নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইমোশনাল মাশরাফি?

১৪ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে “নড়াইল এক্সপ্রেস” ছিল এক আবেগের নাম। মাঠে আগুনঝরা স্পেল, ভাঙা হাঁটু নিয়েও লড়ে যাওয়া এক যোদ্ধা, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এক কণ্ঠ। মানুষ বিশ্বাস করতো— এই মানুষটা অন্তত শর্টকাটে জিততে জানেন না।

কিন্তু রাজনীতির মাঠে এসে গল্পটা যেন অন্য স্ক্রিপ্টে লেখা হলো।
ক্রিকেট মাঠে যেখানে রান তাড়া করতে হতো ঘাম ঝরিয়ে, সেখানে নির্বাচনের স্কোরবোর্ডে দেখা গেল এক অদ্ভুত “ডন ব্র্যাডম্যানীয়” গড়!
ভোটের এমন হিসাব, যেন প্রতিপক্ষ মাঠেই নামেনি— শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে ছিল।

২০১৮ সালের নড়াইল-২ আসনের ফলাফল এখন রাজনৈতিক লোককাহিনীর মতো শোনায়।
প্রায় শতভাগের কাছাকাছি ভোট পেয়ে জয়— এমন রেকর্ড সাধারণত উত্তর কোরিয়ার সংবাদে বেশি মানায়, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কম।
মনে হচ্ছিল, নির্বাচন কমিশন না, যেন কোনো ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার ঘোষণা দিচ্ছে—
“এবং এটি আরেকটি বাউন্ডারি! বিরোধী দল এখনও শূন্য রানে অপরাজিত!”

সমস্যা হলো, ক্রিকেটে মানুষ আপনাকে ভালোবাসে কারণ সেখানে স্কোরবোর্ডের প্রতিটি রান অর্জন করতে হয়।
কিন্তু রাজনীতিতে যখন স্কোরবোর্ড আগে থেকেই “সেট” মনে হয়, তখন দর্শক গ্যালারি ছেড়ে চলে যায়।

অনেকে বলেন, তিনি হয়তো সিস্টেমের ভেতরে আটকে ছিলেন।
হয়তো বুঝতেই পারেননি কীভাবে “খেলা” সাজানো হচ্ছে।
হয়তো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সাহস ছিল না।
ঠিক আছে, মানুষ ভুল করতেই পারে।

কিন্তু ২০২৪ সালে এসে যখন আবারও সেই একই মঞ্চে দাঁড়ালেন, তখন সমর্থকেরা হয়তো শেষবারের মতো বুঝে গেল—
এটা আর সেই পেসারের গল্প নয়, যে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।
এটা সেই চরিত্রের গল্প, যে শেষ পর্যন্ত “ভোট ফিক্সিং” নামের নতুন লীগে খেলতে নেমে গেছে।

সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, মানুষ আপনার হার মেনে নিতে পারতো—
কিন্তু তারা আপনার “সহজ জয়” মেনে নিতে পারলো না।

কারণ জনগণ জানে, সত্যিকারের নায়করা কখনও স্কোরবোর্ড সাজিয়ে ইতিহাস লেখেন না।
তারা হারলেও সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯

নতুন বলেছেন: মাশরাফি ব্যক্তিগত ভাবে ভালো মানুষ বলেই আমি বিশ্বাস করি।

আমাদের দেশের রাজনিতি মানে ক্ষমতা দখলের রাজনিতি, ।

আমার মনে হয় না মাশরাফি ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে ক্ষতি করেছে বা ক্ষতি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বা নিজে দূনিতি কররার নির্দেশ দিয়েছে। উনাকে দেখে, কথা শুনে এটাই আমার বিশ্বাস উনার উপরে। আশা করি উনার এলাকার কেউ উনির এমপি সময়ের আচরন সম্পর্কে আমাদের জানানেবন।

২| ১৪ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১

রাজীব নুর বলেছেন: আসলে মাশরাফি কষ্ট পেয়েছেন। তার বিশ্বাস ছিলো নড়াইলের মানুষ তাকে ভালোবাসে। কোনোদিন তার ক্ষতি করবে না।
মাশরাফির ভুল হলো- রাজনীতিতে নামা। আমাদের দেশে যে-ই রাজনীতিতে নামবে, তার কপালে দুঃখ আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.