নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান

সত্য সন্ধানের পথিক

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান › বিস্তারিত পোস্টঃ

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এ কি অবস্থা? তারা কি এর জন্যই যুদ্ধ করেছিল?

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:০৬

বিজয় অর্জনের কেটে গেছে ৪১টি বছর। বাংলার মানচিত্রে লাল-সবুজ খচিত পতাকাকে ছিনিয়ে আনার জন্য পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে, নিজের জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন যারা স্বাধীনতার সংগ্রামে তারা এ প্রজন্মের কাছে আজ শুধুই মুক্তিযোদ্ধা নামে পরিচিত। এদের অনেকেই অবহেলিত, অনাদ্রিত, উপেক্ষিত। জীবন সংগ্রামে পযুর্দস্ত তারা। স্বাধীন বাংলার এই প্রজন্মের অধিকাংশ তাদের খোঁজখবর রাখেনা বা জানে না। বিশেষ কোনদিন এলে স্মৃতির পিঞ্জর থেকে হয়তো এ কারণেই এসব অবহেলিত সম্মানীত মুক্তিযোদ্ধাদের চোখ থেকে বের হয়ে আসে ক্ষোভ-দুঃখ মিশ্রিত দুফোঁটা তপ্ত অশ্রু এ রকমই কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. আ. রাজ্জাক মিয়া, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের মোল্যা গ্রামে তার ছোট ভাই সামাদের জায়গায় মাথা গুজে বেঁচে আছে। শীতের এ মৌসুমে তার শরীরে আটকে পড়েনি কোনো শীতবস্ত্র। মুক্তিযোদ্ধা রুস্তুম আলী (৬০) একই ইউনিয়নের বকশো ডাঙ্গী গ্রামের অসহায় জেলে। জানা যায় দীর্ঘ ১০বছর যাবত মৎস্য আহরণ করে জীবন চালাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা জলিল মিয়া ও মৎস্য আহরন করে বেঁচে আছে। মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান বিভিন্ন হাটবাজারে সবজি বিক্রি করে বেঁচে আছে। মুক্তিযোদ্ধা আজর আলী (৬২) অসহায়, মুক্তিযোদ্ধা বাদশা (৫৮) স্বাধীনতার পর থেকেই দর্জিকাজ করে জীবন নির্বাহ করে আসছে। ভাষানচর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা ফজল শিকদার (৫৮) অন্যের উপর নির্ভর করে জীবন যুদ্ধে বেঁচে আছে। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সারোয়ার হোসেন (৫৮) বিভিন্ন হাট বাজারে ঘড়ি, বাইকেলসহ স্টিলের সামগ্রীর উপর নাম লিখে জীবন সংসার বয়ে বেড়াচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা গফুর মল্লিক (৬৯) অন্যের উপর জীবন নির্ভর করে বেঁচে আছে। চরনাসিরপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আ. রব মিয়া বিভিন্ন হাট বাজারে সবজি বিক্রি করছে, মুক্তিযোদ্ধা রাজারচর হালিম শেখ পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদী গর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা বর্তমানে সাধারণ মানুসের চেয়ে নিম্ম জীবন যাপন করে বেঁচে আছি। আপনারা কোনো দিবস এলে আমাদের খোঁজখবর নেন। বছরের বাকী দিনগুলোতে আমাদের জীবন সংসারে অভাব অনটন আর হাহাকারের মাঝে আমাদের খোঁজখবর কে রাখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমরা কি শুধু মুত্যুর পর রাষ্ট্রীয় দাফনের অপেক্ষা করি, আমাদের ক্ষুধার জ্বালা কী কারো নিবারণ করার মন-মানসিকতা নেই কথা গুলো বলতে বলতে ৭১ এর রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁদতে থাকেন। দীর্ঘ নিঃশ্বাসে বেরিয়ে আসে হায়রে আমার স্বাধীনতা। এলাকাবাসী অসহায় এ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে দেশের বিত্তবানদের সাহায্য কামনা করেন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.