নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেঁচে থাকলে বড় হবো....

চারাগাছ

চারাগাছ একদিন ডালপালা ছড়াবে.....

চারাগাছ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বপ্নবাজ সৌরভ এবং একটা বেগুনী কালির নাইট

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:০২


স্বপ্নবাজ সৌরভ এবং একটা বেগুনী কালির নাইট


কিছু গল্প আছে, ছোটবেলায় পড়লে শুধু গল্প মনে হয়।
তারপর জীবন অনেকটা পথ ঘুরে যায়।
চুলে পাক ধরে।
অনেক মানুষ আসে, অনেক মানুষ চলে যায়।
নিজের সম্পর্কে অনেক ধারণা বদলে যায়।
তারপর কোনো এক নির্জন দুপুরে, বহু বছর পর সেই গল্পটা আবার খুলে বসলে হঠাৎ মনে হয়—
আরে!
এ তো আমারই গল্প!
“জরদগব” গল্পটা আমার কাছে ঠিক তেমনই।
ছোটবেলায় প্রথম যখন গল্পটা পড়েছিলাম, তখন জরদগবকে আমার খুব চেনা একটা ছেলে মনে হয়েছিল।
আজ বুঝি, আসলে ছেলেটাকে চেনা ছিল না।
নিজেকেই চিনেছিলাম।
বন্ধুরা তাকে জরদগব বলত।
তার ঢিলেঢালা, জবুথবু, ভ্যাবাচ্যাকা স্বভাবের জন্য।
ছেলেটা যেন সবসময় পৃথিবীর সঙ্গে একটু বেমানান।
ক্লাসে সাপ্তাহিক পরীক্ষা হলে অন্যরা যখন খাতা খুলে প্রশ্নের উত্তর লেখা শুরু করে দিয়েছে, জরদগব তখনও প্রশ্নটা বুঝে উঠতে ব্যস্ত। প্রশ্ন তার মাথায় ঢুকতেই যেন অনেকটা সময় লেগে যেত।
চা খেতে বসলে তার টেবিলে পিরিচের চারপাশে জমত চায়ের ডোবা।
হাঁটত এদিক-ওদিক হেলে দুলে।
নির্ঘাত টেবিলের কানায় ধাক্কা খাবে, নয়তো উল্টে পড়বে চেয়ার।
নতুন জুতো এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই এমন তুবড়ে যেত, মনে হতো জুতোগুলো বুঝি কোনো যুদ্ধ করে ফিরে এসেছে।
অথচ সেই জুতো পরেই তার কল্পনায় সে কখনো কখনো সেনাপতি সুভোরভের সঙ্গে আল্পস পর্বত পেরিয়ে ফেলত!
মুখে সবসময় একটা ঢুলুঢুলু ভাব।
যেন এইমাত্র ঘুম থেকে উঠেছে।
অথবা আর একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়বে।
হাত থেকে সবকিছু খসে পড়ে।
কাজ করতে গিয়ে গণ্ডগোল হয়।
কিছুই যেন ঠিকঠাক তার উৎরায় না।
এককথায়—
জরদগব।
তার শরীরটাও যেন সেই পরিচয়েরই অংশ।
গায়ে কোট আঁট হয়ে আসে।
প্যান্টে পা ঢোকে কোনোরকমে।
মুটকো মুখে থলথলে মাংসের ভাঁজ।
সবাই ভাবত, এত মোটা যেহেতু, নিশ্চয়ই খুব পেটুক।
অথচ ছেলেটা খেতই খুব কম।
খেতে তার ভালো লাগত না।
কিন্তু এসব কে জানত?
মানুষ তো মানুষকে দেখে তার বাইরের দিকটা দিয়েই।
জরদগবও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
তার চেহারাতেই যেন লেখা ছিল—
এই ছেলেটা বেখাপ্পা।
এই ছেলেটা ধীর।
এই ছেলেটা কিছু পারে না।
তার চলাফেরা সেটা বলত।
তার ঢিলেঢালা স্বভাব সেটা বলত।
তার চাপা গলার স্বর সেটা বলত।
বন্ধুদের দেওয়া নামটা সেটা বলত।
আর ধীরে ধীরে—
জরদগব নামটাই তার নিজের কাছেও সত্যি হয়ে উঠেছিল।
ছোটবেলায় এই জায়গাটাতেই আমি জরদগবকে চিনেছিলাম।
খুব ভালো করে।
কারণ আমিও তো সবকিছু পারতাম না।
কত কাজ অন্যরা কত সহজে করে ফেলত, আর আমি কোথায় যেন আটকে যেতাম।
কোনো কিছু বুঝতে সময় লাগত।
কোনো কাজ করতে গিয়ে ভুল হতো।
সবার সামনে ভুল হয়ে গেলে মুখ গরম হয়ে উঠত।
কখনো বন্ধুরা হাসত।
কখনো মায়ের বকুনি।
কখনো শিক্ষকের বিরক্তি।
কখনো সেই তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি—
যেটা মুখে কিছু না বলেও একটা শিশুকে বুঝিয়ে দিতে পারে,
“তোমার দ্বারা বোধহয় এটা হবে না।”
শৈশবে এসব কথা খুব ছোট মনে হয়।
কিন্তু একটা শিশু তো তখন জানে না, মানুষের বলা কথাগুলো তার ভেতরে কতদূর পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে।
একসময় অন্যেরা যে নাম দেয়, মানুষ নিজেকেও সেই নামেই ডাকতে শুরু করে।
একসময় অন্যেরা যে সীমা এঁকে দেয়, মানুষ নিজেই সেই সীমার ভেতরে দাঁড়িয়ে যায়।
জরদগবও বোধহয় তাই করেছিল।
কিন্তু গল্পের সবচেয়ে আশ্চর্য জায়গাটা এখানেই।
বাইরে যে জরদগব, ভেতরে সে জরদগব ছিল না।
তার বুকের ভেতর স্পন্দিত হতো অন্য একজন।
একজন বীর।
একজন নাইট।
তার নিজের নিভৃত স্বপ্নে সে নিজেকে দেখত ঝকমকে ইস্পাতের বর্ম পরা অবস্থায়। মাথায় পালক-ওড়ানো শিরস্ত্রাণ। সাদা ঘোড়ার পিঠে বসে ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
দুর্বল মানুষদের রক্ষা করছে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে।
অসংখ্য কীর্তি স্থাপন করছে।
কেউ তাকে চেনে না।
তার কোনো গালভরা বিদেশি নামও নেই।
রিচার্ড নয়।
রোদ্রিগো নয়।
আইভ্যানগো নয়।
সে শুধু—
ভাসিয়া।
নামহীন এক নাইট।
কী অসাধারণ বৈপরীত্য!
বাইরের পৃথিবী তাকে দেখে জরদগব।
আর নিজের স্বপ্নে সে বীরব্রতী ভাসিয়া।
বাস্তবের আয়নায় সে নিজের মুটকো মুখ, ভারী শরীর, অগোছালো চেহারা দেখে।
কিন্তু কল্পনার আয়নায়?
সেখানে সে সুঠাম।
সেখানে তার চলনে ক্ষিপ্রতা।
সেখানে তার হাতে শক্তি।
সেখানে তার কোনো ত্রুটি নেই।
সেখানে সে এমন একজন, যে দুর্বলকে রক্ষা করতে পারে।
শুধু একটা জায়গাতেই সে তার স্বপ্নের মানুষটাকে ক্ষমা করতে পারে না—
আয়নার সামনে দাঁড়ালে।
কারণ আয়না তাকে আবার পৃথিবীর চোখে ফিরিয়ে দেয়।
বর্ম খুলে যায়।
ঘোড়া অদৃশ্য হয়।
নাইট হারিয়ে যায়।
ফিরিয়ে আনে সেই জবুথবু ছেলেটা।
আর সে নিজের চেহারার জন্য নিজেকেই ক্ষমা করতে পারে না।
এখানেই গল্পটা শুধু একটা মোটা, অগোছালো, ব্যর্থ ছেলের গল্প থাকে না।
এটা হয়ে ওঠে—
একজন মানুষের নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধের গল্প।
জরদগবের জীবনে ব্যর্থতা যেন নিত্যসঙ্গী।
অঙ্কে সুবিধা নেই।
শারীরিক কসরতে পারে না।
আবৃত্তি করতে গিয়ে ভুল করে বসে।
একবার কবিতা বলতে গিয়ে সন্ধ্যার আলো নিয়ে এমন একটা ভুল করে ফেলে যে চারপাশে হাসির রোল পড়ে যায়।
অন্যরা হাসে।
সে দাঁড়িয়ে থাকে।
হয়তো মাথা নিচু করে।
হয়তো ভেতরে ভেতরে আরও একটু ছোট হয়ে যায়।
কিন্তু গল্পের লেখক তখন একটা অসাধারণ কথা বলেন—
ব্যর্থ মানুষ সাধারণত রাগ করে অন্যের ওপর।
জরদগবের রাগ হতো নিজের ওপর।
এই জায়গাটাতে এসে আমি আবার থেমে যাই।
আমিই নয় কি?
আমি কি কখনো নিজের ওপর রাগ করিনি?
কিছু পারিনি—নিজেকেই দোষ দিয়েছি।
কোথাও হেরে গেছি—নিজেকেই ছোট করেছি।
কেউ আমাকে নিয়ে হাসলে হয়তো তার চেয়ে বেশি সময় নিজেকেই মনে মনে প্রশ্ন করেছি—
“আমি এমন কেন?”
কেন অন্যদের মতো হতে পারি না?
কেন আমার এত ভুল?
কেন আমার এত অক্ষমতা?
কেন আমি ঠিক সময়ে ঠিক কথাটা বলতে পারি না?
কেন সবকিছু আমার কাছে একটু কঠিন?
জরদগবের সঙ্গে আমার এখানেই সবচেয়ে গভীর মিল।
সে অন্যের কাছে ব্যর্থ হওয়ার চেয়ে নিজের কাছেই ব্যর্থ হতে বেশি ভয় পেত।
তারপর আসে সেই শীতের দিন।
আর সেখানেই গল্পটা হঠাৎ বদলে যায়।
নদী বরফে জমে আছে।
ছোট ছোট ছেলেরা সেই বরফের ওপর ঘোরাফেরা করছে।
হঠাৎ প্রথম শ্রেণির একটি শিশু বরফ ভেঙে ঠান্ডা জলে পড়ে গেল।
দিমকা কভালেভ প্রথম দেখতে পেল।
সে চিৎকার করল।
বাচ্চাটা ডুবে যাচ্ছে!
সবাই শুনল।
কিন্তু চিৎকার করা আর পানিতে নামার মধ্যে যে কতটা দূরত্ব, সেটা তখন বোঝা গেল।
জরদগব এগিয়ে গেল।
সেই জরদগব।
যে অঙ্কে পারে না।
যে শরীরচর্চায় পারে না।
যে আবৃত্তি করতে গিয়ে সবার হাসির পাত্র হয়।
যে নিজের চেহারা নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই ক্ষমা করতে পারে না।
সেই ছেলেটাই বরফের ওপর পা রাখল।
বরফ কাঁপছে।
ভেঙে যেতে পারে।
তার নিজেরও ডুবে যাওয়ার ভয় আছে।
তবু সে এগিয়ে গেল।
আর শেষ পর্যন্ত শিশুটাকে তুলে আনল।
তার জুতো ভিজে গেল।
শরীর কাঁপল।
কিন্তু বাড়ি ফিরে সে মাকে কিছু বলল না।
কোনো গল্প বানাল না।
নিজেকে নায়ক বানাল না।
পরদিন স্কুলে গিয়ে আরও অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল।
সবার সামনে ঘোষণা হলো—
দিমকা কভালেভ শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছে।
হাততালি পড়ল।
প্রশংসা হলো।
নায়ক হয়ে গেল দিমকা।
আর সত্যিকারের উদ্ধারকারী?
জরদগব দাঁড়িয়ে রইল দেয়ালের পাশে।
চুপ করে।
সে চাইলে বলতে পারত—
“না। বাচ্চাটাকে আমি বাঁচিয়েছি।”
বলল না।
এমনকি যখন সবাই দিমকাকে হাততালি দিল—
জরদগবও হাততালি দিল।
এখানেই আমার কাছে জরদগব সত্যিকারের বড় হয়ে ওঠে।
সে নায়ক হওয়ার জন্য শিশুটাকে বাঁচায়নি।
সে শুধু একটা অসহায় মানুষকে দেখেছিল।
আর তার ভেতরের সেই নামহীন নাইটটা তখন হয়তো তাকে বলেছিল—
“যাও।”
সে গিয়েছিল।
ব্যস।
তারপর পৃথিবী তাকে নায়ক বলুক আর না বলুক, তাতে তার কিছু যায়-আসে না।
আর তারপর আসে সেই ছোট্ট দৃশ্যটা।
অঙ্কের খাতা।
আর তার এক কোণে আঁকা একটা নাইট।
“এ নাইটটা হলো বেগুনী রঙের, ইশকুলের কালি ওই রঙেরই।”
কী আশ্চর্য একটা লাইন!
কত সামান্য।
কত শিশুসুলভ।
অথচ এই সামান্য কথাটার ভেতরেই যেন জরদগবের পুরো জীবনটা লুকিয়ে আছে।
তার কাছে বর্মের জন্য আলাদা কোনো রং নেই।
রাজকীয় কোনো রং নেই।
শুধু স্কুলের বেগুনী কালি।
তাই তার নাইটও বেগুনী।
কিন্তু সে জানে না—
সেদিন সে যে নাইটটা আঁকছে, সেটা আসলে তার কল্পনার কোনো মানুষ নয়।
সেটা সে নিজেই।
যে ছেলেটাকে সবাই জরদগব বলে ডাকে,
যে নিজের চেহারা নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই ক্ষমা করতে পারে না,
যে অঙ্ক পারে না,
যে আবৃত্তিতে ভুল করে,
যে সবার হাসির কারণ হয়—
সেই ছেলেটাই তো একটু আগে বরফের ওপর গিয়ে একটা শিশুকে বাঁচিয়ে এসেছে।
পৃথিবী তাকে দেখেনি।
শিক্ষকেরা জানেনি।
বন্ধুরা জানেনি।
হয়তো জরদগব নিজেও জানত না।
শুধু তার হাত জানত।
তাই সে বেগুনী কালি দিয়ে একজন নাইট এঁকে ফেলেছিল।
বুকের ভেতর কোথাও একটা মোচড় দিয়ে ওঠে এখানে এসে।
কারণ একটা শিশু কখনো কখনো নিজের সত্যিটা মুখে বলতে পারে না।
সে শুধু ছবি আঁকে।
আর সেই ছবির ভেতর লুকিয়ে রাখে—
সে আসলে কে হতে চায়।
অথচ জরদগব সেদিন যা আঁকছিল, সে তা হতে চায়নি শুধু।
সে সেদিন ইতিমধ্যেই তা হয়ে গিয়েছিল।
তার নিজের অজান্তে।
তার নিজের নাম না জেনেই।
তার নিজের কোনো হাততালি ছাড়াই।
একটা বেগুনী কালির নাইটের ভেতর সে নিজের আসল পরিচয়টা এঁকে রেখেছিল।
আজ এত বছর পর সেই লাইনটা পড়লে আমার বুকের ভেতরও কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে।
ভাবি—
আমাদের ছোটবেলার খাতাগুলো কোথায় গেল?
কত স্বপ্ন যে সেসব পাতায় এঁকে রেখে এসেছি!
কত মানুষ হতে চেয়েছি!
কত কিছু হতে চেয়েছি!
তারপর বড় হতে হতে কত নাম, কত ব্যর্থতা, কত তাচ্ছিল্য, কত বাস্তবতা এসে সেই ছবিগুলো মুছে দিয়েছে।
তবু হয়তো কোথাও একটা বেগুনী কালি এখনও শুকিয়ে আছে।
কোনো পুরোনো খাতার পাতায়।
কোনো পুরোনো দুপুরে।
কোনো ছোট্ট ছেলের স্বপ্নের মধ্যে।
আর সেই পাতায় হয়তো এখনও দাঁড়িয়ে আছে—
একজন নামহীন নাইট।
যে অপেক্ষা করছে।
তার নিজের বড় হয়ে যাওয়া মানুষটার জন্য।
আমি এখন অনেক বড় হয়েছি।
ছোটবেলার সেই জরদগবও নিশ্চয়ই বড় হয়েছে।
হয়তো সে এখন অনেক কিছু পারে।
হয়তো অঙ্ক তার কাছে আর কঠিন নয়।
হয়তো জীবনের অনেক পরীক্ষায় সে পাশ করে গেছে।
হয়তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এখন আর নিজের চেহারাকে ক্ষমা চাইতে হয় না।
কিন্তু আমি?
আমি বোধহয় এখনও জরদগবই রয়ে গেছি।
আজও সবকিছু আমার উৎরায় না।
আজও কখনো কোনো ভুল হলে ছোটবেলার বকুনিগুলো মনে পড়ে।
কখনো কোনো ব্যর্থতা এলে পুরোনো কোনো তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি যেন হঠাৎ ফিরে আসে।
আজও কখনো মনে হয়—
সবাই যেন কত সহজে পারছে।
শুধু আমি কোথায় যেন একটু পিছিয়ে আছি।
কিন্তু জরদগবের গল্পটা আমাকে একটা কথা শিখিয়েছে—
নিজেকে ব্যর্থ মনে করা আর সত্যিই ব্যর্থ মানুষ হওয়া এক কথা নয়।
কখনো কখনো একজন মানুষকে তার নিজের ভেতরের মানুষটাকে চিনতে অনেক বছর লেগে যায়।
কখনো কখনো একটা জীবনের সবচেয়ে বড় কাজটা করার পরও সে বুঝতে পারে না যে সে সেটা করেছে।
কখনো কখনো একজন মানুষ নায়ক হয়ে যায়—
কিন্তু তার নিজের আয়নায় সেই খবরটা পৌঁছায় না।
তাই আজও আমি অপেক্ষা করে আছি।
কোনো এক অপ্রত্যাশিত দিনের জন্য।
কোনো এক বরফঢাকা নদীর ধারের জন্য।
কোনো এক অসহায় মানুষের জন্য।
যেদিন আমার ভেতরের সেই পুরোনো জরদগব হঠাৎ উঠে দাঁড়াবে।
নিজের সব ভয় ভুলে সামনে এগিয়ে যাবে।
সেদিন হয়তো কেউ হাততালি দেবে না।
কেউ আমার নাম জানবে না।
কেউ হয়তো বলবেও না—
“তুমি বীর।”
তবু আমি জানব।
সেদিন ছোটবেলার সেই ছেলেটা, যে নিজেকে এতদিন অযোগ্য ভেবেছে, সে অবশেষে নিজের ভেতরের মানুষটাকে চিনেছে।
সেদিন হয়তো আমি সত্যি সত্যিই—
বীরব্রতী ভাসিয়া হয়ে উঠব।
তার আগে পর্যন্ত?
আমি আমার বেগুনী কালি নিয়ে বসে থাকি।
অঙ্কের খাতার এক কোণে একটা নাইট আঁকি।
চুপচাপ।
কারণ আমি জানি—
ছোটবেলার সেই জরদগব এখনও আমার ভেতরেই আছে।
হয়তো সে হারিয়ে যায়নি।
হয়তো শুধু অপেক্ষা করছে।
এই বড় হয়ে যাওয়া মানুষটার জন্য।
যে একদিন নিজের দিকে তাকিয়ে আয়নাকে আর জিজ্ঞেস করবে না—
“আমি কেন এমন?”
বরং খুব আস্তে করে বলবে—
“তুই তো সেই নাইটই ছিলি।
শুধু এতদিন নিজেই চিনতে পারিসনি।”


মূল গল্প: বীরব্রতী ভাসিয়া
লেখক: ইউরি ইয়াকভলেভ
অনুবাদ: ননী ভৌমিক
বীরব্রতী ভাসিয়া -- আমার সোভিয়েত শৈশব (আমার শৈশবের স্কুল !)

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:২৬

অধীতি বলেছেন: নিজেকে যখন দেখি তখন এরকমই মনে হয়।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪৫

চারাগাছ বলেছেন: ধন্যবাদ অধীতি। মুল গল্প পড়েছেন নিশ্চয়ই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.