নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পরের বাড়ির পিঠা খাইতে বড়ই মিঠা ।

কিরকুট

আমি মানুষ, আমি বাঙালি। আমার মানবিকতা, আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া প্রাণী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ। আমার দেশের উপর আঘাত হানতে চাওয়া প্রাণীদের পালনকারী, প্রশ্রয়দানকারী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ, রাক্ষস। হোক সে যে কোনো সাম্প্রদায়িক কিংবা ঢেঁড়স চাষ পরামর্শক।

কিরকুট › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাষ্ট্রিয় পদ ও বংশীয় সম্ভ্রান্ততা

৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:৪১




ব্রিটিশ আমলে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নিয়ম চালু ছিল।
সে সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হতো শুধু যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষিত যুবক যুবতীদেরই নয়, বরং তাদের পারিবারিক বংশীয় সম্ভ্রান্ততাও বিচার করা হতো। প্রার্থীদের আভিজাত্য যাচাইয়ের জন্য বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তির ভিত্তিতে সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে আগতরা নিজের সম্মান রক্ষার দায়ে সহজে দুর্নীতির পথে পা বাড়াবে না। অর্থলোভ তাদের থাকতে পারে, তবে সেটি সীমাহীন হতো না। আত্মসম্মান বাঁচানোর তাগিদে তারা কোনো অনৈতিক কাজে জড়ানোর আগে বারবার ভাবত।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে
এতে কি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে যায়? বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবতে হবে। দারিদ্র্য ও সম্ভ্রান্ততা এক নয়। সমাজে বহু পরিবার আছে যারা যুগ যুগ ধরে সম্ভ্রান্ত বংশ থেকে এসেছে, কিন্তু অর্থনৈতিক চাপে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা দরিদ্র হলেও তাদের সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক সম্মান অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অর্থ বৈভব মানুষকে ধনী করতে পারে, কিন্তু সম্ভ্রান্ত করতে পারে না। সম্ভ্রান্ততা বংশপরম্পরায় টিকে থাকে, যেন রক্তের সঙ্গে প্রবাহিত এক অদৃশ্য উত্তরাধিকার।

অন্যদিকে, যদি রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় চরিত্রহীন ও অসৎ মানুষ দিয়ে তাহলে দুর্নীতি, ঘুষ, মিথ্যা অভিযোগ ও চুরির মতো ব্যাধি স্বাভাবিক নিয়মেই চলতে থাকবে।

ভারতের উদাহরণ টানলে দেখা যায়
আজও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অধিকাংশ সময় উচ্চবংশীয়দেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। মুখার্জি, ব্যানার্জি, চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আসনে আসীন। সেখানে নিম্নবংশীয় কেউ যত বড় বিদ্বানই হোক না কেন, তার জন্য সুযোগ প্রায় শূন্য। এর ব্যতিক্রম ঘটেছে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ক্ষেত্রে। কিন্তু এই দুই নেতার বিরুদ্ধেই দাগী আসামির অভিযোগ রয়েছে, আর ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি তার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশেও আমাদের ভাবতে হবে
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা বসছে? অজাত, কুজাতদের হাতে যদি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়, তারা অর্থের জোরে কীভাবে বর্ণবাদী, স্বার্থপর ও সমাজবিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে, তা অনুধাবন করা জরুরি। বিশৃঙ্খলা, বিভাজন ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রধান কারণই হলো অযোগ্য ও অসৎ লোকদের প্রভাবশালী আসনে বসানো।

এই বক্তব্য হয়তো অনেকের কাছে তিক্ত শোনাবে। কেউ কেউ গালি গালাজও করবেন। তবু আমি আমার অবস্থানে অটল থাকব। কারণ সত্যকে না বললে সমাজ ও রাষ্ট্র দুটিই ধ্বংসের দিকে এগোবে।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:১৩

নতুন বলেছেন: আপনার কথাটা খুব বেশি খারাপ না।

তবে ভালো বংশের ছেলে/মেয়েরা আগে শিক্ষিত হইতো। তারা পড়াশুনা করতো, বিশ্ব সাহিত্য, বিশ্বের অন্য কালচার সম্পর্কে সাধারনের চেয়ে অনেক বেশি জানতো।

তার সাথে বংশ গৌরব ছিলো, অমুক বংশের ছেলে ঘুষ নিতে পারেনা। এমুকের ছেলে দূনিতি করেছে জানলে সমাজে মুখ দেখাতো পারবেনা। এমন কিছু বিষয় ছিলো।

অন্য দিকে দারিদ্রতা একটা অভিসাপ। মানুষ দরিদ্র হলে টাকা আয়ের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে, তখন নীতি নৈতিকতার অনেক কিছুই পাশ কাটিয়ে যেতে শেখে।

বড় হয়ে তারা যদি সঠিক জ্ঞান না পায় তবে সুধরায় না বরং অনেকেই অনৈতিক ভাবে এগিয়ে যেতে থাকে।

আমার কাছে মানুষের পরিবর্তন হয় জ্ঞানের কারনে, ছেলে মেয়ে যদি সঠিক জ্ঞান অর্জন করে, তখন তাদের মাঝে সঠিক নীতি নৈতিকতা গড়ে উঠে। পরিবারের বাবা মায়ের বিরাট অবদান আছে।

দুনিতিবাজ বাবা মায়েরা সন্তানদের নীতিবাদ হতে খুব কমই শেখাবে।

২| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:২৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বংশীয় রাজনীতি যারা করেন এরাও পুরোপুরি সৎ হবেন এটা ভাবা ভুল। এদের মধ্যে নেপোটিজম বেশি দেখা যায়।

৩| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:৪০

নতুন বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বংশীয় রাজনীতি যারা করেন এরাও পুরোপুরি সৎ হবেন এটা ভাবা ভুল। এদের মধ্যে নেপোটিজম বেশি দেখা যায়।


স্বাধীনতার পরে থেকে তো বংশীয় রাজনিতিই চলছে বাংলাদেশে। বাবা, স্বামীর দেশ হিসেবেই তো চলছে।

৪| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১:১৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: নতুন@ব্লগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লিখলেই জামাত শিবির ট্যাগ দেয়া হয়। আবার যারা ছুপা এরা বলবে আপনি ফ্যাসিস্ট। এরা দুই পক্ষ সুবিধাজনক রাজনীতি করে। লীগ পন্থী ব্লগারেরা সারাদিন মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনা তুলে ধরছে এই আওয়াজ তুলে দেশ স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে চলে গেছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার কি আপ্রাণ চেষ্টা। এদিকে যারা আওয়ামী লীগ বিরোধী পূর্বে তারা সবসময় বলতো আওয়ামী লীগ আমলে ন্যায় বিচার হচ্ছে না। এখন যখন তাদের সু সময় তারা নিজেরাই ন্যায় বিচার পরিপন্থী কাজ করছে। সব গুলোই বাটপার !

সাধারণ মানুষ এদের কার্যক্রমে বিভ্রান্ত।

৫| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১:৪৪

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: একজন ভিক্ষুকের ছেলে মাছ বিক্রি করত। এই ছেলের ঘরে ছেলে হলে দাদা নাম রাখে চোধরী। এই Choudhurর নাতি পুতিরা এখন নামের সাথে Choudhury লাগায়।
আমরা যে সব মিয়া ভুইয়া Choudhuryদের দুর্নীতি করতে দেখি এরা সকলে এই শ্রেণির মিয়া,ভুইয়া,Choudhury।

৬| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:১১

রাজীব নুর বলেছেন: বংশ ধুয়ে কি মানুষ পানি খাবে?
যোগ্যতা। আসল জিনিস হচ্ছে যোগ্যতা। যার যোগ্যতা আছে সে-ই পাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.