| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাজী আলী নূর
আমি "খোলা মন ও বন্ধুত্বপরায়ন" বলতে যা বোঝায় নিজেকে সেরকমই মনে করি। আমার বেশির ভাগ সময় কাটে কম্পিউটারে। এছাড়া নিজের সম্পর্কে বলার মত আর তেমন কিছুই নেই আমার।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ,
বেশ কিছুদিন হলো ছয় তারের আধুনিক বাদ্য নিজে নিজে শিক্ষা করার বাসনা আমার ব্রেইনের মেসেজ বক্সে খুব বেশি স্পামিং করতেছে। আমি যে সরাসরি কারও সহায়তা পাবো অথবা নেবো সেটারও কোন সুযোগ নাই। তাই নিজে নিজেই শুরু করতে হবে এবং আমিও সেটিই চাই।
এবার আসল কথায় আসি। আমার বড় ভাই যখন দশম শ্রেণীতে তখন তার কান্না কাটির আবদার রক্ষা হয়েছিল। তখন সিলেটে ছিলাম আর বাবা অফিসের কাজে ঢাকায় এসে ফেরার পথে ভাইয়ার জন্য একটি অ্যাকস্টিক গিটার নিয়ে আসলেন। প্রতিবেশিরা এসে গিটার দেখলেন সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটিও হল আর তারা ভাবতে লাগলেন আমার ভাইটা বুঝি গিটারিস্ট হতে চলেছে।
কিন্তু না গিটারখানা খুব সু্ন্দর ভাবে ড্রোইং রুমে ডেকোরেটিভ অবজেক্টের কাজ ছাড়া আর কোন কাজেই আসেনি। তবে হ্যা পিচ্চ পিচ্চি কাজিনেরা আসলে আবার সেটি নিয়ে বেশ খেলা জমে যেত। কে কতটা স্ট্রিং ছিড়তে পারে। দু'একটা স্ট্রিং ছিড়ে গেলে ভাইয়া নিজ দায়িত্যেই আবার নতুন স্ট্রিং কিনে এনে নিজে নিজে লাগিয়ে আবার জায়গামত গিটারটি রেখে দিতেন ব্যেস। আবারও স্ট্রিং ছেড়া তারপর আবার সেটিকে মেরামত করা। ভাইয়ার গিটার প্লেয়েইং না হলে না হোক তবে কিভাবে গিটারের স্ট্রিং রিপিয়ার করতে হয় সেবিষয়ে ভাইয়া বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হলেন শেষপর্যন্ত।
তারপর, দেখতে দেখতে এভাবেই প্রায় এক দশক অতিবাহিত হয়ে গেল। একদিন আমার এক পিচ্চি কাজিন সেই গিটার নিয়ে হরতালের পিকেটিং স্টাইলে আমাদের কে ধাওয়া। তবে এক্ষেত্রে হুলিশের পাল্টা ধাওয়ার মত সেরকম কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। কাকে যেন সেই গিটার দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল এই মুহূর্তে মনে করতে পারছিনা (শর্ট টার্ম মেমোরী লস)। ঘটনার দিনই ঘটে আসল ঘটনা। মেঝেতে আঘাত খেয়ে সেই বিখ্যাত গিটার ফেটে ফুটে চৌচিড়। অল্প কিচ্ছুক্ষণ পর অত্যাচার সইতে না পেরে সেই নিরীহ অ্যাকস্টিক গিটারের মর্মান্তিক মৃত্যু।
মৃত্যু কালে তার বয়েস হয়েছিল আনুমানিক দশ বছর (মেনুফ্যাকচারিং ডেইটটি জানা নেই দু:খিত)। অকাল প্রয়াত এই গিটার একমাত্র মেরামতকারী ও গোটা কয়েক প্রশংসাকারী রেখে গেছে। শোকাহত হতভাগা ভাই আমার শোকের ভাড়ে হামলাকারীর উপর মামলা দায়ের করতেই ভুলে গেছেন। তাই আজ পর্যন্ত কোন অপমৃত্যু কিংবা কোন হত্যা মামলা দায়ের করা হয় নাই। প্রত্যক্ষ্য দর্শীর ভাষ্যমতে কোন ময়নাতদন্ত ছাড়াই সেই গিটারের মরদেহ হত্যাকারির মা (আমার ছোট ফুপ্পি) ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন (কিছুটা অনানুষ্ঠানিকভাবেই একে সমাহিত করা হয়)। ভাইয়া মিস করে কিনা জানি না, তবে মাঝে মাঝে আমার সেই অতি পরিচিত গিটারটির কথা স্মরণ হয়। ![]()
গিটারের কাহিনীতো গেলো। আর কি বলতে পারি বলেন। এবার আমার কথায় আসি। আমি যেকথা দিয়ে শুরু করেছি সেই কথাতেই ফিরে আসি। এখন আমার নিজের গিটার শেখার বাসনা আপনাদের জানাই। আর পদ্ধতিতো বলেছিই নিজে নিজে শিখতে চাই। আমার শেখার ইচ্ছাটা প্রবল তাই আমি নিজে একটি অ্যাকস্টিক কিনেছি (কিন্তু সেক্ষেত্রে আমি আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাইকে মোটেও অনুসরণ করতে ইচ্ছুক নই)।
আর আমি কিভাবে শুরু করবো সেটাও বুঝে ওঠতে পারছিনা।
এজন্যেই আপনাদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করলাম। নিজে নিজে যেকোন জিনিস শেখা সময় সাপেক্ষ ও অপেক্ষাকৃত জটিল প্রক্রিয়া। তাই আপনারা যে যা পারেন আমাকে সাজেশন দিন। আমি তা সাদরে গ্রহণ করার অপেক্ষায় রইলাম। ![]()
বিরক্তিকর এই লেখা টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ![]()
(বি.দ্র.: লেখা টি পূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত।)
©somewhere in net ltd.