নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনও খানে।

অর্ক

মানুষের উল্টোদিকের ছবি তুলতে তুলতে ভাবি/ একদিন এই জুনে পাঠিয়েছিলে চিঠি/ জঙধরা লাল বাক্স অচল পড়ে সেই থেকে/ তুমি দাঁড়াও না ঝুল বারান্দায় সেদিনের মতো

অর্ক › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রিয় জাবেদ ভাই

১৮ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৩১



সেই বাল্যের কথা। বয়স তখন এগারো বারো। শৈশবের দুরন্তপনা; ছোটাছুটি শোরগোল অবিরত। জাবেদ ভাইয়ের বয়স তখন সতেরো আঠারো হবে। বয়সের বেশ ব্যবধান থাকলেও চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। দারুণ একজন মানুষ। কথা খুব কম বলতো। হয়তো জেনারেশন গ্যাপের জন্য এরকম হয়েছিলো। খেলতাম বেড়াতাম কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু শেয়ার করতো না। কিঞ্চিত দূরত্ব ছিলোই। হা হা হা। এমনিতেই স্বল্পভাষী ছিলো। আমার খুব ভালো লাগতো তাকে।
ওরা ছিলো বিহারি। নব্বই দশকের শেষভাগ। ওর বাবার একটা রেডিওটিভি মেরামতের দোকান ছিলো। চশমা পরা পঞ্চাশোর্ধ শ্যামবর্ণের ভদ্রলোক। চাপ দাড়ি মুখে। শহরে বেশ পশার ছিলো মেকার হিসেবে। ভালো বুঝতেন ইলেকট্রনিকসের জটিল ব্যাপারস্যাপার। এক সেকেন্ডও দেখতাম না অলস বসে। অনবরত এটাসেটা ঠুকঠুক ঠুকঠাক চলছেই।
জাবেদ ভাইয়ের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলতাম, ঘুরে বেড়াতাম শহরের এদিকসেদিক। মনে পড়ছে, দুপুরের কাঠফাটা রোদেও মহল্লার ছোটো একটি মাঠে আমরা ব্যাডমিন্টন খেলতাম। বিকেল হয়ে গেলে আবার সিনিয়র ভাইয়েরা আসবে। তখন অনিশ্চিত হয়ে যাবে সুযোগ পাওয়া। তাই দুপুরকেই যথাসম্ভব কাজে লাগানো। হে হে হে। আরও দুয়েকজন থাকতো আমাদের সঙ্গে।
এক পর্যায়ে এলাকায় কানাঘুষা শুরু হলো যে, জাবেদ ভাইয়েরা নাকি পাকিস্তান চলে যাবে। ব্যাপারটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না সে অবুঝ শৈশবে। ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি, এরকম কিছু হয় বা হতে পারে। কিন্তু দেখলাম যে, জাবেদ ভাইয়ের বাবার রেডিওটিভি সারাইয়ের দোকানটা টানা ক’দিন বন্ধ। এরওর কাছে জানলাম, ওরা সপরিবারে পাকিস্তান চলে গেছে। সেই শিশু বয়সে এতো কষ্ট পেয়েছিলাম, কী বলবো! এটা কোনও কথা হলো, হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখা, প্রিয় একজন মানুষ চিরদিনের মতো দেশান্তরিত! আর দেখা হবে না। তীব্র শূন্যতা গ্রাস করলো আমাকে। মনে পড়ছিলো, একসাথে ব্যাডমিন্টন খেলা, শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ানো। ইশ, জীবনে আর দ্বিতীয়বার এ সুযোগ হবে না! পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তান চলে গেছে জাবেদ ভাই। ফিরবে না কোনওদিন।
আহ জাবেদ ভাই! সেই দীর্ঘাকার স্বল্পভাষী ভালো মনের মানুষটা। যেখানে যেমন থাক, ভালো থাক সুখে থাক। অল্প কিছুদিন তার সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছিলো। আমি আরেক জীবন অপেক্ষা করবো, সেদিনের মতো আবার একসঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতে, শহরজুড়ে ভাবনাহীন ঘুরে বেড়াতে। বড়ো না হয়ে ওঠা পর্যন্ত এবার আর কিছুতেই পাকিস্তান যেতে দিবো না।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:৩৭

অপু তানভীর বলেছেন: জীবনের চলা কালে নানা কারণে এই রকম ভাবে প্রিয় মানুষেরা দুরে চলে যায় ।
আগে বাবার বদলির চাকরি ছিল । সেই সময়ে আমরা প্রায়ই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে বেড়াতাম । এই ভাবে কত প্রিয় বন্ধু চলে গেছে চোখের আড়ালে । সেই ছোট বয়সেও বুকের মাঝে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হত । কাছের বন্ধুকে দেখতে না পাওয়ার শূন্যতা !

১৮ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৯:০৪

অর্ক বলেছেন: হ্যা সবার এরকম অভিজ্ঞতা আছে। ব্যাক্ত করতে হয় সুযোগ পেলে। ভালো লাগে। স্নিগ্ধ বৃষ্টিপাত হয়।

ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

২| ১৮ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৮:০৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য যেমন
অপেক্ষা করেনা তেমনি মানুষও। চলে যাবার
সময় হলে কেউ তাকে আটকাতে পারেনা তা
এই জগতে হোক বা পরকালের ডাক!

১৮ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৯:১১

অর্ক বলেছেন: খুব সত্য কথা। সবাই চলে যায়। আমরাও যাই।

ধন্যবাদ ও শুভকামনা নূরু ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.