নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইসমাইল174

ইসমাইল174 › বিস্তারিত পোস্টঃ

সমস্যাকে মূলে চিহ্নিত করুন

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৩

বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ‘ডাবল’ ফাঁসির
দন্ড দেয়া হয়েছে ২০১৩ সালের ১৭ই আগষ্টের
আলোচিত খুনের খুনী ঐশী রহমানকে । সদ্য
যৌবনে পা দেয়া মেয়েটির খুন পরবর্তী গল্প
তৎকালীন সময়ে দেশের অন্যতম আলোচিত
ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল । দেশের সকল বাবা- মা তাদের সন্তানদের নিয়ে আরেকবার নতুন
করে ভেবেছিল । সন্তানেরাও অবাক হয়ে
বলেছিল, কোন সন্তান তার জন্মদাতা-
জন্মদাত্রীকে খুন করতে পারে । অথচ ঐশী
পেরেছিল । পুলিশের বিশেষ শাখার
পরিদর্শক (এসবি) মাহফুজুর রহমান ও সপ্না রহমানকে খুন করে এ দম্পতির বড় মেয়ে ঐশী
কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভিলেন হয়েছিল ।
পরবর্তীতে এ খুনের ঘটনা এবং এর পূর্বাপর
নিয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদ ছড়িয়েছিল তা
পৌরাণিক কাহিনীকেও হার মানায় । মাতাল
ঐশী ও তার বন্ধুরা ঐশীর বাবা-মাকে খুন করলেও ফুলের টোকাটি লাগতে দেয়নি ঐশীর
একমাত্র ছোট ভাইয়ের ওপর । বরং খুন
পরবর্তী দিনের অর্ধবেলা আদরের ভাইকে
নিয়ে সিএনজিতে করে ঢাকার বিভিন্ন
স্থানে উদভ্রান্তের মত ঘন্টার পর ঘন্ট
ঘুরেছিল ঐশী । বেলা এগারোটার দিকে ঐশী নিজেকে খুনী পরিচয় দিয়ে আবার নিজেই
গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল থানায় । ঐশীর বাবা-মা ঐশীকে টাকা দিয়ে লালন-
পালন করলেও আদর দিয়ে লালন পালন করতে
পেরেছে কতটুকু ? ঐশীর যে সুইসাইডাল
ডায়েরী প্রকাশিত হয়েছিল তাতে ঐশীর
সাথে তার বাবা-মায়ের অভিভাবক সন্তানের
সম্পর্ক সূলভ কোন সম্পর্কই গড়ে ওঠেনি বলে মনে হয়েছে । নেশার রাজ্যে হারিয়ে গেছিল
একটি সদ্য তারুণ্যে পদার্পণ করা তরুণী ।
বাবা সারা দেশের মস্ত বড় বড় অপরাধীদের
পাকড়াও করলেও নিজ মেয়েকে বিরত রাখতে
পারেনি নেশার দুনিয়া থেকে; কিংবা
চেষ্টাও করেনি । যে বাবার টাকা আছে সে বাবা যদি মেয়ের সব কিছুতে প্রশ্রয় না দেয়
তবে সেটা বেমানান লাগে ! হাত খরচ তথা
বাজে খরচের জন্য যে মেয়ে বাবা-মায়ের
কাছ থেকে বয়স বিশোত্তীর্ণ হতে না হতেই
প্রতি মাসে যদি লক্ষাধিক টাকা পায় তবে
সে মেয়ে আর মানুষ থাকে কি করে ? দেশবাসী আজ ঐশীকে ঘৃণা করে; একজন খুনী হিসেবে
তাকে জানে । যে মেয়ে বাবা-মাকে খুন
করতে পারে সে মেয়ের বেঁচে থাকার অধিকার
নাই । যত দ্রুত সম্ভব ঐশীর ফাঁসি হোক ।
দেশের সব মেয়ে তথা সন্তান জানুক বাবা-
মাকে খুন করলে তার পরিণতি কি হয় । কিন্তু ঐশীকে খুনী বানালো কে ? ঐশী তথা
ঐশীদের আজকের পরিণতির জন্য দায়ী কারা ?
যে রাষ্ট্রে সর্বত্র জীবনবিনাশী নেশাজাত
দ্রব্য সহজলভ্য হয়ে যায় যে রাজ্যের
বিশৃঙ্খলা রুধবে কে ? ইয়াবা কন্যা হিসেবেই
ঐশীকে পরিচিত করা হয়েছে । এ দেশে ইয়াবার এজেন্ট কারা ? রাষ্ট্র সে সব লাঘব
বোয়ালদের বিরুদ্ধে কতটুকু কার্যকর ব্যবস্থা
গ্রহন করেছে । দু’জন-চারজন ইয়াবাসেবীকে
শাস্তির প্রদানের কথা আমরা মাঝে মাঝেই
শুনি । কিন্তু সেবীদের শাস্তি দিয়ে লাভ
কি ? আজ দু’জনকে শাস্তি দেয়া হলেও ইয়াবা আসক্তিতে জড়াচ্ছে আরও দু’শ জন । কাজেই
উৎপাদন-আমদানি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি
অথচ সে দিকে খুব বেশি নজর আছে বলে
প্রত্যক্ষিত নয় । এ দেশে অনেকে ইয়াবা
সম্রাট উপাধি পেলেও বারবার তাদের
নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার সংবাদ শুনতে শুনতে দেশবাসী আশাহত । নেশার রাজ্য এমনভাবে
বিস্তৃত হয়েছে যাতে নেশাহীন জাতির স্বপ্ন
দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে । আর নেশার
কবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যুব
সমাজ । সমাজের তথা রাষ্ট্রের প্রধান ভিত
যদি নড়বড়ে হয়ে যায় তবে এ জাতির কপালে দুঃখ আছে । এমন পরিবারের সংখ্যা নেহায়েত
হাতে গোনা যে পরিবারে একাধিক তরুণ
রয়েছে অথচ তাদের কেউ না কেউ কোনভাবে
নেশাজাত দ্রব্য সেবনে জড়িত নয় । নেশার
রাজ্যের বিস্তৃতি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে না
পারলে ঐশীদের সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যাবে না । চলমান অবস্থা চলতে থাকলে,
মহল্লায় মহল্লায় ঐশীদের উত্থানে খুব বেশি
দেরী নাই । গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ঐশীর প্রতিমাসে
লক্ষাধিক টাকার হাত খরচের জোগান তার
বাবা করে দিত । কিভাবে করত তা রাষ্ট্রের
জানা উচিত, জাতির জানা উচিত । অতিরিক্ত
টাকা যে মানুষকে নষ্ট করে দিতে পারে তার
অনন্য দৃষ্টান্ত ঐশী । বাবা-মায়ের কাছ থেকে অঢেল থাকা পেয়ে যৌবনের সুড়সুড়িকে
ঐশী ছড়িয়েছিল তার সোসাইটিতে । জোগাড়
করেছিল অনেক বন্ধু । যারাও ঐশীর মানের ।
কেননা এ দেশে কোন জিনিস দূর্লভ নয়;
নৈতিকতা ছাড়া। ঐশীর গল্প শুনে মনে
হয়েছে, ঐশীর মা তথা সপ্না রহমান জীবনের শেষ প্রান্তে ঐশীকে আয়ত্বে আনার চেষ্টা
করেছিল কিন্তু সেটা বৃথা হয়েছে এবং এ
কারণেই হয়ত তাদের স্বামী-স্ত্রীকে জীবন
দিতে হয়েছে । সময়ের কাজ সময়ে না করলে
অসময়ে তা করা যায়না । অধঃপতিত কাউকে
একটানেই ঠিক পথে যে আনা যায়না সেটা ঐশীর ঘটনাতেই প্রমাণিত হয় । কাজেই বখে
যাওয়া অন্যান্য সন্তানদের পিতামাতাকে
কৌশলি হতে হবে । আজ ঐশীদের জন্যই ঐশীর
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন কিন্তু এটা
সমাধান নয় । স্থায়ী সমাধানের জন্য
সমস্যার মূল চিহ্নিত করতে হবে । সন্তানের জন্য আদর্শিক বাবা-মা হওয়ার জন্য সর্বদা
চেষ্টা করতে হবে । সন্তানকে সুসন্তান
হিসেবে গঠনে বাবা-মায়ের চেয়ে উৎকৃষ্ট
কোন শিক্ষক হয়না; হতে পারে না । দেশকে
নেশাজাত দ্রব্যমুক্ত রাখতে রাষ্ট্রের
সর্বশক্তি বিনিয়োগ করতে হবে । বাবা-মা হত্যার জন্য এককভাবে শুধু ঐশীকে দায়ী করা
চলে না । ঐশী যেমন দায়ী তার চেয়ে কম
দায়ী নয় ঐশীর পরিবার, পরিবেশ । একজন
ঐশীকে দিয়ে এদেশের হাজার ঐশীর শিক্ষা
হোক । সকল পিতামাতাকে আরও সচেতন হতে
হবে । তা নাহলে তাদের পরিণতিও মাহফুজুর রহমান ও সপ্না রহমানের মত হতে পারে ।
রাষ্ট্রকে হতে হবে আরও জনবান্ধব অন্তত
মাদকের বিস্তার রোধে ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:


হাকিমও কি ঐশীর মতো ইয়াবা খায়, ডবল ফাঁসীতে ঝুলানোর পদ্ধতিটা কি? কয়টা রশি লাগাতে হয়?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.