| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কলিমুদ্দি দফাদার
“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”

১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ ফেলে এবং ব্যাক-লাইট ভেঙে ফেলেছে। ভদ্রলোক রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে চিৎকার করছেন— "তোর পুরো বাইক বিক্রি করলেও তো এই লাইট ঠিক করার টাকা উঠবে না! ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট চিনিস না, অথচ বাইক নিয়ে রাইড শেয়ারিংয়ে নেমে পড়েছিস!" তার মুখে বাংলা-ইংরেজি মেশানো চড়া গালিগালাজ।
রাইডার ছেলেটি আমতা আমতা করে কিছু বলার চেষ্টা করছে। জরাজীর্ণ পোশাক ও চেহারা; সম্ভবত রানার বা এ জাতীয় কোনো কমদামি বাইক তার। ভদ্রলোকের ধারণাই ঠিক হলো—ময়মনসিংহের কোনো এক গ্রাম থেকে ঢাকা এসে সে ‘ক্ষেপ’ মারে। মনে মনে ভাবলাম, এর সঠিক বিচার কী হতে পারে? একদিকে ভদ্রলোকের ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে কেনা অর্ধকোটি টাকার গাড়ি, অন্যদিকে অসহায় দরিদ্র এক যুবক। আমি ভদ্রলোককে বললাম, "আপনি ওর থেকে অন্তত ৫ হাজার টাকা জরিমানা নিন, নয়তো বাইকের চাবি রেখে দিন। আজ এমনি ছেড়ে দিলে কাল সে আবারও একই ভুল করবে। ভুল তো ভুলই; এখানে আবেগের বশবর্তী হয়ে সহানুভূতি দেখানোর সুযোগ নেই।"
২. হোটেল ওয়েস্টিনের পাশে, গুলশান ১ ও ২-এর সংযোগকারী প্রধান সড়কের আগোরার ওপর ‘র ক্যানভাস’ নামে একটি ফাইন ডাইনিং রেস্টুরেন্ট ও বার আছে। এটি বেশ আভিজাত্যপূর্ণ; গুলশান-বনানীর কর্পোরেট ব্যক্তিত্বরা সন্ধ্যার পর এখানে সময় কাটাতে আসেন। সম্প্রতি সেখানে বিত্তবানদের সঙ্গ দেওয়ার জন্য কিছু তরুণী যুক্ত হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রীরা মূলত টিউশন ফি বা হাতখরচের টাকার জন্য অর্থের বিনিময়ে এখানে সময় কাটায়। মেয়েদের যাবতীয় খরচ হোস্টরা (গ্রাহকরা) বহন করেন এবং পাশাপাশি বার থেকেও তারা একটি কমিশন পায়। নিঃসঙ্গ বা খারাপ দিন কাটানো যে কেউ চাইলে এখানে এসে এসব তরুণীর সাথে মন খুলে কথা বলতে পারেন।
সেই রেস্টুরেন্টেই এক সিংগেল মাদ্যার, সম্ভবত কারও সঙ্গ না পেয়ে ওয়েটারের সাথেই গল্প জুড়ে দিয়েছেন। মহিলা খুব একটা সুন্দরী নন। তিনি তার ভাইদের আমেরিকা থাকা, অঢেল সম্পদ আর বাড়ি-গাড়ির গল্প করে আভিজাত্য জাহির করছেন। আর বেচারা ওয়েটার কিছু বকশিশের আশায় প্রতিটি কথায় "ওয়াও! তাই নাকি ম্যাম!" বলে অতিশয় প্রশংসা করে যাচ্ছে।
৩. ফুল বেজে গান চলছে:
"মা লো মা, ঝি লো ঝি / বইন লো বইন, আমি করলাম কি! / রঙ্গে ভাঙ্গা নৌকা বাইতে আইলাম গাঙ্গে..."
বাংলাদেশে ঝোড়ো আবহাওয়ায় লং ড্রাইভে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। মেঘনা ও দাউদকান্দি ব্রিজ পেরিয়ে এক গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালাম। ঠান্ডা আবহাওয়ায় গ্রামীণ বাজারের এক দোকান থেকে কেনা গরম গরম সিঙ্গাড়া আর বোম্বাই মরিচ। বাইরে হিমেল হাওয়া, আর ভেতরে সিঙ্গাড়ার উত্তাপ ও মরিচের ঝাল—সব মিলিয়ে অনুভূতিটা ছিল অসাধারণ!
০১ লা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হোক নুরু আজ প্রতিমন্ত্রী। তার গুরুত্ব বিএনপির কাছে আন্দালিব রহমান পার্থর থেকে বেশি। কুতুব সাহেব-আপনি যেভাবে শুরু থেকে নুরু ভাইয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন রেখে ব্লগে তার পক্ষে পজেটিভ প্রচারনা করেছেন এর প্রতিদান স্বরূপ আদম ব্যবসা বা রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে বিদেশে লোক পাঠানো আপনার জন্যে ফরজ। এটা তো নুরু ভাইয়ের মন্ত্রনালয়। :p
২|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩২
ঢাকার লোক বলেছেন: বাইকের ছেলেটির ভাগ্য ভালো যে ফ্লাইওভারে গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে সে গুরুতর আহত হয়নি ! পুরোপুরি দক্ষ হওয়ার আগে নতুন অবস্থায় হাইওয়েতে উঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যারাই গাড়ি বা বাইক চালান তাদের খেয়াল রাখা দরকার।
০১ লা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
এইসব পোলাপাইন গ্রামে-গঞ্জে কাজ কাম না থাকায় শহরে এসে ক্ষেপ মারে। বাইকের ক্লাসের তার ঠিক না থাকায় ব্রেক করে ভদ্রলোকের গাড়ির বারোটা বাজায় দেয় পিছন থেকে মেরে। ইন্সুরেন্স, লাইসেন্স, রোড ট্যাক্স, ১৫০-২০০% শুল্ক দিয়ে একটা গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে এতো পিরিতির সুযোগ নেই.......
৩|
০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৩:২৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেকদিন পরে কলিমুদ্দি দফাদার! আশা করি ভালো আছেন!
প্রথম গল্পটাই বেশি ভালো লাগলো। দ্বিতীয়টা পড়ে একটু অবাকই হলাম। আপনি যে জায়গার কথা লিখেছেন, সেখানেই একসময় আমার কর্মক্ষেত্র ছিল। তখন যতদূর মনে পরে, তখন ১ নম্বরের দিকে একটা বার ছিল, তবে সেখানে বোধ হয় মেয়েদের যাবার অধিকার ছিল না।
০১ লা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০১
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আপনার মন্তব্য দেখে বেশ ভালো লাগলো।
আপনার কর্মক্ষেত্রে কতো বছর আগে ছিলো জানি না; তবে অর্থনৈতিক চাপে টালমাটাল অবস্থায়, উন্নত বিশ্বের পুঁজিবাদী অনেক দেশের মতো ঢাকা শহ দেশের অনেক বড় শহরে নানারকম অনৈতিক অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। ক্যাসিনো, ড্রাগস, পতিতাবৃত্তির মতো পেশায় অনেক শিক্ষিত ভদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়ে নিরবে নিভৃতে জড়িয়ে পড়ছে।
৪|
০১ লা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩
শায়মা বলেছেন: ভাইয়া বাইক আর গাড়ির অবস্থা শাঁখের করাত!!! ![]()
০১ লা মে, ২০২৬ বিকাল ৪:১০
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
সুন্দরী আপু আপনি তো অভিজাত এলাকার বাসিন্দা। বনানী-গুলশান, বোট বা কোন ল্যাডিস ক্লাবের মেম্বার নাকি আপনি? :p
৫|
০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
রাজীব নুর বলেছেন: ১। বাইক দূর্ঘটনা প্রতিদিন এই ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২০০ টা ঘটে। বাইক রাইডারের সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কোনো রাস্তার মোড়ে দাড়ালেই অন্তত ১০ জন জিজ্ঞেস করবে, কোথায় যাবেন?
২। চলেন একদিন ক্যানভাসে যাই।
৩। শুধু শিঙ্গারা খেলে হবে? চা খেতে হবে না?
০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:০৬
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
১। ঢাকা শহরের কোন মা-বাপ, নিয়ম শৃঙ্খলা নেই। যে যা পারছে তাই করে খাচ্ছে ।
২। ক্যানভাসে গেলে সুরভী ভাবী রাগ করবে; তিনি ধার্মিক মানুষ।
৩। আমি চা-কফি কম খাই।
৬|
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১:১০
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: গ্রামে থেকে এসে লোকজন ঠিকমতো বাইক চালাতে না জেনেও ঢাকায় চালানোর বিষয়টি আমার চোখে পড়েছে। ঢাকার অনেক বাইকের নাম্বার প্লেট ঢাকার বাইরের যা আমার নজরে পড়েছে। সবাই না হলেও এদের অনেকেই আদতে ঢাকায় রাইড শেয়ারিং করতে আসে। বিষয়গুলোকে আমি নেতিবাচক বলে মনে করি। এগুলো কিছু নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশে গাড়ীর দাম তুলনামূলকভাবে বিশ্বের অনেক দেশের থেকে বেশী। এগুলো এক ধরনের ধাপ্পাবাজী ব্যবসা। সরকারি নীতিমালায়ও সমস্যা আছে।
বৃষ্টির দিনে মাওয়ায় লং ড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ব্যাটে-বলে হচ্ছে না। কি করা যায় সেটাই ভাবছি। ধন্যবাদ।
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ২:১৭
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
ঢাকায় বাইক-রিকশার উপদ্রব একটু বাইরে গেলে বাংলার টেসলা অটো তো আছেই। এরা অধিকাংশই রাস্তায় চালানোর সুনির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্ক অবগত নয়। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা রাস্তায় কোন শৃঙ্খলা না থাকায় নিজে যতোই সেফ ড্রাইভ করুক না কেন দুর্ঘটনা বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিদিন হচ্ছে। তারপর এরা গরিব বলে ভিকটিম কার্ড খেলছে।
২০২৬ সাল প্রেক্ষাপটে গাড়ি এদেশে বিলাস বহুল একটি যান শুধুমাত্র অতিরিক্ত ট্যাক্সের কারনে। এন্টি লেভেলের গাড়ি টয়োটা, হোন্ডা সিভিক আমাদের দেশে লাক্সারি গাড়ি। রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি দেশের বাজারের একটি অংশ দখল করায় বর্তমানে নতুন গাড়ির বাজার ও এতো বড়ো না তাই বিদেশি কোম্পানি গুলো এখানে গাড়ি বানাচ্ছে না.....
ঘুরে আসুন মাওয়া ভালো লাগবে।
৭|
০২ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০৪
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ওয়েল কাম এগেইন; নুরু ভাই জিত গায়া । হামারা নুরু ভাই বান গায়া minister ।