নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

কলিমুদ্দি দফাদার

“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”

কলিমুদ্দি দফাদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের খোঁজে

২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৫২



একটা সময় ছিলো প্রচুর শপিং করতাম। কিছু একটা মন চাইলে কিনে ফেলতাম। আমার সংগ্রহে Zara-এর ২৮ হাজার টাকার জুতাও ছিলো। এখনো আছে — তবে চামড়া নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একটু বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে শিখলাম, এইসব আসলে এক ধরনের ইলুয়শন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জামাকাপড় দেখলে এখন বরং শরীর জ্বলে। এই বাহ্যিক জিনিসগুলোর আসলে খুব বেশি মূল্য নেই।গত ৪–৫ বছরের ঈদে নতুন পাঞ্জাবি কেনা হয়নি। একদম দরকার না হলে এখন আর কিছু কেনার ইচ্ছাও হয় না। মতিঝিলে এক বুড়ো চাচা ফুটপাতে ভালো ড্রপ-শোল্ডার টি-শার্ট বিক্রি করেন। ২০০–৩০০ টাকায় সেগুলো কিনি এখন। অদ্ভুতভাবে, সেই সরলতার মধ্যেই যেন বেশি স্বস্তি।

তবে আজ অনেক দিন পর মোটামুটি ভালোই শপিং করলাম। ঈদের পরে একটু মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক, বাকিটা উপরওয়ালার ইচ্ছা।কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বাস্তবতাও চোখে পড়ে খুব স্পষ্টভাবে। বাংলাদেশের লোকাল ব্র্যান্ডগুলোর দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়। এখন প্রায় সারাবছরই ২০–৩০% ডিসকাউন্ট বেচাকেনা চলতে থাকে। খরচের তুলনায় বিক্রি খুব কম। যমুনার গোল্ডের দোকানগুলোতে সেদিন দেখলাম — কোনো গ্রাহক নেই, একদম শুনশান নীরবতা। অনেক স্টোর ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আজ থেকে ১০–১২ বছর আগেও এমন অবস্থা ছিল না। Ecstasy, Yellow, Tanjim-এর মতো বড় ক্লথিং ব্র্যান্ডগুলো তখন এত ডিসকাউন্ট দিত না। একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে চলত। এখন তারাও অফারে মাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।আমার মনে হয়, দেশের সামগ্রিক ব্যবসা এখন ধীরে ধীরে গুটি কয়েক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও মাস শেষে যেন বেতনের মতো সীমিত আয় তুলতে পারছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের সমস্যা, টাকার অবমূল্যায়ন — সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা ভয়াবহ।

বাংলাদেশে তুলনামূলক সস্তা গার্মেন্টস উৎপাদন, ফুটপাতের বাজার আর স্টকের মাল বিক্রির সংস্কৃতির কারণে এখনো অনেক মানুষ কোনোভাবে টিকে আছে। এগুলো না থাকলে হয়তো জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের জন্য ন্যূনতম পোশাক কেনাও কঠিন হয়ে যেত।বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়তো মানুষ শুধু নিজের রুচি নয়, সমাজের বাস্তবতাও নতুনভাবে দেখতে শেখে। এক সময় ব্র্যান্ডের লোগোতে যে আনন্দ ছিল, এখন তা নেই। এখন বরং মনে হয় — মানুষের জীবন, অর্থনীতি আর সম্মানের স্থিতিশীলতাই আসল “লাক্সারি”।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ২:৫১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে সহমত ।

২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ২:৫৮

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.