| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ মেধাবী, দক্ষ আইনজীবী এবং উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের একজন। তাঁর রাজনৈতিক কৌশল, সাংগঠনিক দক্ষতা, যুক্তিবোধ এবং দর-কষাকষির ক্ষমতা তাঁকে ইতিহাসে আলাদা জায়গা দিয়েছে। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিজীবন এবং যে ‘ইসলামি রাষ্ট্র’-এর দাবির নেতৃত্ব তিনি দিয়েছিলেন—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বিস্ময়কর দূরত্বও ইতিহাসের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে।
জিন্নাহর জীবনাচার ছিল প্রবলভাবে পাশ্চাত্যপ্রভাবিত। তিনি ইংল্যান্ডে আইন পড়েছেন, সেখানে একটি নাট্যদলের সঙ্গেও অল্প সময় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বোম্বাইয়ের অন্যতম সফল ব্যারিস্টার হয়ে ওঠেন। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল অসাধারণ রুচিশীল এবং ব্যয়বহুল। জীবনীকার স্ট্যানলি ওলপার্টের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর সংগ্রহে ২০০-এর বেশি স্যুট ছিল এবং ব্যারিস্টারি জীবনে তিনি একই সিল্কের টাই দ্বিতীয়বার পরতেন না—এমন কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অসুস্থতার শেষ পর্যায়েও তিনি ফরমাল পোশাক পরার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি হিসেবে উদ্ধৃত হয়—“আমি পায়জামা পরে ভ্রমণ করব না।” পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত কারাকুল টুপি ‘জিন্নাহ ক্যাপ’ নামে পরিচিতি পায়।
তিনি ছিলেন প্রবল ধূমপায়ী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন জীবনী ও স্মৃতিকথায় তাঁর পশ্চিমা খাদ্যাভ্যাস, হুইস্কির প্রতি আসক্তি এবং ইসলামী অনুশাসন পালনে অনাগ্রহের কথাও এসেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রচলিত অনেক দাবিকে একেবারে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই ইতিহাসের প্রতি ন্যায্য আচরণ। কারণ জিন্নাহর ব্যক্তিগত ধর্মাচরণ নিয়ে জীবনীকারদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।
জিন্নাহর পারিবারিক জীবনও ছিল তৎকালীন মুসলিম সমাজের প্রচলিত রীতির বাইরে। তিনি রতনবাই ‘রুট্টি’ পেটিটকে বিয়ে করেন—বোম্বাইয়ের ধনী পারসি পরিবারের মেয়ে রতনবাই ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁদের একমাত্র সন্তান দিনা ওয়াদিয়া পরবর্তী জীবনে পাকিস্তানের বদলে ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বেই বেশি সময় কাটিয়েছেন। দিনা ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি চোখে পড়ে।
যে মানুষটির ব্যক্তিজীবন ছিল এতটাই পশ্চিমা, তিনিই শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দাবিদার হয়ে উঠলেন।
কিন্তু এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—জিন্নাহকে নিছক ‘ধর্মীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা’ হিসেবে দেখলে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়।
কারণ ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে তাঁর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণটি পড়লে অন্য এক জিন্নাহকে দেখা যায়।
তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবাই সমান। প্রত্যেকে নিজের মন্দির, মসজিদ কিংবা অন্য উপাসনালয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা রাখবে। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য করবে না। এমনকি তিনি বলেছিলেন—রাজনৈতিক অর্থে একসময় ‘হিন্দু’ বা ‘মুসলমান’ পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত হবে না।
এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েকদিন আগে যে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিচয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবির ওপর দাঁড় করানো হয়েছিল, তার প্রথম সাংবিধানিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে জিন্নাহ নাগরিক সমতার কথা বলছেন।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—জিন্নাহ আসলে কী চেয়েছিলেন?
একটি ধর্মতান্ত্রিক পাকিস্তান?
নাকি মুসলমানদের রাজনৈতিক নিরাপত্তার জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র, যার রাষ্ট্রব্যবস্থা নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ থাকবে?
এই প্রশ্নের উত্তর ইতিহাস এখনও পুরোপুরি একবাক্যে দেয় না।
আর এখানেই জিন্নাহকে নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক বিতর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
আমরা জিন্নাহকে তাঁর পুরোটা দিয়ে বিচার করি না। প্রয়োজনমতো তাঁর একটি অংশ বেছে নিই।
কেউ তাঁকে মুসলিম জাতিসত্তার মহান নেতা বানান, কেউ তাঁকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রবক্তা বানান, কেউ তাঁকে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রতীক বানান। অথচ জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন নিজেই ছিল বহু বাঁক, পরিবর্তন ও বৈপরীত্যে ভরা।
আর সেই বৈপরীত্যের সবচেয়ে বড় পরিণতি ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগ।
দেশভাগ শুধু মানচিত্র বদলায়নি; বদলে দিয়েছিল মানুষের জীবন। ভারত ও পাকিস্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, হত্যা, লুট, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে, কিন্তু কয়েক লাখ থেকে দশ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিভিন্ন অনুমান পাওয়া যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিল।
এই রক্তাক্ত বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন অনিবার্য—
যে রাজনৈতিক প্রকল্পের শেষ পরিণতি হলো এত মানুষের দেশান্তর ও মৃত্যু, তার দায় ইতিহাসের কোন কোন নেতৃত্বের ওপর কতখানি বর্তায়?
এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ ১৯৪৭-এর বিপর্যয়কে শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি সংগঠনের সিদ্ধান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, ব্রিটিশ প্রশাসন—সব পক্ষের সিদ্ধান্ত, ভুল, অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক সংঘাত মিলে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছিল। মওলানা আবুল কালাম আজাদ দেশভাগের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাঁর India Wins Freedom গ্রন্থে ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও দেশভাগের অন্তর্নিহিত সংকট সম্পর্কে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
আজকের বাংলাদেশকে বুঝতে গেলে এই ইতিহাস আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
কেন?
শুধু ভাষার জন্য?
শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্য?
শুধু রাজনৈতিক অধিকারহীনতার জন্য?
না—এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক আধিপত্য, সামরিক শাসন এবং বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিক হস্তক্ষেপ।
১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে জিন্নাহ যখন ঘোষণা করলেন—“উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”—তখন পূর্ব বাংলার মানুষ বুঝতে শুরু করল, পাকিস্তানের ‘মুসলিম ভ্রাতৃত্ব’ বাস্তবে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন সেই অসন্তোষকে আরও গভীর করল।
তারপর ১৯৫৪, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০—একটি একটি করে ইতিহাসের দরজা খুলতে থাকল।
অবশেষে ১৯৭১।
যে পাকিস্তানের স্বপ্ন জিন্নাহর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই পাকিস্তানেরই পূর্বাংশ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিল।
এখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা সামনে আসে।
মুজিব শুধু একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম করেননি; তিনি বাঙালির ভাষা, ভোট, অর্থনীতি, স্বায়ত্তশাসন এবং আত্মপরিচয়ের প্রশ্নকে একটি জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোর গভীর সংকটকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
তাই আজ কেউ যদি জিন্নাহকে শ্রদ্ধা করেন, তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেন—তাতে আপত্তির কিছু নেই। ইতিহাসের কোনো চরিত্রকে বুঝতে হলে তাঁর সাফল্য যেমন দেখতে হয়, তেমনি তাঁর সিদ্ধান্তের পরিণতিও দেখতে হয়।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।
জিন্নাহর ব্যক্তিগত জীবনাচারের কোন অংশ আজকের তথাকথিত ‘জিন্নাহপ্রেমীরা’ অনুসরণ করেন?
তাঁর পশ্চিমা পোশাক?
তাঁর ব্যারিস্টারি পেশার শৃঙ্খলা?
তাঁর যুক্তিবাদী রাজনৈতিক পদ্ধতি?
তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা?
তাঁর নাগরিক সমতার দর্শন?
নাকি শুধু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার স্মৃতিটুকু?
আর যদি জিন্নাহর ১১ আগস্টের ভাষণকে সত্যিই আদর্শ মনে করা হয়, তাহলে সেখানে যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিকত্ব এবং রাষ্ট্রীয় বৈষম্যহীনতার কথা বলা হয়েছিল—সেই নীতির সঙ্গে আমরা কতটা একমত?
এখানেই আত্মসমালোচনার জায়গা।
কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কোনো নেতাকে অন্ধভাবে ভালোবাসা নয়; তাঁর কাজ, চিন্তা ও সিদ্ধান্তকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা।
আর বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি প্রশ্ন অনিবার্য—
যে মানুষটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাঙালির স্বাধীনতার দাবি প্রতিষ্ঠা করলেন, তাঁকে শুধু এই কারণে ঘৃণা করা হবে যে তিনি পাকিস্তানকে ভেঙেছিলেন?
তাহলে আমাদের কাছে দেশ কী?
মানুষের অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ভোটের অধিকার—নাকি একটি পুরোনো মানচিত্র?
যদি রাষ্ট্র মানুষের জন্য হয়, তবে রাষ্ট্রের চেয়ে মানুষ বড়।
যদি স্বাধীনতা মানুষের অধিকার হয়, তবে কোনো পুরোনো রাষ্ট্রের অখণ্ডতা মানুষের স্বাধীনতার চেয়ে বড় হতে পারে না।
জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এটি ইতিহাস।
কিন্তু সেই পাকিস্তানের পূর্বাংশ যে একদিন বাংলাদেশের জন্ম দেবে, সেটিও ইতিহাস।
জিন্নাহর ১১ আগস্টের ভাষণে যে সমান নাগরিকত্বের স্বপ্ন ছিল, সেটিও ইতিহাস।
আর ১৯৭১ সালে সেই নাগরিক অধিকার, আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে বাঙালির যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম—সেটিও ইতিহাস।
তাই জিন্নাহকে নিয়ে আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত—
তিনি মুসলমান ছিলেন কি না, কত ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, কী খেতেন কিংবা কী পোশাক পরতেন—শুধু সেটি নয়।
বরং আরও বড় প্রশ্ন:
তিনি কী ধরনের রাষ্ট্র চেয়েছিলেন?
তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিণতি কী হয়েছিল?
আর সেই ইতিহাস থেকে আজকের বাংলাদেশ কী শিক্ষা নিয়েছে?
একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে সম্মান করার সবচেয়ে ভালো উপায় তাঁকে পূজা করা নয়—তাঁকে প্রশ্ন করা।
কারণ ইতিহাসের মানুষদের মূর্তি বানালে ইতিহাস থেমে যায়।
কিন্তু তাঁদের প্রশ্ন করলে ইতিহাস কথা বলতে শুরু করে।
২|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭
রাসেল বলেছেন: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক জিন্নাহকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “জিন্নাহ আমার লাহোর প্রস্তাবের খতনা করে ফেলেছে।” তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বিচার করলে বাংলার প্রতি জিন্নাহর রাজনৈতিক যোগ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়?
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৮
নাহল তরকারি বলেছেন: ইতিহাস শুধু কোনো ব্যক্তি, দল বা রাষ্ট্রকে ভালোবাসা কিংবা অপছন্দ করার বিষয় নয়। ইতিহাস আমাদের অতীতের সিদ্ধান্ত, সাফল্য, ভুল এবং তার পরিণতি বুঝতে সাহায্য করে।