| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম পরিবর্তনের পক্ষে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এর তীব্র বিরোধিতা করছে। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়, ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে 'শহীদ ওসমান হাদী হল' লেখা একটি ব্যানার টানিয়ে হল সংসদের নেতারা নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, হলের শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষরে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী এই পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এর আগে দুইবার উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। ডাকসু নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় দুটি হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবিত নতুন নামগুলো হলো: শেখ মুজিবুর রহমান হল → শহীদ ওসমান হাদি হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল → বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ এই সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখনো সিনেটের সভায় যেতে হবে।
হল সংসদের সহ-সভাপতি মো. মুসলিমুর রহমান জানান, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শাহাদতবরণ করেছেন। তার মতে, যারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে তারা "কালচারাল ফ্যাসিস্ট" এবং শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই "কালচারাল ফ্যাসিস্টদের জনক"। এই যুক্তিতে তারা হলের নাম পরিবর্তন করতে চান।সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহ বলেন, তারা আগামী সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করে হলের নাম পরিবর্তনের দাবি জানাবেন। তাদের মূল বক্তব্য হলো, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত নায়কদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এই নাম পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নতুন দুটি ছাত্রাবাস নির্মিত হয়, তখন জাতীয় দুই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে এগুলোর নামকরণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুটি ছাত্রাবাস পাশাপাশি অবস্থিত। এরপর বহু সরকার এসেছে ও গেছে, কিন্তু কখনোই এই দুই ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তনের কথা ওঠেনি। শিক্ষকরা মনে করেন, দুই জাতীয় নেতার নামে পাশাপাশি দুটি হল থাকার যে "সহাবস্থানগত সৌন্দর্য", তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতার একটি প্রতীক হতে পারতো।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে বলে শেখ মুজিবুরের নাম মুছে ফেলা যায় না।তাদের বক্তব্য, জাতীয় নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি ছাত্রাবাস থাকা "কেবল ন্যায্যই নয়, প্রয়োজনীয়ও বটে।" তিন-চার দশক ধরে যে ছাত্রাবাস একটি নির্দিষ্ট নামে পরিচিত, তা বদলে দেওয়ার উদ্যোগকে তারা "হীন রাজনৈতিক ক্ষুদ্রতা" বলে মনে করেন।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক একটি গঠনমূলক প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলছেন, শহীদ ওসমান হাদির মতো বীর শহীদদের নামে নতুন কোনো ভবনের নামকরণ করা উচিত, পুরোনো হলের নাম পরিবর্তন নয়। এভাবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও রক্ষা হবে, আবার নতুন নায়কদেরও যথাযথ সম্মান দেওয়া সম্ভব হবে। এই প্রস্তাবে একদিকে ইতিহাস সংরক্ষণ, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা—দুটোরই সমন্বয় ঘটানো সম্ভব।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় উত্থাপন করেছে। তাদের মতে, রাষ্ট্র ও জনগণের টাকা খরচ করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতিতেও রেশ টানা প্রয়োজন।এই যুক্তিটি উভয় পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। যেমন অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক স্থাপনার নাম দিয়েছিল, তেমনি এখন নতুন শাসকরাও রাজনৈতিক বিবেচনায় নাম পরিবর্তন করছে। এই চক্রটি ভাঙা দরকার।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করেন, এই নতুন বাংলাদেশে পুরোনো শাসকদের প্রতীক ও চিহ্ন মুছে ফেলা প্রয়োজন। তাদের দৃষ্টিতে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হল রাখা মানে পুরোনো ব্যবস্থাকেই মেনে নেওয়া। কিন্তু শিক্ষকরা বলছেন, নয়া বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা মানে এই নয় যে ইতিহাস মুছে ফেলতে হবে। বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভালোমন্দ বিচার করে, সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
মুল সংবাদ : Click This Link
মুল সংবাদ : Click This Link
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমার মতো আম-জনতা মতামতে কি আসে যায় ? আপনারা আর তারা মারামারি করবেন আর আম-জনতা টিভিতে খেলা দেখবে ।
২|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৩
মাথা পাগলা বলেছেন: আপনার লেখা পড়লে সবসময় মনে হয় আপনি মারামারি করার জন্য ওয়েট করছেন। আপনি আমার কি লাগেন যে আপনার কথায় মারামারি করতে হবে। অদ্ভুত সব কথা-বার্তা।
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনারা ফাটাফাটি করার কথাই বলেন ; আপনার ১ম কমেনটস তারই ইংগিত দেয় ।
৩|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৯
মাথা পাগলা বলেছেন: যে ব্যক্তি সব কিছুতেই "হাসিনার দোষ" খুঁজে পায় তার কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুজিবের নাম পাল্টানোর উদ্যোগটাকে নরমাল এবং সঠিকই মনে হবে।
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখেন যা ভালো মনে করেন ।
৪|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: শরীফ ওসমান হাদি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শাহাদতবরণ করেছেন।
..................................................................................................................................
কোন হাদীসে আছে
ভারতীয়দের বিপক্ষে বল্লে শহীদ হওয়া যায় ?
তাহলে শাহাবাগে ডাক দেবো
আসুন আমরা সবাই শহীদ হই !!!
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখেন যা ভালো মনে করেন ।
৫|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
নতুন বাংলাদেশ নয় কথাটি হওয়া উচিত নতুন সরকারের শুরু।
বাংলাদেশ অর্ধ শতাব্দিরো বেশী পুরাতন ।
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বাংলাদেশ অর্ধ শতাব্দিরো বেশী পুরাতন ।
৬|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:২৫
কলাবাগান১ বলেছেন: সরকারে থাকলে কত চামচিকার দেখা যায় এই দিবস, সেই দিবস, শিশু রাসেল..সবই ধান্ধাবাজতে ভর্তি বাংলাদেশ..আজ ১০ই জানুয়ারী, কোন পত্রিকাতেও দেখলাম একটা সংবাদ করতে, পালন তো দুরের কথা.....বাংলাদেশের ইতিহাসে ১০ই জানুয়ারী লিপিবদ্ধ থাকবে কেউ না বললেও বা কি...। নিমকহারাম...............
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সুসময়ের মাছিরা খারাপ সময়ে পাশে থাকে না ।
৭|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩২
কিরকুট বলেছেন: শাউয়া হাদি হল নামটা বেশ জুতসই।
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ওসমান হাদি লীগের শা*য়া-মা*য়া ছিড়ে ফেলতে চেয়েছিলো। জেন-জি এমন ভাষা লাইক করে । আপনি পুরানা জামানার মানুষ ।
৮|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩
হাইজেনবার্গ ০৬ বলেছেন: দারুন কাম হইছে। এতো দেরি হইলো কেন? লীগের দুই টাকার চামচাদের অসহায়ের মত কমেন্ট দেখলে ক্রুর হাসি আসে
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ![]()
৯|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪
সাখাওয়াত হোসেন বাবন বলেছেন: হ্যা , হাদির বাংলাদেশ ই নতুন বাংলাদেশ । এই বাংলাদেই আমরা চাই । চেতনার দোহাই দিয়ে হারাম খাওয়ার সুযোগ আর দেওয়া যাবে না ।
১০|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭
রায়হান চৌঃ বলেছেন: হাদি... আসলেই জিনিয়াস, আড়ালে আবডালে লুকিয়ে রাখা জিনিস কে টেনে বের করে এনে, একে বারে মানুষের কাঁধে এনে বসিয়ে দিয়েছে..... যা বাঙ্গালী এবার চেটে চুটে খা, আর আমার মতো (আচোদা হাদির) গুন গা
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৭
মাথা পাগলা বলেছেন: অনেকে মনে করেন, এই নতুন বাংলাদেশে পুরোনো শাসকদের প্রতীক ও চিহ্ন মুছে ফেলা প্রয়োজন।
"অনেকে মনে করেন" ইহার বদলে "লালবদররা মনে করেন" হবে। এনসিপির মধ্যে একজন বলেছিলেন জাতির পিতা একজন না, অনেকজন। নতুন বাংলাদেশে অনেকগুলো পিতার মধ্যে হাদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষনা করা উচিত।
যে প্রতিহিংসার রাজনীতি এখন চলছে, ঘুরে ফিরে তার দশগুণ শক্তিশালী ব্যাকফায়ার করবে। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন।