নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৌন্দর্য মানেই কিন্তু একটি সুন্দর মুখ নয়....প্রকৃত সৌন্দর্য মানে একটি সুন্দর মন, একটি সুন্দর হৃদয়, একটি সুন্দর আত্মা এবং একটি সুন্দর ব্যক্তিত্বের সমন্বয়....

মো: ফিরোজ কবির

খুব বেশি সাধারণ আমি,অসাধারণ হবার চেষ্টায় !!

মো: ফিরোজ কবির › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনবোধের গল্প

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩০

উপকূলবর্তী একটি প্রত্যন্ত এলাকা।
এলাকাটির নাম মহেষপুর্। এই এলাকার
মানুষগুলো খুব
একটা সুখে নেই,প্রত্যেকটা মুহূর্তে যেন
দুঃখ-কষ্ট তাদের মধ্যে লেগেই আছে।
এই জন্য অবশ্য ঐ এলাকার মানুষদের
নিজেদের
মধ্যে অজ্ঞতা,হিংসাপরায়ণতা মনুষ্যহীনতাই
দায়ী। কেউ কারো সুখ
দেখতে পারে না,বিপদে কেউ
কাউকে সাহায্য
করতে এগিয়ে আসে না। এমনকি কেউ
কারো প্রতি শ্রদ্ধাশীলও নয়,সবাই
দাম্ভিকতা নিয়ে চলাফেরা করে।
ফলে দুঃখ-কষ্ট,দারিদ্র্য,রাহাযানি-
মারামারি যেন তাদের নিত্য
দিনের সঙ্গী। হঠাৎ একদিন বৈশাখ
মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রচন্ড
তীব্রতায় ঐ এলাকার বাসিন্দাদের
সবার বাড়িঘর দুমড়ে-মুচড়ে লন্ডভন্ড
হয়ে যায়। ঘরের মধ্যে থাকা সব
প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র,নিত্য
প্রয়োজনীয় চাল,ডাল,গুড়,মুড়ি সবকিছু
এদিক সেদিক
এলোপাতাড়িভাবে উড়ে গিয়ে নষ্ট
হয়ে যায়। এ সময় মানুষগুলো প্রচণ্ড
কষ্টে চিতকার আর আর্তনাদ
করতে থাকে। তারা সবাই তাদের
হারিয়ে যাওয়া ঘরের
চাল,বেড়া,আসবাবপত্র
খুজতে উঠে পড়ে লাগে এবং হঠাৎ
করে কিছু লোক একটা জিনিস
আবিষ্কার করে এবং তা দেখে সবাই
আশ্চর্য হয়ে যায়। ঐ
লোকগুলো বাকি লোকগুলোকেও ঐ
জিনিসটা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডাক
দিতে থাকে। সবাই আগ্রহ
নিয়ে ছুটে যায় ঐ
অজানা জিনিসটাকে দেখার জন্য।
আর ঐ অজানা জিনিসটাকে নিজ
চোখে দেখার পর প্রত্যেকেই অনেক
অবাক হয়ে যায়। তারা প্রত্যেকেই
দেখতে পায়, ছোট ছোট পিপড়ার
একটি দীর্ঘ লাইন। প্রত্যেক
পিপড়া মুখে করে চালের
দানা,ডালের দানা,গুড়
নিয়ে কি সুন্দর সু-শূঙ্খলভাবে সামনের
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর সকল
পিপড়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছে একটি বড়
পিপড়া যেটা রানী হিসেবে পরিচিত।
ঐ এলাকার সব লোক
দেখলো যে,পিপড়াগুলো একটি গর্তের
ভিতর ঢুকছে এবং সব খাবার সংরক্ষণ
করে রাখছে যা তারা দূর্যোগের সময়
সবাই মিলেমিশে খাবে।
পিপড়াদের এই একতা,একে অপরের
প্রতি সহযোগিতা,কঠোর
সাধনা এবং পরিশ্রম দেখে ঐ
এলাকার লোকগুলো শিক্ষা লাভ
করলো এবং অবশেষে তারা পিপড়াদের
মতো একজন দলনেতা ঠিক করলো। ঐ
দলনেতার আদেশ
অনুযায়ী তারা সকলেই
একসাথে কাধে কাধ
রেখে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড
হওয়া বাড়িঘর ঠিক করতে লাগলো।
তারপর থেকে তারা সবাই ভবিষ্যতের
জন্য কঠোর পরিশ্রম
করতে থাকলো এবং একে অপরের
প্রতি সহযোগিতার হাত
বাড়িয়ে দিতে অনুপ্রাণিত হলো।
এভাবে তারা সকলেই
পিপড়া বিদ্যার কল্যাণে নরকময়
জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভ
করে অনেক সুখে শান্তিতে বসবাস
করতে লাগল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.