নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সবুজকে বাঁচাও, সবুজে বাঁচো

Environment

গ্রীনআর্থ০০৭

Nature lover and environment concerned

গ্রীনআর্থ০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্মৃতি জড়ানো সাম্যের অস্তিত্ব বদলের গল্প

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৪২

সাম্য আজ পুরোনো ঢাকার পথ দিয়ে চলতে গিয়ে, কি মনে করে পুরোনো দিনগুলো হাতড়ে, এক টুকরো স্মৃতি বিজড়িত চিলতে হাসি ঠোঁটে মাখায়। কি অসম্ভব স্নিগ্ধ ছিল সেই ছুটে চলা সময়ে ছাত্রজীবনটা, মনে মনে ভাবে সে। এই জীবনের কিঞ্চিত ভ্যাবাচ্যাকা সময়কে সামলাতে সামলাতেই একটুখানি স্মৃতিকাতর হয়ে গেল সাম্য। প্রিয় বন্ধু বাধনটাও কেমন হুট করে চলে গেল! ফেসবুকের ভান্ডার ঘেটে মৃত বন্ধুর প্রাণবন্ত কিছু পোস্ট পড়তে শুরু করে সে। আহ্ জীবন!

ভীষণ খামখেয়ালী ভবঘুরে মেয়েটা পাহাড়ে, বনে- খালে-বিলে শুধুই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করত। আর সেটাই তার জীবনকে এভাবে দপ্ করে নিভিয়ে দিল। একটা চলন্ত ট্রেনের মতো অনুভূতি দিত, যখনই একসাথে থাকত। প্রতিটা কথা, গল্প, স্বপ্ন, পরিকল্পনা তার- কি অসম্ভব গতিময়! এতো শক্তি, মনে এতো সাহস যে কোথা থেকে যোগাতো সে, খোদাই জানে!

বাধন, তুই চলে গিয়ে আমাকে ভীষণ অচল করে গেলি, এটা কি করে এখন তোরে বুঝাই! জ্যামে বসে বসে একপ্রকার নিথর সাম্য মনে মনে বাধনের সাথে কথা বলছে।

গতিময় জীবনের পিছুটান তো বাধন মারা যাবার পর পরই হুট করে ছেড়ে চলে যায়। আজকাল কথা বলা, চিন্তা করা, লেখালেখি কিংবা পড়াশোনা, সবই কেমন যেন অর্থহীন লাগতে শুরু করেছে সাম্যের কাছে। পুঁজিবাদী সমাজের লাগাতার টিকে থাকার প্রতিযোগিতা, নার্সাসিস্টদের অসুস্থ গণ-সংযোগ আর হ্যাপেনিং জীবনের অদ্ভুত ভান ধরা মানুষ দেখা, ইচ্ছা না করলেও মানুষের সাথে মিষ্টি করে হেসে 'ভালো আছি' বলার চেষ্টা করতে করতে সাম্য আজ ক্লান্ত। এটা কি কোন মানসিক বিষন্নতার লক্ষণ? এখানেও কেমন যেন সাইকিয়াট্রিস্টদের নিয়ন্ত্রিত ভাবনার জালে পা আটকে যাওয়া টাইপ 'বোকা খদ্দের'-এর মতো ভাবনা চলে আসে। নাহ! সবোর্পরি আমি খুব ক্লান্ত- সাম্য নিজেকেই শোনায়।

একটা কথা বহুদিন ধরেই মেনে নিতে পারছিলনা সাম্য। তার ভেতরে কি যেন একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। কিন্তু কি কারণে সেটা, না বুঝতে পেরে অস্থির সময় পার করতে থাকে সে। এখন বুঝতে পারছে, হঠাৎ করেই মেয়ে হয়ে ওঠার বাসনা তাকে সারাক্ষণ তাড়না দিচ্ছে কেন। কারণ, সে বাধনকে অসম্ভব ভালোবাসত। যে কিনা জীবনের প্রতিটা প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে এমনভাবেই তাকে ঘিরে ছিল, সেই বাধনকে ছাড়া নিজেকে কখনই স্বয়ংস্বম্পূর্ণ মনে হয়নি। বহুদিন ধরে নিজের ভেতর বাধনের অস্তিত্ব অনুভব করার অদম্য ইচ্ছা টের পাচ্ছিল বলেই, মনের অজান্তে সাম্য এক ধরনের শারীরিক, মানসিক পরিবর্তন টের পেতে শুরু করে। আজ এক মুহুর্তেই কারণটা উদ্ধার হয়ে গেলো। ট্রানজিশনাল সময়কালটি কেটেছে বলে সাম্য আজ ভীষণ রকমের শান্ত, স্থির।

ধীরে ধীরে বাড়িতে ঢুকে নিজের অন্ধকার ঘরের ভেতর প্রবেশ করে সাম্য। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জামা-কাপড় ছেড়ে ভেতরে পরিহিত মেয়েদের অন্তর্বাসের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। নিজের রূপ দেখে মুগ্ধ নয়নে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাম্য বব ছাট দৈর্ঘ্যের চুলগুলোর মাঝে আঙ্গুল বোলাতে থাকে।



সাম্য আজ জীবনে প্রথমবারের মতো হাসিমুখে আয়নায় নিজেকে উপভোগ করতে থাকে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.