| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আগের লেখায় বন্ধু সহব্লগার নতুনের একটি মন্তব্য থেকে এই লেখার ধারণা মাথায় আসে। তাই তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। যুদ্ধ আমরা কেউই চাই না। যুদ্ধ মানেই রক্ত, মৃত্যু, ধ্বংস, কান্না, হাহাকার; পরবর্তীতেও বহুদিনের বিপর্যয়, বিপন্নতা। যুদ্ধ মানবসভ্যতার জন্য বিরাট লজ্জা, কলঙ্ক, অভিশাপ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো দুর্যোগ সে তো যুদ্ধই। দুর্ভাগ্যজনক যে, এটা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট। সবাই আসলে এগুলো জানি, বুঝি। যারা সরাসরি যুদ্ধ করছে, তারাও বোঝে। যুদ্ধের থেকে খারাপ আর কিছু হতে পারে না। যুদ্ধের থেকে বীভৎস আর কিছু নেই। কিন্তু তবু যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ হচ্ছে। নির্ঘাত হবেও আগামীতে। আমার ২০১৭ সালের কথা মনে পড়ছে। কোরবানির ঈদের সময়। পুরান ঢাকায় ছিলাম। চটের ব্যাগ হাতে এক মুঠো মাংসের জন্য অগণ্য মানুষ ফ্ল্যাট বাসার দরজায় দরজায় কড়া নাড়ছে। দরিদ্র অসহায় মানুষ। আলুথালু বেশ। কঙ্কালসার রূগ্ন, শীর্ণ শরীর। বহু ব্যবহারে জরাজীর্ণ একরত্তি স্যান্ডেল পায়ে, ছুটছে ছুটছে আর ছুটছে। বেশুমার মানুষের এই দরিদ্রতা, অসহায়ত্ব দেখে কষ্ট পেয়েছিলাম। আর ঠিক সে সময়ই সাত থেকে আট লক্ষ রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অসীম দয়ার শরীর। যথারীতি মহানুভবতা দেখালেন। রোহিঙ্গাদের দুঃখ দূর্দশা দেখে চকচকে কাতান শাড়ির আচলে অশ্রু মোছার ফিটফাট ছবিগুলো মনে পড়ছে। যেমন ধারণা করা হয়েছিলো, সমস্ত রোহিঙ্গাদের বিনা বাক্য ব্যয়ে সাদরে গ্রহণ করে নিলেন গনতন্ত্রের জননী, মানবতার মানসকন্যা, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। দেশেবিদেশ থেকে উদাত্ত হাততালি দিলো বিদগ্ধ জনেরা। প্রচুর প্রশংসা, শুভেচ্ছায় ভাসলেন তিনি। আরেকবার মহান হলেন বিশ্বের বুকে। তখন আমি ভাবলাম, এই যে এতো মানুষ শহরের অলিগলিতে আলুথালু বেশে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষাবৃত্তি করে বেড়াচ্ছে কোরবানির মাংসের জন্য; এরা সবাই বাংলাদেশী; এদেশেরই ভূমিসন্তান। এরা বস্তিতে থাকে। অনেকের নির্ঘাত সে আশ্রয়টুকুও নেই; ভাসমান অনিশ্চিত জীবন।
(চলবে)
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনা চায়না কে খুশি করতে এ কাজ করেছিলেন । এখন এটা গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে গেছে । নোবেলের কথা আর তুললাম না । পাশাপাশি তৌহিদি জনতার কথা মনে পড়ে গেল।
.