা বিখ্যাত ছিলো। কিন্ত মানুষের মাথায় কোনো মগজ ছিলোনা। দেশটা বৃটিশদের খ্প্পরে গেলে জনগণের কি শোচনীয় পরিণতি হতে পারে,সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই ছিলোনা।

মীর জাফরের মেয়ের জামাই মীর কাশিম সিরাজকে গ্রেফতার করেন।কিন্ত তিনি তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য ইংরেজদের বাংলা থেকে বিড়াড়িত করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

বাঙ্গালী জনগণের উপর অত্যাচার বন্ধ করা জন্য তিনি নিজে ইংরেজদের চিঠি লিখেছিলেন।এদেশের ব্যবসায়ীদেরও ইংরেজদেরে মতো বিনাশুল্কে ব্যাবসা করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এসব কি তাদের বাংলা লুটপাটের পরিচয় না বিদেশী হওয়ার পরও এদেশবাসীদের রক্ষা করার দৃষ্টান্ত ?

তিনিও তো পারতেন ইংরেজদের অত্যাচার করতে দিয়ে তাদের দেয়া টাকায় বিলাসবহুল জীবন কাটাতে।কিন্ত বেঈমাণ বাঙ্গালী তার উপকারের প্রতিদানও দেয়নি।

বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। মরতে হয় চরম দারিদ্র অবস্থায়।


বাংলা দখল করতে না পারলে বৃটিশরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশ দূরে থাক,দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো অঞ্চলই দখল করতে পারতো না।

এভাবেই একটা দেশ ও জাতির জাতির বিশ্বাসঘাতকদের কারণে সারা পৃথিবীর মানুষদের ভুগতে হয়।

পলাশীর এতো বছর পরও কি বাংলাদেশের অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে?

আগে ইংরেজরা এদেশের সম্পদ লুট করে নিতো।আর দেশ স্বাধীনের পর থেকে একদল লোক দেশের হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করছে। সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দারিদ্র,বেকারত্ব,বিচারহীনতায় দেশ পূর্ণ।

আর এজন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী মীরজাফর,ঘসেটি,জগৎশেঠ,রায়দুর্লভ,আর রাজবল্লভদের বংশধর মানসিকতার সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ জনগণ।

দেশপ্রেমিক সিরাজ-উদ-দৌলা,মীর মদন আর মোহনলালদের চেয়ে এদের সংখ্যা লক্ষ্যগুণ বেশী।

এরাই সব দুর্নীতি-অপরাধ-অপকর্মে জড়িত হয়ে নিজেরাই নিজেদের দেশের ক্ষতি করে। রাজনীতি,অর্থনীতি,সংস্কৃতিসহ দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের পদলেহন করে।

আর এসবের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করে।

যারা সৎ নীতিবান,দেশপ্রেমিক,দেশ-জাতি সমাজ পরিবর্তন করতে চায়,তাদের এদেশের বেশীরভাগ মানুষ প্রচন্ড ঘৃণা করে।
আর তাদের পরম পছন্দ চোর-ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ-খূনী-লম্পট ঋণখেলাপী-বিদেশে টাকা পাচারকারী আর মদ-মাদক নারী এবং জুয়ার ব্যবসায়ীদের। এদেরই তারা সন্মান করে এবং সবসময় নেতা নির্বাচিত করে।


দেশের জনগণ নিজেদের পরিবর্তন করে সৎ-নীতিবান ও দেশপ্রেমিক ব্যাক্তিদের নেতা নির্বাচিত না করা এবং সব অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী না হওয়া পর্যন্ত এদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা,অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না।

মানুষের অধিকার অর্জিত হবে না বা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না।

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০২০ ভোর ৪:৩৬

নেওয়াজ আলি বলেছেন: যুগ যুগ ধরে কিছু জাফর মীর বংশে জন্ম নিয়ে কুকাজ করে মীর জাফর হয়ে হয়। আমরা নিজেরা নীতিহীন কিভাবে নীতিবান নেতা বানাবো।

২২ শে জুন, ২০২০ ভোর ৪:৪৪

অনল চৌধুরী বলেছেন: নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারা পর্যন্ত অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।

২| ২২ শে জুন, ২০২০ ভোর ৪:৫২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্য ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না সে জাতি
নিজে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট হয় ।

সূরায়ে রাদ ১১

২২ শে জুন, ২০২০ ভোর ৫:০২

অনল চৌধুরী বলেছেন: এটা এই নষ্ট জাতির নষ্ট লোকদের কে বোঝাবে?

৩| ২২ শে জুন, ২০২০ ভোর ৬:২৮

ইসলামি চিন্তাবিদ বলেছেন: সত্য তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:০৪

অনল চৌধুরী বলেছেন: লিখছি তো বহুবছর ধরে।
কিন্ত মানুষের কোনো পরিবর্তন ওয়া দূরে থাক,দিনে দিনে তারা আরো অধ:পতিত হচ্ছে।

৪| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ৮:০৪

জগতারন বলেছেন:
অসাধারন লিখিয়াছেন। বাংগালীদের চরিত্রের প্রধান উপাদান বিশ্বাস ঘাতকতা ও মুনাফেকী। আমার মামা ওতার স্ত্রী দ্বারা আমি সর্বসান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছি তা এ জীবনে আর ফিরে পাবো।

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:০১

অনল চৌধুরী বলেছেন: আপনার মতো অবস্থার অভিজ্ঞতা এদেশের অনেকেরই আছে।

৫| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ৮:০৫

জগতারন বলেছেন:
তা এ জীবনে আর ফিরে পাবো না।

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:০৯

অনল চৌধুরী বলেছেন: হতাশ না হয়ে জীবনটা অঅবার নতুনভাবে শুরু করেন।
দেখবেন অতীতের চেয়ে ভালো আছেন।

৬| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ৮:২৭

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: সিরাজ বাঙ্গালী ছিলেন না,তারাও অত্যাচারী ও লুটেরা ছিল।হাজার বছরের ইতিহাসে বাংলা কখনো স্বাধীন ছিল না।৭১ রে বাংলা স্বাধীন হয়।

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:১৪

অনল চৌধুরী বলেছেন: সিরাজ বাঙ্গালী ছিলেন সেটা লিখেছি।

কিন্ত তারা যদি ইংরেজদের মতো শোষক হতো,তাহলে সেইসময় বাংলা এতো সমৃদ্ধশালী থাকতো না।তাহলে বারবার দেশে ‍দুর্ভিক্ষ হতো,যেমন হয়েছিলো ইংরেজ আমলে।তারা দেশের সম্পদ পাচার করে ইরান ।
আফগানিস্তান বা ইংল্যান্ডে পাঠান নি।
সিরাজ ২ বছরও দেশ শাসন করতে পানেনি।
ব্যাস্ত ছিলেন ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র মোকাবেলায়।
বাংলা লুট করার সময় পেলেন কোথায়?

পাল বংশের শাসকরা এদেশের ভূমিপূত্র ছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা লিখেছেন।

৭| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:১৯

রাােসল বলেছেন: Thanks a lot for self criticism. Most of us don't follow this. We think that self is 100% fair and all others are unfair. We believe on own benefit but not national benefit. We can give explanation in favor of illegal activities for self-interest. The COVID-19 situation also disclosed our stupid mentality.

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:১৬

অনল চৌধুরী বলেছেন: There will be no change in any sector until the people change their nature.

৮| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৫২

পগলা জগাই বলেছেন: ক্লাইভ লিখেছিলো,বন্দী সিরাজকে দেখতে রাস্তার দুইপাশে যতো লোক জড়ো হয়েছিলো,তারা একটা করে ঢিল ছুড়ে মারলেও ক্লাইভের মাত্র ১২০০ ইংরেজ সৈন্যর কাউকেই খুজে পাওয়া যেতো না।

আগেও কোনো বইতে এটা পড়েছি, আর ভেবেছি "আমরা আদি-কাল থেকেই দর্শক"

২২ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

অনল চৌধুরী বলেছেন: অনেক বই এবং লেখাতেই একথা পাওয়া যায়।
দু:খের ব্যাপার হলো,এখনো কোথাও অন্যায় হলে ৯৫-৯৯% ক্ষেত্রেইই বাঙ্গালী দাড়িয়ে দেখে।

৯| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার সাথে দ্বিমত করার প্রশ্নই আসে না।

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:০৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ।
কিন্ত দেশের মানুষের মানসিকতা পাল্টাবে কবে?

১০| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:২৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: মীর জাফর কুষ্ঠ রোগে মারা যান।

সিরাজউদ্দউলার মাতৃ ভাষা কি ছিল?

২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:০৭

অনল চৌধুরী বলেছেন: তাদের পারিবারিক ভাষা ছিলো ফারসী।
শুধু মীরজাফর না,সব বিশ্বাসঘাতকই চরম শাস্তি পেয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলো।

১১| ২২ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্ত দেশের মানুষের মানসিকতা পাল্টাবে কবে?

আপনাকে একটা সত্য কথা বলি- এই দেশের মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে। পচে গলে গেছে। এদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা বোকামি হবে।

২৩ শে জুন, ২০২০ রাত ১:১৩

অনল চৌধুরী বলেছেন: শুধু নিজেরা নষ্ট হলে হতো।
কিন্ত এরাএই নষ্টামির ভাইরাস পরবর্তী প্রজন্মোর মধ্যেও সার্থকভাবে রোপণ করতে সক্ষম হয়েছে,যা সবচেয়ে বিপদজনক।

১২| ২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১৯

পদ্ম পুকুর বলেছেন: হলওয়েলের অন্ধকুপ হ্ত্যার বিষয়টি ছোটবেলায় ইতিহাসের বইতে পড়েছি। কিন্তু বৃটিশ সংসদ যে এটা মিথ্যা ঘোষণা করেছে সেটা জানতাম না। গতকাল প্রথমআলোতে একটা আর্টিকেল পড়লাম যে আমেরিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ধাক্কা যুক্তরাজ্যে এসেও লেগেছে, তারই ধারাবাহিকতায় খোদ বৃটেনেই বিভিন্ন যায়গায় থাকা ক্লাইভের ভাষ্কর্য নামিয়ে ফেলার জন্য আন্দোলন হচ্ছে।

আমরা আদিখ্যেতা করে বলি বীর বাঙালি। কিন্তু বাঙালী আসলে ভীরু, লোভী, পরশ্রীকাতর এবং বিশ্বাসঘাতক, যেমনটি আপনি বলেছেন। পেছন থেকে ক্ষমতালিপ্সা বাঙালির আজন্ম বৈশিষ্ট্য এবং সে লক্ষেই সে যুগ যুগ ধরে মোনাফেকি করে এসেছে।

সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৩:০০

অনল চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ।
অন্ধকূপ হত্যার রহস্য নামে গবেষণামূলক বইটা আমি পড়েছিলাম ১৯৮৩ সালে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ার সময়।
এই বয়সে সাধারণত কেউ এধরণের বই পড়তে চায় না,কিন্ত আমার জোড়াজুড়িতে পাঠশালা থেকে ফেরার পথে পল্টনের বইয়ের দোকান থেকে কিনে দিতে হয়েছিলো।
তখন ঢাকায় অনেক বইয়ের দোকান ছিলো।এখনকার মতো বইয়ের দোকানগুলি পোশাক বা খাবার খাবার দোকানে পরিণত হয়নি।
বৃটিশ সংসদ যে এটা মিথ্যা ঘোষণা করেছে সেটা জানতাম না- পড়েন Sir William Meredith, during the Parliamentary inquiry into Robert Clive's actions in India, Siraj ud-Daulah of any charge surrounding the Black Hole incident: "A peace was however agreed upon with Surajah Dowlah; and the persons who went as ambassadors to confirm that peace, formed the conspiracy, by which he was deprived of his kingdom and his (https://en.wikipedia.org/wiki/Siraj_ud-Daulah)
ক্লাইভ বাংলা দখলের পর সেই সম্পদে সারা পৃথিবীতে ইংরেজদের সামাজ্য বিস্তারের প্রধান ব্যাক্তি হলেও তাকে সেখানে কেউই সন্মান করে না. যতোটা সন্মানিত খূনী কলম্বাস এ্যামেরিকায়।তার নামে কোনো স্থাপনাও নাই। বরং সে সেখানে বহু আগে থেকে ঘৃণিত।
তারও পরিণতি হয়েছিলো করুণ । কলম কাটার ছুরি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা বা অতিরিক্তি মাদক গ্রহণের কারণে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে সে মরেছিলো।
Samuel Johnson wrote that he "had acquired his fortune by such crimes that his consciousness of them impelled him to cut his own throat

বাঙ্গালী শুধূ তার নষ্ট স্বভাবের কারনে এতো সম্পদ আর স্বাধীনতার মতো অমূল্য সুযোগের পরও সবদিক দিয়ে পিছিয়ে আছে।এবং তাদের নিজেদের পরিবর্তনেরও কোনো ইচ্ছা বা চেষ্টা নাই।এই যে এতো গুরুত্বপর্ণ একটা বিষয় নিয়ে লিখলাম, পড়লো কয়জন?
আয়নায় নিজেদের পরশ্রীকাতর শব্দটা দেখেই বেশীরভাগ দৌড়ে পালালো। অথচ সস্তা জিনিস পড়ে হাজার হাজার লোকজন।
ব্লগের বিজ্ঞদের মানসিকতাই যদি এরকম হয়,তাহলে সাধারণ জনগণের অবস্থা কি একবার ভাবেন!!!!

১৩| ২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ৯:৫৯

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ব্লগে পাঠক হালকা বিষয় পড়তে বেশি পছন্দ করে। এর পেছনে পাঠকের যে দায়, লেখকদেরও দায় কম না। অধিকাংশ লেখক যখন দেখে যে তার ভারী লেখা কম পঠিত হচ্ছে, তখন সে আস্তে আস্তে এ ধরনের লেখা কমিয়ে দেয়, সস্তা ধরনের লেখায় উৎসাহিত হয়। আমার মতে এখানেই লেখকদের দায় আছে। যেহেতু তারা এ টাইপের লেখা বন্ধ করে দেয়, সেহেতু পাঠকও তৈরী হয় না।

আমার মতে যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুন্দর করে লিখতে পারে, তাদের উচিৎ 'গিভ আপ' না করা। তাহলেই এই লেখার পাঠক তৈরী হবে। পরিবেশ সৃষ্টি হবে। হ্যাঁ, তবে হালকা লেখাও সাহিত্যেরই অংশ।

আপনার সব লেখাতেই চিন্তার উপকরণ থাকে, বেশ শক্তিশালী বার্তা থাকে। আমার ভালো লাগে।

ধন্যবাদ।

২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৭

অনল চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ।
দেশ-জাতি পরিবর্তন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লিখছি।
সবার অংশগ্রহণ না থাকায় সফল হতে পারছি না।

১৪| ২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

ডার্ক ম্যান বলেছেন: বিশ্বাসঘতক তো নিজের লোকই হয় ।
লেখালেখি করে দেশ-জাতি পরিবর্তন করা যায় না ।

২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: প্লেটো সক্রেটিস,রুশো,ভলটেয়ার,মার্কস,এ্যঙ্গেলস,নজরুল এমনকি বেগম রোকেয়াও তো লেখার মাধ্যমেই সমাজের সম্পূর্ণ বা কিছুটা পরিবর্তন করেছিলেন।
এছাড়া কিভাবে সেটা হতে পারে ?

১৫| ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:১২

ডার্ক ম্যান বলেছেন: বাংলাদেশে সবকিছুর রাজনীতিকরন হয়ে গেছে । এইখানে ভাল কিছু করতে চাইলে রাজনীতির মাধ্যমে সম্ভব । আপনি তো অনেকদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছেন ।
তসলিমা নাসরিন বেগম রোকেয়ার চেয়ে নারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয় । তসলিমা যদি সেটা সৎভাবে কাজে লাগাতেন তাহলে ভাল পরিবর্তন হত ।

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:২৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: যখন অন্তত ১ জন কোনো সত্য বা ন্যায়ের মতবাদ সমর্থন করে এবং সেটা পালন ও অনুসরণ এবং এর সাথে অন্তত আরো ১ জনকে যুক্ত করে,তখন থেকেই দেশে পরিবর্তন শুরু হয়। এভাবে ১ জন ১জন করেই সেই মত সারা দেশ ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্ত দায়িত্ব পালন না করে শুধু পড়লে বা কথা বললে কোনো লাভই হয়না,যেমন হচ্ছে না বাংলাদেশে।

তসলিমা নাসরিন বেগম রোকেয়ার চেয়ে নারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়- এট তো সম্পূর্ণ ভুল। তসলিমা জনপ্রিয় কিছু পুরুষের কাছে তার নোংরা বর্ণনার জন্য,যারা তার লেখা পড়ে বিকৃত আনন্দ পায়।
বাংলাদেশের বেশীরভাগ মেয়ে ক্যাটরিনা,কারিনা,দীপকিা আর বিভিন্ন দেশী বিদেশী নায়িকা ও মডেলের চলাফেরা ও পোষাক-সাজসজ্জার ভক্ত।
তসলিমাকে তারা অপছন্দই করে।
তবে তার বা পড়ে হোক বা না পড়ে হোক,তার নীতি মেনে পরকিয়া করে অগণিত।

১৬| ২৫ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২৪

মোহাম্মদ গোফরান বলেছেন: ঘরের শত্রু বীভিশন হলে যা হয় আর কি? মীর জাফররা ছিল আছে থাকবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে চরম পরিণতি তো হবেই।
পোস্ট ভালো লাগলো ।

২৫ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:০৯

অনল চৌধুরী বলেছেন: নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করা মীরজাফরের সংখ্যা পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশী।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.