![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১৯৯০ সালের ২৭শে নভেম্বর। ঘুমিয়ে আছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্যসেন হলের চার তলার একটা রুমে। রুমটা আমার এক বাল্যবন্ধুর, ডাবল এই রুমটাতে একাই থাকে ছাত্রদলের একজন মাঝারীমানের নেতা হওয়ার কল্যানে। এখন সে বিএনপির বড় নেতা, তাই সঙ্গত কারনেই তার নাম বলছি না। ধরে নেই তার নাম মাসুম। বেলা ১২টার দিকে তার ধাক্কায় চকি থেকে প্রায় পড়ে যাওয়ার অবস্থা। বলছে, ওঠ শালা। এরশাদের কুত্তারা মিলন ভাইরে গুলি করছে!!!
ধড়মড় করে উঠে বসলাম। কোনমতে বললাম, কস কি? এরশাদ শিকদার খুলনা থিকা কুত্তা পাঠাইছে? এরশাদ শিকদার তখন খুলনার নামকরা সন্ত্রাসী, বিরাট নামডাক; লেজেহোমো এরশাদের একনিষ্ঠ চামচা। তার নামই কেন ওই মুহুর্তে আমার মাথায় এসেছিল, আজও জানি না। মাসুম আমাকে ভয়ঙ্করভাবে ঝাকাতে ঝাকাতে বললো, শালার গান্জার নেশা এখনও যায় নাই!!! এরশাদ শিকদার না, জেনারেল এরশাদ। মিলনভাইরে হাসপাতালে নিছে, মনে হয় আর নাই।
হুড়মুড় করে বিছানা থেকে নামলাম। গান্জার নেশা.........মাসুম অবশ্য কথাটা খারাপ বলে নাই। গতকাল সারাদিন মিটিং-মিছিল আর দৌড়-ঝাপ করে রুমে এসে গাজায় দম দিয়ে ফজরের দিকে ঘুমিয়েছিলাম। বিকালের আগে ঘুম থেকে উঠার কোন প্ল্যানই ছিল না। কোনমতে রেডি হয়ে জিনিস-পত্র নিয়ে হাসপাতালের দিকে দৌড়ালাম।
আমি আসলে হলে থাকতাম না, বিশেষ বিশেষ সময় ছাড়া। আমি এটাচড ছিলাম জহুরুল হক হলে, কিন্তু ওইটা ছিল ছাত্রলীগের দখলে। ছাত্রদলের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারনে সেখানে থাকার প্রশ্নই ছিল না। খুব জরুরী কাজ ছাড়া ওইমুখো হতাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়েছে তারা জানে, আবাসিক কিংবা অনাবাসিক, সব ছাত্রকেই কোন না কোন হলে এটাচ করা হতো। প্রতিটা ছাত্রের প্রশাসনিক রুটিন কাজগুলো হলের অফিস থেকেই হতো। তো, আমার বিচরণ মূলতঃ ছিল ছাত্রদলের দখলে থাকা মহসিন হল আর সূর্যসেন হলে। যাই হোক, প্রসঙ্গে আসি। হলের গেটে আসতে আসতেই খবর পেলাম, মিলনভাই আমাদের মাঝে আর নাই। ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন। উনি ছিলেন বিএমএ'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
স্ফুলিঙ্গের মতো সারা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লো, সবার প্রিয় মিলনভাইকে এরশাদের কুত্তারা মেরে ফেলেছে। ওটাই ছিল এরশাদের পতনের ফাইনাল ঘন্টা। তারপর আর কি? উত্তাল হয়ে উঠলো সারা ক্যাম্পাস। আন্দোলন সামলাতে না পেরে হল খালি করা, হত্যা-দমন-পীড়ন, পেটোয়া বাহিনী লেলিয়ে দেয়াসহ কোন উপায়ই বাকী ছিল না। শোনা যায়, শেষ উপায় হিসাবে এরশাদ সামরিক আইন জারি করতে চেয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন সেনা প্রধান রাজী হয় নাই। অগত্যা কি আর করা, শেষরক্ষা করতে না পেরে তীব্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার এরশাদ ৪ ডিসেম্বর রাতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। অবশেষে ৬ই ডিসেম্বর ভুয়া রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে সামরিক শাসক স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করা হয় আনুমানিক বেলা সাড়ে তিনটার দিকে, সেটা ইংল্যান্ড সময় সকাল সাড়ে দশটা। স্বৈরাচার হাসিনা পতনের টার্নিং পয়েন্ট। আমি তখন অফিসে। লাঞ্চ ব্রেকের সময়ে আমার এক পরিচিত আবু সাঈদকে গুলি করার ভিডিও আর ছাত্রলীগের সাধারন ছাত্রীদের উপরে জঘন্যতম হামলার কতোগুলো ছবি হোয়াটসএ্যাপে পাঠায়। ভিডিও আর ছবিগুলো দেখে প্রচন্ড রাগ হলো। কাজে কিছুতেই মন বসাতে পারছিলাম না, মাথার মধ্যে শুধুই ছবিগুলো!!!! কয়েকজনকে ফোন করলাম। ততোক্ষণে মোটামুটি সবাই জেনে গিয়েছে। ঠিক হলো, বিকাল সাতটার দিকে সবাই একত্র হবো।
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, ১লা জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে আমি শুধুই কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসাবে দেখছিলাম, যা অনেকটা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতোই একটা আন্দোলন। এর পরিনতিও যে ওই আন্দোলনের মতোই হবে, তাতে আমার কোন সন্দেহ ছিল না। ফলে অনেকটা নিরাসক্তভাবেই দেশের মধ্যে জমে উঠা এই আন্দোলনকে ফলো করছিলাম। কিন্তু আবু সাইদের হত্যাকান্ড আর সাধারন ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের এই পৈশাচিক হামলা আমার মনোজগতে একটা বড় ঢেউ তুললো। শুধু আমার না, দেশে এবং দেশের বাইরে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশীর মনের অবস্থা নিশ্চিতভাবেই একইরকমের ছিল।
আমাদের শহর আর এর সাথে লাগোয়া আরো চারটা শহর মিলে বাংলাদেশী কমিউনিটি বেশ বড়। তাছাড়া এই পাচ শহরে দু'টা বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে আমাদের দেশী ছাত্রের সংখ্যা নেহায়েত কম না। ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই ছিল মঙ্গলবার। সেদিন ঠিক হলো বৃহসপতিবার বড় পরিসরে আমরা বসে করনীয় ঠিক করবো। সেই মিটিংয়ে যে সকল সিদ্ধান্ত আমরা নেই সেগুলো ছিল,
# প্রতি শুক্রবারে জুম'আর নামাযের খুতবার আগে ইমাম সাহেব আওয়ামী নৃশংসতা তুলে ধরবেন। এই নৃশংসতা প্রদর্শনের জন্য মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে একটা ফটো গ্যালারী করা হবে এবং আন্দোলনে সহায়তার জন্য ডোনেশান নেয়া হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ডোনেশান কার্যক্রমে শুধু দেশী না, উল্লেখযোগ্য পরিমানে বিভিন্ন দেশের মুসল্লীরাও অংশ নিয়েছিলেন!!!!
# দেশে রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করা হবে। কারো পরিবারের যদি খুবই দরকার হয়, তাহলে দেশের একটা একাউন্ট থেকে টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে, তবুও এখান থেকে একটা পাউন্ডও দেশে যাবে না। অনেক ছাত্রই দেশ থেকে টাকা আনে। সেটাতে যদি ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে এখানকার একটা একাউন্ট থেকে তাদেরকে জরুরী সহায়তা দেয়া হবে। মজার ব্যাপার হলো.........সম্ভবতঃ ২৭ তারিখে পলক হাত জোড় করে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য কাতর অনুনয়-বিনয় করে। তার পরেই যারা জরুরী প্রয়োজনে টুকটাক পাউন্ড পাঠাচ্ছিল, তারাও পাঠানো বন্ধ করে দেয়!!!!
# ইওরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের কার্যক্রম আর তাদের কার্যক্রমের হালচাল বিনিময় করা হবে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের সাথেও যোগাযোগ করা হবে।
# বিভিন্ন স্থানীয় আর আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগাযোগ করে বাংলাদেশের হাল-নাগাদ অবস্থা জানানো হবে।
# প্রতি রবিবারে বিভিন্ন চার্চের সামনে একটা ডেস্ক স্থাপন করে তার মাধ্যমে দেশের স্বৈরাচারের স্বরুপ উন্মোচন করা হবে।
আমাদের এই কার্যক্রম ৫ই অগাষ্ট পর্যন্ত চালু ছিল।
৫ই অগাষ্ট সকাল ৯:০০ টার দিকে খবর পেলাম, সেনাপ্রধান নাকি ভাষণ দিবে। পেটের মধ্যে গুড়গুড় অনুভূতি নিয়ে তারপর থেকেই আমি মোটামুটি লেগে থাকলাম বিভিন্ন উপায়ে খবর পাওয়ার জন্য। সকাল ৯:৩০ এ নিশ্চিত হলাম, হাসিনা আর নাই; মানে জম্বি হয়ে শ্বশুরবাড়িতে নাইওর গিয়েছে!!! অফিসে ফোন করে ক্রিসকে ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করে বললাম যে, বসরে বল আইজ আমি আইতে পারুম না, আমার ছুটি!!!! তারপর? তারপরে শুধুই পার্টি। বার-বি-কিউ পার্টি! মিস্টি খাওয়ার পার্টি!! কেউ কেউ তো রঙ্গীন পানীয় পানের পার্টিও ডেকে বসলো!!!
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
দুই স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন খুব কাছে থেকে দেখার কারনে ভাবলাম, এদের মধ্যে একটু তুলনা করি। আমার অবজার্ভেশানে কিছু ইউনিক ব্যাপার নজরে এসেছে..........আপনারা চাইলে আরো কিছু যোগ করতে পারেন।
প্রথমতঃ এরশাদ পতনের আন্দোলন করে মুলতঃ রাজনৈতিক দল আর তাদের ছত্রছায়ায় থাকা ছাত্র সংগঠনগুলো। এখানে সাধারন জনগন পরবর্তীতে সম্পৃক্ত হলেও মূল নেতৃত্বে ছিল রাজনৈতিক নেতারা। আর হাসিনা পতনের আন্দোলন আক্ষরিক অর্থেই ছিল গণ-আন্দোলন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর নেতৃত্বে ছিল সাধারন ছাত্ররা আর সর্বস্তরের জনগনের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন তো ছিল তুলনাহীন!!!
দ্বিতীয়তঃ হাসিনা পতনের আন্দোলনে নারীদের সম্পৃক্ততা ছিল অভূতপূর্ব। বাংলাদেশের নারীরা যে কতোটা ভয়ডরহীন, তা এই আন্দোলন না দেখলে আমার জানাই হতো না। এরশাদ খেদানোর সময়টাতেও মেয়েরা আন্দোলনে শামিল হয়েছিল, তবে তারা ছিল প্রধানতঃ ছাত্রী; আরো নির্দিষ্ট করে বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।
তৃতীয়তঃ এরশাদ তার শাসনকালে আন্দোলন দমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে যে হত্যাকান্ড-নির্যাতন চালিয়েছে, সেটা হাসিনার তুলনায় বলতে গেলে কিছুই না। হাসিনা তার শাসনামলে অগনিত সংখ্যায় গুম-খুন-নির্যাতন তো চালিয়েছিলই, শেষ পর্যায়ে এসে রীতিমতো গণহত্যা চালিয়েছিল। আর তার প্রবর্তিত ''আয়নাঘর'' তো ছিল হিটলারের কনসেন্ট্রেশান ক্যাম্পের চাইতেও ভয়াবহ!!!
চতুর্থতঃ হাসিনা পতনের আন্দোলনে প্রবাসীদের অংশগ্রহন ছিল উল্লেখ করার মতো একটা বিষয়, যেটা এরশাদের সময়ে দেখা যায় নাই।
পঞ্চমতঃ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে প্রযুক্তির ব্যবহারের একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল।
ষষ্ঠতঃ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের মোকাবেলায় ছিল পুলিশ-বিডিআর-সেনাবাহিনী। হাসিনার বেলায় এই বাহিনীগুলো তো ছিলই, সাথে ছিল আমাদের দেশের গর্ব ছাত্রলীগ আর যুবলীগের বিশালসংখ্যক সোনার ছেলেরা।
সপ্তমতঃ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রতিরোধকারীদের মূল অস্ত্র ছিল ইট-পাটকেলের সাথে ককটেল আর কাটা রাইফেল। তুলনায় হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে শুধুই ইট-পাটকেলের ব্যবহার ছিল। দুই ক্ষেত্রেই প্রথমদিকে সেনাবাহিনী স্বৈরাচারের পক্ষে থাকলেও পরে তাদের সমর্থন প্রত্যাহারের পরেই স্বৈরাচারের পতন হয়।
নিঃসন্দেহে ক্ষমতার লোভ আর পৈশাচিকতার দিক দিয়ে এরশাদ হাসিনার কাছে শিশু ছিল!!!!
সবশেষে দোয়া করি, বাংলাদেশের ইতিহাসে হাসিনাই যেন শেষ স্বৈরাচার হয়। আমার জীবদ্দশায় যেন আরেকটা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন দেখতে না হয়। একজন মানুষের লোভ আর লালসার কাছে দেশের সাধারন জনগনকে এভাবে বলি হতে দেখা শুধু অপরিসীম বেদনারই না, একই সঙ্গে এটা দেশকে পিছিয়ে দেয় কয়েক দশক। এখন থেকে অনওয়ার্ড আমরা শুধু দেশের এগিয়ে যাওয়াই দেখতে চাই, কারো জমিদারী কায়েমের কারনে পিছিয়ে যাওয়া নয়!!!!
স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ আবার জেগে উঠবে নতুন প্রত্যাশায়..............জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এটাই হোক আমাদের সবার একমাত্র লক্ষ্য!!!!!
পুনশ্চঃ
পোষ্টটা হাসিনার শ্বশুরবাড়ি গমনের দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য লেখা।
আমার এই পোষ্টটা জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদ আর আহত যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি। তাদের জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রার্থনা। তাদের ত্যাগ ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার বন্ধু আর সহকর্মী ক্রিস এবং বস রিচার্ডের প্রতি, যাদের সক্রিয় সমর্থন আর সহযোগিতা না পেলে আন্দোলনের সময়গুলোতে আমার পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটিয়ে এদিক-সেদিক সময় দেয়া একেবারেই অসম্ভব ছিল।
ফটোঃ নেট থেকে নিয়ে আমার খানিকটা ক্যারিকেচার করা।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৭
ভুয়া মফিজ বলেছেন: হাসিনার পলায়ন আমার জন্য বিরাট একটা ব্যাপার। স্বৈরাচার পতনের ফর্মুলা অনুযায়ী জানতাম যে একদিন তার পতন হবে; কিন্তু এই জীবদ্দশায় সেটা দেখে যেতে পারবো, এমন ভরসা ছিল না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই সুযোগ করে দিয়েছেন, সেই জন্য অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। সেই তুলনায় এই পোষ্ট লেখার আর পোষ্ট করার পেইন কিছুই না!!!!!
মনে আছে, হাসিনার পতনের খবর শুনে এমন জোড়ে চিৎকার দিয়েছিলাম যে, আমার বউয়ের হাতের কফি মগ থেকে কফি পড়ে গিয়েছিল। প্রতিবেশী দৌড়ে এসেছিল, ঘটনা কি জানার জন্য!! ভাই রে ভাই, সেইটা ছিল একটা মুহুর্ত, জীবনেও ভোলার মতো না।
আওয়ামিলীগের শাষনামলে মানুষের জীবনের মূল্য পৌছিয়েছিল শূন্যের কোঠায়। নেত্রীর আদেশে যাকে ইচ্ছা তাকে গুম করা যায়, মেরে ফেলা যায় । নেত্রীর আদেশ দেয়া লাগতো নাকি? আপনার গায়ে লীগের ছাপ থাকলে যে কোনও কিছু করার অধিকার ছিল আপনার!!! কি একটা সময় গিয়েছে!!!
ড. ইউনুস সরকারের প্রচুর ব্যর্থতা আছে জানি, কিন্তু প্রচুর সফলতাও আছে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো, উনার কোন বিকল্প নাই দেশে। সমস্যাগুলো মুলতঃ কিছু ল্যাথার্জিক উপদেষ্টার কারনে। যাক, সে অন্য আলোচনা। আরেকদিন করা যাবে।
২| ০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:০৯
লোকমানুষ বলেছেন: দারুণ তথ্য ভিত্তিক তুলনামূলক পোস্ট হয়েছে। একই সাথে দেশের মানুষের জন্য বাহিরে থেকেও কীভাবে একাত্মে আন্দোলন ও আনন্দে অংশগ্রহণ করেছে, তার একটা বিস্তর ধারণা পেলাম।
আন্দোলনের পর নতুন দায়িত্বের উপর মানুষ দারুণ রকম আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল। আর তারা দারুণ রকম ব্যর্থ হয়েছে, সেটা মোটাদাগে প্রতীয়মান। আশা করছি দ্রুতই গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে জনগণের আশা ও প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে এইদেশে।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৭
ভুয়া মফিজ বলেছেন: এই সরকারের ব্যর্থতা-অর্জন দুইটাই আছে। সমস্যা হলো, জাতি হিসাবে আমরা বড়ই অধৈর্য। সব এখুনি চাই, কিভাবে? তা জানার দরকার নাই। এখুনি কোটিপতি হতে হবে........এখুনি ক্ষমতা পেতে হবে........এখুনি ইউনুসকে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফো এনালিসিস করে যে একটা কথা বলবো, সেই সময়, ইচ্ছা কিংবা যোগ্যতা বেশীরভাগেরই নাই। সাধারন মানুষের কথা বাদ, দু'চারজন বাদে এই ব্লগের বেশীরভাগ ব্লগারেরও সেই ক্যাপেবিলিটি নাই। আফসোস!!!
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। বলার মতো বহুকিছুই ছিল, কিন্তু দেখলাম.............পোষ্ট ইতোমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। তাই ক্ষ্যান্ত দিলাম। ভালো থাকেন............আর দেশে যদি থাকেন, আপনি লাকি!!!! এনজয় করেন!!!! আমার ফাটা কপাল, এই দিনে আমাকে অফিসে আসতে হলো!!!!!
৩| ০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৪৪
যাযাবর চখা বলেছেন: দারুন একটা লেখা পড়লাম।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৫৫
ভুয়া মফিজ বলেছেন: ধন্যবাদ এন্ড টেইক কেয়ার!!!
৪| ০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৩
রবিন_২০২০ বলেছেন: বরাবরের মতো চমৎকার লেখা।
ফাটা কপাল, দুটো আন্দোলনের একটাও দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। এরশাদ পতনের খবর পেয়েছিলাম প্রায় সাত দিন পর। কিন্তু গত বছর এই সময়টা বড়ো উত্তেজনায় কেটেছে। রাতে ঘুমাতে পারতাম না (বাংলাদেশে তখন দিন ), কি হচ্ছে না হচ্ছে জানার জন্য YouTube এ ঘোরাঘোরি আর চারিদিকে ফোন করে করে ভোর হয়ে যেত। তারপরও বলতে চাই আরেকটা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনের যেন আর কখনো প্রয়োজন না হয়।
সূর্যসেন হলের কথা বলে নস্টালজিক করে ফেললেন। আমি অ্যাটাচ ছিলাম মুজিব হলে। কিন্তু আমার অতি স্বল্প সময়ের ভার্সিটি জীবনের কতো স্মৃতি এই হলে। বিশেষ করে একতলার সিঙ্গেল ডেটিং রুম গুলোতে।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:৫৫
ভুয়া মফিজ বলেছেন: এরশাদ পতনের খবর পেয়েছিলাম প্রায় সাত দিন পর। বলেন কি? এর কারন বুঝতে পারলাম না। আপনি কি সরীসৃপদের মতো হাইবারনেশানে যান?
রাতে ঘুমাতে পারতাম না (বাংলাদেশে তখন দিন ), কি হচ্ছে না হচ্ছে জানার জন্য YouTube এ ঘোরাঘোরি আর চারিদিকে ফোন করে করে ভোর হয়ে যেত। এটা মনে হয় আমরা, যারা দেশের বাইরে থাকি, সবারই হয়েছিল। কি স্ট্রেসফুল ছিল রাত-দিন!!! এমন দিন অবশ্যই আর দেখতে চাই না।
আমি অ্যাটাচ ছিলাম মুজিব হলে। মুজিব আর জিয়া হল তো নতুন হলো, চোখের সামনে। আপনি ডেটিং কি সূর্যসেন হলে করতেন? সাংঘাতিক বিষয়!!!!
৫| ০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:০৩
অপু তানভীর বলেছেন: একটা নাম্বারিং করেন তো ! এরশাদ হাসিনা আর হিটলার এই তিনজনকে দশ কত কত নম্বর দিবেন?
০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:৫৬
ভুয়া মফিজ বলেছেন: ১। হাসিনা
২। হিটলার
৩। এরশাদ
আমার এই রেঙ্কিংয়ের বহুবিধ কারন আছে। বহু প্যারামিটার আছে। জানতে চাইলে খানিকটা আলাপ করা যায়। লিখে লিখে বিশদ আলোচনা করা মুশকিল, তবে অসম্ভব না। ভালো কথা, আপনেরটা বলেন দেখি? কার পজিশান কোথায়?
০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:০৪
ভুয়া মফিজ বলেছেন: ''দশে কতো দিব'' কিসের পরিপ্রেক্ষিতে, বিষয়টা পরিস্কার না। ''কে কতো বড় স্বৈরাচার''? নাকি ''কে কতো নিষ্ঠুর''? নাকি অন্যকিছু? তাই স্কোর না দিয়ে রেঙ্ক করলাম, কে বড় স্বৈরাচার, তার প্রেক্ষিতে।
৬| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:০৭
রবিন_২০২০ বলেছেন: লেখক বলেছেন: এরশাদ পতনের খবর পেয়েছিলাম প্রায় সাত দিন পর। বলেন কি? এর কারন বুঝতে পারলাম না। আপনি কি সরীসৃপদের মতো হাইবারনেশানে যান? :
তখন আমি বাইরে। ইন্টারনেট তো ছিলোনা। ফোন ও দুর্লভ আর ব্যায়বহুল ছিলো। আর আমি যেখানে থাকতাম, স্বদেশী কেউ ছিল না।
০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:১২
ভুয়া মফিজ বলেছেন: বুঝতে পারলাম বিষয়টা। আসলে মোবাইল আর ইন্টারনেট এখন জীবনে এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে, মাঝে-মধ্যে মনেই থাকে না যে, সেই সময় এইসব ছিল না। এমনকি ল্যান্ডলাইনে কথা বলাও প্যারা ছিল। প্রায়ই ক্রশ কানেকশান হয়ে যেতো!!!
৭| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:২২
গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আমিও এরশাদ,হাসিনা দুটি স্বৈরাচার পতনের সাক্ষী। যদিও দুটিই স্বৈরাচার তার পরও হাসিনার সাথে তুলনা করলে এরশাদ রীতিমত শিশু ছিল।
চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ নিন।
০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:৩২
ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমিও এরশাদ,হাসিনা দুটি স্বৈরাচার পতনের সাক্ষী। সেইম সেইম...............চিমটি!!!
হাসিনা শুধু ক্ষমতা-লোভী একজন স্বৈরাচার হলে ততোটা সমস্যা ছিল না, সে ছিল একজন ভয়ংকর রকমের সাইকোপ্যাথ!!! সাইকোপ্যাথীর যে চারটা প্রধান বৈশিষ্ট্য আছে, তার সবগুলোই তার মধ্যে বিদ্যমান। এরশাদ তার তুলনায় কিছুই না..........একজন আলাভোলা কবি মানুষ!!!
৮| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৮:৫১
রাজীব নুর বলেছেন: যারা ক্ষমতায় থাকে তারাই স্বৈরাচার।
০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:৩৩
ভুয়া মফিজ বলেছেন: ওকে। তাইলে আপনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, শেখ মুজিব একজন স্বৈরাচার ছিল।
৯| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১০:৪৯
নতুন নকিব বলেছেন:
অসাধারণ একটি লেখা। দুটি স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রবন্ধটি শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং একটি প্রজন্মের গণচেতনার সাক্ষ্য। আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ, আবেগ এবং আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পাঠককে নাড়া দেয়ার মত। শেষাংশের আবেদন ও উৎসর্গ বিশেষভাবে হৃদয়স্পর্শী। +
বিশ্বব্যাপী স্বৈরাচার পতনের ইতিহাসে জনগণের ঐক্য, ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপ ছিল অন্যতম নিয়ামক—যেমনটা দেখা গেছে মিসরের হোসনি মোবারক, তিউনিসিয়ার বেন আলি কিংবা রোমানিয়ার চওসেস্কুর পতনের সময়।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনও এই ধারারই একটি অধ্যায়। এরশাদ পতনের মতোই, কিন্তু আরও ব্যাপকতর জনসম্পৃক্ততা, নারীদের অগ্রণী ভূমিকা, প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তি নির্ভর গণআন্দোলনের মাধ্যমে এটি নতুন মাত্রা পায়। দমন-পীড়নের ভয়াবহতা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বাত্মক ব্যবহার সত্ত্বেও, এক বিশাল গণজাগরণ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটায়। এই পতন আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও জনচেতনার সম্মিলিত শক্তির এক যুগান্তকারী উদাহরণ।
০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ২:২৬
ভুয়া মফিজ বলেছেন: বিশ্বব্যাপী স্বৈরাচার পতনের ইতিহাসে জনগণের ঐক্য, ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপ ছিল অন্যতম নিয়ামক। এইটা তো অবশ্যম্ভাবী। স্বৈরাচার কি আর এমনি এমনি বিদায় নেয়? ঘাড় ধরে নামাতে হয়। ঘাড়ের যে কোনও এক জায়গায় ধরলেই হলো। কাজ হওয়া নিয়া কথা!!!!!
এরশাদ পতনের আন্দোলন যেই মাত্রার ছিল, তা দিয়ে হাসিনাকে নামানো যেতো না। এইটা ছিল সেই লেভেলের মাল। যাক, শেষ পর্যন্ত আপদ বিদায় হয়েছে। এটাই শান্তি। চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১০| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৯
কিরকুট বলেছেন: আপনি ৯০ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ? আমি ওই সময় ক্লাশ থ্রি এর বাচ্চা ।
স্কুল বন্ধ ছিলো । মজা মেরে ক্রিকেট খেলতাম । এরশাদের কি হলো ওটা নিয়ে ভাবার সময় ছিলো না।
০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১:৩২
ভুয়া মফিজ বলেছেন: ক্লাস থ্রিতে পড়তেন, তারপরেও রাজনীতি নিয়ে ভাবতেন না!!! আশ্চর্যের ব্যাপার!!!! আমাদেরই কোন কোন ব্লগার তারও আগে থেকে রাজনীতি সচেতন ছিলেন।
১১| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:৩৪
অপু তানভীর বলেছেন: কে কত বড় স্বৈরাচার এই হিসাবে নাম্বারিং হবে ! স্বৈরাচার হিসাবে শেখ হাসিনা দশে কত পাবে? এরশাদ দশে কত পাবে।
০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৫:২৭
ভুয়া মফিজ বলেছেন: নাহ..............এইভাবে কাজ হবে না। স্বৈরাচারের ট্রেইটগুলি বিবেচনায় নিলে দুইজনেই সমান নাম্বার পাবে, কিন্তু ইনটেনসিটির বিবেচনায় হাসিনা এরশাদের চাইতে যোজন যোজন এগিয়ে। উদাহরন দেই, একটা খুন করলেও খুনী, দশটা খুন করলেও খুনী। কিন্তু দুইজন কি সমান মাত্রার খুনী? কাজেই আপনাকে আরো স্পেসিফিক হইতে হবে। ''স্বৈরাচার'' খুবই ওয়াইড একটা টার্ম!!!
০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:০৫
ভুয়া মফিজ বলেছেন: আরেকটু ব্যাখ্যা দিতে আসলাম। আপনের হয়তো মনে হইতে পারে..........''আমার এই আপাতঃ নিরীহ-দর্শন প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর না দিয়া এতো প্যাচানোর কি আছে?'' মনে হইতে পারে, আমি আতলামী করতেছি। তাই ভাবলাম, আরেকটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেই।
আচ্ছা, আসেন স্বৈরাচারের প্রধান ট্রেইটগুলির দিকে নজর দেই। মোটা দাগে ট্রেইটগুলি হইলো,
নির্বাচন এবং নাগরিক স্বাধীনতা স্থগিত বা হরণ করা
জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা
রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করা
আইনের শাসনের পদ্ধতি মেনে না চলে ডিক্রি দিয়ে শাসন করা
নেতাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিত্বের একটি সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব
নিজের স্বার্থে দূর্নীতি আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা।
আরো আছে, তবে এইগুলাই মেইন। এখন বলেন, এই সবগুলাই কম-বেশী এরশাদ আর হাসিনার মধ্যে ছিল না? ছিল। তবে হাসিনা এইগুলিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়া গেছিল। আপনে নাম্বারিং চাইতেছেন............এইসব কারনেই এইভাবে সোজাসাপ্টা নাম্বারিং সম্ভব না। তারপরেও হাসিনা-এরশাদের সব রকমের কনটেক্সট বিচার বিবেচনা করে আমি এরশাদকে দিবো দশে সাত, আর হাসিনাকে দশে দশ!!!!
১২| ০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৯:১২
মনিরা সুলতানা বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার অভিজ্ঞতা। আমার তো জুলাই নিয়ে মোটামুটি প্রতিদিনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে, অনলাইনে অফলাইনে দুই ভাবেই। ৯০ এ আমাদের জেলা সদরে কিছু আন্দোলন হতে দেখছি - স্কুলে পড়তাম তাই সারাসরই অভিজ্ঞতা নাই।
০৯ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ২:৪০
ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমার তো জুলাই নিয়ে মোটামুটি প্রতিদিনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে, অনলাইনে অফলাইনে দুই ভাবেই। এই লাইন পড়ে একটা বিষয় উপলদ্ধি করলাম। '৯০ এর আন্দোলনে অনলাইন ছিল না, অফলাইনই ছিল একমাত্র উপায়। আবার '২৪ এর আন্দোলনে দেশে না থাকায় অফলাইনের কোন সুযোগ ছিল না, কাজেই অনলাইনই ছিল ভরসা। ইন এ নাটশেল, আমার জন্য '৯০ ছিল অফলাইন আন্দোলন আর '২৪ ছিল অনলাইন আন্দোলন!!!!
'৯০ আর '২৪ নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা পড়তে চাই।
১৩| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:০৬
আরোগ্য বলেছেন: ৯০ এ আমি আমার মায়ের পেটেও আছিলাম না। ২৪ এ দেশের মাটিতেই আছিলাম। আল্লাহ চাইলে হয়তো এমন আরো পতনের সাক্ষী হমু, তহন নাইলে দুয়ের মইদ্যে তুলনা করুমনি।
আমার চিত্ত এহনও অশান্ত, পাথর হইতে চায়া সম্ভব না তবে মেশিন হয়া আছি। দোয়া করিবেন মোর লাগি।
১২ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:৪০
ভুয়া মফিজ বলেছেন: বুঝলাম, ৯০তে আপনে আল্লার কাছে আছিলেন। আচ্ছা, ওই সুমায় আল্লায় যদি আপনেরে বাংলাদেশের অতীত-ভবিষ্যত সব জানায়া জিগাইতো যে, আপনে বাংলাদেশে ল্যান্ড করতে চান কিনা, তয় আপনের সিদ্ধান্ত কি হইতো?
আল্লাহ চাইলে হয়তো এমন আরো পতনের সাক্ষী হমু, তহন নাইলে দুয়ের মইদ্যে তুলনা করুমনি। এই বিষয়ে কেমুন দোয়া করমু, বুঝবার পারতাছি না!!!!
অহনকার অশান্ত চিত্তের কারন কি? আপনের বর্তমান মেশিনত্বের কন্টিনিউয়েশানের লাইগা দোয়া করবার কইলেন? এইডাও ঠিক মতোন বুঝবার পারি নাইক্কা!!!!
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৮
ঢাবিয়ান বলেছেন: ৫ই অগাস্ট উপলক্ষে দারুন একটা পোস্ট দিয়েছেন। দুইটা স্বৈরাচার পতন আন্দলন তুলে ধরেছেন পোস্টে। আওয়ামিলীগের তুলনায় জাতীয় পার্টি শিশু ছিল। ৯০ এর আন্দলনে দুই চারটা লাশ পড়ার পরই এরশাদের পতন ঘটে। তখনও মানুষের জীবনের দাম ছিল। কিন্তু আওয়ামিলীগের শাষনামলে মানুষের জীবনের মূল্য পৌছিয়েছিল শূন্যের কোঠায়।নেত্রীর আদেশে যাকে ইচ্ছা তাকে গুম করা যায়, মেরে ফেলা যায় । এমন একটা অবস্থা দাড়িয়েছিল এই দেশের। আমাদের জীবদ্দশায় এই ভয়ঙ্কর খুনীদের শাস্তি দেখে যেতে না পারাটা হবে জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ব্যার্থতা। ২০২৪ এর ৫ই অগাস্টে সবাই মিষ্টির দোকান খালি করে ফেলেছিল। কিন্তু আজ ১ বছর পার হবার পরে মানুষের মনে সেই আনন্দ নাই। আজকে একটা প্রোগ্রামের ভিডিওতে দেখলাম '' আমার ভাই কবরে, খুনী কেন বাহিরে '' শ্লোগান দিচ্ছে ছাত্ররা।