নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বারবার পরাজিত হয়েও বিজয়ের আশা এবং নেশা ছেড়ে না দেওয়াই প্রকৃত সৈনিকের আলামত

সুলাইমান হোসেন

আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো নামাজ।নামাজেই চক্ষু শীতল হয়।যে ব্যাক্তি ইচ্ছা করে এক ওয়াক্ত নামাজও ছেড়ে দিলো সে পুলসিরাতের উপর নাকানিচুবানি খাবে এবং পরে যাবে।মানুষের জীবনটাই পুলসিরাত।বিপদ আপদ এবং কষ্টে ধৈর্যধারনের দ্বারা দ্রুত পুলসিরাত অতিক্রম করা যায়।যদি তোমার জীবনের উপর কোনো বিপদ আসে অথবা দুশ্চিন্তাঙ আসে তাহলে সুন্দর ধৈর্যের পরিচয় দাও।তোমাকে আল্লাহ যতটা চিনেন তুমি নিজেও তোমাকে ততটা চিনোনা।আর আল্লাহকে অক্ষম মনে কোরোনা,যাবতীয় বিপর্যয় তিনি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ঠিক করে দিতে পারেন

সুলাইমান হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাকিক্বতুল মায়ারিফ:পর্ব—১৫[ প্রানীকূলের বিস্ময়;মৌমাছি:পাঠ—০২]

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫১

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
নাহমাদুহু ওয়ানুসল্লি আলা রসূলিহিল কারীম
( এই পর্বে মৌমাছি নিয়ে আমার সাধারন আলোচনা থাকবে)

وَاَوۡحٰی رَبُّکَ اِلَی النَّحۡلِ اَنِ اتَّخِذِیۡ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا یَعۡرِشُوۡنَ ۙ


আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেনঃ পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরী কর,
—আন নাহ্‌ল - ৬৮

ثُمَّ کُلِیۡ مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسۡلُکِیۡ سُبُلَ رَبِّکِ ذُلُلًا ؕ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ


এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। —আন নাহ্‌ল - ৬৯



মৌমাছি সৃষ্টিকর্তার এক বিস্ময়কর নিদর্শন

মৌমাছি নিয়ে কি আমরা কখোনো ভেবেছি এর মধ্য আল্লাহর কি বিস্ময়কর কারিগরি রয়েছে।যদি ভাবতাম তাহলে বিস্মিত হতাম। পৃথিবীতে হাজার হাজার প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে,এর মধ্যে অল্প কয়েকটি প্রজাতি আমাদের পরিচিত মধু উৎপাদন করে।বল্লা,ভীমরুল এগুলোও ভিন্ন প্রজাতির মৌমাছি।আরো রয়েছে খুদে মাছি।এরাও একজাতের মৌমাছি।

মৌমাছিরা শত শত মাইল দুরে মধু আহরণ করতে যায়,কিন্তু রাস্তা ভুলে যায়না।এক চামচ মধুর পেছনে হাজার হাজার মৌমাছির দ্বীর্ঘ পরিশ্রম এবং খাটা-খাটনি রয়েছে।বিশাল পরিমান মৌমাছির দ্বীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের বদৌলতে আমরা অল্প পরিমান মধু পাই।আমরা তো মধু আহরণ করি,চাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করি,কিন্তু বিমিময়ে আমরা মৌমাছিকে কি দেই।মৌমাছির এত খাটা -খাটনির পারিশ্রমিক কি আমরা মৌমাছিকে দেই।দেই না কিন্তু!উল্টো আরো মৌমাছির বাসা ভেঙে ফেলি তার ডিম নষ্ট করে ফেলি।কথগুলো বিরক্তিকর লাগলেও এগুলোই সত্য।

তারপর দেখো,
মৌমাছির বাসার মধ্যে আমরা কি বিস্ময়কর শৃঙ্খলা এবং নিয়ম নীতি লক্ষ করি।মৌমাছিদের একজন রানী থাকেন যিনি পুরো চাক বা কলোনির দেখা শোনার দায়িত্ব পালন করেন।এবং ডিম পেরে নতুন মৌমাছির জন্ম দেন।দেখো!পুরুষ মৌমাছি কিন্তু ডিম পারেনা নারী মৌমাছি ডিম পারে,এই ভিন্ন বৈশিষ্ঠও সৃষ্টিকর্তার একটি বড় প্রমাণ।

তারপর কিছু আছে কর্মী মৌমাছি,আবার কিছু আছে পাহারাদার।পুরো কলোনিতে মৌমাছিদের দায়িত্ব বন্টন করে দেয় রানী মৌমাছি।পুরুষ মৌমাছিদের কাজ হলো শুধু প্রজনন ঘটানো,তাছাড়া সব কাজ নারী মৌমাছিরাই করে।পুরুষরা বাসায় বসে বসে আরামে ঘুমায়।মধু সংগ্রহের দায়িত্বও নারী কর্মীদের। মানুষের যেন ঠিক উল্টো।মানুষের মধ্যে নারীদের বাহিরে কোনো কাজ নেই, বাহিরের সব কাজের দায়িত্ব পুরুষদের উপর।আর মৌমাছিদের ক্ষেত্রে পুরুষদের বাহিরে কোনো কাজ নেই,বাহিরের মধু সংগ্রহের কাজ নারীদের উপর।

পরাগায়ন

তারপর দেখো,আল্লাহ তায়ালা মৌমাছিদের দ্বরা প্রকৃতির কতবড় উপকার করে দিয়েছে।এরা এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ভ্রমন করে।এতে ফুলগুলোর মধ্যেও প্রজনন বা পরাগায়ন সংগঠিত হয়।এটা প্রকৃতির বিশাল বড় এক উপকার।এটা না হলে ফল ফুটতনা।এবং অনেক নতুন উদ্ভিদ জন্মাতনা।প্রকৃতির একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক কি অনেকগুলো রব বা সৃষ্টিকর্তা এসে করে দিয়েছেন,নাকি এক সৃষ্টিকর্তার কাজ।ইসলাম ও তো একক সৃষ্টিকর্তাকেই মানে,আর দেখো,প্রকৃতিও তো সেই একই কথা বলে।প্রকৃতিকে যারা গভীর ভাবে দেখে তারা দেখতে পায় যে এগুলো সবই একক সৃষ্টিকর্তার কাজ।আর ইসলামও একক সৃষ্টিকর্তার কথাই বলে, সুতরাং ইসলাম সত্য।


শের

"হে মৌমাছি!কে দিলো তোমার এত যন্ত্রনাদায়ক বিষ,
কাউকে কামর দিলে সে তখন যন্ত্রনায় বলে উঠে,ইশ!
কে দিলো তোমার উড়ার ডানা, আমি তো দেখে মুগ্ধ,
তিনি ই নন, যাকে পেতে হলে অন্তর হতে হয় শুদ্ধ




মৌমাছির বিষ

প্রায় সব প্রজাতির মৌমাছির মধ্যই আল্লাহ তায়ালা বিষ দিয়েছেন।এটা তাদের আত্মরক্ষার জন্য কাজে লাগে।

সের
[sb]
একই মৌমাছির ভিতরে একদিকে বিষ আরেকদিকে মধু,
বুঝিনা কিভাবে হয়,এটা কি তবে প্রকৃতিরই যাদু।
প্রকৃতি যদি জাদুকর হয়,আমি সেই জাদু বিশ্বাস করিনা,
যারা প্রকৃতির যাদু বিশ্বাস করে তাদেরকে জ্ঞানী মানিনা



মৌমাছি কামর দিলে করনীয়

যদি দুই একটি কামর দেয়,তাহলে ভয়ের কিছু নেই।কিন্তু অতিরিক্ত কামর দিলে তাকে হাসপাতালে নিতে হবে দ্রুত।আমরা ছোটবেলায় দুএকটি কামর খেলে পেঁয়াজ ডলতাম।

মৌমাছির মধুর উপকারীতা

মধুর মধ্যে অনেক অনেক উপকার রয়েছে,যা বর্ণনাতীত।মধু মানুষের জন্য প্রাকৃতিক শেফা,যাবতীয় সমস্ত রোগের ঔষধ।ডায়াবেটিস রোগীরাও মধু খেতে পারে কোন সমস্য হয়না।তবে সবকিছুই পরিমিত খাওয়া উচিত।

আল্লাহর নিদর্শন

হ্য মৌমাছির মধ্যে আল্লাহর বিস্ময়কর নিদর্শন রয়েছে!

মৌসাছির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সত্যতা, ক্ষমতা এবং শক্তি,জ্ঞান এবং হেকমত এবং কুদরতের অগনীত নিদর্শন।আমরা এখন ধাপে ধাপে এগুলো বর্ণনা করবো,প্রত্যেক অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যাক্তিদের জন্য।

সত্যাতার নিদর্শন:

মৌমাছির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সত্যতার নিদর্শন।মৌমাছির রয়েছে একচটি অস্থিত্ব এবং গঠন আকৃতি।প্রথমত কোনো গঠন আকৃতিই সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত সম্ভব হতে পারেনা।আবার দেখো মৌমাছির গঠন আকৃতি কত জটিল এবং কঠিন।সাধারন কোনো গঠন আকৃতিই যদি সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত সম্ভব হতে না পারে,তাহলে এই জটিল এবং কঠিন গঠন আকৃতি সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত কিভাবে সম্ভব হবে।কল্পনা কর।

মৌমাছিির গঠন আকৃতি কত জটিল এবং কঠিন?
অনেক জটিল এবং অনেক কঠিন।প্রথমত মৌমাছিদের উড়ার জন্য রয়েছে দুটো ডানা।তারপর রয়েছে পা,মাথা,পাঁচটি চোখ,পেট৷ পায়ুপথ,ইত্যাদি।দেখো এগুলো কত জটিল এবং কঠিন কোনো বুদ্ধিমান সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত প্রকৃতি কিভাবে জানবে যে এখানে এটা দরকার!


শক্তির নিদর্শন:

আল্লাহ যে মহা শক্তিমান তাও মৌমাছি দেখে তুমি উপলব্ধি করতে পারবে।তার শক্তি অতুলনীয় এবং আমাদের ধরনা এবং কল্পনার বাইরে।আল্লাহ শক্তি সম্পর্কে মানুষের ধারনা খুবই কম,এবিষয়ে মানুষ খুবই কমখবর রাখে।

জ্ঞান এবং হেকমতের নিদর্শন:

একটা মৌমাছিকে তুমি খুব ভালোভাবে লক্ষ করো,দেখবে এর মধ্যে কি পরিমান জ্ঞা এবং হেকমত কাজে লাগানো হয়েছে।ডানা দুটোর ভারসাম্য।তারপর একমাথায় মুখ এবং চোখ আরেক মাথায় পায়ুপথ।এটাও জ্ঞা এবং হেকমতের অন্তরভুক্ত

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আমার দৃষ্টিতে দর্শনের প্রশ্নসমূহ এবং উত্তর—

১।দর্শনের মৌলিক প্রশ্ন হলো,মানুষসহ যাবতীয় প্রানীদের অস্তিত্ব নিয়ে।এগুলো কোথা থেকে এলো?
২।মুসলিম দার্শনিকগন তারপর আত্মা নিয়ে চিন্তা করেন,কিন্তু এর কোনো সীমা খুঁজে পাননা,কারন আত্মা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান খুব নগন্য।
৩।আত্মা কি শরীরের ভিতরে নাকি বাহিরে?দার্শনিকগনের এই প্রশ্নটা আমার মতৈ একটি মূর্খতাপ্রসুত এবং সীমাবদ্ধ প্রশ্ন।কারন আত্মার হাকিকত সীমাবদ্ধ নয়।সূফিদের মতে আত্মা জায়গা দখল করেনা,শূন্যস্থান থেকে দেহের উপর ক্রীয়া করে।মসনভীয়ে মানাভী শরীফেও এই মতের সপক্ষে দলিল আছে।

৪।সৃষ্টিকর্তার হাকিকত রহস্য কি?
উত্তর: বিষয়টি সৃষ্টিকর্তা নিজে কাউকেও জানান নাই।কেন জানান নাই সেই জ্ঞানও তার কাছেই রয়েছে।এটা দার্শনিক একটি প্রশ্ন।কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর একটাই যে এই বিষয়ে সৃষ্টিকর্তা কোন না কোন একটি তার ঘনিষ্ঠজনকে জানিয়ে দিবেন হয়তোবা।সেই ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে অন্যরাও জানতে পারবে?

৫।দার্শনিক আরেকটা প্রশ্ন হলো,সৃষ্টিকর্তা আছেন এটা বুজতে পারব কিভাবে?এর প্রমান কি?
উত্তর:সৃষ্টিকর্তা আছেন,এই প্রমান সবাই পাবেনা।এই প্রমান পেতে হলে আগে অনুসরন করতে হবে।কিন্তু সমস্য হলো মানুষ তো অনুসরন করেনা।আগে প্রমান চায়।তাহলে এই ধরনের ঘারতেরা মানুষেরা কোনোদিনো সঠিক পথ পাবেনা।যারা আল্লাহ এবং রসূলকে বহুদিন যাবত অনুসরন করতেছে তাদের নিকট অবশ্যই নিকটবর্তী প্রমান রয়েছে।
আমি আমার হাকিক্বতুল মায়ারিফ সিরিজে নিকটবর্তী প্রমান এবং দূরবর্তী প্রমান নিয়ে আলোচনা করব।

৬।আত্মা যে আছে তার প্রমান কি?

এই প্রশ্নের উত্তরও ৫ নং প্রশ্নের মতই।অর্থাৎ যারা আল্লাহ এবং রসূলকে অনুসরন করে তাদের নিকট আত্মার প্রমান রয়েছে,অন্যদের নিকট এর প্রমান নেই।

৭।মানুষের জ্ঞান এবং যুক্তির দৌড় কোন পর্যন্ত পৌছঁতে পারে?
এটা দার্শনিক একটি প্রশ্ন।মানুষের জ্ঞান এবং যুক্তি কি সীমাহীন নাকি সীমাবদ্ধ।উত্তর হবে সীমাবদ্ধ।তাহলে প্রশ্ন হলো সীমাবদ্ধ যুক্তি এবং জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টিকর্তা বিষয়ক সমস্ত জ্ঞান কি আয়ত্ব করা সম্ভব।উত্তর হবে,এটা সম্ভব নয়।কারন সৃষ্টিকর্তা এবং তার সম্পর্কিত জ্ঞান হয়তোবা এমন যে সেগুলো মানুষের সীমাবদ্ধ যুক্তি এবং বুদ্ধিতে ধরার কথা নয়।

৮।নবী রসূল এবং আউলিয়াদের জ্ঞানে কিভাবে এমন বিষয় ধরে যা সাধারনের জ্ঞানে ধরেনা?

উত্তর :এই বিষয়টা বহু বিস্তারিত আলোচনার বিষয়।বিষয়টা আমার হাকিক্বতুল মায়ারিফ সিরিজে আলোচনা করব ইনশাআল্লা।পাঠের আমন্ত্রন রইলো।

২| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: উপরের মন্তব্যটি ডঃ এম এ আলী ভয়ের পোস্টে করেছিলাম,গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এখানে সংরক্ষন করলাম

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.