| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এক দুই তিন......
কয়েক সেকেন্ড অপলক চেয়ে থাকা। তারপর হঠাৎ সংবিত ফিরে পেয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়া।
এভাবেই প্রতিদিন চেয়ে থাকি ওর দিকে।তবে ওর নামটা জানা নেই।
কোচিং সেন্টারের ক্লাস সেরে প্রতিদিনই কিছু ইয়ার দোস্তদের নিয়ে কোচিং সংলগ্ন একটি ক্যাফেতে কফি খেতে যাই। সেখানেই তাকে রোজ দেখি। ও আমার সহপাঠী না। সিনিওর ভাই ও না। সে একটা বেসরকারি ফার্ম এ চাকরি করে যেটি কিনা আমাদের কোচিং সেন্টারের পাশেই।
আমি বরাবরই আড্ডাবাজ প্রকৃতির। ক্যাফেতে ঢুকেই শুরু হয় আমাদের হা হা হি হি। আর লাঞ্চ আওয়ারে ও তার কয়েকজন কলিগ নিয়ে চলে আসে কফি খেতে। ওর কলিগরা কফি খেতে খেতে টুকটাক কথা বললেও ও তেমন বলেনা। দেখে মনে হয় চিন্তায় ডুবে আছে। আর এদিকে কথা, আড্ডা আর দুষ্টুমির ফাঁকে আমার দৃষ্টি শুধু নিক্ষিপ্ত হয় তার দিকে। তার চুপচাপ স্বভাব আর খেয়ালি ব্যক্তিত্ব আমাকে চুম্বকের মত আকর্ষণ করে প্রতিনিয়ত। ক্লাস শেষে তাই তৃষ্ণার্তের মত ছুটে যাই ক্যাফেতে। সে অবশ্য কোনদিন আমাকে ফিরেও দেখেনা।
২.
কদিন ধরেই আপুর একটা বিয়ের আলাপ চলছিল। কাল হঠাৎ শুনি বরপক্ষ আপুকে দেখতে আসবে। সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই বাসায় বেশ তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। সকাল থেকেই আপুর মুখে কেমন একটা ভেজা ভেজা স্নিগ্ধ ভাব ফুটে আছে। আমার আপু দেখতে বেশ সুন্দরী। বরপক্ষের পছন্দ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় একশভাগ। আপুর রুমে ঢুকতেই আপু লজ্জা লজ্জা গলায় বলল-
"দেখত কি ঝামেলার মধ্যে ফেলল।"
আমি বললাম-
"তোমাকে দেখে কিন্তু মোটেও মনে হচ্ছেনা তুমি ঝামেলার মধ্যে আছ আপু।"
এই কথায় আপুর গাল লজ্জায় লাল নীল বেগুনী হতে লাগলো। আমি আপুকে আর লজ্জা না দিয়ে আপুর ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সারে বারোটা বাজে। ওর ক্যাফেতে আসার সময় হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি নিজের রুমে দৌড় দিলাম রেডি হওয়ার জন্য। কিছুক্ষন পর মা এসে ঘরে ঢুকলেন। আমাকে রেডি হতে দেখেই আঁতকে উঠে বললেন-
"এই তরু, তুই এখন কোথায় যাচ্ছিস?"
-কোচিং এ যাচ্ছি মা।
-কাল রাতে না বললি তোর আজ কোচিং নেই?
-না মা , মানে ইয়ে...... ক্লাস নেই তবে আজ সাজেশন দেবে।
-আজ না গেলে হয়না? বাসায় এত কাজ! একটু পরেই তো মেহমানরা চলে আসবে।
-আমি থেকে কি করব মা? আমি কি কোন কাজ পারি?
-অরুকে সাজগোজের কাজে তো সাহায্য করতে পারিস।
-আপু নিজেই ভাল সাজগোজ জানে। আমার থেকে কাজ নেই।
-আজ বাদ দে না।
-ঠিক আছে মা বেশি দেরি করব না। আধঘণ্টার মাঝে চলে আসব।
৩
আজকের দুপুরটা বেশ।
বাতাসে বৃষ্টির আগমনী বার্তা। আকাশ মেঘলা বলে রাস্তায় মানুষজন কম। লোকে যে কেন বৃষ্টিকে এত ভয় করে বুঝিনা। ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টি আমার দারুন পছন্দ। কিছুক্ষণের মাঝেই বৃষ্টি আসবে। ভালই হবে। তার সাথে দেখা হবে বৃষ্টিস্নাত দিনে।
রিকশা থেকে নেমে ক্যাফেতে গিয়ে ঢুকলাম। বেয়ারাকে একমগ কফির অর্ডার দিয়ে শুরু করলাম আমার অপেক্ষার প্রহর। কিছুক্ষন পরই ওর কলিগরা ক্যাফেতে ঢুকল। কিন্তু আশ্চর্য, ও নেই। প্রথমে ভাবলাম হয়ত কোন কাজে অফিসে আটকা পরেছে। কাজ সেরেই চলে আসবে। বেয়ারা কফি দিয়ে গেল। আমার দৃষ্টি দরজার দিকে। এভাবে কতক্ষণ পার হল জানিনা। একসময় দেখলাম ওর কলিগরা চলে গেল।
দুচোখে জলের ধারাকে বহু কষ্টে সামাল দিলাম। এমন তো কখনও হয়না। এদিকে মা ফোনে অনবরত কল করেই যাচ্ছেন। কাপের ঠাণ্ডা কফি এক ঢোকে শেষ করে বেরিয়ে এলাম। বাইরে তখন অবিশ্রান্ত বর্ষণের জলখেলা। তার মাঝে আমি ঠায় দাড়িয়ে আছি। রাস্তায় কোন রিকশাও নেই।
কাকভেজা হয়ে বাসায় এলাম। ঢুকেই দেখি ড্রইংরুম ভর্তি মানুষ। পুরো ড্রইংরুমে একবার চোখ বুলাতেই আমি হতভম্ব। মনে হল হার্ট একটা বিট মিস করল। ওই তো ও বসা। যাকে একনজর দেখতে একজোড়া তৃষিত চোখ নিয়ে এতটা সময় ক্যাফেতে ঠায় বসে ছিলাম।
সাদা পাঞ্জাবীতে রাজপুত্রের মত লাগছে ওকে। চোখে বরাবরের সেই আনমনা চাহনি। কিন্তু সে এখানে কেন?
"সাদা পাঞ্জাবী পরা ছেলেটা কে মা?"
মা ডাইনিং এ মেহমানদের জলখাবার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বিরক্ত হয়ে জবাব দিলেন-
"আরে ও ই তো পাত্র।"
আমি শূন্য দৃষ্টিতে মা'র দিকে তাকিয়ে রইলাম।
৪.
রাতে ক্ষ্যাপা মহিষের মত বৃষ্টির তাণ্ডব শুরু হল। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের নিকষ কালো অন্ধকার দেখছি। এমন সময় মা যুদ্ধ জয়ীর মত বারান্দায় ঢুকলেন।
"একটু আগে মুহিবের বাবা ফোন করেছিলেন। অরুকে উনাদের খুব পছন্দ হয়েছে। মুহিবেরও পছন্দ হয়েছে।"
-ছেলের নাম বুঝি মুহিব?
-হ্যাঁ। উনারা সামনের সপ্তাহে বসেই তারিখ পাকা করতে চান। ছেলে খুব......... ওমা তুই কাঁদছিস কেন?! অরুর জন্য মন খারাপ লাগছে বুঝি?? আনন্দের দিনে কাঁদতে নেই মা।
২|
২৪ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৭
জল ঝড় বলেছেন: কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া। আমি আসলে ব্লগে একেবারেই নতুন। আশা করি সামনেও এভাবে ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
আর গল্পের মুহিব বরাবরই উদাস প্রকৃতির বলে উল্লেখ করেছিলাম। সে কোনকালেই তরুকে খেয়াল করেনি। তাই পরেও তরুকে পরিচিত মুখ বলে মনে হয়নি।
পরবর্তীতে ভুলগুলো কাটানোর চেষ্টা করব। নাদানের লেখা কষ্ট করে পরার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া। পাশেই থাকবেন
৩|
২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ১০:২৯
ভারসাম্য বলেছেন: ভুল বলি নি আমি। এমন কি কোন ঘাটতিও নয়। আর গল্পের মাঝে মুহিবকে যে উদাস প্রকৃতির বলেছেন, যে কোন কালেই তরুকে খেয়াল করে নি, সেটা আবার আমি নিজেই খেয়াল করি নি। ![]()
আমিও কম উদাস নই। ![]()
শুভকামনা।
২৫ শে জুন, ২০১৪ রাত ২:৩০
জল ঝড় বলেছেন: লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: সরাসরি না লিখলেও ওইরকম ই বুঝাইসি।
ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে বড়ভাই হয়ে ক্ষমা সুন্দর চোখে দেইখেন :#>
৪|
২৯ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:৫৩
আহসানের ব্লগ বলেছেন: ব্লগে আপনাকে ওয়েলকাম :-)
৫|
২৯ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৮
জল ঝড় বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৪
ভারসাম্য বলেছেন: তরু বাসায় ফিরে মুহিবকে দেখে চমকে গেল, যাবারই কথা। কিন্তু মুহিব কি তরুকে দেখেছিল? দেখলেও চিনতে পেরেছিল কি? গল্পের মধ্যে এর একটু আভাস থাকলে ভাল হত হয়তো। তবে যা হয়েছে তাও মন্দ না। বেশ লাগলো। +++