| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আপনারা যারা দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা!
যখন একজন ছাত্র ১,২ অথবা ৩ নম্বরের জন্য অকৃতকার্য হয়, তখন আপনাদের কিই বা আসে যায়!
তাতে কি একজন ছাত্রকে কত কাঠ-খড়ি পোড়াতে হয়, কত রাত জাগতে হয়, কত ওয়ার্ড, কত ক্লাস করতে হয়।একটা পেশাগত পরীক্ষা পার হতে গিয়ে। আপনারাও তো এককালে মেডিকেল স্টুডেন্ট ছিলেন তাই না, হয়ত ডাক্তার হয়ে, প্রফেসর হয়ে সব ভুলে গেছেন। তাই এতে আপনাদের এখন কিছুই আসে যায় না!
তাতে কি ছেলেটার জীবনে কত আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। বাবা নাও থাকতে পারে, থাকলেও হয়তো চাকুরী থেকে অবসরপ্রাপ্ত। কোনরকমে সংসার চলে। আপনারা তো দিব্বি রাজার হালে থাকেন। এতে আপনাদের কিই বা আসে যায়!
তাতে কি ছেলেটা/মেয়েটা দূর-দূরান্ত থেকে গরমের মধ্যে পাবলিক বাসে চড়ে আশা নিয়ে আবেদনপত্র নিয়ে আসে, হয়তো একটা-দুইটা নম্বর তাকে দিয়ে তার জীবনের বেশ কিছু সমস্যা থেকে রেহাই দেওয়া হবে, তার পরিশ্রম সার্থক হবে। কিন্তু এতো দূর থেকে আসার পর আপনাদেরই রুমের বাইরে বসা কেরানি, পিওন রেজিস্টারেরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় রেখে যখন পায়ের উপর পা তুলে, ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট ধরে বলে, " আপনাদের জন্য কষ্ট হয় এতো দূর থেকে আসছেন, কিন্তু এটা তো সম্ভব না।" আর আপনাদের দেখা পাওয়া তো দুরূহ ব্যাপার, আপনারা এসি রুমে বসেন, এসি গাড়িতে চড়েন। এতে আপনাদের কিই বা আসে যায়!
তাতে কি ছেলেটা/মেয়েটার পরিবার আশায় থাকে যে, আমার সন্তান তো ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে, চিন্তা কি। তারপর যখন ফল প্রকাশের পর এরকম এক-দুই নম্বরের জন্য আটকে থাকতে হয়। আপনারা বলেন, " এটা তো ভার্সিটির রুল, অর্ডিন্যান্স জারি করা।" আরে রুলসের প্রণেতা আর পরিবর্তক তো আপনারাই। যুগ-যুগ ধরে এভাবেই এসকল নিয়ম-নীতির দ্বারা ছাত্রছাত্রীদের হতাশাগ্রস্ত করে আসছেন। কিন্তু এসব চিন্তা হয়তো আপনাদের ধ্যান-খেয়ালে আসে না!
হ্যাঁ, আপনাদেরকেই বলছি, এভাবে আর কতদিন? একজন ছাত্র এর দ্বারা কতটা হতাশায় ভুগে তা কি আপনারা বুঝেন? কেউ হতাশায় ভেঙে মুখ থুবড়ে আর কেউ একসময় তাকদির বলে মেনে নিয়ে সান্ত্বনা পায় এই বলে, "আরে মেডিকেল, তাও আবার চট্টগ্রাম, এরকম তো হয়েই থাকে।"
©somewhere in net ltd.