নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভুয়া মফিজ

ভুয়া মফিজের সাথে ভুয়ামি না করাই ভালো...

ভুয়া মফিজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত আছে। এই নির্বাচনের প্রস্তুতিকে নির্বাচন কমিশন বিতর্কমুক্ত রাখতে পারে নাই। ঋণ খেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু ছাড়াও আরো বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কিত কর্মকান্ডের কোন কমতি রাখে নাই তারা। এইসব কর্মকান্ডের বাই প্রোডাক্ট হিসাবে যেই মানুষগুলো সংসদে যাবে, তারা দেশ ও জাতির কি উপকারে আসবে, তা আমার এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে এখনও ঢোকে নাই।

এই নির্বাচন কোন পরিপ্রেক্ষিতে হতে যাচ্ছে, তা আমরা সবাই জানি। ২০২৪ জুলাই মাসে আমাদের দেশে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধিত হয়। এই বিপ্লবের ফলাফল ছিল খুনি হাসিনার ক্যাথা-বালিশ নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি ভারতে পালিয়ে যাওয়া। মোটা দাগে জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সুশাসন আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভারতীয় আধিপত্যবাদকে নির্মূল করা, বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার প্রক্রিয়াকে বিলুপ্ত করা। এই মূল উদ্দেশ্যগুলোর কোথাও বলা হয় নাই যে, আন্দোলনটা শুধুমাত্র ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য করা হচ্ছে, যদিও পরবর্তীতে সব বাদ দিয়ে বিএনপি ক্রমাগত ভোটের অধিকারের কথা সামনে নিয়ে এসেছে। আদপে উপরের মূল উদ্দেশ্যগুলোর বাস্তবায়ন হলে ভোটের অধিকার এমনিতেই নিশ্চিত হয়ে যায়।

যাইহোক, এই কথাগুলো কেন বললাম? বললাম, কারন জাতি হিসাবে আমরা গোল্ডফিস মেমোরীর অধিকারী। খুব দ্রুতই আমরা অতীত ভুলে যাই, তা যতোই তিক্ত আর বেদনাময় হোক না কেন। এই গোল্ডফিস মেমোরীর কারনেই আরো কিছু কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করছি যা আমাদেরকে বেশকিছু বিষয় বা ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দিবে।

চলেন, আমরা হাসিনার পলায়ন পরবর্তী ৬ই অগাষ্ট ২০২৪ এ ফিরে যাই; দেখি বিপ্লব-পরবর্তী বিএনপি'র প্রথম মাস্টারস্ট্রোক!!!

আমি তো দেশে ছিলাম না তখন, তবে পত্রিকার খবর ছিল অনেকটা এমন, ''২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি আনন্দ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা বিজয় উদযাপনের আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়।'' খেয়াল করেন..........ঠিক সেই সময়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আহত হয়ে হাত-পা-চোখ হারিয়ে যন্ত্রণায় কাৎরাচ্ছে। শত শত নাম না জানা লাশ বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। সে'সবের কোন খোজ-খবর না করে বিএনপির নেতাকর্মীরা আনন্দ উৎসবে মত্ত। মাঝারী বা ছোট পদের নেতা কিংবা কর্মীদের কথা বাদই দিলাম। বিএনপির বুইড়া-দামড়া শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মাথায় এই চিন্তাটা একবারও আসে নাই যে, যাদের কারনে আমরা আজ আনন্দ-উৎসব করার উপলক্ষ্য পেলাম, তাদের খোজ-খবরটা আগে নেই; সেটাই আমাদের টপ প্রায়োরিটি!! আনন্দ-উৎসব না হয় দুইদিন পরেই করি!!! ঠিক সেইদিন থেকে এই দলটার উপর আমার ঘেন্না ধরে গিয়েছে। বাঘ যেমন রক্তের গন্ধে পাগল হয়ে যায়, এরাও তেমনি ক্ষমতার গন্ধ পেয়ে সেইদিন পিশাচ হয়ে গিয়েছিল। মানুষ এতো বেইমান আর নির্লজ্জও হতে পারে!!!!

তবে আমি তখনও বুঝি নাই যে, নির্লজ্জতা আর বেইমানীমূলক কর্মকান্ডের সেইটা ছিল সবেমাত্র শুরু। পরবর্তীতে এদের মুখোশ খুলতে থাকে আস্তে-ধীরে। তার কিছু নমুনা দেখাই,
- সংবিধান বাতিল বা সংস্কার এবং আওয়ামী রাষ্ট্রপতি অপসারণে অনিচ্ছা
-আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করার বাসনা
-যেমন-তেমন সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের দাবী
-''সংস্কার রাজনৈতিক দলের কাজ, এই সরকারের সেসব করার ম্যান্ডেট নাই'' বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা
-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাকেই মূল বিষয় হিসাবে সামনে নিয়ে আসা
-আওয়ামী লীগের মতোই ভারতকে পীর মেনে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা।

আর দেশব্যাপী বাস-টেম্পুস্ট্যান্ড, বাজার আর ফুটপাথ দখল করে চাদাবাজির কথা বাদই দেই। এসবের আধিপত্য কায়েম করতে গিয়ে দলীয় অর্ন্তকলহে এখন পর্যন্ত তাদের হাজারো নেতাকর্মী আহত-নিহত হয়েছে। আসলে এই দলটার নীতি-নৈতিকতা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। এদের দ্বারা দেশের উন্নতি তো বহুৎ দূর কি বাৎ, দেশের পরিচালনা হবে কিভাবে? এটা সত্যি যে, বিএনপির নীচু পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহন করেছিল, আহত-নিহত হয়েছিল........তবে শীর্ষ-পর্যায় সব সময়েই ছিল নিরাপদ দূরত্বে। সে'জন্যেই ২০২৪ এর ২৬শে জুলাই মির্জা ফখরুলের বলেছিল, ''বিএনপি এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত না থাকার পরেও সরকার মিথ্যা অভিযোগে বিএনপি'র নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে''।

আমার এই পোষ্ট বিএনপির সাগরসম অপকর্মের তুলনায় কয়েক ফোটা জলের মতো। আসলে চব্বিশের ৫ই অগাষ্ট পরবর্তী বিএনপির সুকীর্তিগুলি বিস্তারিত বলতে গেলে এই অল্প কয়েক লাইনের একটা পোষ্টে কুলাবে না; মহাকাব্য রচনা করতে হবে। কোন একদিন কারো দ্বারা এই মহৎ কার্য অবশ্যই সম্পাদিত হবে। রক্তচোষারা সব সময়েই বিএনপিতে ছিল, তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একটা স্ট্যান্ডার্ড ছিল, উনাদের এইসব নিয়ন্ত্রণের সদিচ্ছা ছিল; সর্বোপরি দেশপ্রেম ছিল। কিন্তু এই দুইজনের গুণাবলীর ছিটেফোটাও তারেক জিয়ার মধ্যে নাই। অবশ্য চাদাবাজির টাকায় ১৭ বছর লন্ডনে বিলাসী জীবন-যাপন করা এই চাদাবাজের সেটা থাকার কথাও না। এই ধরনের নির্বাসনে প্রকৃত নেতারা আরো জ্ঞানার্জন করে, বই লেখে, ভবিষ্যতের জন্য তৈরী হয়; আর আমাদের তারেক চোরা কান্ডজ্ঞানই অর্জন করতে পারে নাই, সত্যিকারের জ্ঞানের কথা আর কি বলবো? শুনেছি, ''মানুষ বিপদে পড়লে নাকি শোধরায়''; তবে এই আপ্তবাক্যটা তারেক আর তার এডাল্ট ডায়াপার পড়া বুইড়া-দামড়াগুলোকে দেখে বোঝার কোন উপায় নাই!!!!

''নৌকা আর ধানের শীষ, দুই সাপের একই বিষ'', নেট দুনিয়াতে এই শ্লোগানটা খুবই ভেসে বেড়াচ্ছে। বিএনপির নেতৃবৃন্দের কি চোখে পড়ে নাই? এটা কিন্তু আওয়ামী সমর্থকদের স্লোগান না, আজকের তরুনদের স্লোগান। সাধারন মানুষের স্লোগান। এই দলের নেতারা সকাল-বিকাল মন্ত্র পড়ে, "ব্যক্তির থেকে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়''। এসব ফাকা বুলির উপরে সাধারন মানুষের আজকাল আর কোন ভরসা নাই। বরং তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, "লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু''। কেন বিএনপির গত ১৬ বছরের কোন আন্দোলন সফল হয় নাই, সেটা এখন দিবালোকের মতোই পরিস্কার।

কবি ও কথাসাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য তার কবিতায় লিখেছিলেন, "এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না"; আর আমি লিখতে বাধ্য হচ্ছি, ''এই চান্দাবাজ আর ধান্দাবাজদের গোষ্ঠি আমার দল না''। যেই রাজনৈতিক দলের আসন্ন সরকার গঠনের সম্ভাবনায় উল্লসিত হয় আধিপত্যবাদী ভারত আর পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, সেই দল ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের পরিণতি কি হতে পারে, সেটা সহজেই অনুমেয়।

এখন বলেন...........কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো। আওয়ামী লীগকে আবার তথাকথিত রিফাইন্ড ফর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য? অকার্যকর পুরানো বস্তাপচা সংবিধান তথা বন্দোবস্তকে সংরক্ষণ করার জন্য? আরেকটা ফ্যাসিস্ট তৈরী করার পথ খুলে দেওয়া জন্য? নাকি দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে ভারতের পকেট সরকার দেশের ক্ষমতায় বসানোর জন্য। আমার-আপনার সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ ভারতের করদরাজ্যে পরিণত হবে, এগিয়ে যাবে, নাকি আরো পিছিয়ে যাবে।

আগামী নির্বাচনের পরে আমরা একটা বাংলাদেশপন্থী দেশপ্রেমিক সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চাই; কোন চোর-বাটপার-চাদাবাজ আর ভারতীয় দালাল-নির্ভর নব্য-ফ্যাসিস্ট সরকারকে না।

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

জামাত জিতবে এবার।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: কসম!!!! :P

২| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১১

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ভাইয়া রে ভাইয়া অনেকের মনের কথাগুলোই তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতি ঘেন্না ধরে গেছে। ভালো কোন লোক কন চে দেহি, বুইড়াগুলানতেও মিছা কথা কয়, উল্টাপাল্টা কথা কয়। কবরে এক ঠ্যাং এখনো ক্ষমতা পেতে চায় -তাও মিথ্যা বানোয়াট, চাঁদাবাজি, জোর জবরদস্তি এসবের মাধ্যমে। দুই সাপের এক বিষ-কথা একদম ঠিক, স্বার্থপর , দেশ কেউ ভালোবাসে না , দেশের মানুষকেও না।

ভাবছিলাম তরুণ প্রজন্ম জ্বলে উঠবে, সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে হাঁটবে , তারাও উল্টা পাল্টা কথা কয়, উল্টা পাল্টা কাজ করে। আর জামাত মাইজ্ঞ মাই , এদেরও তো জবানের ঠিক নাই, ভোট কেটারে দিতাম, এর লাইজ্ঞা ১০ তারিখ বাড়িত যাইগা, আমার ভোট মতিঝিলে, থাকলে শাপলা কলিতে দিলাম নে।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ভালো লোক পাইবেন কই...........সবাই তো বাংলাদেশের জল-হাওয়াই বড় হইছে। আপনে ফেরেশতা খুজতে যায়েন না, পাইবেন না। আমাদেরকে বেস্ট অফ দ্য ওয়ার্স্টই বাইছা নিতে হবে। ভুলেও দেশের বাড়িত যায়েন না। ভোটকেন্দ্র গিয়া শাপল কলিতে সিল মাইরেন। বেলাইনের বাংলাদেশরে লাইনে আনতে আপনেরও অবশ্যই অবদান রাখতে হইবো। :)

দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেকটা সু-নাগরিকের কর্তব্য। আমরা এতো ভালো ভালো কথা কই, আর দায়িত্ব পালনের সময়ে যদি পিছলায়া যাই, তাইলে কেমনে কি??? B:-)

৩| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আব্বারে দেখতে যাবো, ছোট ভাইয়ের ছেলের আকিকা। ছোট ভাই ছুটি পায় না অন্য সময়। তাই বাধ্য হয়েই যাওয়া লাগতাছে। তাছাড়া তাসীনের বাপে মনে হয় না ভোট দিতে দিব। সে নিজে যাবে না। আমাকে কে নিয়া যাবে-আমার ডর লাগে

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আইচ্ছা......যান তাইলে। একটা নিশ্চিত ভোট মিস হয়া গেল!!! :((

৪| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: অন্য একটা পোস্টে হাহা হাহাহাহাহ রিয়েক্ট দিতাম মন চাইতাছে হাহাহাহ। সুযোগ নাই , তাই আপনার পোস্টে হাহা দিয়া পেট খালি করলাম হাহাহাহহাহা

আহারে আপা
কত মারতি চাপা
তোর সাগরেদরা যায় না কম;
মিছে আশায় চাপা মেরে নেয় দম

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: হাহাহাহাহ রিয়েক্ট দিলেও যা, না দিলেও তা; বুদ্ধির কোন হেরফের হবে না। :-B

৫| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

রাসেল বলেছেন: হেডলাইনের সাথে কন্টেন্টের মিল পেলাম না। যাইহোক, আমাদের মন্দের ভাল বেছে নিতে হবে, সহমত. আমার দৃষ্টিতে তিনি জয় পাবেন না, তাই তাকে ভোট দিব না; এই নীতি থেকে বের হতে হবে।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: হেডলাইনের সাথে কন্টেন্টের মিল পেলাম না। হেড লাইনে প্রশ্নবোধক একটা চিহ্ন আছে, খেয়াল করেন নাই বোধহয়।

আমার দৃষ্টিতে তিনি জয় পাবেন না, তাই তাকে ভোট দিব না; এই নীতি থেকে বের হতে হবে। দেখি চেষ্টা করে, বের হওয়া যায় কিনা!!! :)

৬| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

ঢাবিয়ান বলেছেন: কোন প্রকার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কারচুপি না হলে ১১ দলীয় জোট জিতবে বলেই মনে হচ্ছে। আশার কথা যে দেশের জনগন কাজি ফাতেমা ছবি ও তাসিনের বাপের টাইপ দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন না। :| আমরা প্রবাস থেকে ভোট দিয়েছি আর মানুষ দেশে থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ না করার চাইতে খারাপ কিছুতো আর হয় না।

জামাত কোনদিন সরকার গঠন করবে এমন স্বপ্ন দেখেছে কিনা সন্দেহ। বিএনপির জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটের সম্পুর্ন বীপরিতমুখী অবস্থান নেবার কারনেই তরুনেরা জামাতের দিকে ঝুকতে বাধ্য হয়েছে। জামাতের পলিটিকাল ভিউ যাহাই হোক না কেন , ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রন করবে জুলাই বিপ্লবীরা। যে কোন মূল্যে হাসনাত , নাহিদ, সারজিস , নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সাইফ মুস্তাফিজ, সারোয়ার তুষারকে সংসদে আমাদের পাঠাতেই হবে।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৪

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ভোট আমাদের প্রত্যেকের আমানত। এই আমানতকে কে কিভাবে রক্ষা করবে, সেটা তার বুদ্ধি-বিবেচনা। মোটাদাগে এখন তিন ধরনের মানুষ দেখবেন................

১. বিএনপি বা আওয়ামী লীগপন্থী মানুষ। এদেরকে অবশ্য মানুষ বলতে আমি নারাজ। এদের ধারনা, ভারত ছাড়া আমাদের কোন গতি নাই। এরা নীতি-নৈতিকতার ধার ধারে না। এদের সাথে কথা বলা সময়ের অপচয়। সারাজীবন ধরে বোঝালেও এদের এন্টেনাতে কিছুই ধরা পড়বে না। X(

২. সাধারন মানুষ, কিন্তু মনে করে বিএনপিকে আরেকবার সুযোগ দেয়া উচিত। এদের বিষয়টা এমন..........আগে এরা আমার টাকা, মান-ইজ্জৎ আর বাক-স্বাধীনতা চুরি করছে তো কি? আরেকবার ক্ষমতায় এনে দেখি না, কি হয়!!!! :P

৩. আর শেষের ধরন হলো...........যথেষ্ট হয়েছে। গত ৫৩ বছরে আমাদেরকে, আমাদের দেশকে লুটপাট করে, দমিয়ে রেখে কিছু মানুষ পুরো বাংলাদেশকে গরীব আর হতাশার দেশ বানিয়ে রেখেছে। এইবার শেষ সুযোগ এদেরকে রুখে দেয়ার। :)

১২ই ফেব্রুয়ারী প্রমাণ হবে, আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কোন ক্যাটাগরীতে পড়ে!!!

৭| ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৩৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আগেই বলি আপনার পোস্টের সব কিছুর সাথেই আমি একমত। সামুতে নিয়মিত আসা হয় না, তাই আপনার পোষ্ট পড়া হয় নাই। এখন তো আসলে পোষ্ট বলতে শায়মা আপুর বাতের ব্যথার পোষ্টই বুঝায়। তাই আসি না, যদি পোষ্ট পড়ে আমারও ওনার মত বাতের ব্যথা হয়। ওনার ডাক্তার ওনার বাতের ব্যথাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে ওনাকে পারলে মাথায় জট ওয়ালা পাগলী বানিয়ে দেয়। কিন্তু ডাক্তার জানে না যে আমাদের শায়মা আপু জাতে মাতাল কিন্তু তালে ঠিক। ডাক্তারদেরও উনি এক হাটে কিনে আরেক হাটে বেচে দিতে পারেন।

আমি যখন এই মন্তব্য করছি তখন ভোট হয়ে গেছে আরও অনেক কিছু ঘটেছে ভোটের পরে। তাই আগেই বলছি, আমার এই মন্তব্য বর্তমান সময় দ্বারা প্রভাবিত। ঐ সময় মন্তব্য করলে সামান্য এদিক ওদিক হওয়ার সম্ভবনা ছিল। তবে আমার মূল দৃষ্টিভঙ্গি বা অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয় নাই। বরং কিছু কিছু বিষয় আরও পরিষ্কার হয়েছে আমার কাছে।

তারেক জিয়াকে দেশে ফেরার সময় যে রাজকীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল এটাই আমার মতে নির্বাচন আচরণ বিধির লঙ্ঘন। এই সংবর্ধনার মাধ্যমে জনগণকে সরকারের তরফ থেকে বার্তা দেয়া হয়েছে যে বিএনপিই ক্ষমতায় যাচ্ছে। ফলে ভোটের ক্ষেত্রে বিএনপি বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। আর ভোটটা ছিল সাজানো ভোট। নিরপেক্ষ ভোট হয় নাই। আমলারা ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় কারচুপি করেছেন ভোটের দিন সন্ধ্যার পর থেকে। ডঃ ইউনুস কাজটা ভালো করেন নাই। তবে মনে হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং ডঃ ইউনুস মিলেমিশেই দেশ বাসীকে এই পাতানো ভোট উপহার দিয়েছে। এই কাজটা তারা দেশের জনগণের স্বার্থে কেন করলো এটা ভবিষ্যতে হয়তো জানা যাবে।

৫ আগস্টের বিপ্লব নিয়ে বিএনপি সব সময়ই ধরি মাছ না ছুই পানি এই নীতি অনুসরন করেছে। ভারত এবং আওয়ামীলীগকে খুশি করতে গিয়ে সুবিধামত এই বিপ্লবের পক্ষে বা বিপক্ষে বলেছে সুবিধা মত। বিপ্লবের ৭ দিন আগেও তারা বলেছিল যে তারা এটার সাথে নাই। পরে যখন দেখলো যে হাসিনার পতন নিশ্চিত তখন তারা ভোল পাল্টেছে। ইউনুস সরকারের সময়েও তারা ভারতকে খুশি রাখার চেষ্টা করেছে। আসলে বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া। যে সংস্কারগুলি দরকার ছিল এটার ব্যাপারে তাদের আসলে কোন আগ্রহ ছিল না। কারণ তারা ক্ষমতায় গেলে সংস্কার না হলেই তাদের জন্য ভালো।

আমার কাছে নির্বাচনের আগে থেকেই মনে হয়েছে পুরো নির্বাচনটা একটা পূর্ব পরিকল্পিত ছকে অনুষ্ঠিত হবে। কারা ক্ষমতায় যাবে সব আগে থেকে ঠিক করা। বিএনপি সম্ভবত ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে আমরা হাসিনার চেয়ে বেশী সেবা প্রদান করবো আপনাদের। তবে মাঝে মাঝে বিরোধীতার ভান করবো। ভারত সম্ভবত বলেছে যে সালাউদ্দিন সাহেব আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করবে। উনি যা বলার বলবে। ওনার নির্দেশ মত চলবেন। উনিই ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ভাইসরয়ের মত কাজ করবেন। তারেক সাহেব চাইলে খাল কাটতে পারেন, কিংবা সিনেমা দেখতে পারেন। ভারতের তাতে কোন সমস্যা নাই।
তবে আমার ধারণা বিএনপির ভোটের আগে গাইগুই করার কোন সুযোগ ছিল না। কারণ ডঃ ইউনুসের হাতে সব কিছু ছিল। ডঃ ইউনুস সম্ভবত অ্যামেরিকার চাপে ভারতের অনুগত হতে বাধ্য হয়েছেন। আবার নিজের ইচ্ছাতেও হতে পারেন। কারণ অ্যামেরিকার কাছে উনি অনেক ভাবে ঋণী। বিএনপি বেচারারা বহু বছর ক্ষমতায় নাই। তখন ভারতের হাতে পায়ে ধরে ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় তাদের ছিল না। এদের মাজায়ও জোর নাই। নেতা বলে কোন কিছু বিএনপিতে আমি দেখতে পাই না। মন্ত্রি বানানোর লোক না পেয়ে ২০/২৫ বছর আগের রদ্দি মালগুলিকে মন্ত্রি বানিয়েছে। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির পাওয়ার কথা না। কিন্তু পাওয়ানো হয়েছে, যেন সংসদে যে কোন সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে। এতে ডাঃ ইউনুস, ডিপ স্টেট এবং ভারতের স্বার্থ আছে। এমন হতে পারে জামায়াতও এই পূর্ব পরিকল্পনা জানতো। তারা বিরোধী দলে যেতে পেরেই খুশি। ভোট কারচুপি নিয়ে জামায়াত তেমন উচ্চ বাচ্য করেনি। হয়তো আগেই জানতো কি হতে যাচ্ছে।

তবে আমার ধারণা বিএনপি বাধ্য হয়ে এগুলি মেনে নিলেও তারা কখনও চাইবে না ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগ আসুক। জামায়াত এবং এনসিপি তারাও চাইবে না। সংসদে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি একে অন্যের বিরোধিতা করলেও একটা মূল ব্যাপারে তারা একমত যে আওয়ামীলীগকে জায়গা দিলে হাসিনা এবার সবাইকে এসে জবই করবো। জিয়ার আমল ছাড়া বিএনপি সরকার চালাতে সব সময়ই দুর্বল। ঝুঁকি হল আগের বারের মত উল্টা পাল্টা করে আওয়ামীলীগের পথ খুলে দিলে দেশ নতুন সঙ্কটে পড়বে।

আমার ধারণা বিএনপি মাজা সোজা করে দাড়াতে পারলে আওয়ামীলীগকে তারা ঠেকাবে। আসলে এটা তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এখন বিএনপি যদি না বোঝে বা ভুল করে সেই ক্ষেত্রে সামনে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ ঘনিয়ে আসবে। গুছিয়ে লিখতে পারলাম না। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে বলতে পারেন। আমি বিএনপিতে যোগদান করি নাই। তবে জেনারেল জিয়াকে আমি খুব পছন্দ করতাম। এই বিএনপির সাথে আমি নাই। তবে দেশের স্বার্থে (হাসিনাকে ঠেকাতে) তাদেরকে কিছুটা সময় দিতে রাজি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.