| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যে সব ছবি দেখে কান্না পাওয়ার কথা, সেসব ছবি দেখে কেঁদেছি বহুবার। দ্য বুক অব ইলাই বা ইউ হ্যাভ গট মেইলের শেষ দৃশ্য দেখে বোকা বোকা আমার সেসব কান্নাগুলো ছাপিয়ে আজকের কান্নাটা একেবারেই আলাদা।
লেখার হাত আমার কখনই ভাল না। তাই ভয় হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের চিন্তাগুলো ভাগাভাগি করে নিতে। পাছে কেউ আমার এই দ্বৈনতা ধরে ফেলে। তবু আজ কিছুক্ষনের জন্য ভয় ভুলে দুটো লাইন না লিখে পারলাম না।
আজ সরকারী অনুদানে নির্মিত ছবি 'আমার বন্ধু রাশেদ' দেখছিলাম ( দেখব দেখব করেও এ ছবিটা এতদিন দেখা হয়নি। আমা এই আলসেমীর জন্য নিজের কাছেই নিজে ক্ষমাপ্রার্থী )। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে যারা অভিনয় করেছে তারা (যখন ছবিটা তৈরী হয় তখন) শিশুশিল্পী। মুক্তিযুদ্ধ কি, কেন, কিভাবে তা আবেগ দিয়ে বুঝে ওঠার বয়স হয়ত তখনও তাদের হয়নি। ছবির কয়েকটি দৃশ্যে তাদের কাঁচা অভিনয় হয়ত সমালোচকদের মন যোগাতে অক্ষম।
কিন্তু আনন্দের বিষয়, যে আমি সমালোচক নই। আমি নিত্যান্তই একজন সাধারন দর্শক। তাই রাশেদ চরিত্রে আফনান আর ইবু চরিত্রে রায়ান আমার মন ছুয়ে গেছে প্রতিটি ফ্রেমে।
এটা কোন ফিল্ম রিভিউ মুলক পোষ্ট না। কাজেই 'আমার বন্ধু রাশেদ'-এর শৈল্পিক মানের বিচার সমন্ধীয় জ্ঞ্যান ঝাড়তে যাবো। তাছাড়া ও কাজটা আমার দ্বারা এমনিতেও হয় না। এটা কেবলই একটি 'আত্নোপলব্ধী' মুলক পোষ্ট।
ছোটবেলায় গ্রীষ্মের ছুটিতে শীতের আলতো রোদে বসে নানীর কাছে বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিছানায় শুয়ে মার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি। এটি ৮ বছরের বাচ্চার যতটুকু বোঝার ক্ষমতা ততটুকু দিয়েই বুঝেছি বা বুঝিনি। কিন্তু গল্পগুলো তখনই মনে গেঁথে গিয়েছিল।
একটা গল্প এরকম:
চট্টগ্রামের ইপিজেডে কাজ করতেন আমার নানা। সংসারের সদস্য সংখ্যা তখন পাঁচ। নানা-নানী আর তাদের তিন ছেলে-মেয়ে। আমার মেঝ মামার বয়স তখন চার কি পাঁচ( এই মামাই তখন সবচেয়ে ছোট)। খুলনায় নিজ গ্রাম ছেড়ে জীবিকার তাগিদেই চট্টগ্রামের পোর্ট কলোনীর বাসায় সংসার বেঁধেছিলেন আমার নানা আর নানী। (সব ডিটেইল আমার মনে নেই, অসংলগ্ন কথাও লিখছি প্রচুর। আগেই বলেছি লেখার হাত ভাল না। তাই ক্ষমাপ্রার্থী )।
একসময় যুদ্ধ শুরু হল। সংসার ফেলে তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে নানা-নানী গ্রামের বাড়ি খুলনায় পালিয়ে যাবেন। মরতে হলে নিজ ভিটাতেই মরব। হয়ত এমন মনোভাব থেকেই নানার এ সিদ্ধান্ত। পালানোর এক পর্যায়ে তারা আশ্রয় নিলেন বর্তমান কাস্টমস হাইজের আসে পাশে কোন একটা খালি বাড়িতে। একদিন চলে যায়, দুই দিন চলে যায়। লুকিয়ে আছেন তারা । বাইরের পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে লুকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। তাদের সাথে অবশ্য আরও বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সেই খালি বাড়িটিতে।
আমরা বলি শিশুরা অবুঝ। আসলে তা নয়। খারাপ কিছু একটা হচ্ছে এ শুধু বড়রাই নয় আমার সেই চার/পাঁচ বছরের মামাও বুঝেছিলেন। তাই নানীর কোলে মুখ গুজে চুপটি করে লুকিয়েছিলেন দিনের পর দিন। তবে ক্ষিদার জ্বালা এক সময় আর সহ্য হয়নি তার ( এখানে বলে রাখা ভাল আমার মেঝ মামা ছোট বেলা থেকেই পাউরুটি আর বাটারের বেশ ভক্ত। এটা নিয়ে আমরা হাসি ঠাট্টাও করি তার সাথে। বাটার মাখানো পাউরুটি দিতে পারলে মামার কাছে সাত খুন মাপ) । ক্ষিদের এক পর্যায়ে আমার এ মামাটি সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে সেই পাউরুটি আর বাটার চেয়ে বসলেন নানীর আছে।
আম্মী একটু পাউরুটি আর বাটার হবে।
না, বাবা এখন তো নেই।
আচ্ছা আম্মী শুধু পাউরুটি হবে পানি দিয়ে খাব।
না, বাবা এখনতো পাউরুটিও নেই।
আচ্ছা আম্মী তাহলে শুধু পানি দেন।
উত্তরে নানী কেঁদে ফেলেই বলেছিলেন, 'না বাবা খাওয়ার পানিও নেই'। নানী যখন আমাদের এ ঘটনাটা শোনাচ্ছিলেন তখনও তার চোখ দিয়ে দরদর করে পানি ঝড়ছিল। আর গল্পটা শুনতে শুনতে কেঁদেছিলাম আমরাও।
মুক্তিযুদ্ধ একজন বাংলাদেশীর কাছে (আমি সচেতনভাবেই বাঙালী না বলে বাংলাদেশী বলছি) কি তা একজন বাংলাদেশী ছাড়া কেউ বুঝবে না। আমার পূর্বপুরুষদের অনেক বড় বড় আত্নত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্যে লুকিয়ে আছে এমন অসংখ্য ছোট ছোট আত্নত্যাগ। যা আপতদৃষ্টিতে তুচ্ছ- অসংলগ্ন। কিন্তু আমাকে এই ছোট ছোট গল্পগুলোই সেই সব বড় আত্নত্যাগ আর সংগ্রামকে চিনতে শিখিয়েছে। তাই এগুলো আমার কাছে ফেলনা নয়।
এবার আসা যাক 'আমার বন্ধু রাশেদ' ছবিটি দেখে আমার উপলব্ধী প্রসঙ্গে ( যে কারনে আজকের এ লেখা )। আমার সেই মেঝ মামাটি এখনও পাউরুটি আর বাটার ভালবাসেন (আগেই বলেছি )। তার এই প্রিয় খাবারটি এখন তিনি তার দুই মেয়ের সাথে বসে খান। বড় মেয়ের বয়স ৯ আর ছোটটির ৫। আমি আমার এই দুই কাজিনকে প্রচন্ড ভালবাসি। অনেকটা অন্ধের মতোই। কিন্তু আমার মাঝে মাঝে ভয় হয় ওদের জন্য। ওরা কি জানে ওদের বাবা-মা, খালা-মামা বা চাচা-ফুফুরা কত বিভৎস আর অমানুষিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে আজ টিকে আছে? ওরা কি জানে ওদের অগ্রজদের সঠিক ইতিহাস?
আমার নানী আজ বেঁচে নেই। আমারা ( যারা নানীর কাছে যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতা গল্প শুনেছিলাম) আজ সবাই অন্য শহরে আছি। ওদের থেকে অনেক দুরে। তাহলে ওরা জানবে কি করে তাদের সঠিক ইতিহাস???
আমার মাকে মাঝে মধ্যে অবশ্য এসব গল্প তাদের শোনাতে শুনেছি। কিন্তু তাতে কতটুকু জানছে তারা? নাহ! তাও তো জানছে। এমন অনেক বাংলাদেশী আছে যারা এটুকুও জানেনি। এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা মনে পড়ে গেল।
আমি তখন ক্লাস সিক্স এ পড়ি। সেটাও একটা শীতের সকাল। ক্লাস শুরুর আগে এসেম্বলির ঘন্টা বেজে উঠল। দোতলার ক্লাসরুম থেকে আমরা সবাই স্কুলের শরু সিড়িঘর দিয়ে হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছি। মাঠে লাইন করে দাড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইব, দোয়া পড়া হবে। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতেই কানে এলো এক সহপাঠি বলছে, 'কি না কি পতাকা। তার সামনে আবার দাড়ায় গান গাও। উফফ অসহ্য!' অবশ্য তার এ উক্তির পর থেকে আমি তাকে আর কখনই সহপাঠির মর্যাদা দিতে পারিনি । পরে ভেবে দেখেছি এ মেয়েটিকে দোষ দিয়ে কি হবে? দোষতো ওর বাবা-মার বা অভিভাবকের। বড়রা যদি আমাদের না শেখান নিজের দেশকে ভালবাসতে তাহলে আমরা কিভাবে শিখব?
প্রথমেই বলেছি আজ আমার বন্ধু রাশেদ ছবিটা দেখে আমি দরদর করে কেঁদেছি আর এ কান্না আমার চোখ থেকে না, এসেছে বুক থেকে। আমি ভাগ্যবতী কারন আমার অগ্রজরা আমাকে আমার দেশকে, আমার জাতীয় পতাকাকে আর আমার জাতীয় সংগীতকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন। আমি তাদের কাছে চির ঋণী।
২৭ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৪০
হিয়ার কথন বলেছেন: প্রথমেই ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।
ক্ষমা চাওয়াটাকে বিনয়, হিনমন্যতা বা একটা মুদ্রদোষ ভেবে 'ইগনোর' করা যেতে পারে
ছবিটা সুযোগ পেলে দেখে নেবেন প্লিজ।
ছবিতে দেখানো ১৩/১৪ বছরের ছেলেগুলো একসময় সংঘবদ্ধ পাকবাহিনীর কাছ থেকে কোন ট্রেনিং ছাড়া কেবল আবেগ তাড়িত হয়ে, কেবল দেশকে ভালবেসে আমাদের পতাকা ছিনিয়ে এনেছে। আর আজ এই হরতালের দিনে দেখলাম শত শত ১৩/১৪ বছর বয়সী কিশোরের সেই আবেগকে কাজ লাগিয়ে কিভাবে ফায়দা লুটছেন আমাদের সোকল্ড অগ্রজরা। শৈল্পিক বিচারে 'এ' ক্লাস না হলেও ছবিটা অনন্তত আবেগপ্রবণ করবে আপনাকে এটুকু গ্যারেন্টি দিচ্ছি
২|
২৭ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ২:৩৪
মনসুর-উল-হাকিম বলেছেন: আপনার স্বদেশ প্রেমের অনুভুতির সাথে একাত্ত্বতা জানাচ্ছি - আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা আমাদের গর্বের বিষয়।
জয় বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলার জয় হোক বাক্যগুলি কোনো একক গোষ্ঠি বা দলের নয়, বরং সমগ্র দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্তের চেতনা ও ঘোষনা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ছিলাম ৫-ম শ্রেনীর ছাত্র। নিকট থেকেই দেখেছি সংগ্রাম আর ধ্বংসের সময়গুলি . . . ।
মহান আল্লাহ আমাদর সবাইকে হেদায়েত দিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতে নেক কামিয়াবী দান করুন, আমীন।
৩|
২৮ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:১০
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন: ভ
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:৩৬
স্বপ্নচারী গ্রানমা বলেছেন:
প্রথমেই বলি আপনার লেখার হাত যথেষ্ট ভালো...
এতো ক্ষমা চাওয়ার কি আছে...!
ছবিটা এখনও দেখা হয় নাই, দেখবো..।
পাউরূটির ঘটনা পড়ে তো মন ভিজে গেল..।
ভালো থাকুন..।