নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফেরারী বিকেল

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু করে হ্রাস পেতে আরম্ভ করে। আশ্বিনের শুরু থেকে এই হ্রাসের গতি লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। আর আশ্বিনের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তো দিনের দৈনিক হ্রাসপ্রাপ্তি এতই দ্রুত ঘটতে থাকে যে এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এতদিনের অভ্যস্ত রুটিন বিঘ্নিত হয়। যেমন, জৈষ্ঠ বা আষাঢ় মাসে মধ্যাহ্নভোজের পরে হাতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় পাওয়া যায় ‘বিকেল’ আসার আগেই নিরিবিলি বসে অনেক কাজ করে নেয়ার জন্য। যাদের দিবানিদ্রার অভ্যেস রয়েছে, তারা এত কাজ করার পরেও বিকেল আসার পূর্বে ৪৫ মিনিট থেকে ঘণ্টাখানেক সময় ঘুমিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পান। তারপর ঘুম থেকে উঠে অভ্যেসমত ‘বিকেল’ এর কাজগুলো যেমন খেলাধুলা, হাঁটাহাঁটি, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার কাটা, ইত্যাদি প্রাত্যহিক বা সাপ্তাহিক অনুশীলনের কর্মসমষ্টি সেরে নিতে পারেন। কিন্তু আশ্বিনের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে মধ্যাহ্নভোজের পর কোন কাজ করার জন্য হাতে মোটেই সময় থাকে না; তার আগেই বিকেল এসে পড়ে। অগ্রহায়ন আর পৌষ মাসে তো বিকেলটাকেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন বিকেলকে খুঁজে পেতে হলে দুপুরের খাবারের পর ওঁৎ পেতে বসে থাকতে হয় খেয়াল করার জন্য যে কখন বিকেল আসে আর কখন যায়।

আজ পহেলা অক্টোবর, বাংলা সনে ষোলই আশ্বিন। আজ থেকে শুরু হলো আশ্বিনের দ্বিতীয়ার্ধ। আজ থেকে দিন খুব দ্রুত ছোট হতে থাকবে। দুপুর, বিকেল আর সন্ধ্যা একে অপরের সাথে লাগালাগি হয়ে জড়িয়ে থাকবে। গ্রামীন জীবনে পুরুষেরা দুপুরে খাবার খেয়েই হাটে যাবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করবেন। নারীগণ ঘর-সংসার সামলে নাইতে না নাইতেই সূর্য অস্ত যাবার জন্য আকাশে লালিমা ছড়াতে শুরু করবে। কোন রকমে দুটো অন্ন মুখে গুঁজে তারা ভিজে চুলে হয়তো উঠোনে বসবেন, কিন্তু চুল শুকানোর মত রোদ আর পাবেন না। এভাবেই চোখের পলকে সন্ধ্যা নেমে আসবে। ঝিঁঝি পোকার ডাক শুরু হবে, বনে বাদারে ঝোপ ঝাড়ে জোনাক জ্বলবে। রাতের খাবারের আয়োজনে আবার তারা ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। শহুরে জীবন যাপনে আজকাল অনেক পরিবর্তন এসেছে। শহরে এখন আর দিন ও রাতের মধ্যে কোন পার্থক্য বোঝা যায় না। শহুরে জনগণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অথবা সবান্ধবে দলবেঁধে রাতের খাবারের জন্য হোটেল-রেস্টুরেন্টে যায়। শুধু উন্মুক্ত আকাশটাই গ্রাম ও শহরের মধ্যে কমন ফ্যাক্টর। আকাশের চাঁদ, তারা, জ্যোৎস্না, মেঘ আর বৃষ্টি গ্রাম ও শহরের মানুষ সমভাবে দেখতে পায়, তবে গ্রামে বসে বৃষ্টিপাত দেখার একটা পৃথক সৌন্দর্য আছে। সেখানে বৃষ্টিপাত শুধু দেখারই নয়, শোনারও একটা বিষয়। এ ছাড়া গ্রামে রাতের আকাশে বাদুর, পেঁচার মত কিছু নিশাচর পাখি উড়তে দেখা যায়, শহরে যা দেখা যায় না। আবার শহরে যান্ত্রিক পাখি উড়োজাহাজ দেখা যায়, গ্রামে যা দেখা যায় না।

এখন থেকে বিকেলটাকে ঠিকমত ধরতে হলে দিবানিদ্রা চলবে না। শারদীয় কিংবা হৈমন্তিক বিকেলের যে একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে, সেটাকে উপভোগ করতে হলে কিছুটা সময় তার জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। অগ্রহায়ন আর পৌষে তো বিকেল একেবারেই নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে। তখন প্রকৃ্তির কাছাকাছি থাকলে তাও হেমন্তের বৈকালিক সৌন্দর্য কিছুটা অনায়াসে চোখে পড়বে, কিন্তু নাগরিক জীবনে থাকবে শুধুই যানজট ও জনযট ঠেলে বাড়ি ফেরার তাড়া। এ তাড়ায় বিকেল সন্ধানের কোন প্রয়াস নেয়ার অবকাশ থাকে না। শরত-হেমন্তের বিকেল নিয়ে অনেকেরই অনেক কিছু করার বা ভাবার বিলাসিতা থাকতে পারে। কিন্তু বিকেলটাকেই যদি খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে সেসব ইচ্ছে শুধু ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

দ্রুত অপসৃয়মান হলেও, মধ্যাহ্ন পরবর্তী এই নাতিদীর্ঘ সময়টার প্রতি আমার ভীষণ মায়া। আমার খুব ভাল লাগা একটি সময়। কখনো কিছু লিখে, কখনো গান শুনে, নয়তো দৈবচয়নের ভিত্তিতে কোন বই কিংবা কোন ইলেক্ট্রনিক লেখালেখি পড়ে- এসব করেই আমার কাটে এসব হ্রস্ব বিকেলগুলো। জানালাটার পর্দা সরানো থাকলে মেঘের আনাগোনা কিংবা পাখির ওড়াউড়ি দেখতেও ভাল লাগে। অনেক সময় ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই দেখি, এক চিলতে সোনালী রোদটুকু খুব দ্রুতই ম্লান হয়ে যাচ্ছে, গাছের ছায়াগুলো দীর্ঘতর হচ্ছে। সূর্য মামার কিসের যেন তাড়া! দেখতে দেখতে দীপ্যমান সূর্যটা কমলা রঙ ধারণ করে ঝুপ করে ওপারে ডুব দেয়। আমার ভাললাগা ভাবনাগুলোতেও অকস্মাৎ ঘটে যবনিকাপাত। ধীরে ধীরে নেমে আসে আঁধার, গ্রামীন জনপদে কুয়াশাচ্ছাদিত হয়ে। পাখিরা তাদের শেষ আধারটুকু খেয়ে নেয়, যৌথ সুরে দিনের শেষ গানটুকু গেয়ে নেয়। আমি ফিরে যাই আমার জাগতিক রুটিনে।

ঢাকা
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩
০১ অক্টোবর ২০২৬
বিকেল চারটা চার।
শব্দ সংখ্যাঃ ৬৪০।

একই বিষয়ে আলোকপাত করা আমার কিছু পুরনো পোস্টঃহেমন্তের কথা

কবিতাঃ হেমন্তের দিনগুলো



মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭

অর্ক বলেছেন: ভালো লাগলো খায়রুল ভাই। বিশেষ করে শেষটা খুবই স্নিগ্ধকর। সেটাই। নিজেকে দুনিয়ার শাহানশাহ ভেবে জীবনকে ভরপুর উপভোগ করুন। অবশ্যই অন্যের কোনও ক্ষতি বা বিড়ম্বনার কারণ না হয়ে। এই জীবন এক মহান আশীর্বাদ স্রষ্টা, গড, ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবানের। আপনার শান্তিপূর্ণ দীর্ঘ সুখী জীবনের শুভকামনা থাকলো। জনি ম্যাথিসের লিভ ফর লাইফ গানটা শুনবেন সম্ভব হলে। দারুণ গান! সেখানে পাবেন: "Live, just live for life..."

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার উল্লেখিত গানটা শুনলাম।
মন্তব্যে প্রীত হ'লাম। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ধীরে ধীরে নেমে আসে আঁধার, গ্রামীন জনপদে কুয়াশাচ্ছাদিত হয়ে।
.................................................................................................
ঢাকায় বসে এসব দেখার সুযোগ কোথায় ?

০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: ঢাকায় বসে এসব দেখার সুযোগ নেই। সে জন্যেই তো বলেছি 'গ্রামীন জনপদে' কথাটা।
অবশ্য ঢাকায় বসে 'ধোঁয়াশাচ্ছাদিত আঁধার' দেখার সুযোগ যথেষ্ট আছে।

৩| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: শুধু উন্মুক্ত আকাশটাই গ্রাম ও শহরের মধ্যে কমন ফ্যাক্টর।

আসলেও তাই, তবুও দিনশেষ আমি গ্রামেই ফিরে যেতে চাই। এই দূষিত নগরে এই উপলব্ধি অনুভূতিহীন।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: "তবুও দিনশেষ আমি গ্রামেই ফিরে যেতে চাই" - গ্রামও আজ দূষিত। শহর থেকে যে দূষণের ধোঁয়া ওঠে (কেবলমাত্র আক্ষরিক অর্থে্ই নয়), তার কিছু ছাইভষ্ম তো গ্রামেও গিয়ে পড়ে।

৪| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৪

জুল ভার্ন বলেছেন: ভাইজান, কী অপূর্ব মায়ায় ‘বিকেল’কে ধরে রাখলেন! ❤️
লেখাটি পড়তে পড়তে মনে হলো- আমরা প্রতিদিন যে বিকেলটাকে অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি, আপনি শব্দ দিয়ে তাকে আবার আমাদের সামনে ফিরিয়ে দিলেন। ঋতুর পরিবর্তন, গ্রামের জীবন, শহুরে ব্যস্ততা, পাখির ডাকে দিনের শেষ প্রহর- সবকিছু মিলিয়ে লেখাটি যেন একটি হারিয়ে যেতে বসা সময়ের স্মৃতিচিত্র।

বিশেষ করে ‘দ্রুত অপসৃয়মান হলেও… এই নাতিদীর্ঘ সময়টার প্রতি আমার ভীষণ মায়া’- এই অনুভূতিটুকু যেন আমার নিজের অজানা মায়াকেও স্পর্শ করে। লেখাটির মূল সৌন্দর্য হলো- এখানে ‘বিকেল’ শুধু দিনের একটি সময় নয়, বরং স্মৃতি, প্রকৃতি, নিঃসঙ্গতা ও ভালো লাগার এক আবেগময় নাম হয়ে উঠেছে।

এমন লেখা শুধু পড়া যায় না, অনুভব করতে হয়। পড়তে পড়তে নিজের শৈশবের বিকেল, জানালার বাইরে অস্তগামী সূর্য আর হারিয়ে যাওয়া কত স্মৃতি যেন ফিরে এলো।
এমন একটি সাধারণ ‘বিকেল’কে এত অসাধারণ করে তোলার জন্য লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ❤️

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: ঋতুর পরিবর্তন, দিন রাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি ইত্যাদি প্রকৃ্তির অলঙ্ঘ্য নিয়মানুযায়ী নিত্যদিন ঘটছে, কিন্তু আমরা আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা ও আত্মমগ্নতার কারণে প্রায়শঃই তা খেয়াল করি না। যারা খেয়াল করে, তারা অন্তর দিয়েই অনুভব করে প্রকৃতির সৌন্দর্য, প্রকৃ্তির বার্তা ও প্রকৃ্তির নিয়মের অলঙ্ঘ্যনীয়তা। আমার এখন একান্ত অবসর, তাই আমি এগুলো দেখার ও খেয়াল করার অবকাশ পাই।

আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারি, আপনি কতটা মনযোগের সাথে পোস্টটি পড়েছেন এবং পড়ার সাথে সাথে নিজের অনুভব, স্মৃৃৃতি ও পর্যবেক্ষণকে মিলিয়ে দেখেছেন।

প্রতিটি লেখকই চান, একজন পাঠক তার লেখাটিকে মনযোগের সাথে পাঠ করুন এবং পাঠান্তে নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠার সাথে তার মতামত ও পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করুন। আপনি লেখকদের সেই ইচ্ছেটাকে সম্মান করে তাদের লেখায় মন্তব্য রেখে যান, এটি লেখকদের জন্য একটি পরম বাঞ্ছিত ও ইপ্সিত পাওনা। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার সমনযোগ পাঠ এবং সুবিবেচিত মন্তবের জন্য।

৫| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৫

মেহবুবা বলেছেন: নাগরিক জীবনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। এত অসুন্দর প্রতিযোগিতা এবং অস্থিরতা চারপাশে, কি বিকেল কি সন্ধ্যা ! ঋতুপরিক্রমা যেন রচনা বইয়ের পাঠ্য কেবল।
তারপরও আপনার লেখা পড়ে উদাস হয়ে গেলাম!

০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: "তারপরও আপনার লেখা পড়ে উদাস হয়ে গেলাম" - লেখাটা উদাস মন নিয়েই লিখেছিলাম। হয়তো সংক্রমিত হয়েছে। :) :)

৬| ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার সাথে একদিন গল্প করার ইচ্ছা ছিলো।

০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: বেশ তো!
আগামী ৮, ৯ ও ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাওয়া হলে একটি বইমেলা চলবে। সেখানে আমি একটা স্টল নিয়েছি। তিনদিনই উপস্থিত থাকার আশা করছি। যে কোন একদিন চলে আসুন সেখানে, দিনব্যাপী টুকটাক গল্প করা যাবে।

৭| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪

অধীতি বলেছেন: ভাত খাবার পরে বাবা-মা ঘুমিয়ে গেলেও আমার বাহিরে বেরুতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। জানালার ফাঁক দিয়ে তখন এক অদ্ভূত নিরবতা খেয়াল করতাম। মাসুদ রানার একটা বই কিংবা অন্যকোন উপন্যাসের সাথে কড়াই গাছে একটা কাঠঠোকরার অনবরত কোন্দল দেখতাম। আর লুকিয়ে বের হয়ে পুকুরের পারে যেতাম মাছরাঙ্গা দেখতে। এরকম অদ্ভূত সুন্দর বিকেল আমি ঢাকাতে কখনো পাইনি। এখন বাড়িতে গেলেও আর পাইনা। জানালা থাকলেও ওপাশের সেই নিরবতা, সেই কড়াই গাছ আর নেই। চারিদিকে ব্যস্ততা; দুপুরের ভাত ঘুমও আর নেই।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: "জানালার ফাঁক দিয়ে তখন এক অদ্ভূত নিরবতা খেয়াল করতাম" - এ বাক্যটি থেকে বালক বয়স থেকেই আপনার একটা কৌতুহলী মন ও পর্যবেক্ষণ-স্বভাবের পরিচয় মিললো।

গ্রামের বাড়ির ঘুঘুর ডাক, কাঠঠোকরার ঠকঠকানি, পেছনের দিঘীর কচুরিপানার পুঞ্জে বসা ডাহুকের ডাক, পায়রার বাকবাকুম এবং বসন্তকালে কোকিলের ডাকের মধুর আওয়াজ এখনও কানে বাজে। ছোটবেলায় লজ্জাবতী গাছের বেগুনি ফুল ছিঁড়ে শার্টের বোতামের ফাঁকে গুঁজে রাখা, খেলাচ্ছলে লজ্জাবতীর মেলে থাকা পাতায় হাত বুলিয়ে তাদের বুঁজে যাওয়া দেখা এবং তারপর নির্নিমেষ চোখে তাকিয়ে কখন তারা আবার নিজেদের মেলে ধরে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা, এ সবই আজ মধুর স্মৃতি।

লক্ষ্য করলাম, আমার এ যৎসামান্য লেখাটিকে আপনি "প্রিয়" তালিকায় তুলে নিয়েছেন। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.