| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি অনেকদিন থেকে মেয়েটাকে চিনি। আমার ফুফাতো বোনের নাম অথৈ। সে তার চাচাত বোন। নাম অবন্তী। আমি যখন কেবল স্কুলে ভর্তি হলাম তখন তাকে প্রথম দেখি। একদম আমার সমবয়সী। আমাদের বাড়িতে এসেছিল। খুব চ্ঞ্চল একটা মেয়ে।
তার আগে আমার বিবরণটা দিয়ে নেই। আমি খুব শান্ত ও একটু বোকা টাইপের। অপরিচিত কারো সাথে কথা বলতে পারি না। নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে।
মেয়েটা ছিল মোটামুটি ধনী ঘরের।
একবার আমি যখন ক্লাস 7 এ তখন আবার তার সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা হয়। তাকে দেখে খুব ভাল লাগে। কিন্তু কথা বলার সাহস পাই না। কিন্তু মেয়েটি খুব চালু। বোকা ছেলে পেয়ে আমাকে খুব লজ্জা দেয়। সেইবার আর কোন কথা হল না। মেয়টাকে জটিলভাবে অপছন্দ হয় সেইবার। চলে আসি সেখান থেকে।
ভালয় ভালয় কেটে গেল ৩ টা বছর। নবম শ্রেণীতে পড়ি। ততদিনে মেয়েদের সাথে হালকা কথা বলতে শিখে গেছি। হঠাত্ কোন একটা অনুষ্ঠানের জন্য অথৈ খুব করে তাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। আমি ও আমার চাচাত ভাই গেলাম। যাওয়ার ঘন্টাখানেক পর অবন্তীর দেখা পেলাম। আমাকে দেখার পর বাকা কথা আরম্ভ করে দিল। কিছু বললাম না।
পরেরদিন সকালে আবার দেখা। আবার কথা শুরু। এবার কিন্তু ছেড়ে দিলাম না। কিন্তু কথার জবাবে এক সময় মুখ থেকে একটু খারাপ কথা বেরিয়ে গেল। সাথে সাথে মুখ গম্ভীর করে নিজেদের ঘরে চলে গেল। বুঝলাম রাগ করছে। দুপুরে সবাই একসাথে বসে খাওয়ার সময় আমার সাথে অবন্তী কথা বলল না। তখন ঠিক করলাম সরি বলব।
বিকেলে একা পেয়ে গেলাম। কাছে যেতেই মুখ ফিরিয়ে নিল। অনেকক্ষণ সরি বলার পর কাজ হল। এরপর থেকে আমার সাথে আবার লাগতে শুরু করল। আমার আস্তে আস্তে ওকে ভাল লাগতে শুরু হল। পরের দিন বিকেলে চলে আসার সময় বুকের ভেতর খালি লাগতে শুরু করল। তখন বুঝতে পারলাম মেয়েটাকে ভালবাসতে শুরু করেছি।
বাড়ি ফিরে আসার পর পড়াশুনায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। ভুলে গেলাম তার কথা। এস এস সি তে জি পি এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হলাম। ভর্তি হলাম টাঙ্গাইলের একটা কলেজে। ভালভাবেই পড়া চলছিল। মেসে থাকতাম। অনেক মেয়েকেই কলেজে ভাল লাগত, কিন্তু কাউকে কোনদিন প্রপোজ করিনি। ৩ টা প্রপোজ পাওয়ার পরেও রিজেক্ট করে দিয়েছি, কেন করেছি জানি না। তখন কেমন যেন মনে হত আমার মনের এপার্টমেন্টটা কেউ যেন দখল করে নিয়েছে অনেক আগেই।
তো একদিন ছুটিতে বাড়ি গিয়ে শুনি এক বড় চাচাত ভাইয়ের বিয়ে কিছুদিন পর। সেখানে নাকি অথৈর সাথে তার দুই চাচাত বোন আসছে। ভাবলাম ইস্ যদি অবন্তী আসত! আশায় আশায় দিন গণতে লাগলাম।
তখন আমি ২য় বর্ষের প্রথম দিকে। বিয়ের আগের দিন বাড়ি এলাম। ঐদিনই ওরা আসবে। অপেক্ষা করতে লাগলাম। বিকেলে ওরা এল। খুশিতে হার্টবিট বেড়ে গেল যখন ওকেও সবার সাথে দেখতে পেলাম। সবার সাথে কথা বললেও কেন যেন ওর সাথে কথা বলতে পারলাম না। পরে শুনেছিলাম এজন্য ও খুব রাগ করেছিল। ঔদিন রাতে টি.ভি দেখার সময় টুকরো টুকরো কিছু কথা হল। তার বেশি কিছু না।পরের দিন ধীরে ধীরে ওর সাথে ফ্রীলি কথা বলতে পারলাম।
বিয়ের দিন সবাই অনেক আনন্দ করলাম। গায়ে হলুদে খুব মজা হল। সন্ধ্যায় সবাই গাড়িতে উঠলাম। কি ভাগ্য! একজনের সিট কম হল। আমি উঠে তাকে বসতে দিলাম। কিছুক্ষণ পর অবন্তী আমাকে ডেকে তার পাশে বসতে বলল। আমি আপত্তি জানাতে জোর করে টেনে বসাল। সারা রাস্তা খুব আনন্দ করতে করতে শেষ হয়ে গেল।
গাড়ি থেকে নেমে অনেকটা রাস্তা হেঁটে যেত হল। একেবারে গ্রাম্য এলাকা, বিদ্যুত্ নেই একদম অন্ধকার। সবাই যার যার মত হেঁটে যাচ্ছে। আমি আর অবন্তী পাশাপাশি যাচ্ছি। আমার হাতে একটা ব্যাগ। আপনারা হয়তো জানেন হিন্দু সমাজে বিয়ে দুই দিন আর ব্যাগে বেশ কয়েক জনের পোশাক থাকায় বেশ ভারী ছিল। এক সময় অবন্তী আমার সাথে ব্যাগটা শেয়ার করলো।
রাস্তায় ছোট একটা নদী পড়লো। কোন সেতু নেই। আমাদের নিতে একটা মাঝারী সাইজের নৌকা এসেছে। ভাগ হয়ে পার হতে অনেক সময় লাগবে। আমাদের পালা এল প্রায় শেষের দিকে। এদিকে বৃষ্টিতে নদীর পাড়ে প্রায় ৩ মিটার মত জায়গা প্রচন্ড কাঁদা হয়ে ছিল। অবন্তী কাদাতে হাটতে খুব ভয় পায়। আমি জুতা খুলে প্যান্ট উঠিয়ে ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পাঁজকোলা করে তুলে নিলাম। ও তো একদম থ! এই একই কারণে অথৈয়ের ভারটাও বহন করতে হল।
বিয়ে শুরু হওয়ার পর আমাকে জিগ্যেস করলো আমার পছন্দের কেউ আছে কিনা। হ্যাঁ বললে বলল প্রপোজ করছি কিনা। আমি বললাম, না এবং তাকে কোনদিন বলবোও না। কারণ আমাদের সম্পর্ক কখনো সফল হবে না। আমি তাকে আমার মন থেকে সারাজীবন ভালবেসে যাব। এটা আমার মনের কথাই ছিল। একথা শুনে সে কে তা অবন্তী জানতে চাইল। আমি বললাম তোমাকে বলা যাবে না। তখন মাথা নিচু করে মুচকি হেসে বলল, ঐ মেয়েটাকে প্রপোজ করে ফেল। সে মনে হয় রাজী। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
বিয়ের ২ দিন পর ওরা সবাই চলে গেল। আরো ২ দিন পর সে আমাকে কল দিল। এভাবে ফোনে কথা শুরু হল। সব সময় সে আমার পছন্দের মানুষটার সম্পর্কে জানতে চাইত। আমি সব সময় ওর নিজের বর্ণনাই ওর কাছে করতাম। হঠাত্ একদিন আমাকে সে প্রপোজ করে বসলো। আমি ওকে ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ও অবুঝ। অবশেষে মেনে নিলাম। আর পাঁচটা প্রেম কাহিনীর মত চলতে লাগলো। মাস ছয়েক পরে হঠাত্ একদিন সে বললো যে আসলে আমাদের সম্পর্কটা সম্ভব না। তাই সে তা এখনই শেষ করে দিতে চায়। তাকে বলার মত কিছু পাইনি আর কিছু বলার চেষ্টাও করিনি।
কেন তোমার এমন একটা ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের জালে আমাকে জড়ালে তুমি? তবে মনে রেখ তোমাকে আমি মন থেকে সারাজীবন ভালবেসে যাব। অন্য কেউ তোমার জায়গা দখল করতে পারবে না। কেউ তা আর কোনদিন স্পর্শ করতে পারবে না ॥॥
আজকের দিনটাতে তাকে খুব বেশি মনে পড়ছে!!
২|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৪৬
রাখাল বালক বলছি বলেছেন: আরে বোকা! তখন তো অন্য জগতে ছিলাম! তাই মাইয়ারা আমার পিছে লাগছিল । এহন বেকার বইয়্যা থাকি । কেউ চাইয়াও দ্যাহে না!
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৩৪
আজরাঈল আমি বলেছেন: তুই তিনটা প্রোপোজ পাইয়া রিজেক্ট করছোস্? আসলেই তুই বলদ।
+ পিলাচ +