নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাকযুদ্ধ

অনন্তের অপেক্ষা

ফরহাদ হোসেন

লেখক, নশ্বর জীবনের মিথ

ফরহাদ হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঘুস বটে

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:২৩

পিতৃহীন আমিরুলের মা যেদিন গলায় দড়ি দিল সেদিন তার বয়স আট পেরিয়েছে মাত্র। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেলেও আমিরুল ছাড়া তার মায়ের জন্যে কান্নার তেমন কেউ ছিল না। তবে কাঁদল অনেকে। মানুষ মরে গেলে গ্রামে লোক দেখানো কান্নার প্রচলন আছে। সতীনের ছেলে মারা গেলে সৎমায়ের কান্নায় ভবন কেঁপে উঠলেও কান্নার কারণ নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। ছেলে সাপের ছোবলে মারা গেলে সৎমায়ের গগন বিদারী কান্না দেখে তার বোন এসে জিজ্ঞেস করল- তোর এত কান্না কিসের? তোরতো পথ পরিষ্কার হল। সৎমা কণ্ঠ নামিয়ে বোনের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল- আরে আমি কাঁদছি সাপ যেন ধোড়া না হয়। সেই জন্যে। আমিরুলের মায়ের কবর হওয়ার পরে সন্ধা পার হতে না হতেই বাড়িতে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল।



বাড়িতে চাচা, দাদা কেউ নেই। দূর সম্পর্কের এক চাচা থাকলেও আমিরুলের মায়ের মুত্যুতে তার সুবিধাই হয়েছে। আমিরুলকে তাড়াতে পারলেই বাড়ির জমিজমা, পুকুর, গাছ সব দখল করে নিতে পারবে। তাড়ানোর নানা ফন্দি-ফিকির আঁটতে লাগল মনে মনে। সকাল-বিকেল চড়-থাপ্পড়-ধমক দিতে দিতে আমিরুলের ভাত, পানি খাওয়ার এমনকি গোসল বা দাঁত মাজার দৃশ্যও চাচা-চাচির কাছে তীব্র বিরক্তি ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাড়াল। ক্ষুধা মেটাতে আমিরুল চুরি করে খেতে আরম্ভ করল। চাকরের মত খাটতে খাটতে কাজে ফাঁকি দেয়া শুরু করল। বিভিন্ন সময় পিঠ বাঁচাতে গিয়ে নানাভাবে মিথ্যা বলা আয়ত্ব করে ফেলল। ঐটুকু ছেলের এতসব অভিজ্ঞতা দেখে লোকে তাকে ইঁচড়ে পাকা বলে তাচ্ছিল্য করতে লাগল। এতসব অন্যায়ের অজুহাতে চাচা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু শিশু হলেও বাড়ির মালিককে তাড়িয়ে দেয়া গ্রামে সহজ কাজ নয়।



পাশের গ্রামের কাশেম মোড়ল খুলনা শহরে মুদি দোকান চালায় প্রায় পনের-ষোল বছর। সে গ্রামে এসে একটি গরিব ছেলে খুঁজছে দোকানের জন্যে। মালিক বিহীন জুতার মত আমিরুল হস্তান্তরিত হয়ে গেল কাশেম মোড়লে কাছে। দুটি আধপুরোণ প্যান্ট, গোটা দুয়েক তালি দেয়া জামা, দ্বিতীয় শ্রেণীর কয়েকখানা ছেড়া বই, ছোট্ট একটি ভাঙ্গা পেন্সিল এবং পাতা কুচকে যাওয়া একটি খাতা বোগলে নিয়ে কুমিল্লার গ্রাম থেকে খুলনার পথে কাশেম মোড়লের সাথে লঞ্চে উঠল সে। যার আপনজন বলতে কেউ নেই তার জন্যে কুমিল্লাইবা কি আর খুলনাইবা কি? যার মা নেই বাড়ির জন্যে তার টান থাকবে কি জন্যে? গ্রামে হোক, শহরে হোক, রাস্তায় হোক দু’বেলা খেতে পেলেই আমিরুলের শান্তি।



কাশেম মোড়ল থাকে খুলনা শহরের পাশে নদীর ওপারে চন্দনীমহল গ্রামে। ছোট্ট একটি জায়গা কিনে গোলপাতা, টিন, বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি মিলিয়ে কোন রকমে একটি থাকার জায়গা করেছে। বাড়ির সাথেই মুদি দোকান। আমিরুল ইঁচড়ে পাকা হলেও বুঝতে পেরেছিল যে মোড়ল চাচাই তার একমাত্র অবলম্বন। চাচা তাকে সারাদিন খাটালেও ঠিকমত খেতে দিত। সাথে নিয়ে স্কুলে ভর্তিও করে দিয়েছিল। দোকানে চাপ কম থাকলে স্কুলে যেতেও বাঁধা দিত না। কিন্তু গালি-গালাজ, ধমক-ধামক বা চড়-থাপ্পড় দিতে কখনও কুন্ঠিত হত না। আমিরুল গ্রামের অতি প্রতিকূলতার মধ্যে যে পাকামী শিখেছিল সেগুলি ভুলতে পারল না। সুযোগ পেলেই এ গাছে ইট মারা, ওগাছের ডালভাঙ্গা, সমবয়সীদের কাছে হিরো হওয়া তার দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়ে গেল। তবে দোকানের কাজগুলি করত অতি আন্তরিকতা ও সততার সাথে। দুপুর বেলা চাচা ঘুমালে সে একাই দোকান সামলাতো।



পড়ালেখা করুক বা নাই করুক আমিরুল কিভাবে যেন এসএসসি পাশ করে গেল। পাশ করে পড়ল নতুন সমস্যায়। জামা কাপড় নেই, কলেজে যাবে কিভাবে? কলেজে পড়ানোর সামর্থ বা মানসিকতাও মোড়লের নেই। দোকানেও এখন অনেক কাজ। নদীর ওপারে প্লাটিনাম জুট মিলের ক্যান্টিনে-চাল আটা সরবরাহের কাজ পেয়েছে মোড়ল। মাল দিতে গেলে একটু আধটু খাতা কলমের কাজ করতে হয়। লিখতে হয়। বুঝে-শুনে লিখিয়ে আনতে হয়। মোড়ল নিজের নামটিও সই করতে পারে না। আমিরুলই তার ভরসা। কয়েকদিনেই আমিরুল প্লাটিনাম জুট মিলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে ফেলল। কয়েকমাসের মধ্যেই সে মোড়লের বাড়ি পাকা করার কাজে হাত দিল। ছাদ দেয়ার সামর্থ না হলেও নতুন টিন দিয়ে চাকচিক্যময় বাড়ি বানিয়ে ফেলল। এখন আর আমিরুল অবহেলিত নয়। মোড়লের কাছে অপরিহার্য। টাকা-পয়সা, দেনা-পাওনা সবই আমিরুলের হাতে। মোড়ল তাকে বিশ্বাস করে। সংসারের কেনা-কাটা, ঈদের বাজার সবই আমিরুল করে। মোড়লের বড় মেয়ে রানুকে সে দু’চার লাইন পড়াও বলে দেয়। প্রাইভেট স্যারও ঠিক করে দিয়েছে। আমিরুল নিজে গিয়ে স্যারকে টাকা দিয়ে আসে। এবছর পাশ করতে পারলে রানু নবম শ্রেণীতে উঠবে। একটু ভালো করতে পারলে সাইন্সও পেয়ে যেতে পারে।



মোড়ল সাধারনত দুপুরের পরে দোকানে থাকে না। রবিউল চাল নিয়ে জুটমিলে গেছে বলে দুপুরে খেয়ে দোকানে বসে পান চিবোতে শুরু করেছে। কাষ্টমার নেই। ঘুম ঘুম চোখে হেলান দিয়ে পড়ে আছে। বাড়ির ভেতরে সবাই গড়াগড়ি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। মোড়লের স্ত্রী মাজা ব্যাথার রোগী। এমনিতেই সারাদিন ঘুমায়। যখন মাজা ব্যাথা ছিল না তখন প্রচন্ড পরিশ্রম করত। এখন পারে না। রানু পড়ার টেবিলের পাশে বিছানায় মাথা লাগাতেই ঘুমের মধ্যে ডুবে গেছে। বাড়ির সবগুলি দরজা খোলা। আমিরুল মিল থেকে কাজ সেরে ক্ষুধায় ক্লান্ত হয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখে সবাই ঘুমাচ্ছে। সে খাবার ঘরে গিযে দেখে দুটি বিড়াল তরকারিতে মুখ দিয়ে নিশ্চিন্তে মাছ চিবোচ্ছে। বিড়ালকে কিছু না বলে সে চাচির রুমের দরজায় গিয়ে চাচিকে ডাক দিল। কোন সাড়া শব্দ নেই। গভীর ঘুমে ডুবে আছে। রানুর ঘরে উঁকি দিল। মনে হচ্ছে শুয়ে আছে। রাত জেগে পড়াশুনা করে। ঘুমিয়ে থাকলে না ডাকাই ভালো। ঘুমিয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্যে সে ভেতরে প্রবেশ করে রানুর চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইল। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। একবার রান্না ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখল বিড়াল দুটি এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। চাচির রুমের দিকে তাকাল। ফ্যানের বাতাসে জানালার পর্দা নড়ছে। বিরক্ত হয়ে রানুর পড়ার চেয়ারে বসে কি করবে ভাবছে। হঠাৎই খাটের দিকে ঝুকে সে রানুর বুকে ডান হাত চেপে ধরল। আচমকা ঘুম ভেঙ্গে রানু হতভম্ব হয়ে গেল। তার বুকের এই অংশে কোনদিন কোনকিছুর স্পর্শ লাগেনি। সে শিউরে উঠে অন্য রকম একটা অনুভূতি পের পেল। উঠে বসতে চেষ্টা করলেও আমিরুল বুকে হাত চেপে রাখার কারনে পারল না। মুখে তার কোন কথাই এল না। অস্থির চোখে তাকিয়ে রইল। আমিরুল খাটের উপর উঠতে উঠতে বলল- ভয়ের কিছু নেই। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। একটু শান্ত থাকো। ভালো লাগবে।



বিষয়টি নিয়মিত হয়ে গেল এবং রানুর মা-বাবার কাছে গোপণ রাখা গেল না। মোড়ল দম্পতির গোপণ ইচ্ছে থাকলেও এত দ্রুত মেয়ের বিয়ে দিতে তারা প্রস্তুত ছিল না। বিয়ে হয়ে গেল। আমিরুল দেখল রানুর স্কুল ব্যাগে অসংখ্য ছোট ছোট কাগজের প্রতিটিতে বিভিন্ন কালি দিয়ে লেখা আমিরুল ভাই। ড্রয়ারে রংবেরঙের কাগজে নানা ভঙ্গিতে তার নাম লেখা। রানুর বান্ধবীরা আমিরুলকে অনেক আগে তেকেই চেনে। সবকিছু ঘটতে থাকল ইচ্ছের অনুকূলে। অত্যন্ত প্রশান্তির জীবন।



আমিরুল পা্লাটিনাম জুট মিলে চাল-আটা সরবারহ দিতে দিতে হাসপাতালে ঔষধ সরবরাহের কাজও জোগাড় করে ফেলল। তার সুনাম অনেক। ডাক্তার, হাসপাতাল ইনচার্জ সবার সাথেই তার সুসম্পর্ক। ব্যবসার জন্যে এর চেয়ে ভালো পরিবেশ আর কি হতে পারে? ডাক্তার সাহেবকে খুশি রাখতে পারলে ঔষধ সরবরাহে তার প্রতিদ্বন্দী সৃষ্টি হতে পারবে না। সে প্রায়ই ডাক্তার সাহেবের বাসায় মিষ্টি কিনে নিয়ে যায়। চিকিৎসাও তার জন্যে একেবারে ফ্রি হয়ে গেল। মোড়লকেও মাঝে মাঝে সে ডাক্তারের কাছে নিয়ে বিনে পয়সায় দেখিয়ে আনে। কিছুদিন হল রানুর মাথাব্যাথা শুরু হয়েছে। সকালে ব্যাথাতো বিকেলে ভালো। আর বিকেলে ভালোতো রাতে যন্ত্রনা। আমিরুল রানুকে নিয়ে পাঁচকেজি মিষ্টি কিনে প্লাটিনাম হাসপাতাল ভবনের উপর তলায় ডাক্তারের বাসায় গিয়ে উঠল। ডাক্তার তাকে তেমন যত্ন করতে পারল না। তার স্ত্রী বাসায় থাকে না। মাদারিপুর কলেজের শিক্ষক। প্রেসক্রিপশন নিয়ে আমিরুল আর রানু চলে এলো। ডাক্তার সাহেবের বিনয়ী আচরণে রানু খুব খুশি হল।



এ বছর প্লাটিনাম হাসপাতলে ঔষধ সরবরাহের জন্যে অনেকেই আবেদন করেছে। ডাক্তারের সাথে আমিরুলের ঘণিষ্টতা নিযে কিছুটা গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা দু্র্নাম রটাচ্ছে। আমিরুলের কাজ না পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সে ডাক্তারের স্ত্রীর জন্যে একখানি ভালো শাড়ি ও এক বোতল হুইসকি নিয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে গেছে। ডাক্তার জানাল- কাজ আপনি পাবেন তবে তবে একটু বেশী ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমিরুলের পরিবেশ, সামর্থ, সম্পর্ক সব মিলিয়ে ডাক্তার সাহেবের দাবি পূরণ করা সহজ নয়। কিন্তু ব্যবসা পেতেই হবে। ইতোমধ্যেই টাকা আয় করে তার হাত অনেক খরচপ্রবণ হয়ে গেছে। ঔষধ সরবরাহই তার আয়ের একমাত্র পথ। সে কয়েক রকম পিঠে বানিয়ে রানুকে নিয়ে এক সন্ধায় ডাক্তার সাহেবের কাছে গেল শেষ চেষ্টায়। হাসপাতালের উপর তলায় ডাক্তার সাহেবের বাসা। বাসার উপরে খোলা ছাদ। ছাদে ফুলবাগান, রঙিন লাইট এবং একপাশে একটি সজ্জিত কক্ষ। মুক্ত বাতাস। বদ্ধ ঘরে না বসে ডাক্তার সাহেব তাদেরকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছাদে নিয়ে গেল। ছাদের আলো, ফুলগাছ এবং পরিবেশ দেখে রানু ভড়কে গেল। এত সুন্দর ছাদ সে জীবনে দেখেনি। ডাক্তার সাহেব তাকে খুব যত্ন করতে লাগল। আপনি করে কথা বলল। নিজ হাতে সোফা টেনে বসতে দিল। রানুর চেহারার প্রশংসা করল। এত বড় মাপের একজন মানুষ তার সাথে বন্ধুর মত কথা বলায় সে কৃতজ্ঞতায় রীতিমত গদগদ হয়ে গেল।



আমিরুলের সাথে শুরু হল কাজের আলাপ। নানা কথা, নানা অনুরোধ, নানা দর কষাকষি কিছুতেই ডাক্তার সাহেব রাজি হচ্ছে না। শুধু বলছে যা বলেছি সেটা করুন। কাজ হয়ে যাবে। এক পর্যায়ে আমিরুল বলল-ডাক্তার সাহেব, কথা বলতে বলতে রাততো অনেক হয়ে গেল। আপনারতো রান্না হয়নি। আমি কিছু খাবার কিনে আনি। ডাক্তার সাহেব বললেন সেটা খারাপ হয় না। রাস্তার ওপাশে মিতালি হোটেল থেকে তিন জনের জন্যে বিরানি এবং কোল্ড ড্রিংস নিয়ে আসুন। মনে হচ্ছে ডাক্তার সাহেব খুশি হয়েছে। কাজ হয়ে যাবে। আমিরুল খুশিমনে সিঁড়ি দিয়ে নেমে মিতালি হোটেলের দিকে চলে গেল। শুধু বিরানি নিলে কি হয়? সাথে দুই রকমের ফল, মিষ্টি পান এবং বোরহানি নিয়ে ফিরতে বেশ বিলম্ব হয়ে গেল।



হাসপাতালের দিকে কিসের যেন ভিড়। ক্ষুদ্ধ লোকজন চিৎকার করে ডাক্তার সাহেবকে গালি গালাজ করছে। আমিরুল কাছে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে একজন লোককে জিজ্ঞেস করল- ঘটণা কি ভাই? লোকটি ক্ষুদ্ধ কন্ঠে চিৎকার দিয়ে বলল- মাদারচোদ ডাক্তার মাগি নিয়ে ফুর্তি করতিছিলো। এই যে দ্যাহেন মাইয়েডা উপরেত্তে লাফায় পড়ে গুঙ্গাতি গুঙ্গাতি মরে গেছে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৭

চারশবিশ বলেছেন: সুন্দর লেখা, ভাল লাগল

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:২৭

ফরহাদ হোসেন বলেছেন: অনেক প্রেরণা পেলাম

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.