| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

আজকে আমাদের বিতর্কের বিষয় ব্লগ সাংবাদিকতা কি না। এ বিষয়ে অনেক যুক্তি তর্ক আছে। ইন্টারনেট বা তথ্য প্রযুক্তির জগতে আমাদের বসবাস। আমাদের সব কিছু যেন ডিজিটাল মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়। এর সুবাদে আমাদের নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনা গুলো অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করাতে চায়। অথবা জীবনের চাওয়া-পাওয়া, জানা-অজানা বিষয় নিয়ে অন্যের সাথে অলোচনা করতে চায়। আর এ কাজটি করতে বর্তমানে আমারা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছি প্রতিনিয়ত। এ লক্ষে ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম যাত্রা শুরু হয় ব্লগের। কোন একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখা বা কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ধারাবাহিক ভাবে লিখার মাধ্যমে ইন্টারনেটে সবার সাথে শেয়ার করা কে বলা হয় ব্লগিং। যেসব ওয়েবসাইটে এই লিখা গুলো প্রকাশ করা হয় তাকে বলে ব্লগ। বর্তমান অনেকেই ব্লগকে সাংবাদিকতা হিসেবে অভিহিত করতে চায়। এর পক্ষে অনেক যুক্তি তর্কও উপস্থাপন করছে। সাধারণ ভাবে যারা ব্লগ ও সাংবাদিকতা সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা রাখেন না তাদের কাছে ব্লগ ও সাংবাদিকতার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই বা তারা এদের মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে পান না।
তবে, ব্লগ আসলে সাংবাদিকতা কি না তা জানার জন্য প্রথমেই জানতে হবে ব্লগ এবং সাংবাদিকতা বলতে আসলে কী বোঝায়।
ব্লগ কী ?
ব্লগ শ্বটির ইতিহাস বা উৎপত্তি স্থলে দেখা যায় এটি ওয়েব ও লগ এ দুটি শব্দের সংক্ষিপ্তরূপ। ব্লগ শব্দের শাব্দিক অর্থ আলোচনা বা তথ্য সমৃদ্ধ সাইট। ব্লগ হল এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে ক্নো ইউজার রেজিস্ট্রেশন করে কোন কিছু লিখতে পারে এবং অন্য কেউ সেই লেখা পড়তে পারে এবং সেই লেখাতে মন্তব্য করতে পারে। ব্লগকে আমরা আমাদের “অনলাইন ডাইরি” ও বলতে পারি। একজন ব্যক্তি ডাইরীতে যেমন বাঁধাহীন ভাবে লেখেন তিনি তার ব্লগেও বাঁধাহীন ভাবে লিখতে পারেন। যারা ব্লগিং করেন তাদেরকে ব্লগার বলা হয়ে থাকে আর ব্লগাররা বিভিন্ন বিষয়ে ব্লগ লিখে থাকেন যেখানে উক্ত বিষয়ের উপর ভিত্তিকরে বিভিন্ন আলোচনা, সমালোচনা, মন্তব্য ইত্যাদি যুক্ত হতে থাকে ।
উইকিপিডিয়া সূত্রমতে , “ব্লগ হল ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবে একটি আলোচনা বা তথ্যমূলক সাইট যেখানে পর্যায়ক্রমে কোন ঘটনার বর্ণনা, মতামত, স্থির কিংম্বা সচল চিত্র বিযুক্ত হয়ে প্রদর্শিত হতে থাকে।” এবং এটি একজন অথবা ক্ষেত্র বিশেষ ছোট গ্রæপ দ্বারা পরিচালিত হয়।
(সূত্র : যঃঃঢ়ং://বহ.রিশরঢ়বফরধ.ড়ৎম/রিশর/ইষড়ম)
ব্লগের প্রকারভেদ:
সাধারণ ব্লগ এর কোন প্রকার ভেদ নেই, কিন্তু ব্লগিং করার উদ্দেশ্য বিবেচনা করলে ব্লগ কে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ব্যক্তিগত ব্লগ (যেখান থেকে কোন আয়ের সম্ভাবনা নেই)
২. প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ (এটিও একটি অলাভ জনক ব্লগ)
৩. নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ব্লগ (লাভজনক)।
এবার জানা যাক সাংবাদিকতা কী ?
সাধারণ অর্থে এক জন সাংবাদিকের পেশাকে সাংবাদিকতা বলে। সাংবাদিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ জার্নালিজম, যা জার্নাল থেকে এসেছে। অর্থ্যাৎ সংবাদ সংগ্রহ করা বা এর পেছনে কাজ করাকে সাংবাদিকতা বলে।
চার্লস এ ডানা বলেছেন, “সংবাদ হচ্ছে যে কোন কিছু যা সম্প্রদায়ের বিরাট অংশকে আগ্রহী করে তোলে এবং যা কোনদিন তাদের দৃষ্টিগোচর আনা হয়নি।”
দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক হাসান ইমাম সাগরের মতে, “সংবাদ হল কোন ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণী যা প¶পাতশূন্য, সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ বিষয়ের মাধ্যমে পাঠককে আকৃষ্ট করে এবং তা প্রকাশ করে সংবাদপত্র আর্থিকভাবে লাভবান করে।”
সুতরাং সংবাদ বা সাংবাদিকতার যে বৈশ্ষ্ট্যিগুলো লক্ষ্য করতে পারি তা হলো:
সাংবাদিকতার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে;
সংবাদের নির্দিষ্ট সংবাদ কাঠামো আছে ;
সংবাদ হল ঘটনার বর্ননা, সাংবাদিকের নিজ¯^ মতামত না;
সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আছে ;
নির্দিষ্ট কর্মী আছে;
সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ হতে হয়;
সংবাদ অবশ্যই সম্পাদনকৃত হতে হয়;
সাংবাদিকতায় সুনির্দিষ্ট ভাষাশৈলী আছে, প্রমিত ভাষারীতি অনুসরণ করে চলে;
সাংবাদিকতার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য আছে
উপরিউক্ত আলোচনায় আমরা সাংবাদিকতা ও ব্লগ আসলে কি সে সম্পর্কে জানলাম। এবারে উভয় আলোচনাকে সমš^য় করলেই বোঝা যাবে ব্লগ আসলে সাংবাদিকতা কি না ।
সাংবাদিকতার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে, কিন্তু ব্লগের কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।
ব্লগকে বলা হয় ব্যক্তিগত ডায়েরি, কিস্তু সংবাদপত্র কখনোই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ডায়েরি হতে পারে না
সাংবাদিকতায় সংবাদ লেখার সুনির্দিষ্ট কাঠামো আছে কিন্তু, ব্লগে তেমন কোন কাঠামো নেই।
সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ব্লগে ব্লগাররা যা ইচ্ছে তাই লিখে থাকে।
সাংবাদিকতায় সংবাদ বাছাই বা সম্পাদনার ব্যবস্থা থাকে কিন্তু ব্লগে কোন রকম বাছবিচার ও সম্পাদনা ছাড়াই লেখা প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি থাকে, ব্লগের কোন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।
সাংবাদিকতায় সাংবাদিকদের কোন ধরনের ছদ্মনাম ব্যবহারের নিয়ম নেই।
সাংবাদিকতায় সুনির্দিষ্ট ভাষারীতি বা প্রমিত ভাষারীতি অনুসরন করা হয় , কিন্তু ব্লগে এক ধরনের ব্লগীয় ভাষা অনুসরন করা হয়।
সাংবাদিকতায় সাংবাদিক কোন মতবাদের বিরোধিতা করে বা কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কিছু লিখতে পারে না, কিন্তু ব্লগাররা অহরহ তা করে থাকে।
সাংবাদিকতা সাংবাদিকের পেশা হয়ে থাকে কিন্তু ব্লগিং ব্লগারদের পেশা নয়।
সাংবাদিকতায় সুনির্দিষ্ট অফিস ও সংবাদকর্মী থাকে কিন্তু ব্লগে তেমন কিছু নেই।
বিতর্কের প্রতিপক্ষ বন্ধরা হয়তো বলবেন ব্লগ থেকে যেহেতু পাঠক তথ্য পায়, বিনোদিত হয়, জ্ঞান অর্জন করে, প্রভাবিত হয় তাই এটি সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে। তাই আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চায় তথ্য পাওয়াই যদি সাংবাদিকতা হয় তাহলে সিনেমা, কবিতা, নাটক, গান এসব থেকেও তো আমরা তথ্য পাই, তাহলে এসব মাধ্যমকেও কী আমরা সাংবাদিকতা বলবো ? নিশ্চই না। আমরা একটি জরিপেও দেখতে পায় ব্লগে সাংবাদিকতামূলক লেখা আছে মাত্র ১.৫৭ শতাংশ সুতরাং ব্লগেকে সাংবাদিকতা বলা বতুলতার সামিল হওয়া।
পরিশেষে এটা দিনের আলোর মত স্পস্ট যে সাংবাদিকতার মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে তার কোনটাই ব্লগের মধ্যে নেই। তাই ব্লগকে সাংবাদিকতা বলা যায় না। ব্লগ সাংবাদিকতা নয়।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫৩
মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন বলেছেন: ব্লগ এখন আর পুর্বের জায়গাতেই স্থির নেই, হয়ত এটা একসময় একটি জ্ঞানকোষের রূপ ধারন করবে। তবে এই মুহুর্তে ব্লগিং যেখানে দাঁড়িয়ে আছে আমি তাকে এক কথায় বলব সচতনের প্রতিক্রিয়া।